• শিরোনাম


    পড়ন্ত বেলায় কোথায় হারালে

    | ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২ | ৬:০২ অপরাহ্ণ

    পড়ন্ত বেলায় কোথায় হারালে

    জাবেদ হোসেন জুয়েল: আধুনিকতার এই যুগে চার দিকে বিজ্ঞানের জয় জয় কার। বিজ্ঞানীদের অসামান্য অবদানে সাধারন মানুষের কল্পনার সীমানা ছাড়িয়ে আবিষ্কৃত হয়েছে নানান পদের যন্ত্রপাতি। কিন্তু আজো কি আবিষ্কৃত হয়েছে বাবা-মা হওয়ার আনন্দ কতটুকু হয় তার পরিমাপ করার যন্ত্র ? কিংবা ভবিষ্যতে কি সম্ভাবনা আছে এমন যন্ত্র আবিষ্কৃত হওয়ার ? এর উত্তর হবে নিশ্চয় “না”। হৃদয়ে সীমাহীন আনন্দ অনুভূত হয় মানুষ বাবা-মা হওয়ার পর। কিন্তু সন্তান জন্ম দিয়ে কি সকলে প্রকৃত পক্ষে বাবা হতে পারেন ? বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেন, জন্ম দিলে জন্ম দাতা হওয়া যায় তবে পিতা হতে হলে অনেক দায়িত্ব পালন করতে হয়।

    পড়ন্ত বেলায় অনেক পিতা-মাতা হতাশায় ভোগেন। তাদের কলিজার টুকরো সন্তানরা নির্ভরতার আশ্রয় হয় না। একাকিত্বের যন্ত্রণায় আবু মহসিন খান ফেসবুক লাইভে এসে আত্মহত্যা করেন। হাজারো পিতা-মাতা বেঁচে থাকলেও তুষ অনলে পুড়েন দিবানিশি। এর দায় কী শুধু সন্তানের ? সন্তানকে মানুষের মতো মানুষ করতে ব্যর্থ হওয়ার দায় কী পিতা-মাতার নয় ? অবশ্য এই ক্ষেত্রে পিতা-মাতা কম দায়ী হবেন কেন ? আমরা দেখতে পাই আদর্শ পিতা-মাতার সন্তান বখে যাওয়ার সংখ্যা শূণ্যের কোটায় কিংবা হাতে গোনা।



    অনেক বাবা-মায়েরা জীবনের অপূর্ণতাকে পূর্ণ করার বাসনা করেন সন্তানদের দিয়ে। কত শত স্বপ্নের আলাপন করেন বুকের ধন সন্তানদের সাথে। সচেতন ভাবে সন্তানদের বুঝানোর অব্যর্থ চেষ্টা করেন- যে কোন ভাবে বাবা তোমাকে হতে হবে অনেক বড়। এই সমাজে তারা তত বড় যাদের অর্থ সম্পদ যত বেশি। কিন্তু হায়, জীবনে সর্ব ক্ষেত্রে সৎ থাকার মন্ত্রণা দেন না অনেক বাবা-মায়েরা। তারা বুঝেন এবং বুঝান যে কোন ভাবে উন্নতি। সন্তানরা বিরামহীন উন্নতির পথে একটি পা পেলার পর আরেকটি পা পেলতে থাকেন স্বচেষ্ট। সদায় উন্নতির পথে ব্যস্ত সন্তানদেরকে বাবা-মায়েরা বেলা শেষে পাইনাতো আর আপন নীড়ে প্রয়োজনীয় সময়ে।

    বাবা-মায়েরা যেমনই হোক না কেন তারাতো সন্তানের মাথায় বটবৃক্ষের মতো শীতল ছায়া দিয়ে থাকেন। কখনোবা ঝড় এলে দমকা হাওয়া সূচনাতে সহ্য করে বটবৃক্ষের ডাল। ধর্মমতে যাদের চরণ তলে স্বর্গ রয়েছে শৈশবে তাদের লালন-পালন ত্যাগতো ধন্য করেছে সন্তানদের। যারা হারিয়েছেন তারা বুঝেন- জীবন কতো সংকীর্ণ হয় বাবা-মা ছাড়া। হয়তোবা জ্ঞানের স্বল্পতার দরুণ অনেক বাবা-মায়েরা সন্তানদের সঠিক দিক নির্দেশনা দিতে পারেন নাই। তাই বলে কি আর তাদের অবজ্ঞা করা উচিৎ ? মোটেও উচিৎ নয় বরং তারা উহ্ শব্দটি যেন না করেন সে বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। সন্তানের ব্যবহারে বাবা-মা খুশি হলেইতো খুশি হন স্বয়ং সৃষ্টিকর্তা।

    আমরা কত রকমের জাল পেতেছি সংসারে। আমরা কেউ কেউ কৃষক, শ্রমীক, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, ডাক্তার, সাংবাদিক, প্রবাসী, রাজনীতিক প্রভৃতি। প্রত্যেকেতো স্ব-স্ব দায়িত্ব পালন করে থাকি শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষায় আবার সুখের শরৎ, হেমন্ত, বসন্তে। আমরা বাবা-মা হিসাবেও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ কতিপয় দায়িত্ব ও কর্তব্য। সন্তানদেরকে আদর্শ মানুষ হিসাবে গড়ে তোলা জীবনের প্রধানতম দায়িত্ব ও কর্তব্য বলে বিশ্বাস করি। তারাইতো রঙিন করে সাজাবে আগামীর পৃথিবী।

    পিতা-মাতা হিসাবে সন্তানের প্রতি বেশ কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে বলে ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) এর হাদীস রয়েছে। বর্ণীত হাদিস থেকে পিতা-মাতা হিসাবে সন্তানদের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে পাঠকের উদ্দেশ্যে এই লেখায় তুলে ধরা হলো: একত্ববাদের বাণী শোনানো, অর্থবহ নাম রাখা, আকিকা করা, খতনা করানো, যথাযথ প্রতিপালন, দ্বিনি শিক্ষা দান, শিষ্টাচার শিক্ষা দান, ইবাদতে অভ্যস্ত করা, সন্তনের জন্য দোয়া করা, বিয়ের ব্যবস্থা করা।

    Facebook Comments Box

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    মগের মুল্লুক (কবিতা)

    ১১ আগস্ট ২০১৮

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম