• শিরোনাম


    প্রিয়া সাহার রাষ্ট্রদ্রোহিতার দায় হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদকেই নিতে হবে: মুফতি ফয়জুল্লাহ

    গাজী আশরাফ আজহার | ২০ জুলাই ২০১৯ | ১০:৫৬ অপরাহ্ণ

    প্রিয়া সাহার রাষ্ট্রদ্রোহিতার দায় হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদকেই নিতে হবে: মুফতি ফয়জুল্লাহ

    হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ‘প্রিয়া সাহা’র রাষ্ট্রদ্রোহিতার দায় কথিত ঐক্য পরিষদকেই নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব ও ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতী ফয়জুল্লাহ।

    শনিবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।



    মুফতী ফয়জুল্লাহ বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে বাংলাদেশ যখন বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াচ্ছে, দেশবিরোধী প্রিয়া সাহা ঠিক তখনই নির্জলা মিথ্যা অপবাদ আরোপ করে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে বিনষ্ট করার অপচেষ্টা করেছেন।

    মুফতী ফয়জুল্লাহ আরও বলেন, সংখ্যালঘুদের স্বার্থরক্ষার নামে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ যে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে গভীর চক্রান্তে লিপ্ত, প্রিয়া সাহা’র কর্মকাণ্ডে তা এবার দিবালোকের মতো স্পষ্ট হয়েছে। প্রিয়া সাহা এই সংগঠনটির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আছেন, কিন্তু আমরা জানতে পেরেছি সংগঠনটির সভাপতি প্রিয়াকে ট্রাম্পের অনুষ্ঠানে তাদের সংগঠন থেকে পাঠানো হয়নি বলে দায় এড়ানোর চেষ্টা করেছেন।

    মুফতী ফয়জুল্লাহ বলেন, আমরা পরিস্কার ভাষায় বলতে চাই, টালবাহানা করে দায় এড়ানোর চেষ্টা করলেও সবার কাছে এটা স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, দেশদ্রোহিতার কাজে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক যেখানে সরাসরি সম্পৃক্ত, সেখানে সংগঠনটির সম্পৃক্তিও অবশ্যই আছে। প্রিয়া সাহা’র রাষ্ট্রদ্রোহিতার এ দায় সংগঠনটিকেও বহন করতে হবে।

    মুফতী ফয়জুল্লাহ এ সময় বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হবার কারণে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদকে অবিলম্বে নিষিদ্ধ ঘোষণার দাবি জানান। পাশাপাশি প্রিয়া সাহা পরিচালিত ‘শারি’ নামক এনজিও’র লাইসেন্স বাতিল ও এর সকল সম্পদ বাজেয়াপ্ত করারও আহ্বান জানান।

    উল্লেখ্য, গত ১৭ জুলাই ‘ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার’ ১৬টি দেশের ২৭ জন প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বাংলাদেশ থেকে প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহাও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পান।

    তখন প্রিয়া সাহা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বলেন, ‘আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি। বাংলাদেশে ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান নিখোঁজ রয়েছেন। দয়া করে আমাদের লোকজনকে সহায়তা করুন। আমরা আমাদের দেশে থাকতে চাই। এখন সেখানে ১ কোটি ৮০ লাখ সংখ্যালঘু রয়েছে। আমরা আমাদের বাড়িঘর খুইয়েছি। তারা আমাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে, তারা আমাদের ভূমি দখল করে নিয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো বিচার পাইনি।’

    কারা এই নিপীড়ন চালাচ্ছে? ট্রাম্পের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রিয়া সাহা বলেন, ‘দেশটির মুসলিম মৌলবাদীরা এসব করছে। আর তারা এটা করতে পারছে রাজনৈতিক প্রশ্রয়ে।’

    বাংলাদেশ নিয়ে প্রিয়া সাহার এ অভিযোগের ভিডিও ক্লিপ গতকাল দুপুর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বাংলাদেশের সর্বশ্রেণির মানুষ তাঁর এ বক্তব্য নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন।

    Facebook Comments Box

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম