• শিরোনাম


    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মাটি ও মানুষের কাছে আমার অনেক ঋণ আছে

    | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ১১:১৩ পূর্বাহ্ণ

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মাটি ও মানুষের কাছে আমার অনেক ঋণ আছে

    বিশ্ববাঙালি সম্মাননা প্রাপ্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার তারুণ্যের কবি খ্যাত লেখক ও গবেষক এস এম শাহনূরের জন্মদিনে আওয়ার কণ্ঠ ২৪ ডট কম পরিবারের পক্ষ থেকে প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও শুভকামনা। আজ কবির জন্মদিনে কবির নিজের লেখা কবি জীবনের বিশেষ কিছু কথামালা পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলো।

    আজ ৮ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার। আমার জন্মবার।আমার জন্মদিন।অনেকের মাঝে বয়স লুকানোর প্রবণতা কাজ করে।কোনো এক সময় হয়তো আমার মাঝেও করত।বয়স বাড়ার সাথে সাথে টের পাচ্ছি।বাস্তবকে অনুভব করছি।বয়স কী আর বাড়ে? বয়েস তো শানবাঁধানো পুকুরঘাটের ইটপাথরের মত। প্রতিদিনই ক্ষয়ে যায়।এক একটা করে হারিয়ে যায়।আমার জন্ম(সম্ভবত) ৮ সেপ্টেম্বর ১৯৭৯ সাল মোতাবেক শনিবার দিন। সকল সার্টিফিকেটে ১৯৮২ সালের ৮সেপ্টম্বর বুধবার দিন।তবে আমার জন্মের দিন ঘোর বৃষ্টি ছিল।হালকা বাতাস ছিল।ঐ দিন আসরের আগে পরে আমি জন্মেছিলাম।
    প্রথম তারিখ অনুযায়ী আজ থেকে ১৪৯৭৬ দিন পূর্বে পৃথিবীর আলো বাতাসে আমার প্রথম চিৎকার। শেষোক্ত তারিখ অনুযায়ী ১৩৮৮০ দিন পূর্ব থেকে মানব সমাজের সাথে আমার বসবাস।
    ৮ ভাই বোনের সংসারে পরিবারের ছোট্ট সদস্য বলে আদর যত্ন আর আধিক্যেতা বেশিই ছিল।শিশুকালে ঘরোয়া পড়াশোনায় তত একটা মন বসত না আমার।তাই স্কুল জীবনের শুরুটা একটু বিলম্বিত ছিল। অবশ্য আমাদের সময় ছেলে মেয়েরা আজকের শিশুদের মত এডভান্স ছিলনা। মা বাবারাও সন্তানের পড়াশোনার ব্যাপারে এত সিরিয়াস ছিলেন না।তবে আমার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত রেজাল্ট সব সময়ই ভাল ছিল। ক্লাসের পড়া ক্লাসেই শেষ করতাম। হোম ওয়ার্ক বলে কিছুই থাকত না।খুব ভোরে পাখির কিচিরমিচির শব্দে ঘুম ভাঙ্গত।হাতমুখ ধুয়ে পড়ার টেবিলে বসতাম।মাগরিবের আযান হলে নীড়ে ফেরা পাখিদের সাথে আমিও ঘরে ফিরতাম।পড়া লেখার জন্য নিজস্ব একটা রুটিন ছিল।পড়তে ভাল লাগতো।লেখতে ভাল লাগতো।রাত ১১টায় রেডিও শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়তাম।আর এ কারণেই স্কুল কলেজ জীবনে কখনো সেকেন্ড হতে হয়নি।



    জীবনে কী হতে চেয়েছি,কী হয়েছি, কী পেতে চেয়েছি,কী পেয়েছি আর কী পাইনি?কুসুমিত মনের সে আকাশ কুসুম চিন্তা আজ আর মাথায় নেই। এক সময়তো কত কিছুই ভাবতাম। গুলশান বনানীতে বিশাল এক বাড়ি থাকবে,বাড়ির সামনে বাগানে গোলাপ,টগর,চামেলি ; বিদেশি কুকুর, সর্বাধুনিক ফ্যাশনের গাড়ি আরো কত্ত কী! আজ এসব ভাবলে মনে মনে ভীষণ লজ্জা বোধ করি।বাস্তব আর কল্পনা এক নয়।বয়স বাড়ার সাথে সাথে নির্মম কঠোর বাস্তবকে অনুধাবন করতে পেরেছি। স্বার্থ কে ত্যাগ করতে না পারলেও অন্ধ স্বার্থকে ত্যাগ করার রুচিবোধ কিছুটা জন্মেছে বৈকি। শিশু নিজে স্বপ্ন দেখার আগে তাকে নিয়েও এই সংসার সমাজ আর দেশের কিছু স্বপ্নবাজ মানুষ বড় কোনো স্বপ্ন দেখে।এই স্বপ্নবাজ মানুষগুলো হয় সন্তানের পিতা মাতা,কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষক এবং এমন আরো অনেকে। আমার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণের নিকটও আমি চিরঋণী। কারণ ওনারা আমাকে অত্যন্ত স্নেহ করতে। পরম যত্নে ভালো কিছু শেখাতেন। আমার ভাল হোক মনে প্রাণে তা চাইতেন।এমনটি চাইতেন বলেই আমার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা জীবন সমাপান্তে সার্টিফিকেটে বয়স একটু কমিয়ে দিয়েছিলেন। একটু নয় পুরো তিন বছর।আজ সকল শিক্ষকগণের নাম মনে না পড়লেও ওনাদের স্নেহ আর আর্শীবাদ মাখা সুন্দর মুখগুলো আমার চোখে ভাসে।সেদিন আর্শীবাদ করে বলেছিলেন, “তুমি অনেক দূর এগোবে।তুমি অনেক বড় হবে।আমাদের দোয়া তোমার পাশে থাকবে।” সেই সকল মহান শিক্ষকগণের কাছে আমার ঋণ আছে।
    মাতৃগর্ভ থেকে পৃথিবীর অালো বাতাসের সংস্পর্শে অাসার পর অামার প্রথম চিৎকার যেই গ্রামের মানুষ প্রথম শুনতে পেলো তার নাম বল্লভপুর।অামি অামার জন্মের জন্য পিতা হাজী অাব্দুল জব্বার এবং মাতা জাহানারা বেগম এর নিকট চির ঋণী।অারো ঋণী বল্লভপুর গ্রামের সহজ সরল মানুষগুলোর প্রতি,যাঁদের সান্নিধ্যে স্নেহ ও ভালোবাসায় কেটেছে অামার শৈশব ও কৈশোরের মধুময় অনিন্দ্য সুন্দর দিনগুলো,চাঁদমাখা রাতগুলো।এখানকার সকলের কাছে আমার ঋণ আছে।

    আমার জন্ম জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়া,আমার জন্ম উপজেলা কসবা এবং আমার জন্ম গ্রাম বল্লভপুরের আলো বাতাস,প্রকৃতি ও সুধীজনদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। কারণ,এখানকার পরিবেশ, সংস্কৃতি, প্রকৃতি ও মানুষের স্নেহ,ভালোবাসাই আমাকে কবি ও লেখক হতে সহায়তা করেছে।তাই আমার সৃষ্টি কর্মের জন্য যদি সামান্যতম প্রশংসা/সম্মাননা যাহাই পাই এই প্রাপ্তির ভাগিদার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সবাই।এখানকার আলো বাতাস প্রকৃতি সকলের কাছে আমার ঋণ আছে।

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম