• শিরোনাম


    বান্দরবন ভ্রমণ পর্ব—৩ [] আশিকুর রহমান গৌরনগরী

    | ১৯ নভেম্বর ২০২১ | ১১:৫৬ অপরাহ্ণ

    বান্দরবন ভ্রমণ পর্ব—৩ [] আশিকুর রহমান গৌরনগরী

    কোনো এক গোধূলী বেলায়,সূর্য তার তেজ কমিয়ে পাহাড়ের পৃষ্ঠে হারিয়ে যাচ্ছে ৷ তার আলো ম্লান করে দিচ্ছে রাতের আধাঁরেরে দিকে ৷
    সেই স্নিগ্ধ বিকেলে আমাদের ট্যুরিষ্ট টিম ট্রলারে করে রওয়ানা দিলাম থানচি থেকে রেমাক্রির দিকে!
    প্রত্যেক ট্রলারে পাঁচজন করে বসলাম দুপুরের খাবার নিয়ে!

    জীবনের প্রথম এমন ট্রলারে উঠলাম ৷
    তার আকৃতিটা হলো ডিঙ্গি নৌকার ন্যয় চিকন,এবং পিছনে ছোট্ট ইঞ্জিন লাগানো ৷
    খুবই দ্রুতগামী স্প্রিট বোর্ডের ন্যায় ৷
    ট্রলার চললো আমাদের কে নিয়ে দু ‘পাহাড়ের মাঝে দিয়ে রেমাক্রির দিকে ৷
    রেমাক্রি -বান্দরবনের একটা চমৎকার পর্যটক স্পটের জায়গা ৷
    থানচি থেকে ট্রলারে করে প্রায় দু ‘ঘন্টা সময় লাগে৷
    দু ‘পাশে আকাশচুম্বি উঁচু উঁচু পাহাড়!
    যার পাশে নিরব,নির্জন এক সরু পথের নদী পথ বয়ে গেছে! সাথে স্বচ্ছ্ব পানির স্রোত ৷
    নেই কোনো মানুষের কোলাহল ব্যস্ততা,নেই পাখিদের কোনো আওয়াজ, ডাক ৷
    অনেক দূরে দূরে পাহাড়ের শৃঙ্গে ছোট্ট একটা একটা করে কোঁড়ে ঘর ৷
    সেখানে নাকি পাহাড়ীদের শান্তির নীড়!
    একটি পরিবার পৃথিবীর সমস্ত ব্যস্ততা জামেলা থেকে দূরে তাদের বসবাস ৷
    তাদের কাছে নেই কারেন্টের কোনো সুবিধা,নেই কোনো গ্যাসের মত মহা সুবর্ণ সযোগ রান্না করার জন্য ৷
    পাহাড়ী খঁরকোঁড়া আর লাকড়ি কুঁড়িয়েই তাদের রান্না করতে হয় ৷
    নির্জন এক পাহাড়ের শৃঙ্গে তাদের আবাসস্থল ৷
    আমরা চললাম চারপাশে চোখ বুলিয়ে ৷
    নয়ন ভরে দেখতে লাগলাম স্রষ্টার অপূর্ব সৃষ্টি এবং তার অসীম শক্তির নিদর্শণ!
    ঝর্ণাধারার স্রোত আর পাথরের স্তুপ কে উপেক্ষা করে আমাদের ট্রলার চললো সামনের দিকে ৷
    অর্ধরাস্তাতে যাওয়ার পর,দু ‘টি বিশাল বড় বড় পাথর!
    মাঝি বলো একটি নাকি রাজা পাথর,আরেকটির নাম নাকি রাণী পাথর!
    এই বিশাল পাথর দেখে অবাক হয়ে গেলাম ৷
    ঐ অঞ্চলের মানুষদের দেখলে আদি যোগের মানুষের মত মনে হয় ৷



    তারা পৃথিবীর সমস্ত আধুনিকতা থেকে অনেক দূরে!
    শিক্ষা -সাংস্কৃতি আর আধুনিকতার ছোঁয়া থেকে বহুদূরে ৷
    তাই তাদের ভিতরে কিছু কু -সংস্কার লালন করে ৷
    এভাবে দীর্ঘ দু ‘ঘন্টা পথ পাড়ি দিয়ে আমরা চলে গেলাম নেটওয়ার্কের বাহিরে রেমাক্রি!
    ট্রলার এক ঝর্ণার কাছে আমাদের কে থামালো এবং পাহাড়ের উপর চমৎকার ভাবে পর্যটকদের জন্য আবাসিক হোটেল তৈরী করে রাখছে!
    ঐখানে আমরা সন্ধ্যানাগাদ উঠলাম রাত্রিযাপন করার জন্য ৷

    চলবে…….!

    Facebook Comments Box

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    মগের মুল্লুক (কবিতা)

    ১১ আগস্ট ২০১৮

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম