• শিরোনাম


    ব্যক্তিজীবন ও পারিবারিক জীবনে বিরোধ নিয়ে সংঘাত নয় [] মাওলানা কাওসার আহমদ যাকারিয়া

    | ১০ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৩:২৬ পূর্বাহ্ণ

    ব্যক্তিজীবন ও পারিবারিক জীবনে বিরোধ নিয়ে সংঘাত নয়  []  মাওলানা কাওসার আহমদ যাকারিয়া

    ব্যক্তিজীবন, পারিবারিক জীবন, দাম্পত্যজীবন স্বামী-স্ত্রী, কিংবা আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে নানা বিষয় নিয়ে বিরোধ দেখা দিতে পারে। কিছু বিরোধ গড়ায় আইন-আদালত পর্যন্ত। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, এ বিরোধের পেছনে থাকে জেদ ও ব্যক্তিত্বের সংঘাত। মামলা-মোকদ্দমা করে কোনো লাভ হবে না জেনেও মামলা ঠুকে দেয় অহেতুক। এমনও দেখা গেছে যে বিরোধ হলো জমি নিয়ে কিন্তু এক পক্ষের ঘরে রয়েছে মেয়ে, সে মেয়েকে দিয়ে জোর করে ঠুকে দিল নারী নির্যাতনের মামলা। অথচ নিজেদের মধ্যে ভুল-বোঝাবুঝি হলে খানিকটা স্বার্থ বিসর্জন দিলেই সুখে-শান্তিতে থাকা সম্ভব। কোনো মামলা-মোকদ্দমায় না গিয়ে আলাপ-আলোচনা করে বিরোধের সুষ্ঠু সমাধান করা যায় অনায়াসেই। বিশেষ করে, দাম্পত্য জীবনে একান্ত প্রয়োজন না হলে মামলা-মোকদ্দমায় জড়ানো একেবারেই উচিত নয়।

    বিরোধ দেখা দিলে
    একান্ত ব্যক্তিগত বিষয় থেকে শুরু করে সম্পত্তির দেনা-পাওনা যেকোনো বিষয়ে বিরোধ হলেই কেউ কেউ মনে করেন মামলা করে ফেললেই হলো! মামলা-মোকদ্দমার পথ যে মসৃণ নয়, তা আগে থেকে অনেকে বুঝতে পারেন না। অথচ একটু পারিবারিক ও ব্যক্তিগত বিষয়গুলো নিজেরাই মিটিয়ে ফেলা যায়। মামলা না করেও আইনি উপায়ে বিরোধের মীমাংসা করা যায়। এ জন্য একজন আইনজীবীর পরামর্শ নিতে পারেন। আইনজীবীর কাছে গেলেই যে মামলা করতে হবে, তা নয়। যে বিষয়ে বুঝতে পারছেন না, সেটি সম্পর্কে সঠিক তথ্য ও পরামর্শ নিতে পারেন। প্রয়োজনে দুই পক্ষ মিলে যেতে পারেন আইনজীবীর কাছে। পারিবারিক বিষয়, যেমন দেনমোহর, ভরণপোষণ নিয়ে পারিবারিক আদালতে কোনো মোকদ্দমা হলে স্ত্রীর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে দেনমোহর পরিশোধ করে নেওয়া উচিত। প্রয়োজনে আপসনামা করে নেওয়া যায়। সন্তান নিয়ে বিরোধ হলেও আদালতে যাওয়ার আগেই নিষ্পত্তি করে নেওয়া ভালো।



    যা ভাবতে হবে
    যদি সত্যি কোনো অভিযোগ থাকে এবং মামলা-মোকদ্দমা ছাড়া কোনো উপায় না থাকে, তবে আইনের শরণাপন্ন হতে পারেন। অন্যথায় সামান্য কারণে মামলা ঠুকে দেওয়া উচিত নয়। এতে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের জটিলতা তৈরি হতে পারে। আইনি ঝামেলায় পড়ে দাম্পত্য জীবন হয়ে উঠতে পারে দুর্বিষহ। যদি কোনো বিষয়ে মতবিরোধ কিংবা ঝগড়াঝাঁটি হয়, তাহলে প্রথমে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে বিবাদটি মিটিয়ে নেওয়া উচিত। প্রয়োজনে নিজেদের আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধবের উপস্থিতিতে বিষয়টি সুরাহা করে নিতে পারেন। সন্তান থাকলে নিজেদের মধ্যে বিরোধের মধ্যে বা মামলার মধ্যে সন্তানদের জড়ানো কখনোই ঠিক হবে না। মনে রাখতে হবে, মিথ্যা কোনো অভিযোগে মামলা করলে এর জন্যও শাস্তি পেতে হবে।

    মামলা করে ফেললে
    যদি আদালতে কোনো ফৌজদারি নালিশি মামলা করেন, তাহলে নির্দিষ্ট পদ্ধতি মেনে মামলাটি প্রত্যাহারের জন্য আবেদন করতে হবে। আদালতে গিয়ে জবানবন্দি দিয়ে মামলাটি প্রত্যাহার করে নিতে হবে। কোনো দেওয়ানি মোকদ্দমা হলে দেওয়ানি আদালতে হলফনামাসহ জবানবন্দি দিয়ে মোকদ্দমাটি প্রত্যাহার করে নেওয়া যায়। দেওয়ানি আদালতে আপসনামা দাখিল করেও মোকদ্দমা নিষ্পত্তির সুযোগ আছে। এ ছাড়া বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তিরও বিধান আছে। ফৌজদারি মামলায়ও আপসের বিধান আছে, তবে তা সীমিত আকারে। যদি মামলাটি থানায় দায়ের করা হয়, তবে তদন্ত কর্মকর্তার কাছে উভয় পক্ষ মিলে দেখা করে এবং আলাপ-আলোচনা করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের ব্যবস্থা করতে হবে। আর যদি বিরোধটি মীমাংসার আগেই অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়, তাহলে আদালতে গিয়ে বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে হবে। পারিবারিক আদালতেও আপসের সুযোগ রয়েছে। তবে সত্যিই যদি কোনো নারী নির্যাতন-সংক্রান্ত অভিযোগ থাকে, তাহলে তা আপসে মীমাংসা করা উচিত নয়।

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম