• শিরোনাম


    বাংলাদেশের সবচে বড় ক্যাটাগরির ওয়েবসাইট নির্মাতা আলম কিবরিয়ার নাম গিনিজ বুকে

    এস এম শাহনূর | ০৬ অক্টোবর ২০২০ | ৯:৩৩ পূর্বাহ্ণ

    বাংলাদেশের সবচে বড় ক্যাটাগরির ওয়েবসাইট নির্মাতা আলম কিবরিয়ার  নাম গিনিজ বুকে

    উইকিপিডিয়া, বাংলাপিডিয়া,তথ্য বাতায়ন, Bissoy Answer সহ গুগলে যতগুলো সার্চ ইঞ্জিন বা ওয়েবসাইট আছে, তার কোনোটাতেই এত এত ক্যাটাগরি নেই।যা “আমার গ্রাম” নামক ওয়েব সাইটে আছে।এই ওয়েবসাইটের আদ্যোপান্ত তুলে ধরেছেন এস এম শাহনূর।

    বৈশ্বিক মহামারী করোনা কালীন সময়ে তরুণ সমাজের কাছ থেকে ভাল কোনো সংবাদ পাওয়া না গেলেও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তরুণ আলম কিবরিয়া পাশা বাংলাদেশকে এক সুসংবাদ দিয়েছেন। গত ৪ অক্টোবর গিনিজ বুক অব দি ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস এ বাংলাদেশী তরুণ  আলম কিবরিয়া পাশার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছ।  কী তার কার?  আসুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।



    “আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে
    কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে?”
    কথা নয়,বাংলাদেশে বহু তরুণ রয়েছে যারা সত্যিকার অর্থেই বয়স, প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তির বিপরীতে কাজে অনেক বড়।এঁরাই দেশের সম্পদ। ভবিষ্যৎ ডিজিটাল বাংলাদেশের আত্মপ্রত্যয়ী কারিগর।বাংলাদেশের ৬৮ হাজারেরও বেশি গ্রাম গুলোর তথ্য নিয়ে কাজ করছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছেলে আলম কিবরিয়া পাশা। আজ থেকে ২৫/২৬ বছর আগে স্কুল জীবনে আমার লেখা নবীনগর উপজেলার “কাইতলা জমিদার বাড়ির ইতিহাস” এর তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করতে গিয়ে জানতে পারি জমিদার পুত্র অভয় চন্দ্র রায়ের নামানুসারে কসবা উপজেলার মেহারী ইউনিয়নের বল্লভপুর গ্রামের পশ্চিমাংশের নাম অভয়নগর, ঈশান চন্দ্র রায়ের নামানুসারে ঈশান নগর। এমন চমকপ্রদ তথ্য জানার পর মেহারী ইউনিয়নের ১০টি গ্রামের নামকরণের তথ্য উদঘাটনে নেমে পড়ি। পর্যায়ক্রমে উপজেলা ও জেলার সকল স্থান নামগুলোর নামকরণের তথ্য জানার ইচ্ছেও সবসময় মাথায় খেলা করত এবং এখনও দোলা দিয়ে যায়।”মেহারী ইউনিয়নের ১০টি গ্রামের নামকরণের ইতিকথা ” এবং “কসবা উপজেলার ৯টি উপজেলার নামকরণের ইতিকথা” লিখতে গিয়ে প্রচুর বই পড়তে হয়েছে, মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে হয়েছে। আহরিত তথ্যের সত্যতা যাচাই বাছাই ও গবেষণা করতে হয়েছে। তারপর জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়েছে।এ কাজ অনেক সময় সাপেক্ষ ও কষ্ট সাধ্য।সারা দেশের অলিখিত ইতিহাস ও ঐতিহ্য গুলো সংরক্ষণের অভাবে দিনদিন স্মৃতি থেকে ম্লান হচ্ছে, মলিন হচ্ছে এবং হারিয়েও যাচ্ছে। গ্রাম বাংলার অলিখিত ইতিহাস ও ঐতিহ্যের কথাগুলো সংরক্ষণের কথা ২৫ বছর আগে আমি যেমন ভেবেছি, ঠিক আমার মত অনেকেই হয়তো ভেবেছেন।আমার কিংবা আমাদের ভাবনা ছিল লম্বা। কাজের হাত ছিল মাত্র দুটো (শর্ট)।

    আমাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মেধাবী ছেলের মাথায় যখন এমন একটি সুন্দর ভাবনা এলো,কী করে বাংলাদেশের সকল গ্রামের নামকরণের ইতিহাস ও অন্যান্য তথ্যাবলী একত্রে সংরক্ষণ করা যায়?কী করে যে কেউ তার নিজ গ্রামের ইতিহাস ঐতিহ্য সহজে জানতে পারবে?
    ঠিক তখনই তিনি তৈরি করলেন “আমার গ্রাম ” নামক এক তথ্য সমৃদ্ধ ওয়েবসাইট।যেখানে খোঁজে পাওয়া যাবে ৬৮ হাজারেরও বেশি গ্রামের সকল প্রয়োজনীয় তথ্য। “আমার গ্রাম” ওয়েবসাইটটি মূলতঃ বাংলাদেশের পুরো ইতিহাসেরই একটি ডিজিটাল সংস্করণ।

    বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রামের নাম এবং বিস্তারিত তথ্য গুগল সহ বিভিন্ন সার্চ ইঞ্জিনে যেন যে কেউ খুব সহজে খোঁজে পেতে পারে সেই বিষয়টি মাথায় রেখে কাজ করে যাচ্ছেন ১৯৯৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর নবীনগর উপজেলার গাজিরকান্দি গ্রামে জন্ম নেওয়া এ মেধাবী তরুণ। তিনি তৈরি করেছেন “আমার গ্রাম” নামে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ক্যাটাগরির ওয়েবসাইট। যেখানে ৫ হাজারেরও বেশি ক্যাটাগরি রয়েছে।

    বাংলাদেশের ৬৪টি জেলা,৪৯২ টি উপজেলা, ৩২৮টি পৌরসভা এবং ৪৫৭২ টি ইউনিয়নের প্রত্যেকটিকে ক্যাটাগরি আকারে সাজিয়েছেন। বাংলাদেশের সকল জেলা গুলো মূল ক্যাটাগরিতে, উপজেলা গুলো সাব ক্যাটাগরিতে এবং পৌরসভা ও ইউনিয়ন গুলো চাইল্ড ক্যাটাগরিতে। পৌরসভা ও ইউনিয়ন ক্যাটাগরিতে গ্রাম গুলোর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

    “আমার গ্রাম” ওয়েবসাইটের লিংকে ঢুকে বাংলাদেশ ম্যাপে আপনার জেলায় ক্লিক করে অথবা গুগল সার্চের মাধ্যমে খুঁজে পাবেন আপনার প্রয়োজনীয় তথ্য। ওয়েবসাইটটিতে কোনো গ্রামের তথ্য বাদ পড়লে ঐ গ্রামের/ যে কেউ নির্দিষ্ট ফর্মে গ্রামের সঠিক তথ্য হালনাগাদ করার সুযোগও রয়েছে।
    ওয়েবসাইটের লিংক >>>www.amargram.xyz

    🚫সতর্কতা:
    এই ওয়েবসাইটে যেহেতু ইচ্ছে করলেই যে কেউ তার নিজের গ্রামের যে কোন তথ্য ও ইতিহাস পাঠিয়ে আপলোড করতে পারে সেহেতু মিথ্যা ইতিহাস ও ভুল তথ্য সন্নিবেশিত হওয়ার সুযোগ রয়ে গেছে।তবে এ ক্ষেত্রে ওয়েবসাইটে কারো পাঠানো ডাটা আপলোড দেওয়ার আগে তা যাচাই বাছাই করে নিতে হবে।অথবা ওয়েবসাইটির পরিচালককে ইতিহাসে অভিজ্ঞতা আছে এমন বিজ্ঞ লোকের মাধ্যমে যতটুকু সম্ভব পরখ করিয়ে নিতে হবে।

    ➤ওয়েবসাইটির ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা:
    প্রতোক মানুষ তার নিজ নিজ গ্রামের নামকরণের ইতিহাস সহ প্রয়োজনীয় তথ্য অতি সহজেই জানতে পারবে।বিশেষত ইতিহাসের ছাত্র ও ইতিহাস গবেষণার জন্য এটি একটি সহায়ক মাধ্যম হিসাবে কাজ করবে বলে আমার বিশ্বাস।

    প্রশ্নোত্তরে আলম কিবরিয়া পাশা:
    ➤আপনার গ্রামের বাড়ি ও পড়াশোনা?
    গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার গাজিরকান্দি গ্রামে। বাল্যকাল এবং কিশোরকাল কাটে গ্রামেই। বীরগাঁও স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এসএসসি এবং এইচএসসি পাস করার পর ঢাকায় চলে আসি। ঢাকাতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন আইটি বিষয়ক কোর্সে জড়িয়ে যাই। আইসিটি সম্পর্কে ছোট থেকেই আগ্রহটা ছিল অনেক বেশি। আইটি প্রতিষ্ঠানে কোর্স করতে করতে কিছু করার আগ্রহটা আরো তীব্র হয়।পড়াশোনায় একটা গ্যাপ পড়ে যায়।ঐ সময়ে কোরিয়ান ভাষায় পোস্ট গ্যাজুয়েশন সম্পন্ন করি। পরবর্তীতে ঢাকা থেকে কোরিয়া এবং জাপানিজ ভাষায় একটি কোচিং সেন্টারের শাখা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিয়ে আসি।ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে
    দর্শন বিভাগ অধ্যায়নরত আছি।

    ➤আপনার জীবনের ইচ্ছা কী?
    দেশের জন্য কিছু করার ইচ্ছে অনেক আগে থেকেই ছিল। কী করবো সেই বিষয়টি খুঁজছিলাম এতোদিন। আমার গ্রাম ওয়েবসাইট দিয়ে আমার অনেক বড় পরিকল্পনা আছে। সেই পরিকল্পনা গুলো বাস্তবায়ন করবো।

    ➤এমন একটি বড় মাপের কাজের অনুপ্রেরণা কোথা থেকে পেলেন?
    আমার গুগল সার্চ ইঞ্জিনে কোনো বিষয়ে সার্চ করার একটা অভ্যাস আছে। সার্চ ইঞ্জিনে বিভিন্ন বিষয়ে সার্চ করার সময় একটা বিষয় লক্ষ্য করলাম যে, বাংলাদেশের গ্রাম ইউনিয়ন সম্পর্কে ভালো কোন তথ্য গুগলে দেখায় না। প্রথম অবস্থায়ই সকল গ্রামের ডাটাবেইজ তৈরি করার ইচ্ছে ছিল কিন্তু এতো সময় এবং সাহস ছিল না। প্রাথমিকভাবে নিজের জেলা দিয়ে কাজটা শুরু করার পর ভালো সাড়া পেলাম। তারপর করোনা মহামারী সময়কালীন ঘরে বসে থাকা ছাড়া তেমন কোন কাজ ছিল না।সারা বাংলাদেশের গ্রাম নিয়ে কাজ করা শুরু করে দিলাম। তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে প্রতিদিন গড়ে ১২/১৩ ঘন্টা সময় দিয়ে সাইটটাকে একটা অবস্থানে নিয়ে এসেছি।
    ➤আপনি তথ্য গুলো কীভাবে সংগ্রহ করেন?
    তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে ইন্টারনেটে বহু তথ্য ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। আমি শুধু একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের তথ্য একত্রিত করেছি৷ যদিও প্রাথমিক প্রর্যায়ে এগুলো মোটেই সহজ ছিল না। কিছু তথ্য উইকিপিডিয়া এবং সরকারি ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করি এবং কিছু তথ্য সংগ্রহ করি এলাকাভিত্তিক ফেসবুক গ্রুপ এবং পেইজের এডমিনের সাহায্য নিয়ে।

    ➤ আমার গ্রাম ওয়েবসাইটটি তৈরি করতে আপনার কত টাকা খরচ হয়েছে?
    সাইটের ডিজাইন,ডেভেলপমেন্ট, ডাটা কালেক্ট, ডাটা এন্ট্রি ,ডাটা বিন্যাস আমি নিজেই করেছি। ডোমেইন এবং হোস্টিং এর জন্য কিছু ডলার ব্যয় হয়েছে। আর কিছু ডলার ব্যয় হচ্ছে এসইও করতে। সব মিলিয়ে ৭০ ডলার এর মতো হবে। এই কাজে টাকার চেয়ে বেশি সময় ই ব্যয় হয়েছে। কারণ, সব কাজ আমাকে একাই করতে হয়েছে।

    ➤বর্তমানে এবং ভবিষ্যতে এ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আর্থিক ভাবে লাভবান হওয়ার কোনো সম্ভাবনা আছে কী?
    এখন সাইটের আরও ডেভেলপমেন্ট নিয়ে ভাবছি। সাইটের এসইও এর কাজগুলো বেশি বেশি করছি। আরও কাজ বাকি রয়েছে সেগুলো আগে সম্পূর্ণ করি। তারপর কোন কোম্পানির স্পনসর নেওয়ার প্লান আছে। সেটা হয়তো অনেক দিনের ব্যাপার।

    ➤জীবনের শখ ও অবসর?
    বেশিরভাগ সময় ই কাটে মোবাইল ও কম্পিউটারের সামনে! বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে ভালো লাগে। নতুন নতুন বিষয়ে পড়াশোনা করতে ভালো লাগে। গল্পের বই পড়তে ভালো লাগে। সপ্তাহের ফাঁকে কোথাও ভ্রমণ করতে ভালো লাগে।

    💻লেখক: এস এম শাহনূর
    (কবি ও আঞ্চলিক ইতিহাস গবেষক)

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম