• শিরোনাম


    “প্রতিপক্ষের পা কেটে পৈচাশিক উল্লাস” অবশেষে গ্রেপ্তার দুই গ্রুপের দুই শীর্ষ নেতা

    এস.এম অলিউল্লাহ, স্টাফ রিপোর্টার | ১৩ এপ্রিল ২০২০ | ১২:৪১ অপরাহ্ণ

    “প্রতিপক্ষের পা কেটে পৈচাশিক উল্লাস” অবশেষে গ্রেপ্তার দুই গ্রুপের দুই শীর্ষ নেতা

    ব্রাহ্মণবাড়ীয়া’র নবীনগর উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের থানাকান্দি গ্রামে গতকাল রবিবার বিবাদমান দুই গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংর্ঘষের জেরে প্রতিপক্ষের পা কেটে নিয়ে জয় বাংলা শ্লোগান দিয়ে পৈচাশিক আনন্দ মিছিল করার ঘটনায় স্তম্ভিত ব্রাহ্মণবাড়ীয়া সহ পুরো দেশ।

    ন্যাক্কারজনক ও জঘন্যতম এই ঘটনার মূল হোতা কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিল্লুর রহমান ও তথাকথিত সমাজ সেবক কাউছার মোল্লাকে ঘটনার ২৪ ঘন্টা না পেরোতেই গ্রেপ্তারে সক্ষম হয়েছে পুলিশ।এদের দু’জনের গ্রেপ্তারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন এডিশনাল এস,পি মুকবুল হোসেন।



    ঘটনার বিবরনে প্রকাশ
    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের থানাকান্দি গ্রামে পূর্ব বিরোধের জের ধরে প্রায়শই সংর্ঘষের ঘটনা ঘটে।প্রায় অর্ধ শতাব্দী ধরে বংশপরম্পরায় চলে আসা সংর্ঘষের জেরে শতাধিক লোক চিরতরে পঙ্গুত্ব বরন করেছে, ঘটেছে খুনোখুনির মতো ঘটনাও।প্রতিপক্ষের বাড়ি-ঘরে অগ্নিসংযোগ,সম্পদ ও মালামাল লুটপাট করে পৈচাশিক উল্লাস যেন নৈমন্তিক ব্যাপার এখানে! আদিম বর্বরতার পৈচাশিক উল্লাসে চেয়ারম্যান জিল্লুর রহমান ও কাউছার মোল্লার নেতৃত্বে গতকাল শত শত লোক দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।এ সময় উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক লোক টোঁটা বিদ্ধ হয়ে মারাত্বক আহত হয়। সংর্ঘষের সময় প্রতিপক্ষের একজনের পা কেটে নিয়ে পৈচাশিক উল্লাসে আনন্দ মিছিল করা হয়েছে। খবর পেয়ে নবীনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সংঘাতে লিপ্ত ২২ জন কে গ্রেফতার করেছে। পরবর্তী যেকোন ঘটনা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

    সূত্র জানায়,এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে রোববার (১২ এপ্রিল) সকাল থেকে থেমে থেমে কয়েক দফায় গ্রাম জুড়ে এ সংঘর্ষ চলে।
    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিল্লুর রহমানের সঙ্গে থানাকান্দি গ্রামের বাসিন্দা কাউসার মোল্লার বিরোধ দীর্ঘদিনের। আধিপত্য বিস্তার নিয়ে চলা এ বিরোধের জেরে রোববার সকাল ১১টার দিকে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। থেমে থেমে চলা এ সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। ও সংঘর্ষ চলাকালে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মোবারক মিয়া (৪৫) নামে এক ব্যক্তির পা কেটে নিয়ে গ্রামে পৈচাশিক উল্লাসে আনন্দ মিছিল করে এক পক্ষ। ওই মিছিল থেকে পায়ের বদলে মাথা কেটে নিয়ে আসার কথাও বলা হয়। এছাড়াও সংঘর্ষ চলাকালে কমপক্ষে ২০টি ঘর-বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়ে মালামাল লুন্ঠন শেষে অগ্নিসংযোগ করা হয়।

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নবীনগর সার্কেল) মকবুল হোসেন জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের লিডার কে গ্রেপ্তারে সক্ষম হয়েছি।অভিযুক্ত অন্যদের গ্রেপ্তারে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।

    Facebook Comments Box

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম