• শিরোনাম


    ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাড়ি ভাঙ্গার সাথে জড়িতদের কঠোর বিচার চাইলেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী

    রিপোর্ট: মুফতী মোহাম্মদ এনামুল হাসান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি | ২৭ আগস্ট ২০১৯ | ৫:১৪ অপরাহ্ণ

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাড়ি ভাঙ্গার সাথে জড়িতদের কঠোর বিচার চাইলেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী

    ফাইল ছবি

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাড়ি ভাঙ্গায় জড়িতদের কঠোর বিচার চাইলেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাভোকেট হারুন আল রশিদ। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে জনমনে স্বস্তি ফেরানোর অনুরোধ জানিয়েছেন পুলিশ প্রশাসনের প্রতি। গতকাল সোমবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি ওই ঘটনায় তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। এর আগে দলীয় নেতাকর্মী ও পরিবারের লোকজনদের সাথে নিয়ে বাড়িটির অবস্থা প্রত্যক্ষ করেন জেলার এই প্রবীন রাজনীতিবিদ।

    প্রকাশ, ঈদুল আজহার পরদিন ১৩ আগষ্ট রাতে হারুন আল রশিদের বাড়ির সীমানা প্রাচীর ও বিল্ডিংয়ের একাংশ বুলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে দেয়া হয়। কেটে ফেলা হয় বাড়ির ভেতরের পুরাতন গাছ। লুটে নেয়া হয় বাড়িতে থাকা ভাড়াটে ‘মডার্ন এক্সরে এন্ড প্যথলজি ক্লিনিক’র প্রায় কোটি টাকার মালামাল। বাড়িটির ভেতর দিয়ে রাস্তা বানাতেই বেকু-বুলডোজার দিয়ে রাতভর চালানো হয় তাণ্ডব। চাঞ্চল্যকর এঘটনায় থানায় দুটি অভিযোগ দেয়া হয়। এর মধ্যে হারুন আল রশিদের চাচাতো ভাই শামিম রশিদের দেয়া অভিযোগে জেলা আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কয়েকজন নেতা এবং দু’জন চিকিৎসকের নামোল্লেখ করা হয়। ঘটনার সময় হারুন আল রশিদ ছিলেন কানাডায়। সেখান থেকে ১৯ আগষ্ট দেশে ফিরে ২৪ আগষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া এসে গতকাল সাংবাদিকদের সঙ্গে মিলিত হন।



    হারুন আল রশিদ তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ২২ বছর আমি ক্ষমতার রাজনীতি করেছি। একাধারে হুইপ, চীফ হুইপ, প্রতিমন্ত্রী, রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যানসহ সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ছিলাম। কিন্তু এই সুদীর্ঘ সময়ে কারো কাঁচা আঁইলে পা দিয়েছি, তা কেউ বলতে পারবেনা। কখনো ক্ষমতার অপব্যবহার করিনি। রাজনৈতিকভাবে কাউকে হয়রানি বা এমন চিন্তাও করিনি। সকলের কাছে একজন সাধারন হারুন ভাই হিসেবেই ছিলাম, এখনো আছি। এই শহরে আমার জন্ম। রাজনৈতিক-সামাজিকভাবে আমি এখানেই বড় হয়েছি। এখানেই আমার মৃত্যু ও দাফন হবে। শহরের মানুষের সাথে আমার নাড়ির সম্পর্ক। কিন্তু আজকে এই শান্তির শহর কোথায় ঠেকেছে এর উত্তর আপনাদেরই ভালো জানা আছে। আমার বাড়ি ভাঙ্গার ঘটনা, তারই অন্যতম একটি উদাহরণ নয় কি? জীবনের শেষ ধাপে এসে ভূমিদস্যুদের কবলে পড়ে আমি এবং আমার পরিবার মানসিকভাবে যখন বিপর্যস্ত তখন আপনারা (সাংবাদিক) এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে বলিষ্ট ভূমিকা রেখেছেন। যা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সর্বস্ততরের মানুষের কাছে ব্যাপক প্রশংসিত। এতে নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষ আশান্বিত।

    তিনি বলেন, ১৯৫৬ সাল থেকে দীর্ঘ ৬৩ বছর বাড়িটি আমরা শান্তিপূর্নভাবে ভোগ দখল করে আসছি। আমার মায়ের নামে বাড়িটি কেনা হলেও পরে তিনি আমাকে সেটি দানপত্র করে দেন। ক্রয়কৃত ৬ শতক বাড়ির বাইরে পৌরসভা থেকে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত হিসেবে আরো ৩ শতক জায়গা নিয়েছেন তিনি। বিএস খতিয়ানে মোট ৯ শতক তার নামে রেকর্ডকৃত। বাড়ির ভেতর দিয়ে হাসপাতালের ময়লা নিস্কাশনের জন্যে একটি ড্রেন বিদ্যমান ছিলো। তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ড্রেনটি পাকা করে দেয়ার শর্তে ১৯৬৯ সালের ৮ অক্টোবর তাদের অনুকূলে তৎকালীন মহকুমা প্রশাসক ও পৌরসভার চেয়ারম্যান মোফাজ্জল করিম (সিএসপি) চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রদান করেন। বিগত ২০০৪ সালে জেলা পরিষদও এখানে তাদের কোন জায়গা নেই বলে একটি প্রত্যায়নপত্র দিয়েছে। এমনি অবস্থায় রাতের আঁধারে বাড়ি দখলে ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটানো হয়েছে। যারা এমনটি ঘটিয়েছে তারা শহরের চিহ্নিত-প্রভাবশালী ভূমিদস্যু। আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার এবং বাড়ি ভাঙ্গচুর-লুটপাটের ক্ষতিপূরন চাই।

    সাংবাদিক সম্মেলনে সাবেক এই প্রতিমন্ত্রীর সাথে জেলা বিএনপি’র সভাপতি হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি, সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ জসিম উদ্দিন রিপন, শ্রমিকদল সভাপতি হেবজুল বারী, সদর উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আলী আজম এবং হারুন আল রশিদের পরিবারের কয়েকজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

    Facebook Comments Box

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম