• শিরোনাম


    বিপদে ধৈর্যধারণ করা ঈমানের দাবী : মুফতি ছালেহ বিন আব্দুল কুদ্দুস

    মুফতি ছালেহ বিন আব্দুল কুদ্দুস, অতিথি লেখক | ০৯ এপ্রিল ২০২০ | ৫:১৪ পূর্বাহ্ণ

    বিপদে ধৈর্যধারণ করা ঈমানের দাবী : মুফতি ছালেহ বিন আব্দুল কুদ্দুস

    বর্তমানে পুরো বিশ্ব এক সংকটময় পরিস্থিতির শিকার। প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস মানবজীবনের আনন্দ-খুশিকে কেড়ে নিয়েছে। মৃত্যুর আতঙ্ক, জীবনের ব্যাপারে হতাশা সৃষ্টি হচ্ছে সবার মনে। এই বিভীষিকাময় সময়ে একজন মুমিন হিসেবে শরীয়তের নির্দেশনা অনুযায়ী অবশ্যই আমাকে-আপনাকে সবর তথা ধৈর্যের শিক্ষা হৃদয়ে ধারণ করতে হবে। মনে রাখতে হবে, এটি এক মহাপরীক্ষা। কোনভাবেই অধৈর্য হওয়া চলবে না। আল্লাহ পাকের শানে অসঙ্গত কথা বলা কিংবা মনে মনে অসঙ্গত কোনো বিশ্বাস পোষণ করা যাবে না। মহান আল্লাহর ফয়সালাকে মেনে নিয়ে তাঁর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করতে হবে। এর নামই সবর। এই সবর মুমিনের হাতিয়ার।
    আল্লাহ তাআলা বলেন,
    یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوا اسْتَعِیْنُوْا بِالصَّبْرِ وَ الصَّلٰوةِ اِنَّ اللهَ مَعَ الصّٰبِرِیْنَ.
    হে মুমিনগণ! তোমরা সবর ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য চাও, নিশ্চয় আল্লাহ সবরকারীদের সঙ্গে রয়েছেন। -সূরা বাকারা: ১৫৩

    আল্লাহ তাআলা ঈমানদারগণকে পরীক্ষা করে সবরকারীদের উপর রহমতের বারিধারা অবতীর্ণ করেন। ইরশাদ হচ্ছে,
    وَلَنَبْلُوَنَّكُمْ بِشَيْءٍ مِنَ الْخَوْفِ وَالْجُوعِ وَنَقْصٍ مِنَ الْأَمْوَالِ وَالْأَنْفُسِ وَالثَّمَرَاتِ وَبَشِّرِ الصَّابِرِينَ.
    الَّذِينَ إِذَا أَصَابَتْهُمْ مُصِيبَةٌ قَالُوا إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُون.
    أُولَئِكَ عَلَيْهِمْ صَلَوَاتٌ مِنْ رَبِّهِمْ وَرَحْمَةٌ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُهْتَدُونَ.
    البقرة:155- 157 –
    “আমি অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করব ভয়-ভীতি, ক্ষুধা এবং জানমাল ও ফলফসলের ক্ষয়-ক্ষতি দ্বারা, আর তুমি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দাও। যারা যে কোনো রকম বিপদে আক্রান্ত হলে বলে ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন- (সন্দেহ নেই, আমরা আল্লাহরই, আর আমরা তো তাঁর কাছেই ফিরে যাব)। তাদের ওপরই রয়েছে তাদের প্রভুর পক্ষ থেকে শান্তি ও অনুগ্রহ, আর তারাই কেবল সঠিক পথপ্রাপ্ত।। ’’
    -সূরা বাকারা :১৫৭-১৫৫
    আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারীমে নব্বই-এর অধিক স্থানে সবরের আলোচনা করেছেন, এবং প্রভূত মর্যাদা ও কল্যাণকে এর সঙ্গে যুক্ত করে দিয়েছেন।
    আল্লাহ তাআলা মুমিন বান্দার যিন্দেগীর প্রতিটি ক্ষেত্রেই সওয়াব অর্জনের ব্যবস্থা করে রেখেছেন। শর্ত হলো, অবস্থাভেদে শোকর ও সবরকে আকড়ে ধরতে হবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
    “عجباً لأمر المؤمن إن أمره كله له خير، وليس ذلك لأحد إلا للمؤمن إن أصابته سراء شكر فكان خيراً له، وإن أصابته ضراء صبر فكان خيراً له”
    ‘‘বিস্ময় মুমিনের জন্য, তার সব বিষয়ই কল্যাণকর, যা মুমিন ছাড়া আর কারো জন্য নেই। সে আনন্দ লাভ করলে শোকর আদায় করে আর কষ্টে পতিত হলে ধৈর্যধারণ করে; যা তার জন্য কল্যাণকর।’’ –(সহীহ মুসলিম)
    রোগ-ব্যাধি ও জানমালের ক্ষয়-ক্ষতি হলে মনকে এই বলে বোঝানো যে, এই সবই আমার কোন না কোন মঙ্গলের জন্য হচ্ছে, যদিও আমি বুঝছি না। ধৈর্যধারণ করলে এতে আমার পাপ মোচন হয়ে দরজা বুলন্দ হবে। কিন্তু আমি সবর না করলেও তাকদীরে যা আছে তাতো হবেই, আমি অধৈর্য হয়ে ছওয়াব হারাব কেন?



    ধৈর্য মুমিনের জীবনে কল্যাণের প্রাচুর্য এনে দেয়। এজন্যই হযরত উমর রা. বলেন,
    **قال عمر بن الخطاب: وجدنا خير عيشنا بالصبر.
    -عدة الصابرين، 124
    আমরা সবরের মাধ্যমে মঙ্গলজনক জীবন অর্জন করেছি।

    উলামায়ে কেরাম বলেন, সবর করা ওয়াজিব অধৈর্য হওয়া হারাম।
    : -الإنسان إذا أصابته مصيبة له أربعة أحوال ***
    التسخط، وهو محرم*
    الصبر، وهو واجب*
    الرضا، وهو مستحب*
    الشكر، وهو أعلاها وأكملها*

    **মানুষ দুঃখ-কষ্টে পতিত হলে তার চারটি অবস্থা:
    ১.অসন্তুষ্ট ও অধৈর্য হওয়া, এটা হারাম।
    ২.সবর করা, ইহা ওয়াজিব।
    ৩.সন্তুষ্ট হওয়া, ইহা মুস্তাহাব।
    ৪.শোকর আদায় করা, আর এটা হলো সর্বোচ্চ ও পূর্ণাঙ্গ মর্তবা।

    “ اصبر واحتسب ”গ্রন্থের লেখক ড.আ.মালেক কাছেম বলেন,
    إذا تعلمت الصبر فقد اجتزت نصف مشاكل الحياة **
    সবরের পাঠ গ্রহণ করতে পারলে তুমি জীবনের অর্ধেক সমস্যার সমাধান করে ফেলতে পারবে।।
    আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সবর অবলম্বন করে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন করার তাওফীক দান করুন। আমীন।।

    লেখক: মুফতি ছালেহ বিন আব্দুল কুদ্দুস
    প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক: শাহবাজপুর, বি-বাড়িয়া, বাংলাদেশ।

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম