• শিরোনাম


    পাঁচজন ধনী মুসলিম নারীর তালিকায় কাতারের শেখ মোজাহ বিনতে নাসের অন্যতম।

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ০৭ জুলাই ২০১৯ | ১২:৩৯ পূর্বাহ্ণ

    পাঁচজন ধনী মুসলিম নারীর তালিকায় কাতারের শেখ মোজাহ বিনতে নাসের অন্যতম।

    ধনী মুসলিম নারীর তালিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের বেশ কৌতূহল রয়েছে। বিভিন্ন সময় মুসলিম ধনী নারীদের যে তালিকা করা হয়েছে সেখানে গোপন রাখা হয় তাদের সম্পদের পরিমাণ। এর পেছনে বড় কারণ তারা রাজপরিবারের সন্তান। কেউ তাদের সম্পদ ব্যয় করছেন ভোগ-বিলাসে, কেউবা খরচ করছেন বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজে। লিখেছেন- তানভীর আহমেদ
    পাঁচ ধনী মুসলিম নারী

    প্রিন্সেস ফাতিমা



    মুখ রয়েছে গোপনে
    প্রিন্সেস ফাতিমা অব সৌদি অ্যারাবিয়া। প্রিন্সেস ফাতিমা নামেই তিনি পরিচিত। সৌদির প্রভাবশালী রাজপরিবারের মেয়ে। তার বিয়েও হয়েছে সম্মানিত আরেক রাজপরিবারে। সৌদির শীর্ষ ধনী পরিবারগুলোর একটিতে বেড়ে ওঠা তার। প্রিন্সেস ফাতিমাকে নিয়ে সবচেয়ে বড় রহস্য হলো তার পুরো মুখমন্ডলের কয়েকটি ছবি ছাড়া কখনই তাকে কেউ দেখেনি। অত্যন্ত কড়া নিরাপত্তায় ঘিরে থাকা মানুষদের একজন তিনি। তার সব ধরনের ছবি খুব সতর্কভাবে তোলা হয়েছে, যার প্রায় সবকটি কেবল মুখের। রাজপরিবার থেকে যে কটি ছবি সাধারণ মানুষের জন্য প্রকাশ হয়েছে সেগুলোর সংখ্যাও খুব কম। বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দরী নারীদের একজন তিনি। তার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১৮ বিলিয়ন ডলার বলে ধারণা করা হয়। এ টাকার পুরোটাই তার বাবার সম্পদের অংশ থেকে পেয়েছেন বলে মনে করা হয়।

    প্রিন্সেস লাল্লা সালমা

    ক্যান্সার রোগীদের আশ্রয়

    প্রিন্সেস লাল্লা সামলার জন্ম ১৯৭৮ সালে। মরক্কোর প্রিন্সেস সালমা বিশ্বজুড়ে পরিচিত ক্যান্সার রোগীদের আর্থিক সহযোগিতা ও ক্যান্সার রোগ নিরাময়ে এগিয়ে আসার জন্য। ২০১৭ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিনি মিডিয়ার আড়ালে ছিলেন। তার খোঁজ পেতে মরিয়া ছিল সবাই। হুট করে নিখোঁজ হয়েছিলেন মরক্কো রাজপরিবারের সঙ্গে তার টানাপড়েনের জন্য। বাদশাহ ষষ্ঠ মোহাম্মদের সাবেক স্ত্রী তিনি। তাদের বিয়ে বিচ্ছেদের খবর বহুদিন গোপন ছিল। ব্যক্তিগত জীবনে নানা সংকটের মুখোমুখি হলেও তিনি সামাজিক উন্নয়নে বেশ সরব। যে কারণে তার ভক্তের সংখ্যা অনেক। সারা বিশ্বেই তার জনপ্রিয়তা রয়েছে। হাস্যোজ্জ্বল মুখে যতবারই মিডিয়ার সামনে এসেছেন সাধারণ মানুষ তার কথায়, কাজে মুগ্ধ হয়েছেন। পড়াশোনা করেছেন ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে। ক্যান্সার রোগীদের চিকিৎসা সহায়তায় বিশ্বব্যাপী পরিচিত এক মুখ। কাজ করছেন এইডস রোগীদের চিকিৎসাতেও। বিভিন্ন দেশে টাকা দিয়ে সাহায্য করেছেন অবহেলিত নারীদের। নারীর ক্ষমতায়ন ও উন্নয়নেও তিনি অগ্রগণ্য। তার স্বামীর হাতে থাকা ২.৫ বিলিয়ন ডলারের বড় অংশ তিনি ব্যবহার করতেন।

    প্রিন্সেস হাজাহ

    ব্রুনাইয়ের রাজকন্যা

    প্রিন্সেস হাজাহ হাফিজাহ সুরুল বলকিয়াহ অব ব্রুনাই। নামটা বেশ দীর্ঘ, তবে তাকে ব্রুনাইয়ের রাজকন্যা বলেই চেনে সবাই। পৃথিবীর অন্যতম ধনী ও সুন্দরী নারীর তালিকায় তিনি থাকবেনই। রাজপরিবারের সম্পদের অঙ্ক যেমন ঠিক অনুমান করা যায় না, তেমনি ব্রুনাই রাজকন্যার হাতে কত সম্পদ রয়েছে তার ঠিকঠাক জানা অসম্ভব। অনেকেই মনে করেন, তার বাবার হাতে রয়েছে কমপক্ষে ২০ বিলিয়ন ডলার। তার কত অংশ তিনি মেয়েকে দিয়েছেন তা কখনো প্রকাশ করা হয়নি। ব্রুনাই রাজকন্যার বিয়েতে ১ হাজার ৭০০টি কক্ষজুড়ে অতিথিদের জায়গা দেওয়া হয়েছিল। হীরা-মণি-মুক্তা দিয়ে তৈরি বিয়ের পোশাকের দাম কয়েক হাজার কোটি টাকা বলে ধারণা করা হয়।

    শিখা মাইথা

    কারাতে-অ্যাথলেটে সেরা

    শিখা মাইথা অব দুবাই। তার পুরো নাম শিখা মাইথা বিনতে মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাখতুম। শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাখতুমের মেয়ে তিনি। ১৯৮০ সালে জন্ম শিখা আল মাখতুমের। কারাতে খেলোয়াড় ও অ্যাথলেট হিসেবে তিনি বিশ্বজুড়েই পরিচিত। ঘোড় দৌড়েও তিনি দারুণ জনপ্রিয় জকি।২০০৮ সালে ফোর্বস ম্যাগাজিন বিশ্বের সেরা ২০ রাজকীয় সুন্দরীর তালিকায় ১৭তম ছিলেন তিনি। তার সম্পদের পরিমাণ জানা না গেলেও তার বাবার হাতে থাকা ৪.৫ বিলিয়ন ডলারের প্রায় তিন ভাগের এক ভাগ তিনি ব্যবহার করেন বলে বলা হয়।

    শেখ মোজাহ বিনতে নাসের

    সাত বিলিয়ন ডলারের মালিক

    শেখ মোজাহ বিনতে নাসের। ফোর্বসের তালিকা বলছে, বিশ্বের ক্ষমতাধর ১০০ নারীর মধ্যে তিনি ৭৫তম। এই আগুনসুন্দরী QATAR সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফার সঙ্গিনী । রাজপরিবারে এই সুন্দরীর গর্ভে জন্ম নিয়েছে পাঁচ পুত্র ও দুই কন্যা সন্তান। কাতারের দোহায় ১৯৫৯ সালে জন্ম নেন শেখ মোজাহ। ফ্যাশন সচেতন শেখ মোজাহকে দেখে উপায় নেই তার বয়স ষাট ছুঁয়ে গেছে। অঢেল টাকা পয়সার মালিক তিনি। কিন্তু কত টাকার মালিক তিনি? এ পরিমাণ কখনই কেউ স্পষ্ট করে জানাতে পারেনি। ধারণা করা হয়, তার সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৭ বিলিয়ন ইউরো! অঙ্কটা রীতিমতো অবিশ্বাস্য হলেও রাজপরিবারের কাছে এটা তেমন কিছুই নয়। কাতারের রাজনীতি ও সামাজিক উন্নয়ন কর্মকান্ডে প্রায়শই শিরোনাম হয়ে থাকেন তিনি। তার সম্পদের উৎস কাতারের আমির হলেও সে টাকা তিনি লাগিয়েছেন বিভিন্ন দেশে গরিবের উন্নয়নে। কাতার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞান নিয়ে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়েছেন। ভার্জিনিয়া কমনওয়েলথ বিশ্ববিদ্যালয় মানবসেবায় তার অবদানের জন্য তাকে ‘ডক্টর অব হিউম্যান লেটার’ সম্মাননা দিয়েছে।

    Facebook Comments Box

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম