• শিরোনাম


    বিতর নামায নিয়ে একটি পর্যালোচনা [] মুফতী শামছুল আলম

    লেখক: মুফতী শামছুল আলম, মুহাদ্দিস: জামি'আ মুহাম্মাদিয়া আরাবিয়া,মুহাম্মদপুর,ঢাকা। | ২৮ এপ্রিল ২০২০ | ২:১৯ অপরাহ্ণ

    বিতর নামায নিয়ে একটি পর্যালোচনা [] মুফতী শামছুল আলম

    গোটা মুসলিম বিশ্ব দেড় হাজার বছর যাবত সহীহ হাদীসের ভিত্তিতে তিন রাক’আত বিতর নামায পড়ে আসছে। সাম্প্রতিককালে কিছু লোক তা নিয়ে বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে। বিতর নামায তিন রাক’আত এমর্মে যথেষ্ট সহীহ হাদীস রয়েছে ।হযরত আয়েশা র.থেকে কয়েকটি হাদীসে বর্ণিত, রাসুলু সা: তিন রাক’আত ভিতর নামাজ পড়েছেন, সহীহ বুখারী হাদীস নাম্বার- ২০১৩, মুস্তাদরাক হাদীস নাম্বার- ১১৪০।

    বিতর নামায তিন রাক’আত, ( -প্রতি রাক’আতে সুরা ফাতেহার সাথে অন্য সূরা মিলানো এবং তৃতীয় রাক’আতে কিরাতের পর রুকুতে যাওয়ার আগে দু’আয়ে কুনূত পাঠ করা ওয়াজিব । বিতরের নামাজে প্রথম রাক’আতে “سبح اسم ” সাব্বি- হিসমা এবং দ্বিতীয় রাক’আতে সূরা কাফিরুন এবং তৃতীয় রাকাতে সূরা এখলাছ পাঠ করা মুস্তাহাব -) একেই সালামের আদায় করতে হয় মধ্যে সালাম ফিরালে নামাজ ভেঙ্গে যাবে। আবু দাউদ শরীফ হাদীস নাম্বার.-৬১, আম্মাজান আয়েশা রা: বলেন রাসূলুল্লাহ সা: বিতর নামাযে দুই রাক’আত এর পর সালাম ফেরাতেন না , মুস্তাদরাক হাদীস নাম্বার-১১৩৪, অপর হাদীসে তিনি বর্ণনা করেন: রাসূলু সা: বিতর নামার তিন রাক’আত পড়তেন, নামাজ শেষ হওয়ার পূর্বে সালাম ফেরাতেন না , মুস্তাদরাক হাদীস নাম্বার-১১৪০,
    এক রাক’আত কোনো নামাজ হয় না, রাসুলুল্লাহ সা:এক রাক’আত পড়তে নিষেধ করেছেন ।‌আত-তামহীদ ৫ ম খন্ড হাদীস নাম্বার-২৫৭, হযরত সাদ বিন আবি ওয়াক্কাসরা: এক রাক’আত পড়তেন,হযরত ইবনে মাসউদ রা: যখন এই বিষয়টি জানতে পারলেন তখন তিনি বলেন এক রাক’আত বিতর নামাজ পড়া জায়েজ নেই, বিতর নামায তিন রাকা’আত পড়তে হবে – আল মুজামুল কাবীর হাদীস নাম্বার -৯৪২২, ইমাম হায়সামী রা. হাদীসটিকে হাসান বলেছেন ।



    এক রাক’আত কোন নামাযই হয় না- যারা বলেন রাসূল সা: বিতর নামায এক রাক’আত পড়েছেন তারা হাদীস ভুল বুঝেছেন। হাদীসের বিশাল ভান্ডারে কোথাও শুধু এক রাক’আত পড়েছেন তা মোটেও নেই। হাদীস শরীফে রয়েছে, রাসূল সা: দুই রাক’আত দুই রাক’আত করে নামায পড়তেন শেষ দুই রাক’আতের সাথে এক রাক’আত মিলিয়ে বা যোগ করে তিন রাক’আত বিতর ( বেজোড়) নামাজ পড়তেন। হযরত ইবনে ওমর রা: বলেন: রাতের নফল নামাজ দুই রাক’আত দুই রাক’আত – তুমি যদি নামায শেষ করে চলে যেতে চাও তখন শেষ দুই রাক’আতের সাথে এক রাক’আত যোগ করে পড়বে তাহলে পূর্বের আদায়কৃত নামাজ বিতর ( বেজোড় )নামাজে পরিণত হবে- সহীহ বুখারী হাদীস নাম্বার- ৯৯৩,।।

    সারা দুনিয়ার সমস্ত কিতাবে কোথাও পাওয়া যাবে না রাসুল সা: ঘুম থেকে উঠেই অজু করে এক রাক’আত বিতির পড়ে ফেলেছেন। এর আগে দুই রাক’আত পড়েননি অথবা এশার নামাজ পড়েই তিনি শুধু এক রাক’আত পড়ে নিয়েছেন। তা কোথাও পাওয়া যাবে না। হাদীসের ভাষ্য : “اوتر بواحدة” এক রাক’আত দ্বারা বা এক রাক’আত যোগ করে‌‌ বিতর পড়েছেন।তবে হাদীসের বিশাল ভান্ডার খুঁজে দেখুন. “اوتر واحدة”
    এক রাক’আত বিতর পড়েছেন – তা কোথাও নেই।
    হযরত ইবনে মাসউদ রা: থেকে বর্ণিত, রাসূলু সা: বলেছেন রাতের বিতর নামায তিন রাক’আত যেভাবে দিনের বিতর নামায মাগরিব তিন রাক’আত – দারাকুতনি হাদীস নাম্বার-১৬৩৭,
    রাসূলু সা: বিতরের নামাযে তিনটি সূরা পড়তেন তা উল্লেখ আছে। কোন রাক’আতে কোন সূরা পড়তেন তাও উল্লেখ আছে, যেমন প্রথম রাক’আতে সাব্বি-হিসমা দ্বিতীয় রাক’আতে সূরা কাফিরুন এবং তৃতীয় রাক’আতে সূরা ইখলাস।
    কেহ এমনটি কখনোই দেখাতেই পারবেনা যে কোনদিন রাসূল সা: শুধু এক রাক’আতে একটি সূরা পড়েছেন।
    বরং তিনি শেষ দুই রাকআতের শেষে এক রাকআত মিলিয়ে তিন রাক’আত পড়তেন । এক সালামে পাঁচ অথবা সাত রাক’আত পড়েছেন তাও কোন কিতাবে কেউ দেখাতে পারবে না । বরং তিনি দুই রাক’আত দুই রাক’আত করে রাতের নামাজ পড়তেন । অতএব তিন রাক’আতের বেশি বিতর নামাজ হতে পারে না।
    ইমাম তাহাবী বলেন- বিতর নামায ফরজ বা সুন্নত হবে, আর ফরজ বা সুন্নত কোনো নামাজ এক রাক’আত নেই। অতএব ,এক রাক’আত কোন নামাজ ইসলামী শরীয়তে না থাকায়, বিতর নামায ও এক রাক’আত হতে পারে না।

    ” ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ” হাসান বসরী ” প্রমূখ ইমামগণ, বিতর নামায এক সালামের তিন রাক’আত এর ওপর বিশ্ব মুসলিম মিল্লাতের ইজমা বর্ণনা করেছেন। অতএব, ভিতর নামার তিন রাকা’আতই পড়তে হবে।

    Facebook Comments Box

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    নিয়ত অনুসারে নিয়তি ও পরিনতি

    ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম