• শিরোনাম


    পর্দার বিধানে অনিহা আমাদের সামাজিক বিপর্যয়ের প্রধান কারন! ম. কাজী এনাম

    ম. কাজী এনাম | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ১২:৪২ অপরাহ্ণ

    পর্দার বিধানে অনিহা আমাদের সামাজিক বিপর্যয়ের  প্রধান কারন!  ম. কাজী এনাম

    অনেকেই শরিয়াহের ফরজ পর্দা করতে গিয়ে বিপাকে পড়তে হয়, অথচ এটা পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের মতোই ইসলামের মৌলিক ফরজ। একটা ফরজ সেচ্ছায় ছেড়ে দেওয়া ব্যক্তিটির পরিচয় হলো ফাসেকের কাতারে। আর পর্দা নিয়ে যারা চাটুকারিতা কিবা ঠাট্টা-মস্করা,বিদ্রুপ করে তাদের পরিচয় হলো মুনাফিক। হাদিসে এসেছে, একজন মুনাফিকের অবস্থান জাহান্নামের সর্বনিম্ন গহবরে। আর এই পর্দাকে যারা অস্বীকার করে তাদের ঈমানদার বলার কোন যৌক্তিকতা নেই। ওদের ঈমান নামকে ওয়াস্তে মধ্য আকাশে ঝুলে আছে, বাস্তবিক ঈমানের লেশ মাত্র নেই। কারন একটা ফরজ নামাজকে অস্বীকার করলে যেমন কফের হয়ে যায়, তদ্রুপ এরাও কাফের হয়ে যায়। কারন এই পর্দা মহান আল্লাহর একটা মৌলিক বিধান।

    আল্লাহ তায়ালা নির্দেশ করছেন, ‘তোমরা নারীদের কাছ থেকে যখন কিছু চাইবে, তখন হিজাবের আড়াল থেকে চাইবে, এটা তোমাদের ও তাদের মনের অধিকতর পবিত্রতার জন্য খুবই উপযোগী’ (সূরা আল আহজাব : (৫৩)
    উল্লিখিত আয়াতে ‘হিজাব’ শব্দের অর্থ হচ্ছে পর্দা বা আচ্ছাদন বা আবৃতকরণ বা ঢেকে নেয়া। নারী-পুরুষের মধ্যে গায়ের মাহরামদের জন্য পর্দা করা, এটা আল্লাহ তায়ালার হুকুম বা আইন। এ হুকুম বা আইন মানা সব প্রাপ্তবয়স্ক নর-নারীর ওপর ফরজ। যাদের বিয়ে করা হারাম তাদেরকে মাহরাম বলে। আর তাদের ব্যতীত সবাই গায়রে মাহরাম। গায়রে মাহরামদের মধ্যে পর্দা বাধ্যতামূলক বা ফরজ করা হয়েছে, এটা আল্লাহর দেয়া একটা মৌলিক ইবাদত।



    বর্ত্তমান যুগে এই পর্দার কোন বিকপ্ল নেই। ইভটিজিং, খুন-ধর্ষন, সামাজিক ফাসাদ, অনৈতিক সব ধরনের কর্মকান্ডের প্রধান কারন হচ্ছে পর্দার অবহেলা। পর্দার প্রতি অনিহা আমাদের সমাজ ব্যবস্থা ধ্বংসের প্রধান কারন। এছাড়াও এই পর্দার জন্য পারিবারিক বন্ধনগুলো ছিড়ে যাচ্ছে প্রায়শই। পরক্রিয়া ভাইরাসের প্রধান কারন হচ্ছে বেপর্দায় চালচলন। ইহা আমরা হারেহারে বুঝতে পারতেছি।

    ইসলামে যে পর্দার বিধান দেয়া হয়েছে, সে সম্পর্কে গভীরভাবে চিন্তা করলে আমরা এর তিনটি উপকারিতা উপলব্ধি করতে পারি –
    প্রথমত এতে নারী ও পুরুষের নৈতিক চরিত্রের হিফাজত হয় এবং নর-নারীর অবাধ ও প্রতিবন্ধকহীন মেলামেশা পথ রুদ্ধ হয়।
    দ্বিতীয়ত নারী ও পুরুষের কর্মক্ষেত্র পৃথক হওয়ার দ্বারা প্রকৃতি নারীদের ওপর যে গুরুদায়িত্ব ন্যস্ত করেছে, তা তারা সুষ্ঠুভাবে পালন করতে পারে।
    তৃতীয়ত পারিবারিক ব্যবস্থা সুরক্ষিত ও সুদৃঢ় হয়। কারণ, পর্দার দ্বারা স্বামী- স্ত্রীর মাঝে পরক্রিয়াবিহীন পবিত্র জীবন গঠিত হয় এবং চরিত্রহীনতার হাত থেকে বাঁচতে পারি।

    লিখক; বিএসএস অনার্স(অর্থনীতি), ডাবল এমএ(হাদিস),
    বিশিষ্ট কবি, সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক ও শিক্ষক!

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম