• শিরোনাম


    বিশ্বব্যাপী মরনব্যাধি করোনাভাইরাস কী ও কেন ? -এর প্রতিরোধে করণীয় -মাওলানা কাওসার আহমদ যাকারিয়া

    মাওলানা কাওসার আহমদ যাকারিয়া | ১৮ মার্চ ২০২০ | ৬:১২ অপরাহ্ণ

    বিশ্বব্যাপী মরনব্যাধি  করোনাভাইরাস কী ও কেন ? -এর প্রতিরোধে করণীয়  -মাওলানা কাওসার আহমদ যাকারিয়া

    পৃথিবীজুড়ে মরনব্যাধি করোনাভাইরাস আল্লাহ প্রদত্ব একটি আযাব।
    বর্তমানে সারা বিশ্বে সর্বাধিক উচ্চারিত বাক্য হচ্ছে “করোনা ভাইরাস” সকলেই এটিকে নিয়ে খুবই আতংকিত।
    অনেকেই কোরআন-হাদিসের আলোকে এর থেকে পরিত্রানের ব্যবস্থাপনা বলে দিচ্ছেন। তবে সর্বপ্রথম করোনাভাইরাসের আর্বিভাব ঘটে চীনে । বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম দ্বারা প্রমাণিত এই রোগটি কেবলমাত্র চীনের অমুসলিমদের ওপর আঘাত হেনেছে কোনো মুসলমান এই রোগে আক্রান্ত হননি।

    মূল কথা।
    এটি কী শুধুমাত্র একটি রোগ ?
    এটি কেবলমাত্র একটি রোগই নয় বরং এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে অমুসলিমদের ওপর একটি আজাব।আল্লাহ পূর্ববর্তী নবীগণের উম্মতের ওপরও যুগে যুগে এমন আজাব শুধুমাত্র কাফিরদের ওপর দিয়েছেন,এই আজাবে কোনো মুমিনকে আক্রান্ত করেনি। যেমন মূসা (আ.)-এর যুগে ফেরাউন এবং তার জাতির ওপর এক এক করে সাতটি আজাব নাজিল করেছিলেন কিন্তু মূসা (আ.)-এর উম্মত ক্বিবতী জাতির পাশে থাকার পরও তাদের কাউকেই একটিও আজাব আক্রান্ত করেনি।ঠিক তেমনিভাবে চীনেও একজন মুসলমানও এই রোগে আক্রান্ত হননি।এ থেকেই প্রতীয়মান হয় যে,”করোনা “কেবল একটি রোগ নয় বরং এটি একটি আজাব।যা আল্লাহ তা’আলা কাফিরদের জন্য নাজিল করেছেন।আর মুমিনদের জন্য রহমত। এই মর্মে রাসূল সা.ইরশাদ করেন।



    عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَتْ سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ الطَّاعُونِ فَأَخْبَرَنِي أَنَّهُ عَذَابٌ يَبْعَثُهُ اللَّهُ عَلَى مَنْ يَشَاءُ وَأَنَّ اللَّهَ جَعَلَهُ رَحْمَةً لِلْمُؤْمِنِينَ لَيْسَ مِنْ أَحَدٍ يَقَعُ الطَّاعُونُ فَيَمْكُثُ فِي بَلَدِهِ صَابِرًا مُحْتَسِبًا يَعْلَمُ أَنَّهُ لَا يُصِيبُهُ إِلَّا مَا كَتَبَ اللَّهُ لَهُ إِلَّا كَانَ لَهُ مِثْلُ أَجْرِ شَهِيدٍ

    হজরত আয়েশা রা.থেকে বর্ণিত,তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে প্লেগ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে উত্তরে তিনি বলেন, তা একটি আযাব। আল্লাহ্‌ তা’আলা তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাদের প্রতি ইচ্ছা করেন তাদের ওপর তা প্রেরণ করেন। আর আল্লাহ্‌ তা’আলা তাঁর মুমিন বান্দাদের ওপর তা রহমত করে দিয়েছেন। কোন ব্যক্তি যখন প্লেগে আক্রান্ত জায়গায় সাওয়াবের আশায় ধৈর্য ধরে অবস্থান করে এবং তার অন্তরে দৃঢ় বিশ্বাস থাকে যে, আল্লাহ্‌ তাকদীরে যা লিখে রেখেছেন তাই হবে তাহলে সে একজন শহীদের সমান সওয়াব পাবে। (বুখারী হা.নং-৩৪৭৪)

    সুতরাং উক্ত হাদীস সুস্পষ্ট বলে দিচ্ছে কোনো রোগ যখন মহামারি আকার ধারণ করে তখন এটি শুধুমাত্র একটি রোগই থাকে না বরং এটি একটি আজাব হিসেবে গণ্য হয়।এ থেকে মুমিনদের আতংকিত হবার কোনো কারণ নেই।
    দ্বিতীয় বিষয় হচ্ছে “ভাইরাস”বলতে শরীয়তে কোনো কিছু নেই।

    যে জাতি বা সম্প্রদায় দুটি কাজ পরিহার করার নিশ্চয়তা দিতে পারবে, সে জনপদ আল্লাহর গজব থেকে নিরাপদ থাকবে
    ১. জুলুম, নির্যাতন
    ২. জিনা, ব্যভিচার

    করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে
    দেশের সকল দ্বীনি ওয়াজ মাহফিল গুলো সরকারি সহায়তায় সফল করা,
    সরকারি উদ্যোগে বেশি বেশি তওবা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা,
    মানুষকে মসজিদের দিকে আহবান করা অপরিহার্য।
    অশ্লীলতার আবাসিক হোটেল, পর্যটক স্পট, সিনেমা হল, ক্লাব, গান বাজনা, বন্ধ করা
    সকল টিভি চ্যানেল গুলোতে সিনেমা, নাটক, গান বাজনা মূলক অনুষ্ঠান ও হিন্দি চ্যানেলের নাটক সম্প্রচার বন্ধ করে
    সরকারি বেসরকারি সকল অফিসগুলোতে নামাজ চালু করা, দুনিয়াবী কোন প্রতিরোধ ব্যাবস্থা গ্রহণের উপর ভরসা না করে মহান আল্লাহর কাছে সাহায্য কামনা করা অতিপ্রয়োজনীয়।

    করোনাভাইরাসকে ঈমান বিধ্বংসী ভাইরাসে রুপান্তরিত করা হচ্ছে। যেখানে এই গজব থেকে বেঁচে থাকার জন্য তওবা ও ইস্তিগফারের মাধ্যমে ঈমান শক্তিশালী হওয়ার কথা সেখানে নানা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়ে ঈমান ধ্বংসের পাঁয়তারা করা হচ্ছে। কেননা সতর্কতামূলক প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার কথা বলা হলেও এতে করে সাধারণ মানুষের ভেতরে করোনাভাইরাস-এর ছোঁয়াচে হওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে এবং একজনের সঙ্গে হাত মেলালে বা উঠা-বসা করলে অন্যজনের মধ্যে এই ভাইরাস ছড়িয়ে যেতে পারে এমন বিশ্বাস বৃদ্ধমূল হবে।

    শুধু তাই নয়, এতে করে সামাজিকভাবেও চরম বিশৃংখলা দেখা দিতে পারে। একটা সময় দেখা যাবে এ ভয়ে ডাক্তাররাও তাদের প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেবে। তাতে কোন রোগীকে চিকিৎসা দেওয়ার মতো কেউ থাকবে না। পরিবারের একজন সদস্য আক্রান্ত হলে অন্য সদস্যরা তার কাছ থেকে দূরে সরে যাবে। যা নিতান্তই অমানবিক ও বেদনাদায়ক হবে।

    আল্লাহ তায়ালার উপর ভরসা রাখুন। কুফরি বিশ্বাস ছড়িয়ে পড়তে পারে এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকুন। শরীয়তের সীমাবদ্ধতা মেনে সর্তকতা অবলম্বন করুন।

    বিশ্ব ব্যাপি মরনব্যাধি করোনাভাইরাস নামক আযাব থেকে বাঁচতে
    বর্তমান বিশ্বের সর্বচ্চো আলেমদের অন্যতম, শাইখুল ইসলাম আল্লামা মুফতী তাক্বী উসমানী দা.বা. করোনা ভাইরাসের মত মহামারী রোগ থেকে বাঁচার জন্য ৪টি আমলের কথা বলে দিয়েছেন। ৪টি আমল হল।

    ১, নিম্নের দু’টি দোআ বেশি বেশি পাঠ করুন।
    ١. لا اله الا انت سبحانك اني كنت من الظالمين.
    ٢. اللهم ارفع عنا البلاء والوباء.

    ২, ঘর থেকে বের হওয়া ও পানাহারের সময় নিম্নের দোআটি বেশি করে পাঠ করুন।
    بسم الله الذي لا يضر مع سمه شيئ في الارض ولا في السماء وهو السميع العليم.

    ৩, বাচ্চাদের গলার মধ্যে এ দোআটি কাগজে লিখে তাবীজ হিসেবে ঝুলিয়ে দিন।
    اعوذ بكلمات الله التامات من شر ما خلق فالله خير حافظا وهو ارحم الراحمين.

    ৪, প্রত্যেক নামাযের পর আয়াতুল কুরসী পাঠ করে নিজেকে ও পরিবারের সকলকে ফুঁক দিন।

    সুস্থতার মালিক তো আল্লাহ তাআ’লা, দো’আ-দুরূদ ওসীলাহ মাত্র। আমাদের কাজ হল সাধ্যানুযায়ী দো’আ ও চেষ্টা করে যাওয়া। আল্লাহ তাআ’লা সবাইকে সকল প্রকার রোগব্যাধি ও মহামারী রোগ থেকে হেফাজত করুন। আমীন।

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০৩১  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম