• শিরোনাম


    বিশ্ব কবিতা দিবস ও প্রত্যাশা: এস এম শাহনূর

    | ২১ মার্চ ২০২০ | ৯:৫৩ পূর্বাহ্ণ

    বিশ্ব কবিতা দিবস ও প্রত্যাশা: এস এম শাহনূর

    আজ ২১ শে মার্চ, বিশ্ব কবিতা দিবস।১৯৯৯ সালে ইউনেস্কোর অধিবেশনে এই দিবস ঘোষণা করার সময় বলা হয়েছিল, “এই দিবস বিভিন্ন জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক কবিতা আন্দোলনগুলিকে নতুন করে স্বীকৃতি ও গতি দান করবে।”

    কবিতা হচ্ছে সাহিত্যের প্রাচীনতম একটি শাখা।জন্মায়! কবিতা জন্মায়! কীভাবে জন্মায় একটি কবিতা? কীভাবে বেড়ে ওঠে একটি কবিতা? নাকি ইচ্ছের লালন থেকে বেড়ে ওঠা সবই কবিতা, কবিতার কথা? কবিতা কি চোরা পথ ধরে বেড়ে ওঠা প্রেম ও প্রকৃতির খেলা?গোপন প্রিয়ার চকিত চাহনি? নারী শরীরের সৌন্দর্য বর্ণনা? এমন হাজারো প্রশ্ন আছে কবিতা নিয়ে।কবিতা মানব মনের অনবদ্য ধ্যান ও মননের বহিঃপ্রকাশ; ভাবনার অনুরণন থেকে বেড়ে ওঠা পঙক্তিমালাই কবিতা। কবিতা ভাবপ্রকাশের ভাষা, প্রগাঢ় বোধের নান্দনিক প্রতিচ্ছবি। কবিতা অধিকারের ভাষা, প্রতিবাদের ভাষা। কবিতা ভালোবাসার ভাষা।। কবিতা বলতে কী আবেগের বিজ্ঞানকে বুঝানো হয়ে থাকে? আবেগ ও বিজ্ঞান এ দুটির সমমিশ্রণ ঘটলেই পঙক্তিমালাগুলো কবিতা রূপ ধারণ করে। কবিতা শিল্পের একটি শাখা যেখানে ভাষার নান্দনিক গুণাবলীর ব্যবহারের পাশাপাশি ধারণাগত এবং শব্দার্থিক বিষয়বস্তু ব্যবহার করা হয়। কবিতা হচ্ছে শব্দমাল্যের সুগভীর গাঁথুনি, হৃদয়ের অনবদ্য সুখানুভূতি। কবিতা কখনো কালের সাক্ষী, সমকালের মুখপাত্র, কখনো দগ্ধ হৃদয়ের আর্তনাদ।
    বিশ্লেষকদের মতে, কবিতা প্রতিমুহূর্তে আচরণে-আবরণে, আহ্বানে নিজের অস্তিত্ব তথা বোধজাত উপলব্ধি ঠিক রেখে নিজেকে ভাঙ্গে আবার গড়ে।



    বাংলা সাহিত্যের জীবন্ত কিংবদন্তি কবিদের অন্যতম একজন কবি অসীম সাহা। একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি অসীম সাহা কে শুদ্ধতার কবি বলা হয়।সাহিত্য জগতের বেশ কিছু সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্মেলনে এই খ্যাতিমান গুণী শিল্পীর সাথে আমার দেখা হয়েছে। উনার জ্ঞানগর্ভ কথা শোনার সৌভাগ্য হয়েছে। জাতীয় শিশু কল্যাণ পরিষদের এক অনুষ্ঠানে কবিতার রূপরেখা নিয়ে চমৎকার বিশ্লেষণধর্মী আলোচনা রেখেছিলেন তিনি। কোনটি কবিতা, কোনটি কবিতা নয়,কবিতা কেমন করে কবিতা হয়? কবির উপস্থাপনায় তা শৈল্পিক ভাবে বিদৃত হয়েছিল।তিনি বলেছিলেন,”কবিতা কিন্তু কোন সহজ পথে কোন সহজ কান্ডারী হয়ে তাকে অতিক্রম করবেন তা কিন্তু নয়।বহুদূর পথ পাড়ি দিতে হয়।
    পৃথিবীর বিখ্যাত বিখ্যাত কবিরা কবিতাকে নানান ভাবে বিশ্লেষণ করেছেন।
    সংস্কৃত আলোয় কবিরা বলেছেন, এটি একটি অলংকার কাব্য।
    আবার কেউ বলেছেন, শব্দের সাথে শব্দের প্রবাহমানই কবিতা।
    আবার বিখ্যাত দার্শনিক গোর্জে তিনি বলেছেন,আবেগের শক্তিশালী বহিঃপ্রকাশই হচ্ছে কবিতা।
    কবির বক্তব্য শোনার পরে আমার মনে হয়েছিল কবিতা আসলেই নীল সাগর বুকের ঢেউয়ের মতো, সুন্দর শব্দমালা আর উপমার ঢেউ। যেখানে থাকবে সুন্দর একটি গল্প।হাজার রাতের গল্পে যে গল্প শেষ হয় না, কবিতার একটি মাত্র শব্দ কিংবা দু চারটি লাইনে তা প্রকাশ করা যায়।
    ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো এই দিনটিকে বিশ্ব কবিতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এই দিবস পালনের উদ্দেশ্য হল বিশ্বব্যাপী কবিতা পাঠ, রচনা, প্রকাশনা ও শিক্ষাকে উৎসাহিত করা। পূর্বে অক্টোবর মাসে বিশ্ব কবিতা দিবস পালন করা হত। প্রথমে ৫ অক্টোবর এবং বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে রোমান মহাকাব্য রচয়িতা ও সম্রাট অগস্টাসের রাজকবি ভার্জিলের জন্মদিন স্মরণে ১৫ অক্টোবর এই দিবস পালন করা হত।বিভিন্ন দেশে বিভিন্নভাবে পালন করা হবে কবিতা দিবস। কবিতা ছড়িয়ে যাক সকল হৃদয়ে, আবৃত্তি হোক একের পর এক, রচনা, পাঠ ও কবিতা প্রকাশনা উৎসাহিত হোক।

    “অতি শৈশব থেকে কবিতা আর আমি একই আলয়ে থাকি
    কত চেনাজানা,
    অথচ বিধাতার কাছ থেকে কিছু নৈসর্গিক শব্দ পেয়েও
    জীবনের শ্রেষ্ঠ কবিতা খানি হলো না রচনা। ”

    💻লেখকঃ এস এম শাহনূর
    (কবি ও আঞ্চলিক ইতিহাস গবেষক)

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম