• শিরোনাম


    ফেনীর মাদ্রাসার ছাত্র আরাফাত হত্যায় মুহতামিম মোশারফের স্বীকারোক্তি, বলাৎকারের কথা প্রকাশ করে দেয়ার ভয়ে হত্যা

    বিশেষ প্রতিনিধি: | ২৮ আগস্ট ২০২১ | ৭:২৪ পূর্বাহ্ণ

    ফেনীর মাদ্রাসার ছাত্র আরাফাত হত্যায় মুহতামিম মোশারফের স্বীকারোক্তি, বলাৎকারের কথা প্রকাশ করে দেয়ার ভয়ে হত্যা

    ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসা ছাত্র আরাফাত হোসেন (৯)কে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন মুহতামিম মোশারফ হোসেন (৪২)।
    ওই ছাত্রকে বলৎকারের পর বিষয়টি প্রকাশ হয়ে যাওয়ার ভয়েই হত্যার পথ বেছে নেন বলে তিনি আদালতকে জানান।

    মুহতামিম মোশারফ হোসেন ১৬৪ ধারায় দেয়া জবানবন্দি প্রদানকালে আদালতে স্বীকার করে বলেন, এর আগেও তিনি আরাফাতকে বলৎকার করেছেন। শনিবার(২১ আগস্ট) রাতে বলৎকারের পর আরাফাত বিষয়টি তার পিতাকে বলে দেবে বলে মুহতামিমকে জানালে তিনি হত্যার সিদ্ধান্ত নেন। এক পর্যায়ে গলা টিপে আরাফাতকে হত্যা করে লাশ মাদ্রাসার সংলগ্ন ওই ডোবায় ফেলে দেন।



    ২৬ আগস্ট বৃহস্পতিবার বিকালে ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো.জাকির হোসাইনের আদালতে মুহতামিমের দেয়া জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করা হয়। মোশারফ হোসেন উপজেলার চরমজলিশপুর ইউনিয়নের চরলক্ষীগঞ্জ হাফেজ সামছুল হক (র.) নুরানী হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার মুহতামিম। তার বাড়ী ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায়।

    নিহত আরাফাত একই মাদরাসা ও এতিমখানার ছাত্র এবং চরমজলিশপুর ইউনিয়নের ছয়আনি গ্রামের নাজের কোম্পানী বাড়ির ফানা উল্লাহর ছেলে।
    প্রসঙ্গত; রবিবার (২২ আগস্ট) ভোর ৪টার দিকে সোনাগাজী চরলক্ষীগঞ্জ হাফেজ সামছুল হক (র.) নূরানী হাফিজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানার হেফজ বিভাগের ছাত্র আরাফাত হোসেন কে হত্যা করে মাদ্রাসা সংলগ্ন দাগনভূঞা উপজেলার মাতুভূঞা ইউপির মোমারিজপুর গ্রামের একটি ডোবায় লাশ ফেলে দেয়। একই দিন সকালে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন থাকায় আরাফাতের পিতা বাদী হয়ে এ ঘটনায় মুহতামিমসহ ৪ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন। ওই দিন রাতেই মাদ্রাসায় অভিযান চালিয়ে মুহতামিম মোশারফ হোসেন ও আরাফাতের এক সহপাঠিসহ এজহার নামীয় আরো দুই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
    সোমবার (২৩ আগস্ট) গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মুহতামিম মোশারফ হোসেন কে ৪দিনের, সহকারী শিক্ষক আজিম উদ্দিন ও নুর আলীকে ৩দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। একই সাথে গ্রেপ্তারকৃত জোবায়ের আলম ফাইজ (১১)কে গাজীপুর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে প্রেরণের আদেশ দেওয়া হয়।
    দাগনভূঞা থানার ওসি ইমতিয়াজ আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন , ৪দিনের রিমোন্ড শেষে মুহতামিমকে আদালতে পাঠানো হয়।

    Facebook Comments Box

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম