• শিরোনাম


    প্রবাস জীবন,অরণ্যে রোদন: এস এম শাহনূর

    | ২২ আগস্ট ২০১৯ | ১১:৩৮ অপরাহ্ণ

    প্রবাস জীবন,অরণ্যে রোদন: এস এম শাহনূর

    “প্রবাস জীবন অাসলে কেমন?
    বলছি এক বাংলাদেশী;
    নেইকো ভালোবাসা,অরণ্যে রোদন”।

    পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ পাক এরশাদ করেন,”তোমরা পৃথিবী ভ্রমন কর এবং রবের অনুপম সৃষ্টির নিদর্শন সমূহ দেখ।”
    **অন্যত্র এরশাদ হয়েছে, “সালাত কায়েম কর অতঃপর কর্মের খোঁজে বের হয়ে যাও।”
    **”বিদ্যা শিক্ষার জন্য সুদূর চীন দেশ সফর কর।”(আল হাদীস) এরূপ নানান কারণে মানুষ আজ নিজ দেশের ভৌগোলিক সীমারেখা ছাড়িয়ে পাড়ি দিচ্ছে অন্যদেশে।আর আমাদের মত তৃতীয় বিশ্বের লোকজন দেশ ছাড়েন কর্মের খোঁজে।এক কথায় অর্থের প্রয়োজনে।



    **বাংলাদেশ সরকারের একটি বিশেষ সংস্থায় নিজের কর্মদক্ষতা আর যোগ্যতার বিনিময়ে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে প্রশিক্ষণ গ্রহন ও নানা ঐতিহাসিক নিদর্শনাবলী দেখা ও ভ্রমনের সুযোগ হয়েছে।”দেশ ভ্রমন বাস্তব জ্ঞানের পরিধিকে বাড়িয়ে দেয়।”নিজ দায়িত্বের পাশাপাশি দুনিয়ার বহু জাতি ও ভাষাভাষী মানুষের সাথে অভিজ্ঞতা বিনিময় করা অনেক তৃপ্তিকর।সেই সামান্য অভিজ্ঞতা থেকে বুঝতে পারি কেমন আছেন,প্রবাসে কর্মরত বাংলাদেশীরা।প্রবাসে নিজের হাড়ভাংগা পরিশ্রমের টাকায় অনেকেই দেশে “হোয়াইট হাউজ” বানিয়েছেন।অথচ তার কর্মস্থলে থাকতে হয় একই কামড়ায় গাদাগাদি করে বেশ কয়েকজন।ডিউটি শেষে নিজ হাতে রান্না করতে হয়,খেতে হয় হিসেব করে অপেক্ষাকৃত কমদামী খাবার।পরিবারের জন্য টাকা বাঁচাতে গিয়ে হাতে গোনা দু’তিনটে কাপড়ে পার করে দেন পুরো বছর।
    **প্রবাসে দেশের মত আলস্য সময় কাটানোর সুযোগ খুবই কম। বাংলাদেশে থাকতে যে তরুণ শার্টের বোতাম খুঁলে,গায়ে হাওয়া লাগিয়ে ঘুরে বেড়াতো, বিদেশে এসে সে হয়ে যায় কর্মঠ যুবক।কেউ একটু বাড়িয়ে বলেন রোবট।মা-বাবা,ভাই-বোন আর স্ত্রী,পুত্র-কন্যা র জন্য হাহাকার করে উঠে মন।রাতে ঘুমাতে গেলে মনের অজান্তে চোঁখের জলে ভিজে যায় নরম বালিশের কভার।নববর্ষ,ঈদ,বৈশাখী মেলা শুধু ক্যালেন্ডারের পাতায়ই থেকে যায়।যদি আমার কথাই বলি,২০১২ সালে কুরবানির ঈদের সময় ছিলাম চীনে প্রশিক্ষণরত।২০১৫ তে ঈদুল ফিতর উদযাপন করলাম লেবাননের রাজধানী বৈরুত। UNIFIL.UN Maritime Task Force.এ কর্মরত থাকায় ২০১৫ সালের কুরবানির ঈদও লেবাননে উদযাপন করতে হয়েছে।
    **আমার ব্যক্তি চিন্তায়-বিদেশে এসি অাবাসন,এসি ন্যাশনাল এক্সপ্রেস গাড়ীতে ঘুরে বেড়ানো,পর্যাপ্ত নিরাপত্তা, রাষ্ট্রীয় সম্মান আর সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা ভোগ করার পরেও মাঝে মধ্যে মনে হয় কি যেন নেই।
    কি সেটা?
    তা হচ্ছে বাঙালী মনের নির্মল ভালোবাসা।বোনের স্নেহ,ভাইয়ের আদর,মা বাবার কড়া-মিঠে শাসন,প্রিয়জনের প্রিয় কথামালা।আর প্রাণখোলা মন জুড়ানো বাংলা ভাষা।
    ** চীনে প্রশিক্ষণে থাকাকালীন সময়ে চীনের কেনটন,হোবে,ওয়াহান,সাংহাই বিভিন্ন প্রদেশে থাকাকালে আমার পরিচিত খুবই অল্প সংখ্যক বাঙালী আছেন,যাঁরা উচ্চ শিক্ষার জন্যে চীনে গিয়ে আর দেশে ফিরেননি। এমন ১/২জন বলেন, “প্রযুক্তি নির্ভর এ দেশেও আসলে আমরা ভাল নেই।দেশে যেয়েই বা কি করবো?”
    **সূর্যোদয়ের দেশ জাপান ভ্রমনকালে অনেক বাংলাদেশীর সাথে দেখা হয়,কথা হয়।জাপানে বাংলাদেশ এম্বাসির একজন কে প্রশ্ন করেছিলাম,এখানে কেমন আছেন বাঙালীরা? উনার উত্তরটাও আমার কাছে ততটা সুখকর ছিলোনা।
    **মালয়েশিয়া সফরকালে পোর্ট সিটি শাহালম,রাজধানী কুয়ালালামপুর সহ বাঙালী অধ্যুষিত “মাইডিন মার্কেট” ও তার আশে পাশের অলিগলি ঘুরেছি। উদ্দেশ্য ছিল কেমন আছেন প্রবাসে আমার দেশের মানুষগুলো।নিকটাত্মীয় না হলেও অনেকেই আপ্যায়নের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।এটা আসলে আমাদের বাঙালীদের একটা চিরায়ত ঐতিহ্য বা ভাল গুণ।কিন্তু আবার এও দেখেছি,দুপুর বেলা লাল শাক দিয়ে রুটি খেতে।যা আমাকে ব্যথিত করেছে।আমার বিশ্বাস বাংলাদেশে থাকলে হয়তো বা তিনি এমন খাবার অনন্ত দুপুরবেলা খেতেন না।কাউকে ছোট কিংবা খেয় করা আমার এ লেখার উদ্দেশ্য নয়।যাঁদের হাড়ভাঙা পরিশ্রমের টাকায় বাংলাদেশ উন্নয়নের স্বপ্ন দেখে।বড় বড় সুরম্য অট্রালিকা উঠে আকাশ পানে,রাতভর ঝলঝল করে জ্বলে হাজার রঙের বাতি।তাঁদের জন্য দেশের কিংবা সরকারের কি কিছুই করার নেই?আমার অনেক সীমাবদ্ধতার মাঝেও আছে ওনাদের জন্য এক বুক ভালোবাসা।যে কারণে কিছুদিন অাগে UNIFIL থেকে অফিসিয়াল কাজে লেবাননস্থ বাংলাদেশ এম্বাসিতে গেলে বাংলাদেশী শ্রমিকদের সমস্যাবলী সমাধানের অনুরোধ জানাই।
    **সিংগাপুর সফরকালে শুনেছি বাঙালী ভাইদের প্রতি অবহেলার কথা।একই কাজ ইন্ডিয়ান কিংবা উন্নত বিশ্বের কোন শ্রমিক করলে যা বেতন পায়,বাংলাদেশী শ্রমিক হলেই তা কমে অর্ধেক হয়ে যায়।তাই ইদানিং সময় পেলেই এ বিষয়টি নিয়ে অামি ব্যক্তিগত ভাবে বিদেশীদের এই বাক্যটির মাধ্যমে বুঝাতে চেষ্টা করছি যে,
    You show me respect, because I am a UN representative. But I am from Bangladesh. Why don’t you respect Bangladeshi people?

    ** ইন্দোনেশিয়া এবং ভিয়েতনাম সফরে সরকারী জনবল ছাড়া কোন বাঙালী শ্রমজীবি মানুষের সাক্ষাত মেলেনি।
    **সাম্প্রতিক তুরস্ক এবং ইউরোপের দেশ সাইপ্রাস ভ্রমনকালে,তুরস্কে ২জন এবং সাইপ্রাসে বহু শিক্ষিত বাঙালীর সাক্ষাত মেলে।যাঁরা বাংলাদেশে ফিরে আসলে দেশ পেত হিরের মত দামী সন্তান।জাতি হত দ্রুত উন্নত।কিন্তু আমরা কি তাঁদের উপযুক্ত সম্মান আর পারিশ্রমিক দিতে পারছি?
    **বাংলাদেশের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতালে আর শিল্পকারখানায় বিদেশী প্রফেসর,ডাক্তার ও প্রকৌশলীরা উচ্চ বেতনে চাকরি করেন।আর আমার দেশের বহু বেধাবী বিদেশে অপেক্ষাকৃত কমবেতনে চাকরী করেন।কিন্তু কেন?এর উত্তর আমার জানা আছে।তবে আমার একা জানলে হবে না। জানতে হবে ১৬ কোটি বাঙালীকেই।
    **দেশে কিংবা বিদেশে আমাদের হতে হবে সৎ আর অর্পিত দায়িত্বের প্রতি আরো নিষ্ঠাবান।মহান আল্লাহ আমাদের সকল ভাল কাজে সহায় হউন।আমীন।

    💻এস এম শাহনূর
    (উইকিপিডিয়ান,কবি ও গবেষক)

    Facebook Comments Box

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম