• শিরোনাম


    বর্তমান পরিস্থিতিতে শবে বরাত প্রসঙ্গে দারুল উলুম দেওবন্দের দুটি জরুরি অনুরোধ

    মুফতি মুহাম্মদ এনামুল হাসান, প্রতিনিধি | ০৮ এপ্রিল ২০২০ | ২:৩৫ পূর্বাহ্ণ

    বর্তমান পরিস্থিতিতে শবে বরাত প্রসঙ্গে দারুল উলুম দেওবন্দের দুটি জরুরি অনুরোধ

    ৯ এপ্রিল বৃহ.বার শাবানের ১৪ তারিখ। কাজেই বৃহ.বার ও শুক্রবারের মধ্যবর্তী রাতটিই শবে বরাত। এ রাতে যিকির ও ইবাদত, প্রচুর দুআ ও ইসতিগফার এবং পরবর্তী দিন রোযা রাখার ফজিলত বিভিন্ন হাদিস থেকে প্রমাণিত। কিন্তু সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণমূলক কোনো আমল প্রমাণিত নেই। এ জন্যে এ রাতে কবরস্থানে যেতে উৎসাহিত করা হয় না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শুধু একবার একাকী কবরস্থানে যাওয়ার কথা বর্ণিত রয়েছে। এতদসত্ত্বেও অনেক মানুষ সম্মিলিতভাবে কবরস্থানে বা মসজিদে গমন করে থাকে এবং বিভিন্ন আমল করে থাকে।
    এ কারণে সকল মুসলমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে যেখানে জরুরি আমল (জামাত সহকারে নামায ও জুমুআ ইত্যাদি) এর জন্যে বাইরে বেরুতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সেখানে কেউ যেন শবে বরাতে মসজিদে বা কবরস্থানে যেতে ইচ্ছেও না করে। ঘরের শিশু ও যুবকদের বাইরে বেরুতে বারণ করে। মোমবাতি বা পটকাবাজির মতো গুনাহ ও রুসম শতভাগ পরিহার করুন। যতটুকু সম্ভব নফল নামায, দুআ ও ইসতিগফারের আমল ঘরের চৌহদ্দিতে আদায় করুন। সাধ্যে কুলালে শুক্রবার ১৫ শা‘বান রোযা রাখুন। এটি মুসতাহাব আমল। এর বাইরে সব ধরনের সম্মিলিত ও মনগড়া অপ্রমাণিত আমল পরিপূর্ণরূপে বর্জন করুন।
    #২_লকডাউনের_নিষেধাজ্ঞা_প্রসঙ্গে
    করোনা ভাইরাসের তীব্র শংকার কারণে পৃথিবীর অধিকাংশ রাষ্ট্রের মতো আমাদের দেশেও লকডাউন কার্যকর রয়েছে।… কিন্তু অদ্যাবধি বিভিন্ন মানুষ সম্পর্কে অভিযোগ শোনা যাচ্ছে যে, তারা প্রায়সময় এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করছে। সম্ভবত তারা এগুলোকে স্রেফ রাষ্ট্রের প্রাশাসনিক পদক্ষেপ মনে করছে। এজন্যে সকল মুসলমানের কাছে অনুরোধ হলো, এক্ষেত্রে দুটি বিষয় মেনে চলুন,
    #ক. প্রাশাসনিক আইন-কানুন মেনে চলাও আমাদের নৈতিক ও শারঈ দায়িত্ব। বিশেষত যখন রাষ্ট্রীয় নিষেধাজ্ঞার অন্যতম লক্ষ্য থাকে, নাগরিকদের জীবনের নিরাপত্তাবিধান।
    #খ. মহামারীর ক্ষেত্রে শরিয়তের নির্দেশনা হলো, আক্রান্ত অঞ্চলের লোক বাইরে যাবে না এবং বাইরের লোক সেখানে যাবে না। এ সম্পর্কে বিভিন্ন হাদিস এবং ‍উমরে ফারুক রাদি. ও অন্যান্য সাহাবিদের কর্মপন্থা থেকেও পথনির্দেশনা পাওয়া যায়।
    কাজেই বর্তমান পরিস্থিতিতে সতর্কতামূলক স্বাস্থ্যবিধি অবলম্বন করা ও কোয়ারেন্টাইনে থাকা শরিয়ত ও সংবিধান, উভয় দৃষ্টিকোণ থেকে জরুরি। এজন্যে সকল মুসলমান নিষেধাজ্ঞা অমান্য করবেন না ও স্বাস্থ্যবিধির প্রতি উদাসীনতা প্রদর্শন করবেন না। এই নির্দেশনা মেনে চলা শরিয়তের বিধান মেনে চলার নামান্তর। এগুলো আমাদের সেই ঈমানি বিশ্বাসের পরিপন্থী নয় যে, যা কিছু হয়, স্রেফ আল্লাহর পক্ষ থেকেই হয়। শরিয়ত যেভাবে আমাদেরকে এ আকিদা দিয়েছে, তদ্রূপ শরিয়ত স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সতর্কতা অবলম্বন করার নির্দেশও দিয়েছে।
    এর পাশাপাশি অধিক ইসতিগফার, দরুদ শরিফ ও কুরআন তিলাওয়াতের প্রতি মনোযোগ নিবদ্ধ করুন। আল্লাহ তাআলার কাছে নিজের জন্যে ও পুরো বিশ্বের জন্যে রোগমুক্তির দুআ করুন।
    মহান আল্লাহ আমাদের সবার ওপর সন্তুষ্ট হোন এবং সবার ওপর রহমত বর্ষণ করুন। আমিন।

    মাওলানা আবুল কাসিম নুমানি
    মুহতামিম, দারুল উলূম দেওবন্দ, ভারত
    ১২ শা‘বান ১৪৪১



    Facebook Comments Box

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    নিয়ত অনুসারে নিয়তি ও পরিনতি

    ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম