• শিরোনাম


    বঙ্গবন্ধু (পরিবার)-কে নিবেদিত কবিতা [] এস এম শাহনূর

    | ২২ নভেম্বর ২০২১ | ৫:১৫ অপরাহ্ণ

    বঙ্গবন্ধু (পরিবার)-কে নিবেদিত কবিতা [] এস এম শাহনূর

    খোকার জন্মদিন

    আজি হতে শতবর্ষ আগে খোকার জন্ম হল
    বাঙালির প্রাণে বঙ্গবন্ধু,দুনিয়া বিশ্ববন্ধু বল।
    যদিনা হতো জন্ম পিতার,পরিচয়হীন আমি
    লাল সবুজের এই পতাকা হতোনা এত দামী।
    নেতার গায়ে আঁচড় কাটে বুকের পাটা কার
    পাকিরাও জানত তিনি মহান সারা দুনিয়ার।
    যে পিতাকে শ্রদ্ধা ভরে স্মরে বিশ্ব গুণীজন
    কেমন করে ভাবলে ঘাতক পিতার হবে মরন?
    টুঙ্গিপাড়ার খোকার কথা বাঙালির ঘরে ঘরে
    শতবর্ষী খোকার গল্প চলবে হাজার বছর ধরে।
    থাকতেন যদি বেঁচে পিতা দিনটি হতো রঙিন
    ফুল পবনে পাখি রবে ধ্বনিত শুভ জন্মদিন।



    রচনাকাল: ১৭ মার্চ ২০২০ইং।রূপসা নদীর তীর,খালিশপুর, খুলনা।

     

    পিতৃহন্তা বাঙালি

    পট্টিকের থেকে যোজন অপেক্ষা
    হাজার বছরের অন্তিম প্রতীক্ষা।
    স্বাধীনতার নির্মোহ মন্ত্র পাঠে
    পরাধীন পিঞ্জরের শিকল টুটে,
    ধরে আনলো সোনার পাখি
    পাখির চোঁখে আকাশ দেখি।

    ১৭৫৭ সালের পলাশীর পর
    কেউ রাখেনি বাঙালির খবর।
    ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ সন্ধ্যার পর
    রবিবারে জন্ম নিলেন শেখ মুজিবুর।
    শোষণ লাঞ্ছনা বঞ্চনার যত ব্যথা
    ভুলিয়ে দিলো শেখ মুজিবের কথা।

    শিমুল পলাশ রক্ত লাল
    ভাঙ্গা তরীতে উঠিল পাল
    মুজিব ধরল দেশের হাল।
    রক্তে রাঙা খোকার গাল
    হাসুর পিতার পাঞ্জাবি লাল
    কাঁদে দেশ, হাসে দালাল।

    ভোরের সূর্যে রক্ত লাল
    প্রভাত রাঙায় রক্ত লাল
    লাল লালিমায় রক্ত লাল।
    গোলাপ জবা রক্ত লাল
    পিতার বুকের রক্ত লাল
    লাল গালিচা লালে লাল।

    ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট
    শুক্রবার দিন ফজরের পর
    রক্ত বৃষ্টি নামে বত্রিশ নম্বর।
    সোনার বাংলায় ধরে ঘুন
    কুলাঙ্গার পুত্রের হাতে খুন।
    পিতার রক্ত মাতার রক্ত
    রক্তে ঢাকে মেহেদী লাল,
    পোড়ল বাঙালির কপাল
    বিশ্ববাসী ঘৃণায় দিল গাল।

    সোনার ডিম পাড়া রাজহাঁস
    হত্যায় নেমে এলো সর্বনাশ।
    সোনার ডিমের খোঁজে সবাই
    আজ দিগ্বিদিক ছুটে বেড়াই!
    স্বাধীনতা খুজি শান্তি খুজি
    আপন ভালো বেশতো বুঝি!

    মীর জাফরের উত্তরসূরী
    বাঙালি সমাজে ভুড়িভুড়ি।
    ঘসেটি বেগমের ছলচাতুরী
    রূপ লভিছে আজ মহামারি।
    কম্পিত বঙ্গ, রক্তের অভিশাপ
    এ আমাদের পিতৃহত্যার পাপ।

    রচনাকাল: ১৩ আগস্ট ২০২০ইং
    হাজী ভবন, খিলবাড়ির টেক, ঢাকা।

     

    শুভ জন্মদিন হাসুপা’

    ভালবাসার বন্ধনে বাঁচুন
    বঙ্গবন্ধুর যোগ্যতম কন্যা,
    অপ্রসূত বাঙালির প্রাণে
    হাজার বছরের অনন্য।

    জাতির পিতার মরণোত্তর
    বাঙালি জতির ভরসা,
    শতবর্ষে হারিয়ে গেলে
    মিটিবেনা অন্তিম তিয়াসা।

    মানবতার মাকে আমরা
    সহজ্র হৃদয়ে ভালোবাসি,
    সুখের আধার হাসু’পা কে
    হারানোর ভয় দিবানিশি।

    বেঁচে থাকলে রাসেল
    নিয়ে ঘাতকের অনুকম্পা
    আজিকার দিনে বলতেন,
    ‘শুভ জন্মদিন হাসুপা’।

    রচনাকাল: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ইংরেজী।
    বরগুনা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।

     

    ইতিহাসের মহা শিশু

    মাথাভরা ঘন কালোচুল।
    তুলতুলে নরম গাল।
    বেশ বড় সড় শিশু;
    ১৯৬৪ সালের ১৮ ই অক্টোবর
    আলোকিত ধানমন্ডির বিখ্যাত ৩২ নম্বর
    জন্মের পর প্রথম কোলে নিলেন হাসু।
    বিশ্বমানবতার প্রতীক বার্ট্রান্ড রাসেলের নামানুসারে
    রাখলেন ছেলের নাম মহৎ স্বপ্ন আকাঙ্ক্ষাকে ঘিরে।
    দুই বছরের বাচ্চা ছেলে
    কারাগারে পিতাকে বলে
    ‘আব্বা বাড়ি চলো। ’ নত মাথা
    ‘কী উত্তর ওকে আমি দিব’।
    শত কষ্টবুকে চেপে বলেন পিতা।
    পিতার অভাব মিটাতে মাকেই ডাকতেন আব্বা।
    ভীষণ দুরন্ত ছিল শৈশবোত্তীর্ণ শেখ রাসেল,
    তাঁর দুরন্তপনার সঙ্গী ছিল বাই-সাইকেল।
    কবুতরের পিছন পিছন ছুটেছেন শিশুকালে
    কাজের লোকদের সঙ্গে রান্না ঘরে পিঁড়ি পেতে বসে
    লালফুল আঁকা থালায় ভাত খেতেন একটু বড় হলে।
    চতুর্থ শ্রেণির ১১ বছরের রাসেল ছিল অতি সাধারণ
    ভাল লাগতো মাছ ধরতে উড়ে বেড়াতে ঘুরে বেড়াতে
    আব্দুল মিয়া ভাই’য়ের কিসসা শুনে হাসতো অকারণ।
    ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট প্রাতে
    ছোট্র রাসেলকেও দিতে হলো প্রাণ
    মানবরূপী বাঙালি দানবের হাতে।

    পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডে আতঙ্কিত শিশু রাসেল
    কেঁদে কেঁদে বলেছিলেন, ‘আমি মায়ের কাছে যাব’।
    নিথর দেহগুলো পড়ে থাকতে দেখে
    ওর ছোট্ট বুকটা ব্যথায় কষ্টে বেদনায় স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল।
    মায়ের লাশ দেখার পর অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে মিনতি করেছিলেন ‘আমাকে হাসুপা’র কাছে পাঠিয়ে দিন’
    আজ সেই রাসেলের ৫৭তম শুভ জন্মদিন।

    রচনাকাল: ১৭ অক্টোবর ২০২০ইং
    টিটিসি,বরগুনা।

     

    তর্জনী

    একটি বজ্র কণ্ঠ, তর্জনীর একটি বজ্র নিনাদ
    মিটিয়ে দিলো পলাশীর পরাজয়ের অপবাদ।
    টুঙ্গি পাড়ার দামাল ছেলে জাতির জনক বঙ্গবীর
    শোষিত বাঙালীর নেতা তিনি চির উন্নত শির।
    খোকার হাতে বাঙালী লিখল বিজয়ের ইতিহাস,
    অবাক পৃথিবীর সবাক কথন সাবাস সাবাস।

    রচনাকাল: ১৫ই আগস্ট ২০১৭।
    ৩২ নম্বর বাড়ী,ধানমন্ডি।

     

    কবি এস এম শাহনূর পরিচিতি:
    তিনি ৮ সেপ্টেম্বর ১৯৭৯ খ্রিষ্টাব্দে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলাধীন মেহারী ইউনিয়নের অন্তর্গত বল্লভপুর গ্রামের এক মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পেশা-লেখালেখি ও গবেষণা। তাঁর পিতার নাম হাজী আব্দুল জব্বার বল্লভপুরী (রহ.), মাতার নাম জাহানারা বেগম। ছোটবেলা থেকেই কবিতা ও গল্প লেখায় হাতে খড়ি। ছাত্র জীবনে তিনি ছিলেন প্রতি পরীক্ষায় ফার্স্ট হওয়া অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র। তিনি ১৯৯৭ সনে এস এস সি (কুমিল্লা বোর্ড স্কলারশীপ সহ)১৯৯৯ সনে এইচ এস সি এবং ২০০৩ সনে বি এস এস এবং Marine and Warfare Academy of China.থেকে উচ্চতর প্রযুক্তি বিষয়ে পড়াশোনা করেন।

    কর্মজীবনে জাতিসংঘের UNIFIL এ দীর্ঘ সময় কর্মরত ছিলেন। চষে বেড়িয়েছেন ইউরোপ-এশিয়ার নানান দেশ। পত্রিকায় প্রকাশিত প্রথম কবিতা ‘অগ্নি বাণী’ ১৯৯৪ সালে এবং বেতারে ‘স্বপ্ন দেখার নেইতো মানা’ কবিতা প্রচারিত হয় ১৯৯৬ সালে। ২০০৫ সালের একুশে বই মেলায় “স্মৃতির মিছিলে” নামক প্রথম কাব্য গ্রন্থ প্রকাশিত হয়। গবেষণাধর্মী, ভ্রমণ, জীবনী, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও কবিতাসহ তার প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ১৪টি।

     

     

     

    ✪ উদ্ভাবক: Merit Theory.
    ✪ প্রতিষ্ঠাতা-সভাপতি: তিতাস সাহিত্য ও সংস্কৃতি পরিষদ
    ✪ প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ: LITTLE FLOWER INTERNATIONAL SCHOOL , DHAKA.

    ➤কবির উল্লেখযোগ্য সৃষ্টিকর্ম:
    ★স্মৃতির মিছিলে(কাব্য গ্রন্থ)
    ★প্রজাপতি প্রেম(কাব্য গ্রন্থ )
    ★বিশ্বাসী চোঁখ (কাব্য গ্রন্থ )
    ★Colour Of My Love (ইংরেজি কাব্য গ্রন্থ)
    ★প্রেম আসে অসময়ে(উপন্যাস)
    ★ভালবেসে সাধ মিটেনি(উপন্যাস)
    ★স্বর্গের ছায়া(ভ্রমণ কাহিনী)
    ★ভাল ছাত্র হওয়ার সহজ কৌশল।
    ★দীদারে মুহাম্মদ (সাঃ)।
    ★চিরকুমার ও রাজকন্যা(বাংলাদেশ বেতারে প্রচারিত নাটক)
    ★ ব্রাহ্মণবাড়িয়া নামকরণের ইতিকথা।
    ★ রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিধন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও বাংলাদেশ।
    ★দানবীর মহেশ চন্দ্র ভট্টাচার্য (আত্মজীবনী)

    ➤পুরস্কার ও সম্মাননা:
    জাতিসংঘ শান্তি পদক ২০১৫, বিশ্ববাঙালি সম্মাননা ২০১৯ (ঢা.বি.) ; (পাক্ষিক)সকালের সূর্য সাহিত্য বাসর সম্মাননা ২০১৯, ,কলম সাহিত্য পুরস্কার ২০১৮, কাব্যজগৎ কবিরত্ন সম্মাননা ২০১৮, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওংকার শৃণুতা সম্মাননা ২০২০, কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত সাহিত্য পুরস্কার ২০১৯ এবং অমর একুশে সাহিত্য পুরস্কার ২০২০ লাভ করেন। [বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে একাধিকবার গুণিজন সংবর্ধনা প্রাপ্ত]

    Facebook Comments Box

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    মগের মুল্লুক (কবিতা)

    ১১ আগস্ট ২০১৮

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম