• শিরোনাম


    বরগুনায় ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় ৬৪০টি আশ্রয়কেন্দ্র ও ছয়টি মেডিকেল টিম প্রস্তত

    সজীব ফরাজী; বরগুনা জেলা প্রতিনিধিঃ | ২৪ মে ২০২১ | ৩:২৪ অপরাহ্ণ

    বরগুনায় ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় ৬৪০টি আশ্রয়কেন্দ্র ও ছয়টি মেডিকেল টিম প্রস্তত

     

    আগামী বুধবার (২৬ মে) দুপুরের পর থেকে সন্ধ্যার মধ্যে ভারতের ঊরিষ্যা, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ উপকূলে আঘাত হানতে পারে ঘুর্ণিঝড় ইয়াস।
    আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বুধবার সকাল থেকে ঘণ্টায় ৯০-১০০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একাধিক জেলায়। ঘূর্ণিঝড় স্থলভাগে আছড়ে পড়ার সময় তার গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় ১৫৫-১৮৫ কিলোমিটার। তবে সোমবার থেকেই ঝড়ের আলামত শুরু হতে পারে দেশে।



    এদিকে, রবিবার রাত থেকেই ঝড়ের প্রভাব লক্ষ করা গেছে উপকূলীয় জেলা বরগুনায়। রাত ১০টার পর থেকে ঝড়ো হাওয়ার সাথে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টিও হয়েছে। সর্বপরি একটি গুমোট আবহাওয়া বিরাজ করছে বরগুনায়।
    ঘূর্ণিঝড় ইয়াস মোকাবেলায় সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বরগুনা জেলা প্রশাসন। দুর্যোগের সময় মানুষকে নিরাপদ আশ্রয় দিতে বরগুনা জেলায় ৬৪০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে বরগুনার সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া, জেলার ছয়টি উপজেলায় একটি করে মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। খোলা হয়েছে তিনটি কন্ট্রোল রুম।
    পানি উন্নয়ন বোর্ড বরগুনা কার্যালয় থেকে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। সম্ভাব্য ঝড়ের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ জরুরী মেরামতের জন্য এই কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।
    জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ মোকাবেলায় নগদ এক কোটি ৩১ লাখ টাকা মজুদ রয়েছে। খাদ্য সহায়তা হিসেবে ৩৫৮ মেট্রিক টন চাল মজুদ আছে।

    তালতলীর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ কাওসার হোসাইন জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা পেয়ে তালতলীতে ১০০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সম্ভাব্য ঝড় মোকাবেলায় আমরা প্রস্তুত। এখানে নিশানবাড়ীয়া এবং সোনাকাটা এই দুটি ইউনিয়নকে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করে বিশেষ প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
    পাথরঘাটার উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবরিনা সুলতানা জানান, ঘূর্ণিঝড় ইয়াস মোকাবেলায় সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। উপজেলায় ১০৮টি আশ্রয়কেন্দ্র ও একটি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সকল মাছধরা ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি নিরাপদে থাকতে বলা হয়েছে। যদিও সাগরে মাছধরায় নিষেধাজ্ঞার কারেন প্রায় সব ট্রলারই উপকূলের কাছাকাছি রেয়েছে।
    সিভিল সার্জন মারিয়া হাসান বলেন, ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী সময়ে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার জন্য জেলায় মোট ছয়টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। এই টিমের ছয়জন চিকিৎসক সার্বক্ষণিক দায়িত্বে থাকবেন। এছাড়া, স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।
    জানতে চাইলে বরগুনা জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান বলেন, আমারা জেলা পযায়ের দুর্যোগ প্রস্তুতি টিমের সঙ্গে প্রস্তুতিমুলক সভা করেছি। দুর্যোগের সময় মানুষকে নিরাপদ রাখতে জেলায় ৬৪০টি আশ্রয়কেন্দ্র ও ছয়টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পর্যাপ্ত শুকনো খাবার মজুদ রাখা হয়েছে। ঝড় যদি আমাদের উপকূলে আঘাত হানে, আমরা আশা প্রকাশ করছি, অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে আমরা তা মোকাবেলা করতে সক্ষম হব।
    আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ঘূর্ণিঝড়টি বুধবার (২৬ মে) সন্ধ্যার মধ্যে ভারতের ঊরিষ্যা, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ উপকূলে আঘাত হানার আগে দেশজুড়ে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে খুলনা বিভাগে তুমুল বৃষ্টি হতে পারে। বৃষ্টির এ ধারা মঙ্গলবার (২৫ মে) থেকে শুরু হওয়ার আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। এছাড়া, কোথাও কোথাও ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

     

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম