• শিরোনাম


    ফাযায়েল, মাসায়েল ও আহকামে রমজান (দলিল ভিত্তিক আলোচনা) :- মাওলানা কাওসার আহমদ যাকারিয়া

    | ০৪ মে ২০২০ | ১:৫৭ পূর্বাহ্ণ

    ফাযায়েল, মাসায়েল ও আহকামে রমজান (দলিল ভিত্তিক আলোচনা) :- মাওলানা কাওসার আহমদ যাকারিয়া

    নামাজ ও যাকাতের মত রমজান শরীফের রোজাও ইসলামের একটি অন্যতম রোকন। পবিত্র কুরআনে এই ইবাদত পালনের জন্য বিশেষভাবে তাগিদ প্রদান করা হয়েছে। আল্লাহ পাক ইরশাদ করেছেন:
    يا ايهاالذين امنوا كتب عليكم الصيام كما كتب على الذين من قبلكم لعلكم تتقون.
    ‘হে ঈমানদারগণ ! তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমনিভাবে ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর যেন তোমরা তাকওয়া অর্জনে সক্ষম হও।’ [সূরা বাকারা: আয়াত- ১৮৩]
    আল্লাহ পাক আরও ইরশাদ করেছেন:
    فمن شهد منكم الشهر فليصمه
    ‘তোমাদের মধ্যে যে কেউ এই পবিত্র মাস পাবে, সে যেন অবশ্যই রোজা রাখে।’ [সূরা বাকারা: আয়াত- ১৮৫]
    হযরত রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন :
    এক. ‘আল্লাহ তাআলা তোমাদের উপর রোজা ফরজ করেছেন। আর আমি (আল্লাহর নির্দেশে) তোমাদের জন্য রমজান শরীফের নামাজ (‘তারাবীহ’) সুন্নত করেছি। সুন্নতে মুআক্কাদাহ হিসেবে তারাবীহর নামাজ অবশ্য পালনীয়। যে ব্যক্তি ঈমান সহকারে পূর্ণ সাওয়াব লাভের আশায় রমজান মাসে রোজা রাখবে এবং তারাবীহ ও অন্যান্য ইবাদতে রাত জাগরণ করবে, সে ব্যক্তি নবজাত শিশুর ন্যায় নিষ্পাপ হয়ে যাবে। অবশ্য বান্দার হক মাফ হবে না।’ [নাসায়ী শরীফ]
    দুই. ‘যে ব্যক্তি রোজা রেখে মিথ্যা ও অসদাচরণ পরিহার করে না, তার উপবাস থাকার কোনো প্রয়োজন নেই।’ অর্থাৎ তার রোজা আল্লাহ তাআলা কবুল করবেন না। [বুখারী শরীফ]
    তিন. ‘রোজা দোজখের আগুন হতে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য ঢাল ও সুদৃঢ দূর্গস্বরুপ।’

    রোজার শরয়ী বিধান



    আল্লাহ তাআলা শরীয়তে রোজার জন্য রমজান মাসকে নির্ধারিত করেছেন। প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক বালেগ মুসলমান নর-নারীর জন্য রোজা রাখা ফরজ। যে ব্যক্তি রোজা ফরজ হওয়াকে অস্বীকার করবে, সে কাফের হয়ে যাবে।
    আর যে ব্যক্তি ‘শরয়ী ওজর’ ছাড়া রোজা পরিত্যাগ করবে, সে মহাপাপী ও ফাসেক হিসেবে গণ্য হবে।

    যে ব্যক্তি রোজা না রেখে নামাজ, যাকাত ও হজ পালন করবে, তার পরিত্রাণের জন্য এতটুকু আমল যথেষ্ট হবে না। রোজার মধ্যে এমন একটি বিশেষত্ব আছে, যা অন্যকোনো ইবাদতে নেই। আর তা হল এই যে, রোজার মধ্যে কোনোরুপ ‘রিয়া’ অর্থাৎ লোক দেখানো উদ্দেশ্য থাকে না, বরং একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভই এর উদ্দেশ্য হয়ে থাকে। সুতরাং এর বিনিময়ে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে দেয়া হবে ‘শাহী পুরস্কার’।

    রোজার নিয়ত

    রোজার জন্য রাতে শুধু এই নিয়ত করে নেয়াটাই যথেষ্ট যে, ‘আমি আগামীকাল রোজা রাখব’। কিংবা দিনে (এগারোটার পূর্বে) এই নিয়ত করাই যথেষ্ট যে, আমি আজ রোজা রাখব।’ যদি কেউ আরবী নিয়ত করতে চায়, তবে এভাবে নিয়ত করবে :
    بصوم غد نويت بشهر رمضان
    ‘রমজান মাসের আগামীকালের রোজা রাখার নিয়ত করছি।’

    যে সব কারণে রোজা ভঙ্গ হয় না

    * অনিচ্ছাকৃত গলার ভেতর ধূলাবালি, ধূঁয়া অথবা মশামাছি প্রবেশ করা।
    * অনিচ্ছাকৃত কানে পানি প্রবেশ করা।
    * অনিচ্ছাকৃত বমি আসা অথবা ইচ্ছাকৃত অল্প পরিমাণ বমি করা (মুখ ভরে নয়)।
    * বমি এসে নিজে নিজেই ফিরে যাওয়া।
    * চোখে ঔষধ বা সুরমা ব্যবহার করা।
    * ইনজেকশন নেয়া।
    * ভুলক্রমে পানাহার করা।
    * সুগন্ধি ব্যবহার করা বা অন্যকিছুর ঘ্রাণ নেয়া।
    * নিজ মুখের থুথু, কফ ইত্যাদি গিলে ফেলা।
    * শরীর ও মাথায় তেল ব্যবহার করা।
    * ঠান্ডার জন্য গোসল করা।
    * দিনের বেলা ঘুমের মধ্যে স্বপ্নদোষ হওয়া।
    * মিসওয়াক করা।
    * যদিও মিসওয়াক করার দরুণ দাঁত হতে রক্ত বের হয়। তবে শর্ত হল, তা গলার
    ভেতর না পৌছা।

    রোজা ভঙ্গের কারণ সমূহ

    * কানে নাকে তেল অথবা ঔষধ প্রবেশ করানো।
    * ইনহেলার বা নেবুলাইজার ব্যবহার।
    * ইচ্ছাকৃত মুখভরে বমি করা।
    * মুখভরে বমি আসার পর পুনরায় তা গিলে ফেলা।
    * কুলি করার সময় পানি গলায় ঢুকে যাওয়া।
    অবশ্য রোজার কথা স্বরণ না থাকলে রোজা ভাঙ্গবে না।
    * দাঁতে আটকানো খাদ্যকণা গিলে ফেলা (যদি তা ছোলার সমান বা তার চেয়ে
    বড় হয়)।
    * মুখে পান রেখে ঘুমিয়ে সুবহে সাদিকের পর নিদ্রা হতে জাগা।
    * ধুমপান করা।
    * ইচ্ছাকৃতভাবে লোবান ও অন্যান্য সুগন্ধি দ্রব্যের ধূঁয়া গিলে ফেলা বা নাকের
    ভেতর টেনে নেয়া।
    * রাত মনে করে সুবহে সাদিকের পর সাহরী খাওয়া।
    * সূর্যাস্তের পূর্বে সূর্য অস্তমিত হয়েছে মনে করে ইফতার করা;
    এমতাবস্থায় শুধু কাযা ওয়াজিব হবে। আর যদি রোজা অবস্তায় ইচ্ছাকৃতভাবে
    স্বামী-স্ত্রী সহবাস অথবা পানাহার করে তবে কাযা ও কাফ্ফারা উভয়ই ওয়াজিব
    হবে।

    রোজার মাকরুহ সমূহ

    * অনাবশ্যক কোনো জিনিস চাবানো বা চাখা।
    * কোনো দ্রব্য মুখে দিয়ে রাখা।
    * গড়গড়া করা বা নাকের ভেতর পানি টেনে নেয়া; কিন্তু পানি যদি নাক দিয়ে গলায়
    পৌছে যায়, তাহলে রোজা ভেঙ্গে যাবে।
    * ইচ্ছাকৃত মুখে থুথু জমা করে গিলে ফেলা।
    * গীবত,পরনিন্দা, অশালীন কুরুচিপূর্ণ কথাবার্তা বলা ও ঝগড়া-ফাসাদ করা। কেউ
    গায়ে পড়ে ঝগড়া-ফাসাদ করতে চাইলে বলবে, আমি রোজাদার তোমার কথার
    জবাব দিতে অক্ষম।
    * সারাক্ষণ নাপাক অবস্তায় থাকা। এটি অত্যন্ত গোনাহের কাজ।
    * অস্তিরতা ও কাতরতা প্রকাশ করা।
    * কয়লা অথবা পাওডার, পেষ্ট ও মাজন ইত্যাদি দ্বারা দাঁত পরিষ্কার করা।
    * গুল লাগানো। তবে শর্ত থাকে যে, গুল থুথুর সঙ্গে গলার ভেতর চলে গেলে রোজা
    ভেঙ্গে যাবে।

    সাহরী খাওয়ার ফযীলত ও তার নিয়ম

    রোজার জন্য সাহরী খাওয়া সুন্নত ও সাওয়াবের কাজ। বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন:
    ‘তোমরা সাহরী খাবে, এতে অত্যন্ত বরকত হবে’।
    পেটভরে সাহরী খাওয়া জুরুরী নয়, দুই বা এক লোকমা অথবা খেজুরের টুকরো কিংবা দুই চার দানা খেলেও যথেষ্ট। সুবহে সাদিকের পূর্বে রাতের শেষভাগে সাহরী খাওয়া মুস্তাহাব।

    যদি সাহরী খেতে বিলম্ব হয়ে যায় এবং প্রবল ধারণা হয় যে, ভোর হওয়ার পর কিছু পানাহার করেছে, তবে এমতাবস্থায় সন্ধা পর্যন্ত পানাহার ত্যাগ করা এবং পরে এই রোজা কাযা করা ওয়াজিব।

    ইফতার করার মুস্তাহাব নিয়ম

    সূর্যাস্তের পর ইফতার করতে বিলম্ব করা অনুচিত ; কিন্তু আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলে সাবধানতার জন্য কিছু সময় বিলম্ব করা উত্তম। খেজুর কিংবা খোরমা দ্বারা ইফতার করা সুন্নত। তা না হলে অন্যকোনো মিষ্টিদ্রব্য বা শুধু পানি দ্বারা ইফতার করবে। আগুনে পাকানো খাদ্য, রুটি, ভাত, বিরিয়ানী, পোলাও ইত্যাদি দ্বারা ইফতার করা দূষণীয় নয়। কিন্তু ফল ইত্যাদি দ্বারা ইফতার করাই উত্তম। ইফতার করার পূর্বে এই দুআ পড়বে:
    اللهم لك صمت وعلى رزقك افطرت

    ‘হে আল্লাহ ! আমি তোমারই জন্য রোজা রেখেছি এবং তোমারই দেয়া রিযিক দ্বারা ইফতার করছি।’

    তারাবীহ্

    পবিত্র রমজান মাসের রাতে ইশার ফরজ ও সুন্নত নামাজের পর বিতরের পূর্বে বিশ (২০) রাকাআত নামাজ পড়া সুন্নতে মুআক্কাদাহ। পুরা রমজান মাসে তারাবীহর নামাজ জামাআতে পড়া ও সম্পূর্ণ কুরআন একবার খতম করাও সুন্নতে মুআক্কাদাহ। খতমে তারাবীহতে হাফেজ সাহেবের জন্য কোনো প্রকার টাকা পয়সা শর্তারোপ করা জায়েয নয়। হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন:
    ‘যে ব্যক্তি রমজান মাসে ঈমানের সঙ্গে শুধু সাওয়াবের আশায় তারাবীহ্ পড়ে, তার অতীতের সব (ছগীরা) গোনাহ মাফ করে দেয়া হয়।’ [বুখারী ও মুসলিম শরীফ]

    তারাবীহর দুআ

    তারাবীহর নামাজে প্রতি চার রাকাআত পরপর নিম্ন অথবা অন্যকোনো দুআ পড়া উত্তম। দুআটি হল:
    سبحان زى الملك والملكوت سبحان زى العزت والعظمت والهيبة والقدرة والكبرياءؤالجبروت سبحان الملك الحى الذى لا ينام ولا يموت ابدا ابدا سبوح قدوس ربنا ورب الملءكة والروح.

    রমজান ও কুরআন

    রমজানের সঙ্গে কুরআনের সম্পর্কটা একেবারে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। দেহের সঙ্গে পোশাকের যেমন নিবিড় সম্পর্ক, রমজানের সঙ্গে কুরআনের সম্পর্কটা তেমনি গভীর। মানবজাতির ইহ ও পরকালীন সর্বাঙ্গীণ কল্যাণের জন্য আল্লাহ প্রতত্ত এই মহাগ্রন্হ রহমত, বরকত মাগফিরাতের পবিত্র রমজান মাসে অবতীর্ণ হয়েছে। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে:
    شهر رمضان الذى انزل فيه القران
    ‘রমজান এমন একটি মাস যাতে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে’। [সূরা বাকারা: আয়াত- ১৮৫]
    অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে: انا انزلناه فى ليلةالقدر
    ‘নিশ্চয়ই আমি এই কুরআন অবতীর্ণ করেছি লাইলাতুল কদর’। [সূরা ক্বদর: আয়াত-১]

    উপরুক্ত আয়াত দ্বারা একথা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থ অবতরণের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ সময়, দিন এবং মাসকে বেছে নেয়া হয়েছে। রমজানের চন্দ্র উদয়ের সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহ প্রেমিকের অন্তরে তরঙ্গ বয়ে যায়। কম্পন সৃষ্টি হয়। হাফেজে কুরআনের সুমিষ্ট আওয়াজে মসজিদের মিম্বর মিহরাবে ঢেউ খেলতে থাকে।
    হাদীসে পাকে ইরশাদ হয়েছে: ‘পশ্চিমাকাশে রমজানের চাঁদ উঠার সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহর পক্ষ থেকে পাপীকে থেমে যাওয়া এবং পুণ্যবানকে এগিয়ে আসার আহবান জানিয়ে ফেরেশতার দল ঘোষণা করতে থাকেন, ওহে পলন্কিলতার বার্তাবাহী, পাপ- পলন্কিলতার সবপথ রুদ্ধ করে দাও। ওহে ! কল্যাণের বার্তাবাহী, কল্যাণ এবং মঙ্গলের সবদ্বার উন্মুক্ত করে দাও।’ এ মাসে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের রহমতের সব দরজা খুলে দেয়া হয়। [মিশকাত শরীফ: খন্ড-১, পৃষ্ঠা- ১৭৩]
    কুরআন এবং রমজান বান্দার জন্য আল্লাহর দরবারে সুপারিশ করবে। রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: ‘রমজান এবং কুরআন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে।
    রোজা বলবে, হে রব! সারাদিন আমি তাকে খাবার এবং বৈধ উপভোগ থেকে বিরত রেখেছি। সুতরাং তুমি তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবূল করে নাও। কুরআন বলবে, হে রব! আমি তাকে রাতের ঘুম থেকে বিরত রেখেছি। রাতের ঘুম ছেড়ে দিয়ে সে তারাবীহ এবং তাহাজ্জুদে আমায় তিলাওয়াত করেছে। সুতরাং তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ তুমি কবূল করে নাও।’
    রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: ‘রোজা এবং কুরআনের সুপারিশ আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কবূল করে নিয়ে বান্দাকে মাগফিরাত এবং ক্ষমার পুরস্কারে ভূষিত করবেন।’ [মিশকাত শরীফ: খন্ড-১, পৃষ্ঠা-১৭৩]

    বিভিন্ন হাদীসে পাওয়া যায় যে, রমজান শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রাতের ঘুম বন্ধ হয়ে যেত। দিনের বেলায় রোজা রেখে রাতব্যাপী কুরআনে কারীমের তেলাওয়াতের মাধ্যমে তারাবীহ এবং নফল নামাজে কাটিয়ে দিতেন। প্রতি রমজানে হযরত জিবরাঈল (আ.)-এর সঙ্গে কুরআনে কারীমের তিলাওয়াত করতেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরআনে কারীম তিলাওয়াত করতেন, হযরত জিবরাঈল (আ.) তা শুনতেন। হযরত জিবরাঈল (আ.) কুরআনে কারীম তিলাওয়াত করতেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা শুনতেন। রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পূর্বপর্যন্ত এই আমল অব্যাহত ছিল। [বুখারী শরীফ: খন্ড-১, পৃষ্ঠা-৩]

    হযরত ইমাম আবু হানীফা (রহ.) প্রতি রাতে কুরআন শরীফ এক খতম করতেন। রমজান আসার সঙ্গে সঙ্গে রাতে এক খতম এবং দিনে এক খতম করতেন।

    হাদীসে কুদসীতে ইরশাদ হয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেন: اصوم لى وانا اجزى به ‘বান্দা আমার জন্য রোজা রাখে, এর প্রতিদান আমি নিজ হাতে দান করব।’ [বুখারী শরীফ: খন্ড-১, পৃষ্ঠা-২৫৪]

    অপর এক হাদীসে উল্লেখ আছে, যে ব্যক্তি কুরআনে কারীমের হাফেজ হয়ে তদনুযায়ী আমল করবে, আল্লাহ পাক তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। আল্লাহ তাকে বলবেন, কুরআনে কারীমের একটি করে আয়াত তিলাওয়াত করতে থাক, আর জান্নাতের সুউচ্চ সোপানে আরোহণ করতে থাক। কুরআন তিলাওয়াত করতে করতে যেখানে গিয়ে তার পরিসমাপ্তি ঘটবে, সেখানে জান্নাতে তার স্হান করে দেয়া হবে। [মিশকাত শরীফ: খন্ড-১, পৃষ্ঠা-১৮১]

    উপরোক্ত সংক্ষিপ্ত আলোচনার মাধ্যমে আমরা এ বিষয়টি উপলব্ধি করতে সক্ষম হলাম যে, রমজান এবং কুরআন একই সূত্রে গাঁথা। কুরআনে কারীম ছাড়া রমজান অসম্পূর্ণ, অপূর্ণাঙ্গ। রমজানের সুফল পেতে হলে কুরআনের মাধ্যমেই তা অর্জন করতে হবে। তাই এ মাসে খুব বেশি বেশি কুরআন তেলাওয়াত অব্যাহত রাখবে।
    এই বুঝ এবং উপলব্ধি আমাদের যত দ্রুত হবে, আমরা ততই আল্লাহর নৈকট্য অর্জনে সক্ষম হব। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের সবাইকে রমজান মাসে বেশি বেশি করে কুরআনে কারীমের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার এবং এর তিলাওয়াত করার তাওফীক দান করুন।

    রমজান ও ইতিকাফ

    ইতিকাফের সংজ্ঞা ও উদ্দেশ্য

    ইতিকাফ আরবী শব্দ [ عكف ] ‘আকফ’ মূল ধাতু থেকে নির্গত। আকফ শব্দের অর্থ হচ্ছে অবস্হান করা। যেমন- আল্লাহর বাণী: وانتم عاكفون فى المساجد
    ‘আর তোমরা নামাজের নির্দিষ্ট স্হানসমূহে অবস্হানরত’। [সূরা বাকারা: আয়াত-১৮]

    শরীয়তের পরিভাষায় যে মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাআত সহকারে নিয়মিত আদায় করা হয়, এমন মসজিদে আল্লাহর ইবাদতের উদ্দেশ্যে নিয়ত সহকারে অবস্থান করাকে ইতিকাফ বলে।
    হযরত রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে ইতিকাফ করেছেন এবং সাহাবাদেরকেও ইতিকাফ করার জন্য উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা প্রদান করেছেন। তিনি বলেন, মসজিদ মুত্তাকিদের ঘর। যে ব্যক্তি ইবাদতের উদ্দেশ্যে মসজিদে অবস্থান করবে, আল্লাহ তার প্রতি শান্তি ও রহমত নাযিল করবেন এবং পুলসিরাত পারপূর্বক বেহেশতে পৌঁছাবার জিম্মাদার হবেন।

    পবিত্র কাবা শরীফ তওয়াফ করা, মহান আল্লাহ তাআলার কাছে অবনত হয়ে রুকূ-সিজদা করা এবং ইতিকাফ করা যে সমধিকগুরুত্বপূর্ণ বিষয়- এ কথার যথার্থতা খুঁজে পাওয়া যায় কুরআনুল কারীমের নিম্নোক্ত আয়াত দু’টি বিশ্লেষণ করলে। আল্লাহ তায়ালা বলেন:
    واذ جعلنا البيت مثابة للناسى وامنا واتخذوا من مقام ابراهيم مصلى, وعهدنا الى ابراهيم واسمعيل ان طهرا بيتى للطاءفين والعاكفين والركع السجود.
    ‘স্বরণ কর সে সময়ের কথা, যখন আমি কাবা শরীফকে মানবজাতির মিলনক্ষেত্র ও নিরাপত্তাস্হল করেছিলাম এবং বলেছিলাম তোমরা ইব্রাহীমের দাঁড়ানোর স্হানকে (মাকামে ইব্রাহীমকে) সালাতের স্হানরুপে গ্রহণ কর এবং ইব্রাহীম ও ইসমাঈলকে আমার গৃহ তওয়াফকারী, ইতিকাফকারী এবং রুকূ-সিজদাকারীদের জন্য পবিত্র রাখতে আদেশ দিয়েছিলাম।’ [সূরা বাকারা: আয়াত-১২৫]

    অন্যত্র এ কথাটি বলা হয়েছে এভাবে:
    واذ بوانا لابراهيم مكان البيت ان لا تشرك بى شيا وطهر بيتى للطاءفين والقاءمين والركع السجود.
    ‘স্মরণ কর যখন আমি ইব্রাহীমের জন্য স্হীর করে দিয়েছিলাম কাবা গৃহের নির্দিষ্ট স্হান, তখন বলেছিলাম আমার সঙ্গে আর কাউকে শরীক সাব্যস্ত করবে না
    এবং আমার ঘরকে পবিত্র রাখবে। ইতিকাফকারী, তওয়াফকারী ও রুকূ-সিজদাকারীদের জন্য। ‘ [সূরা হজ: আয়াত-২৬]

    এ আয়াত দু’টি পর্যালোচনা করলে দেখাযায় যে, এখানে মহান আল্লাহ তাআলা তওয়াফ, রুকূ-সিজদা এবং ইতিকাফকে সমভাবে গুরত্ব প্রদান করেছেন, যা শরীয়তে ইতিকাফের সমধিক গুরত্বই বহন করে। কুরআনুল কারীমের এ গুরুত্বারুপ ছাড়াও হাদীস শরীফে ইতিকাফ ও ইতিকাফকারীর অনেক ফযীলত বর্ণনা করা হয়েছে।
    হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইতিকাফকারী সম্পর্কে বলেন: ‘সে ব্যক্তি গোনাহর আবিলতা থেকে মুক্ত থাকে, তার জন্যে সেসব আমল লিপিবদ্ধ করা হয় যা সাধারণত সবাই করে থাকে।’ [ইবনে মাজাহ শরীফ: খন্ড-১, পৃষ্ঠা-১২৮, মিশকাত শরীফ: পৃষ্ঠা-১৮৩]

    হাদীস শরীফে ইতিকাফকারীর বিশাল মর্যাদার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
    আল্লামা শারানী তাঁর ‘কাশফুল গুম্মাহ’ কিতাবে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি হাদীস উদ্ধৃত করেছেন, যাতে বলা হয়েছে : ‘যে ব্যক্তি রমজানের দশদিন ইতিকাফ করে, সে দু’টি হজ ও দু’টি উমরার সাওয়াব লাভ করে। আর যে ব্যক্তি মাগরিব থেকে ইশা পর্যন্ত ইতিকাফের নিয়তে মসজিদে অবস্থান করে এবং নামাজ ও কুরআন তিলাওয়াত ছাড়া কোনো বাক্যালাপ না করে, আল্লাহ তাআলা জান্নাতে তার জন্য একটি প্রাসাদ নির্মাণ করেন। রমজান হচ্ছে তাকওয়া অর্জনের মাস। [ফাযায়েলে রমজান:পৃষ্ঠা-৮৬]

    কুরআনুল কারীমেই বলা হয়েছে : لعلكم تتقون
    যেন তোমরা মুত্তাকী হতে পার। আর এ তাকওয়া অর্জনের সর্বোত্তম পন্থা হচ্ছে ইতিকাফ করা। কেননা, একজন মুত্তাকীর মধ্যে যে সব বৈশিষ্ট্য বা গুণাবলী থাকা আবশ্যক, সে সব গুণাবলীর সম্পূর্ণই অনুশীলন করতে হয় ইতিকাফের মাধ্যমে।

    মুত্তাকীর পরিচয় বর্ণনা করতে গিয়ে আল্লাহ বলেন- لا يسبقون با لقول وهم بامره يعملون
    ‘তারা অহেতুক কথা বলে না, আমার আদেশ অনুসারেই তারা কাজ করে থাকে। [সূরা আম্বিয়া : আয়াত-২৭]
    নি:সন্দেহে প্রকৃত ইতিকাফকারীকে আয়াতে উল্লেখিত প্রশংসিত ব্যক্তিদের সঙ্গে তুলনা করা যায়। আর একজন ইতিকাফকারী তো আল্লাহর এ আয়াতেরই অনুসরণ করেন অর্থাৎ তার মনে এ আয়াতেরই বাস্তব বাসনা থাকে যে:
    انى وجهت وجهى للذى فطرالسموت والارض حنيفا وما انا من المشركين.
    ‘আমি একনিষ্ঠভাবে তার (আল্লাহর) দিকে মনোনিবেশ করলাম যিনি পৃথিবী এবং আকাশমন্ডলী সৃষ্টি করেছেন, আর আমি তো অংশীবাদীদের অন্তর্ভুক্ত নই। [সূরা আনআম: আয়াত-৭৯]

    ইতিকাফকারীর উদাহরণ সেই ব্যক্তির মতো যে অন্যের ঘরে গিয়ে ধর্ণা দিয়ে বলে যে, আমার দরখাস্ত কবূল না হলে আমি এখান থেকে নড়ব না। একেবারে নাছোড়বান্দা হয়ে যদি বলে, তোমার দরজায় আমি মাথা ঠুকতে থাকব, আর আমার দরখাস্ত কবূল না করা পর্যন্ত আমি নড়ব না। এমন যদি হয় অবস্থা, তাহলে কঠিন মনও না গলে পারে না। আর সেখানে রহমানুর রাহীম, গাফুরুল গাফ্ফার, মেহেরবান, দয়ালু মহান আল্লাহর তো কথাই নেই। তিনি তাঁর পাপী-তাপী গোনাহগার বান্দাকে তাঁর অপরিসীম দানে ধন্য করার জন্য উসিলা খোঁজেন। অতএব, কেউ যখন দুনিয়ার যাবতীয় বস্তুর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে আল্লাহর দরজায় গিয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়ে, তাঁর রহমত ও মাগফিরাত কামনায় তাঁর ঘরে ধর্ণা দিয়ে বসে, তখন পরম দয়ালু আল্লাহ তাআলা কি পারেন তাকে তাঁর অপার করুণায় ভূষিত না করে ? আর ইতিকাফের মাহাত্ম্য এটিই। এমন ব্যাকুল, পাগলপারা বান্দাকে আল্লাহ ক্ষমা না করলে এবং স্বীয় রহমতের কোলে তুলে না নিলে লজ্জাবোধ করেন।

    ইতিকাফের পদ্ধতি

    ইতিকাফের নিয়ম হল, পাক- পবিত্র হয়ে নির্দিষ্ট সময়ের নিয়ত করে মসজিদে বা সালাতের নির্ধারিত স্হানে অবস্থান করতে হয়। নিয়ত ছাড়া ইতিকাফ করলে সর্বসম্মতিক্রমে তা গ্রহণযোগ্য নয়।
    পুরুষের ইতিকাফের জন্য এমন মসজিদ হওয়া চাই, যেখানে অন্তত নিয়মিত আযান ও ইকামতের সঙ্গে জামাআতে নামাজ আদায় করা হয়। ইতিকাফের জন্য সর্বোত্তম মসজিদ হল মসজিদে হারাম বা বায়তুল্লাহ শরীফ। এরপর মসজিদে নববী, অত:পর বায়তুল মুকাদ্দাস। তারপর জামে মসজিদের মধ্যে যে মসজিদে মুসল্লীর সংখা বেশি।

    স্ত্রীলোকের ক্ষেত্রে ইতিকাফের জন্য সর্বোত্তম স্হান হল, নিজ নিজ গৃহের নির্ধারিত নামাজের স্হান। এ স্হানটা এমন হওয়া চাই, যেখানে পর্দা ও সার্বিক নিরাপত্তার যাবতীয় শর্ত বিরাজমান। মহিলাদের ইতিকাফের ক্ষেত্রে একটি বিশেষ শর্ত হল, স্বামীর অনুমতি নেয়া। অর্থাৎ স্বামীর অনুমতি ছাড়া ইতিকাফ করা অনুচিত।
    এক্ষেত্রে স্বামীর কর্তব্য হচ্ছে, স্ত্রীকে ইতিকাফ করতে বেশি বেশি উৎসাহ প্রদান করা। [ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী: খন্ড- ১, পৃষ্ঠা-২২১, হিদায়া: খন্ড- ১, পৃষ্ঠা- ২০৯,২১০]

    ইতিকাফের সময়

    ইতিকাফ যে কোনো সময় করা যায়। যেমন কেউ যদি মাগরিব থেকে ইশা পর্যন্ত ইতিকাফের নিয়তে মসজিদে অবস্থান করে এবং ইতিকাফের যাবতীয় শর্ত মেনে কেবল ইবাদত বন্দেগীতেই সময় কাটায়, তবে তার ইতিকাফ হয়ে যাবে।
    এ প্রকার ইতিকাফ হচ্ছে নফল ইতিকাফ। কিন্তু উলামায়ে কিরামের সর্বসম্মতিক্রমে সুন্নতে মুয়াক্কাদায়ে কিফায়া যে ইতিকাফকে বলা হয়,তা হচ্ছে রমজানের শেষ দশকের ইতিকাফ। [হিদায়া: খন্ড-১, পৃষ্টা-২০৯]

    রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সারাজীবন এ ইতিকাফ করেছেন বলে হাদীসে প্রমাণ পাওয়া যায়। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি রমজানে দশদিন করে ইতিকাফ করতেন, কিন্তু তাঁর ইন্তেকালের বছর তিনি বিশদিন ইতিকাফ করেন।
    বলাবাহুল্য, এ ইতিকাফটি ছিল রমজানের শেষ বিশদিন। [বুখারী শরীফ: খন্ড-১, পৃষ্টা-২৭৪, আবু দাঊদ শরীফ: খন্ড-২, পৃষ্ঠা-৩৩৪]

    রমজানের শেষ দশদিনের ইতিকাফের বিরাট একটি অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য রয়েছে আর তা হচ্ছে, উম্মতে মুহাম্মাদির উপর অর্পিত মহান আল্লাহ তাআলার শ্রেষ্ঠ নেয়ামত লাইলাতুল কদর প্রাপ্তির উদ্দেশ্য। এ মহান উদ্দেশ্যকে সামনে. রেখে একবার স্বয়ং মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে সারা রমজান ইতিকাফ করেছেন এবং উম্মতের জন্য নির্ধারিত করে গেছেন যে, রমজানের শেষ দশকেই এ মহিমান্বিত রাত।

    ইতিকাফের আরেক প্রকার হচ্ছে ওয়াজিব ইতিকাফ। মান্নতের ইতিকাফ হচ্ছে ওয়াজিব ইতিকাফ। অর্থাৎ যদি কেউ মান্নত করে যে, যদি আমি অমুক কাজটি সম্পন্ন করতে পারি, তবে অমুক দিন বা এত মেয়াদের ইতিকাফ করব এটিই হচ্ছে ইতিকাফের মান্নত।
    যদি কেউ নফল ইতিকাফ বা সুন্নত ইতিকাফ করার নিয়ত করে এবং বিশেষ সমস্যার দরুন নিয়ত ভঙ্গ করতে হয়, তবে তার জন্য ওই ইতিকাফ পূর্ণ করা ওয়াজিব হয়।
    মান্নতের ইতিকাফের জন্য রোজা রাখা শর্ত, নফল ইতিকাফের জন্য রোজা শর্ত নয়। [ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী: খন্ড-১, পৃষ্ঠা-২২০]

    নফল ইতিকাফের জন্য নির্দিষ্ট কোনো মেয়াদ নেই। অল্পসময়ের জন্যও নফল ইতিকাফ করা যায়। মসজিদে ইতিকাফের নিয়তের সঙ্গে অবস্হান করাই উত্তম। কেউ যদি রমজানের ইতিকাফের মান্নত করে, তবে তার এ মান্নত সহীহ হবে। মান্নত করার পর যদি সে শুধু রমজানের রোজা রেখে ইতিকাফ না করে, তবে তার উপর অন্য এক মাসে রোজাসহ লাগাতার ইতিকাফ করা ওয়াজিব। পরবর্তী রমজানে ওই ইতিকাফের কাযা আদায় করলে হবে না। [ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী: খন্ড-১, পৃষ্ঠা-২২৪]

    ইতিকাফকারীকে অবশ্যই মুসলমান হতে হবে, জ্ঞানবান হতে হবে, জানাবাত এবং হায়েয-নিফাস থেকে পবিত্র হতে হবে। এগুলো ইতেকাফ সহীহ হওয়ার জন্য পূর্বশর্ত। বালেগ হওয়া ইতিকাফ সহীহ হওয়ার পূর্ব শর্ত নয়। তাই জ্ঞানবান নাবালেগের জন্যও ইতিকাফ সহীহ হবে।

    ইতিকাফ কি কি করণে নষ্ট হয়

    ইতিকাফ অত্যন্ত সূক্ষ্ম একটি আমল। সামান্য ভুলের কারণেইত ভেঙ্গে যেতে পারে। মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের অনন্য মাধ্যম এ ইবাদত। আর যদি সঠিকভাবে তাকওয়ার ভিত্তিতে এবং যাবতীয় বিধানাবলী মেনে এ ইবাদতটি সম্পন্ন করা যায়, তবে অল্পতেই সাফল্যের স্বর্ণশিখরে পৌঁছা সম্ভব। তাই একজন ইতিকাফকারীকে অবশ্যই জানতে হবে এ অবস্হায় করণীয়-বর্জণীয় কাজগুলো। ইতিকাফ অবস্হায় বিনা ওজরে মসজিদ থেকে বের হওয়া যাবে না। [হিদায়া: খন্ড-১, পৃষ্টা-২১০]

    মহিলাদের ক্ষেত্রেও একই হুকুম। তারাও ঘরের নির্ধারিত স্হান থেকে বের হবে না। পেশাব, পায়খানা ও জুমআর নামাজ আদায় ইত্যাদির প্রয়োজনে মসজিদ থেকে বের হওয়া জায়েয। [ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী: খন্ড-১, পৃষ্ঠা-২২১]

    ইতিকাফকারী ইতিকাফের স্হানেই ঘুমাবে ও খাওয়া-দাওয়া করবে। এর জন্য মসজিদ থেকে বের হতে হবে না। [হিদায়া: খন্ড-১, পৃষ্ঠা-২১০]

    মসজিদ ভেঙ্গে যাওয়ার কারণে অথবা জোরপূর্বক বের করে দেয়ার কারণে ইতিকাফকারী ব্যক্তি যদি মসজিদ হতে বের হয়ে সঙ্গে সঙ্গে অন্য মসজিদে চলে যায়, তবে এতে ইতিকাফ ফাসেদ হবে না। জানমালের আশংকা হলেও এই হুকুমই প্রযোজ্য। [ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী: খন্ড-১, পৃষ্ঠা-২২২]

    অসুস্থ্য ব্যক্তির সেবার জন্য মসজিদ থেকে বের হলে, কোনো মৃত ব্যক্তিকে দেখার উদ্দেশ্য বা তার জানাজায় শরিক হওয়ার উদ্দেশ্যে, এমনকি পানিতে ডুবন্ত বা আগুনে নিমজ্জিত কোনো মানুষকে রক্ষা করার জন্য মসজিদ থেকে বের হলেও ইতিকাফ ফাসেদ হয়ে যাবে। অনুরুপভাবে অসুস্থতার কারণে সামান্য সময়ের জন্য মসজিদ থেকে বের হলেও ইতিকাফ ফাসেদ হবে। অবশ্য মান্নত ইতিকাফকারী যদি মান্নতের সময় রোগির সেবা, জানাযার নামাজ ও ইলমের মজলিসে যাওয়ার শর্ত করে, তাহলে এসব কাজ করা তার জন্য জায়েয।
    ইতিকাফ ফাসেদ হওয়ার একটি কারণ হল, সহবাস বা সহবাসের দিকে আকৃষ্টকারী কাজ, তা দিনেই হোক বা রাতেই হোক। [হিদায়া: খন্ড-১, পৃষ্ঠা-২১১]

    স্বপ্নদোষে ইতিকাফ ফাসেদ হয় না। কয়েকদিন পাগল বা বেহুঁশ থাকার কারণে লাগাতার ইতিকাফ করতে না পারলে ইতিকাফ ফাসেদ হয়ে যায়। [ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী: খন্ড-১, পৃষ্ঠা-২২৩]

    চুপ থাকাকে ইবাদত মনে করে চুপ থাকলে ইতিকাফ মাকরুহ হয়। কেউ যদি মুখের গোনাহসমূহ হতে রক্ষার জন্য চুপ থাকে, তবে এটি মহান পুণ্যের কাজ। ইতিকাফের স্হানকে ব্যবসাস্হল বানানো মাকরুহ। ইতিকাফকারী দিনের বেলা ভুলক্রমে পানাহার করলে ক্ষতি নেই। ওয়াজিব ইতিকাফ ফাসেদ হয়ে গেলে তার কাযা করা ওয়াজিব। ফাসেদ সে নিজে করুক কিংবা হায়েয-নিফাস ইত্যাদি প্রাকৃতিক কোনো কারণেই হোক।

    ইতিকাফের মাসআলা সমূহ

    ইতিকাফ তিন প্রকার।
    ( ১ ) ওয়াজিব,
    ( ২ ) সুন্নত,
    ( ৩ ) নফল।
    ওয়াজিব ইতিকর হচ্ছে, কোনো ব্যক্তি মান্নত করল, যদি আমার অমুক কাজটি হয়ে যায় তবে আমি এতদিন ইতিকাফ করব। এমতাবস্থায় ওই ব্যক্তির জন্য নির্দিষ্ট করা দিনগুলোর ( রাত ও রোজাসহ ) ইতিকাফ করা ওয়াজিব হয়ে যাবে।

    সুন্নত ইতিকাফ হচ্ছ, রমজানের শেষ দশকের ইতিকাফ এবং এই ইতিকাফ হচ্ছে, ‘সুন্নতে মুয়াক্কাদা কিফায়া’। যদি মসজিদভিত্তিক মহল্লার কোনো এক ব্যক্তি মসজিদে ইতিকাফ করে তবে পুরো মহল্লাবাসী ইতিকাফ না করার পাপ থেকে পরিত্রান পাবে।

    রমজানের শেষ দশকের ইতিকাফ ছাড়া অন্যান্য সময়ের ইতিকাফ হচ্ছে নফল ইতিকাফ। কোনো ব্যক্তি যদি কিছুক্ষণের জন্য ইতিকাফের উদ্দেশ্যে মসজিদে অবস্থান করে তবে তাও নফল ইতিকাফ হিসেবে বিবেচিত হবে। [ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী: খন্ড-১, পৃষ্ঠা-২১১ [ফাতাওয়ায়ে শামী: খন্ড-২, পৃষ্ঠা-১৪১, বাহরুর রায়েক: খন্ড-২, পৃষ্ঠা-২৯৯]

    ইতিকাফের কাযা

    কোনো ব্যক্তি যদি রমজানর শেষ দশক ইতিকাফে বসে অপরিহার্য কারণবশত: অথবা বিনা ওজরে ইতিকাফ ভেঙে ফেলে, তবে সেই ইতিকাফের কাযা আবশ্যক হবে কি ?

    এর জবাব হল, যেহেতু সুন্নত ও নফল ইবাদত আরম্ভ করলে ওয়াজিব হয়ে যায় এবং প্রত্যেক দিনের ইতিকাফ যেহেতু স্বতন্ত্র ইবাদত, সেহেতু যেদিন ইতিকাফ ভেঙ্গে যায় শুধুমাত্র সেদিনের ইতিকাফের কাযা ওয়াজিব হবে।
    সেক্ষেত্রে ইতিকাফের দিনের রোজাও আবশ্যক হবে। তবে ইতিকাফ ভাঙ্গার পূর্বের ও পরের দিনগুলোর ইতিকাফের কাযা ওয়াজিব হবে না। [আহসানুল ফাতাওয়া: খন্ড-৪, পৃষ্ঠা-৫০১]

    উল্লেখ্য, ইতিকাফের কাযা করার সময় দিনের সাথে সাথে রাতেরও কাযা করতে হবে। যথা সূর্য অস্ত যাওয়ার পর মসজিদে প্রবেশ করে দ্বিতীয় দিন সূর্য অস্ত যাওয়ার পর ইতিকাফ থেকে বের হয়ে আসবে। [ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী: খন্ড-১, পৃষ্ঠা-২১৪]

    ইতিকাফকারী ভুলে মসজিদ থেকে বের হয়ে গেলে

    বিনা প্রয়োজনে ভুলে অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে বের হলে উভয় অবস্হায় ইতিকাফকারীর ইতিকাফ ভেঙ্গে যাবে। [ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী: খন্ড-১, পৃষ্ঠা-২১২, [ফাতাওয়ায়ে কাযী খান: খন্ড-২, পৃষ্ঠা-১৫৯, [আহসানুল ফাতাওয়া: খন্ড-৪, পৃষ্ঠা-৪৯৭]

    বাথরুমের বাইরে অপেক্ষা করা

    ইতিকাফকারী ইস্তেন্জায় গেলে অনেক সময় দেখা যায় বাথরুম খালি থাকে না। এমতাবস্থায় ইতিকাফকারীর জন্য বাথরুমের বাইরে অপেক্ষা করা জায়েয আছে। [আহসানুল ফাতাওয়া: খন্ড-৪, পৃষ্ঠা-৫০১]

    ইস্তিন্জা করতে গিয়ে গোসল করলে

    ইতিকাফকারী যদি শরয়ী অথবা প্রাকৃতিক কোনো প্রয়োজনে বের হয় (যেমন ইস্তেন্জা ইত্যাদির জন্য) তখন শীতল হওয়ার জন্য অথবা ময়লা দুর্গন্ধ দূর করার জন্য (প্রয়োজন পুরণের পূর্বে বা পরে) গোসল করতে পারবে না।
    যদি গোসল করে, তাহলে ইতিকাফ নষ্ট হয়ে যাবে। তবে গোসলখানা যদি বাথরুমের কাছে হয় এবং গোসলের জন্য অযূ করার চেয়ে অধিক সময়ের প্রয়োজন না হয় তবে ইস্তেনজা করার পর গোসলের অনুমতি দেয়া যেতে পারে। এক্ষেত্রে মসজিদে কাপড় রেখে শুধুমাত্র লুঙ্গি পরিধান করে বাথরুমে চলে যাবে এবং ফেরার সময় দ্রুত পানি ঢেলে চলে আসবে। সাবান ইত্যাদি লাগাবে না। বেশি ঘষামাজা করবে না। মসজিদে ফেরার সময় গামছা-তোয়ালে দিয়ে শরীর শুষ্ক করে নেবে। এভাবে গোসল করতে পারলে তা জায়েয হবে। [আহসানুল ফাতাওয়া: খন্ড-৪, পৃষ্ঠা-৫০৫]

    অসুস্থতার কারণে ইতিকাফ ছেড়ে দেয়া

    ইতিকাফকারী চিকিৎসার উদ্দেশ্যে মসজিদ থেকে বের হলে ইতিকাফ ভেঙ্গে যাবে। কিন্তু যেহেতু অপরিহার্য কারণবশত: বের হয়েছে সেহেতু গোনাহ হবে না। তদুপরি একদিনের ইতিকাফের কাযা করে নিতে হবে। [ফাতাওয়ায়ে আলমীরী: খন্ড-১, পৃষ্ঠা-১১২, আহসানুল ফাতাওয়া: খন্ড-৪, পৃষ্ঠা-৫০৮]

    রমজান ও শবে কদর

    পবিত্র রমজান মাসের সবচেয়ে পুণ্যময় একটি রজনীর নাম হচ্ছে ‘শবে কদর’। এই রজনীর বরকত ও পুণ্য সম্পর্কে পবিত্র কুরআনের পূর্ণ একটি সূরা অবতীর্ণ হয়েছে। এই রাতের ফজিলত বর্ণনা করতে গিয়ে বলা হয়েছে:
    ليلةالقدر خير من الف شهر
    ‘কদরের এরাতটি এক হাজার মাসের (ইবাদতের) চেয়ে উত্তম। ‘ এক হাজার মাসে তিরাশি বছর চার মাস হয়ে থাকে। ওই ব্যক্তি ভাগ্যবান, যে এই রাতটি ইবাদত বন্দেগীর মধ্যে কাটিয়ে দিতে পারে। কেননা, এর মাধ্যমে সে তিরাশি বছর চার মাসের চেয়েও বেশি সময় ইবাদতে লিপ্ত থাকার সৌভাগ্য অর্জন করে। আর অধিক সময়ের সীমা কী তা একমাত্র আল্লাহ তাআলা ছাড়া আর কেউ বলতে পারে না। কুরআনে পাকে হাজার মাসের অধিক বলার কারণ হল, তখনকার আরবদের মধ্যে গণনার ক্ষেত্রে হাজারকেই সবচেয়ে বড় সংখ্যা গণ্য করা হত। অতএব, কুরআনের উদ্দেশ্য এখানে হাজার মাসে সীমাবদ্ধ করা নয়; বরং অধিক বুঝানোই উদ্দেশ্য। নিম্নে পবিত্র কুরআনে এই পুণ্যময় রজনী সম্পর্কে যে ঘোষণা এসেছে, তার সারমর্ম তুলে ধরা হল।

    আল-কুরআনে শবে কদর প্রসঙ্গ

    পবিত্র কুরআনুল কারীমে ইরশাদ হচ্ছে:
    انا انزلناه فى ليلة القدر.
    ‘নিশ্চয় আমি কুরআন শরীফ কদরের রাতে অবতীর্ণ করেছি।’
    এই আয়াতের মর্ম হল: কুরআন শরীফ লওহে মাহফুয হতে দুনিয়ার আকাশে এ রাতে অবতীর্ণ করা হয়েছে। এই একটি মাত্র বিষয়ই এ রাতের ফযীলতের জন্য যথেষ্ট ছিল যে, আল-কুরআনের মতো মর্যাদাবান ঐশীগ্রন্হ এ রাতে অবতীর্ণ হয়েছে, এই রাতের মর্যাদা ও মাহাত্ম্যের জন্য অন্য কোনো ফযীলত ও বরকতের প্রয়োজন ছিল না। তদুপরি পরবর্তী আয়াতে আগ্রহ বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে ইরশাদ হচ্ছে:
    وما ادرك ما ليلة القدر
    ‘আপনি কি অবগত আছেন যে, কদরের রাত কত মর্যাদা সম্পন্ন রাত ? ‘ অর্থাৎ এ রাতের মাহাত্ম্য ও ফযীলত সম্পর্কে আপনি কি অবগত রয়েছেন যে, এ রাতের কতটুকু কল্যাণ ও কী পরিমাণ ফযীলত রয়েছে ?
    অত:পর এ রাতের ফযীলতের বিবরণ আলোচিত হয়েছে: ليلة القدر خير من الف شهر
    ‘কদরের রাত হাজার মাস হতেও উত্তম।’ এর সারমর্ম হল, হাজার মাস ইবাদত করলে যে পরিমাণ সাওয়াব হয়, কদরের রাতে ইবাদত করার সাওয়াব এর চেয়েও বেশি। আর এ বেশি হওয়ার কোনো সীমারেখা নেই যে, কি পরিমাণ বেশি সাওয়াব হবে
    تنزل الملاءكة
    ‘এ রাতে ফেরেশতাগণ অবতীর্ণ হন।’
    আল্লামা রাযী (রহ.) লিখেছেন যে, ফেরেশতাগণ যখন প্রথমাবস্থায় পৃথিবীতে আল্লাহর খলীফা হিসেবে মানুষ সৃষ্টির সম্পর্কে অবগত হয়েছিলেন, তখন মানুষের প্রতি তাচ্ছিল্য প্রকাশ করে আল্লাহ তাআলার দরবারে আরজ করেছিলেন যে, আপনি এমন এক সম্প্রদায় সৃষ্টি করতে যাচ্ছেন, যারা দুনিয়ায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে এবং রক্ত প্রবাহিত করবে। এমতাবস্থায় শবে কদরে আল্লাহর পক্ষ হতে তাওফীকপ্রাপ্ত হয়ে যখন মানুষ আল্লাহ তাআলার পরিচিতি লাভ ও আনুগত্যকরণে লিপ্ত হয়, তখন ফেরেশতাগণ তাদের অজ্ঞতার ওযর পেশ করার জন্য অবতীর্ণ হন।
    والروح فيها
    এ রাতে ‘রুহুল কুদুস’ তথা হযরত জিবরাঈল (আ.)-ও অবতরণ করেন। এ প্রসঙ্গে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন যে, শবে কদরে হযরত জিবরাঈল (আ.) একদল ফেরেশতাসহ অবতরণ করেন এবং যে ব্যক্তিকে যিকির ও অন্যান্য ইবাদতে লিপ্ত দেখেন, তার জন্য রহমতের দুআ করে থাকেন।
    باذن ربهم من كل امر
    ‘তাঁদের রবের নির্দেশে প্রত্যেক কল্যাণকর বিষয়সহ (পৃথিবীর দিকে অবতরণ করেন)’
    হাদীসের ব্যাখ্যাগ্রন্হ মাযাহিরে হকের মধ্যে উল্লেখ আছে যে, এ রাতে ফেরেশতাদের জন্ম হয়েছে। এ রাতে হযরত আদম (আ.) কে সৃষ্টি করার উপকরণ একত্রিত করা আরম্ভ হয়েছে। এ রাতে জান্নাতে গাছ সৃষ্টি হয়েছে এবং এ রাতে দুআ ও অন্যান্য ইবাদত কবূল হওয়ার বিবরণও অনেক বর্ণনায় বিদ্যমান রয়েছে। একটি বর্ণনায় রয়েছে যে, এ রাতে হযরত ঈসা (আ.) কে আসমানে ওঠিয়ে নেয়া হয়েছে এবং এ রাতে বনী ইসরাঈলের তওবা কবূল করা হয়েছে।

    سلام هى حتى مطلع الفجر
    ‘এ রাত সালাম তথা নিরাপত্তার রাত, যা ফজর পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।’
    অর্থাৎ সারা রাত ফেরেশতাদের পক্ষ হতে মুমিনদের প্রতি সালাম (রহমত বর্ষিত) হতে থাকে। আর তা এভাবে যে, একদল ফেরেশতা আসতে থাকেন এবং অন্য দল যেতে থাকেন। এই বরকত গোটা রাত তথা ফজর উদয় হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। এটি নয় যে, রাতের কোনো বিশেষ অংশে এ বরকত হবে এবং অপর অংশে হবে না; বরং সুবহে সাদিক পর্যন্ত বরকত বিদ্যমান থাকে। [ফাযায়েলে রমজান মোবারক: পৃষ্ঠা-৩৭ [মাআরিফুল কুরআন: খন্ড-৮, পৃষ্ঠা-৯১]

    তিনটি সংশয় ও তার সমাধান

    প্রথম সংশয়: কুরআনে কারীমে শবে কদরকে হাজার মাস থেকে উত্তম আখ্যা দেয়া হয়েছে। এখানে সংশয় হল প্রতি বছরই তো একটি শবে কদরের আগমন ঘটবে, অর্থাৎ, সাওয়াবের জন্য পদত্ত হাজার মাস তথা তিরাশি বৎসরের মধ্যেও তো তিরাশিটি শবে কদর রয়েছে। এক্ষেত্রে হিসাব কীভাবে করবে ?
    তাফসীরে মাআরিফুল কুরআনে এ সংশয়ের নিরসনে বলা হয়েছে যে, এই হিসাব থেকে শবে কদর বাদ দিতে হবে। আর শবে কদরকে বাদ দিয়ে হিসাব করলে হিসাবের সমস্যা নিরসন হয়ে যায়।

    দ্বিতীয় সংশয়: অনেকের মধ্যেই একটি সংশয় হল যে, সারাবিশ্বেই কি শবে কদর একই সময় হয়ে থাকে ? ফেকাহবিদগণ বলেছেন যে, শবে কদরের বিষয়টি মূলত: চাঁদের সঙ্গে সম্পৃক্ত। যে দেশে যেদিন চাঁদ উদিত হবে, সেই দেশে সেখানকার চাঁদ উদয়ের তারিখ হিসাব করে শবে কদর সাব্যস্ত করতে হবে।

    তৃতীয় সংশয়: অনেকেই মনে করে থাকেন, যে রাতে শবে কদর হবে, সে রাতের পুরোটাই ইবাদত বন্দেগীতে কাটাতে সক্ষম হলেই হাজার মাসের সাওয়াব অর্জিত হবে, অন্যথায় নয়।
    এ প্রসঙ্গে হাদীসের বিশুদ্ধ কিতাব মুসলিম শরীফে হযরত ওসমান (রা.) মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন। যাতে বলা হয়েছে: ‘যে ব্যক্তি ইশার নামাজ জামাআতের সঙ্গে আদায় করল, সে অর্ধরাত নফল ইবাদতের সাওয়াব পেল। আর সেই ব্যক্তি যখন ফজরের নামাযও জামাআতের সঙ্গে আদায় করল, সে সম্পূর্ণ রাত জেগে থেকে ইবাদত করার সাওয়াব অর্জন করল।’ [মাআরিফুল কুরআন: খন্ড-৮, পৃষ্ঠা-৭৯৩]

    শবে বরাত ও শবে কদরের পার্থক্য

    ‘শব’ ফার্সি শব্দ। আরবীতে ‘লাইলাতুন’ এর প্রতিশব্দ। অর্থাৎ লাইলাতুল ‘বরাত’ এবং ‘লাইলাতুল কদর’। ‘শব’ বা ‘লাইলাতুন’ শব্দের অর্থ ‘রাত’। আর ‘বরাত’ শব্দের অর্থ হল: ‘ক্ষমা লাভ করা’ বা ‘নাজাতপ্রাপ্ত হওয়া’। এ হিসাবে ‘লাইলাতুল বরাত’ বা ‘শবে বরাতে’র অর্থ হল: ‘ক্ষমা লাভ করার রাত’ বা ‘নাজাত প্রাপ্তির রাত’।

    আর ‘লাইলাতুল বরাতের’ দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে অর্ধ শাবানের রাত (শাবানের ১৫ তারিখের রাত)। এ রাতেও মানবজাতির এক বছরের জাগতিক সব বিষয় ফায়সালা করা হয়।

    আর ‘কদর’ শব্দের অর্থ হল: ‘সম্মান ও মর্যাদা’। এ হিসাবে ‘লাইলাতুল কদর’ -এর অর্থ দাঁড়ায়- ‘সম্মান ও মর্যাদা অর্জনের রাত’।

    হযরত আবু বকর ওয়ারাকাহ (রহ.) বলেন: এ রাতকে এজন্য ‘লাইলাতুল কদর’ বলাহয় যে, ইতিপূর্বে আমলহীনতার কারণে যে ব্যক্তির কোনো কদর ও সম্মান-মর্যাদা ছিল না, এ রাতের তওবা, ইস্তিগফার ও ইবাদত বন্দেগীর মাধ্যমে সে ব্যক্তি মর্যাদাবান ও সম্মানিত হয়ে যায়। কদরের আরেকটি অর্থ হচ্ছে ‘তাকদীর’। এ অর্থ হিসেবে ‘লাইলাতুল কদর’ নামকরণের কারণ হচ্ছে, তাকদীরের যে অংশ এ বছর রমজান হতে পরবর্তী রমজান পর্যন্ত বাস্তবায়িত ও সংঘটিত হবে তা ওইসব ফেরেশতাদের কাছে সোপর্দ করা হয়, যারা জাগতিক বিষয়াদি বাস্তবায়নের দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন।

    এ দু’রজনীর ফায়সালা যেহেতু তাকদীর বিষয়ের হয়ে থাকে এবং উভয় রজনীর বিষয় যেহেতু বাহ্যিকভাবে একই মনে হয়। এ জন্য উলামায়ে কিরাম এই দুই রজনীর পার্থক্যের সমন্বয় এবং বিরোধের নিরসন এভাবে করেছেন যে, শবে বরাতে মানবজাতির তাকদীর বিষয়ক প্রাথমিক ফায়সালা হয়ে থাকে। আর শবে কদরে এর বিস্তারিত ফায়সালা চূড়ান্ত করে প্রত্যেক কাজের জন্য নিয়োজিত ফেরেশতাদের দায়িত্বে তা অর্পণ করা হয়।

    হযরত ইবনে আব্বাস (রা.)-এর একটি উক্তি থেকে এ বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যায়। তিনি বলেছেন:
    ‘আল্লাহ তাআলা গোটা বছরের তাকদীর সংক্রান্ত বিষয়াদির ফায়সালা শবে বরাত তথা অর্ধ শাবানের রাতে করে থাকেন। অত:পর শবে কদরে এই ফায়সালা সংশ্লিষ্ট ফেরেশতাদের কাছে সোপর্দ করে দেন। [তাফসীরে মাযহারী]

    শবে কদর রমজানের কত তারিখে ?

    এ সম্পর্কে হযরত আয়েশা (রা.) বলেন, এক হাদীসে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:
    تحرواليلةالقدر فى الوتر من العشر الاواخر من رمضان
    ‘তোমরা শবে কদরকে রমজান মাসের শেষ দশকের বেজোড় রাতসমূহে অনুসন্ধান কর।’
    এ হিসাব অনুযায়ী শবে কদর ২১,২৩,২৫,২৭ ও ২৯ রমজানের রাত সমূহে অনুসন্ধান করা উচিত।’

    হযরত আবু যর গিফারী (রা.) হতে বর্ণিত আছে তিনি বলেন: আমি হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আরয করলাম, ‘শবে কদর নবী-যুগের সাথে নির্দিষ্ট না পরেও হবে ?’
    উত্তরে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করলেন: ‘এটি কিয়ামত পর্যন্ত অবশিষ্ট থাকবে।’ আমি আরয করলাম: ‘এটি রমজানের কোন অংশে হয়ে থাকে ?’ তিনি বললেন, ‘প্রথম দশদিন ও শেষ দশদিনে অনুসন্ধান কর।’ অত:পর হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্যান্য কথাবার্তায় নিমগ্ন হলে আবার সুযোগ পেয়ে আমি আরয করলাম: ‘এটি বলে দিন যে, দশদিনের কোন অংশে হয়ে থাকে ?’
    এটি শুনে হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এত বেশি অসন্তুষ্ট হলেন যে, তিনি ইতিপূর্বে ও পরে আমার উপর কখনও এরুপ রাগান্বিত হন নি। এমতাবস্থায় বললেন: ‘এরুপ উদ্দেশ্য হলে আল্লাহ তাআলা কি বলে দিতে পারতেন না ? শেষ দশকের রাতসমূহে এটি অনুসন্ধান কর। এটিই যথেষ্ট এরপর আর কোনোকিছু এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা কর না।’

    এ ব্যাপারে ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর অভিমত হচ্ছে যে, শবে কদর গোটা রমজান মাসে চক্কর দিয়ে থাকে। ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.) ও ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-এর মতে এটি রমজান মাসের কোনো একটি রাতে হয়ে থাকে, যা নির্দিষ্ট রয়েছে, তবে আমরা অবহিত নই। ইমাম শাফেয়ী (রহ.) ও তাঁর অনুসারীদের মতে, একুশে রাতে হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। ইমাম মালিক (রহ.) ও ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ.)-এর অভিমত হল যে, রমজান মাসের শেষ দশদিনের বেজোড় রাতসমূহে এটি চক্কর দিয়ে থাকে। এ কারণে কোনো বছর এ রাতে আবার কোনো বছর অন্য রাতে হয়ে থাকে। অধিকাংশ আলেমের মত হচ্ছে যে, এটি ২৭ রমজানের রাতে হওয়ার ব্যাপারে প্রবল আশা রয়েছে। সুতরাং প্রত্যেকেই নিজের সাহস ও সুযোগ মোতাবেক পুরো রমজান মাসেই এ রাতের অনুসন্ধান করা উচিত। যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে রমজান মাসের শেষ দশদিনকে গণীমত বুঝে নেয়া উচিত। এটুকুও সম্ভব না হলে শেষ দশদিনের বেজোড় রাতসমূহকে হাতছাড়া করা যাবে না। যদি এতটুকুও সম্ভব না হয়, তাহলে সাতাইশ তারিখের রাতকে গণীমতরুপে মনে করতে হবে।

    সাদকায়ে ফিতর

    ‘সাদকাতুল ফিতর’
    সাদাকাতুল ফিতর ইসলামী শরীয়তে ওয়াজিব একটি ইবাদত। সাদাকাতুল ফিতরের অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য হচ্ছে ঈদের খুশিতে গরীব শ্রেণীর লোককেও শামিল করে নেয়া। কেননা, ঈদের নামাজের পূর্বেই যখন একজন অভাব-অনাহারী লোক কিছু পায়, তখন তা তার আনন্দের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
    অন্যদিক বিবেচনা করলে সাদাকাতুল ফিতর হচ্ছে রোজার যাকাত। যাকাত যেমন সম্পদকে পবিত্র করে, তেমনই ফিতরাও রোজাকে পবিত্র করে। মানুষ ভুলত্রুটির ঊর্ধ্বে নয়, রোজার ত্রুটিবিচ্যুতির ক্ষতিপূরণ করে সাদাকাতুল ফিতর। মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত নিসাব পরিমান সম্পদের মালিক প্রত্যেক মুসলিম নারী-পুরুষের ওপর সাদকাতুল ফিতর ওয়াজিব।

    ঈদের দিন সুবহে সাদিক থেকে ফিতরা ওয়াজিব হয়। কাজেই সুবহে সাদিকের পূর্বে কেউ মারা গেলে তার ফিতরা দেয়া ওয়াজিব নয়। গৃহকর্তার কোনো সন্তান যদি সুবহে সাদিকের পূর্বে জন্মগ্রহণ করে, তবে তার ফিতরা দিতে হবে। এর পরে জন্মালে ফিতরা দিতে হবে না। এ হুকুম সুবহে সাদিকের পর কেউ মুসলমান হলে তার উপরও। গম, গমের আটা, যব, যবের আটা এবং খেজুর ও কিসমিস দ্বারা ফিতরা আদায় করা যায়। গম বা গমের আটা দ্বারা ফিতরা আদায় করলে গম অর্ধ সা’ (১ কেজি ৬৬০ গ্রাম) এবং যব বা যবের আটা কিংবা খেজুর দ্বারা আদায় করলে এক সা’ (৩ কেজি ৩২০ গ্রাম) দিতে হবে। রুটি, চাল বা অন্য খাদ্যদ্রব্য দিয়ে ফিতরা দিতে হলে মূল্য হিসাবে দিতে হবে। কিসমিস দিয়ে ফিতরা আদায় করলেও এক সা’ দিতে হবে। দূর্ভিক্ষের সময় খাদ্যদ্রব্য দ্বারা ফিতরা আদায় করা উত্তম। অন্যান্য সময় মূল্য দিয়ে ফিতরা আদায় করা উত্তম। ঈদুল ফিতরের পূর্বে ফিতরা আদায় করা জায়েয। ঈদুল ফিতরের দিন আদায় না করলেও পরে তা আদায় করতে হবে। ঈদুল ফিতরের দিন ঈদগাহের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পূর্বে ফিতরা আদায় করা মুস্তাহাব।
    নিজের এবং নিজের নাবালেগ সন্তানের পক্ষ থেকে সাদকায়ে ফিতর আদায় করা ওয়াজিব। স্ত্রী এবং বালেগ সন্তানরা ফিতরা নিজেরাই আদায় করবে। স্বামী বা পিতার উপর স্ত্রী-সন্তানদের ফিতরা আদায় করা ওয়াজিব নয়। তবে দিয়ে দিলে আদায় হয়ে যাবে। কিন্তু পরিবারভুক্ত নয়- এমন লোকের পক্ষ থেকে তার অনুমতি ছাড়া ফিতরা দিলে আদায় হবে না। কোনো ব্যক্তির উপর তার পিতামাতার, ছোট ভাই-বোন ও নিকটাত্মীয়ের পক্ষ থেকে ফিতরা আদায় করা ওয়াজিব নয়। এক ব্যক্তির ফিতরা এক মিসকীনকে দেয়া উত্তম। তবে একাধিক ব্যক্তিকেও দেয়া জায়েয। [ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী: খন্ড-১, পৃষ্ঠা-১৯২, কানযুদ্দায়িক: পৃষ্ঠা-২৪]

    সাদকায়ে ফিতরের মাসআলা

    এক. যে মুসলমান নিসাব পরিমাণ সম্পদের অধিকারী হয়, তার উপর সাদকায়ে ফিতর ওয়াজিব। তবে যাকাত ও সাদকায়ে ফিতরের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে এই যে, যাকাত ওয়াজিব হওয়ার জন্য নিসাব পরিমাণ সম্পদ মালিকের কাছে পূর্ণ এক বছর থাকতে হবে। পক্ষান্তরে সাদকায়ে ফিতর ওয়াজিব হওয়ার জন্য বছর অতিক্রান্ত হওয়া আবশ্যক নয়; বরং ঈদের দিন সুবহে সাদিকের সময় যদি কেউ নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়ে যায় তবে তার উপরও সাদকায়ে ফিতর ওয়াজিব হবে।

    দুই. নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিকের উপর তার নিজের পক্ষ থেকে ও তার অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের পক্ষ থেকে সাদকায়ে ফিতর আদায় করা ওয়াজিব।

    তিন. নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক যদি সফর, অসুস্থতা অথবা অবহেলা ইত্যাদির কারণে রোজা না রাখে তবুও তার উপর সাদকায়ে ফিতর ওয়াজিব হবে।

    চার. যে শিশু ঈদের রাতে সুবহে সাদিকের পূর্বে ভূমিষ্ট হয়েছে তার সাদকায়ে ফিতর ওয়াজিব। আর সুবহে সাদিকের পরে ভূমিষ্ট হলে তার উপর সাদকায়ে ফিতর ওয়াজিব নয়।

    পাঁচ. যে ব্যক্তি ঈদের রাতে সুবহে সাদিকের পূর্বে মৃত্যুবরণ করেছে, তার উপর সাদকায়ে ফিতর ওয়াজিব নয়। আর সুবহে সাদিকের পরে মৃত্যুবরণ করলে তার উপর সাদকায়ে ফিতর ওয়াজিব হবে।

    ছয়. ঈদের দিন ঈদের নামাজে যাওয়ার পূর্বে সাদকায়ে ফিতর আদায় করা উত্তম। যদি তা না করে তবে ঈদের নামাজের পরেও তা আদায় করতে হবে এবং যতক্ষণ পর্যন্ত সাদকায়ে ফিতর আদায় না করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তা আদায় করা ওই ব্যক্তির জন্য আবশ্যক হবে।

    সাত. প্রত্যেক ব্যক্তির পক্ষ থেকে সাদকায়ে ফিতরের জন্য পৌণে দুইসের গন/আটা অথবা এর সমপরিমাণ মূল্য আদায় করা ওয়াজিব।

    আট. যে ব্যক্তি নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক নয় অর্থাৎ যার উপর কুরবানী ও সাদকায়ে ফিতর ওয়াজিব নয় এমন ব্যক্তিকে সাদকায়ে ফিতর দেয়া জায়েয আছে।

    নয়. সাদকায়ে ফিতর আদায়কারী নিজের আপন ভাই, বোন, চাচা ও ফুফুকে তা দিতে পারবে। তবে পিতামাতা নিজ সন্তানকে এবং সন্তান স্বীয় পিতামাতা, দাদাদাদী, নানানানীদেরকে সাদকা দিতে পারবে না।

    দশ. দরিদ্র মুসলমানকে সাদকায়ে ফিতরের মালিক বানিয়ে দিতে হবে। (তবে সে ব্যক্তি সৈয়দ বংশের হতে পারবে না।) সাদকায়ে ফিতরের টাকা সরাসরি মসজিদ ইত্যাদির কাজে লাগানো যাবে না।

    এগার. এক ব্যক্তির সাদকায়ে ফিতর একাধিক দরিদ্র মুসলিম ব্যক্তিকে দেয়া যায় এবং একাধিক ব্যক্তির সাদকায়ে ফিতর একজন দরিদ্র ব্যক্তিকে দেয়া যায়।
    [ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী: খন্ড-১, পৃষ্ঠা-১৯১-৯২, ফাতাওয়ায়ে দারুল উলুম: খন্ড-৬, পৃষ্ঠা-৩১২,৩১৫,৩২৫,৩২৮]

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    নিয়ত অনুসারে নিয়তি ও পরিনতি

    ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম