• শিরোনাম


    নৈতিকতার ক্রম অধঃপতন ও আমাদের করণীয় [] মাওলানা কাওসার আহমদ যাকারিয়া

    লেখক: মাওলানা কাওসার আহমদ যাকারিয়া | ০৪ অক্টোবর ২০২০ | ৪:০৮ অপরাহ্ণ

    নৈতিকতার ক্রম অধঃপতন ও আমাদের করণীয়  []  মাওলানা কাওসার আহমদ যাকারিয়া

    সামগ্রিকভাবে মানবজাতি আজ আল্লাহ তাআলা থেকে বহুদূরে অবস্থান করছে। অতীতে কোন সময়ই মানুষ আল্লাহ থেকে এত বেশী দূরে ছিল না। অতীতে মানুষের আল্লাহ থেকে দূরে অবস্থান মূলতঃ অজ্ঞতা ও আদিম সারল্য মিশ্রিত ছিল। বর্তমানে তার এই অবস্হান জ্ঞান-বিজ্ঞান ও তাচ্ছিল্য ভাবের সাথে জড়িত। দূর অতীতে ঈমান ও কুফুরের সংঘর্ষটা ছিল প্রকাশ্য ও স্পষ্ট। ঈমান ও কুফুর সেদিন স্পষ্টভাবে বিবৃত ছিল। লক্ষনীয় বিষয় হচ্ছে- আজ মানুষ আল্লাহ পাকের মনোনীত ধর্ম ইসলাম থেকে দূরে থাকার কারণে অধঃপতনের দিকে যাচ্ছে।

    বর্তমান বিজ্ঞান, সংস্কৃতি ও শিল্পকলার ধরণ মানবজীবন ও অনুভূতি এক নতুন মাত্রা সংযোজন করেছে। এই নতুন সংযোজনই আল্লাহ ও মানুষের মাঝে দূরত্ব সৃষ্টির মূল কারণরূপে কাজ করছে। ফলে পার্থিব ভোগ-বিলাস মানুষের অনুভূতিকে আচ্ছন্ন করে ফেলেছে। দুর্নীতি মানসিক ব্যাধি এবং বুদ্ধিবৃত্তিক ও যৌন বিকৃতি মানব সভ্যতাকে ধ্বংসের দোরগোড়ায় পৌছে দিয়েছে।
    তারপরও মানুষ তাদের পাশবিক উন্মাদনা, অনৈতিক আনন্দ-উল্লাস ও বিশৃঙ্খল জীবনব্যবস্হার মাঝেই থাকতে চাচ্ছে। এ থেকে প্রত্যাবর্তনের কোন মোরদই তাদের নেই। বরং সিনেমা, টেলিভিশন, বিসিপি, স্যাটেলাইট, ইন্টারনেট ও মাল্টিমিডিয়ার মত অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে মুহূর্তে গোটা বিশ্বে অশ্লীলতা ও বেহায়াপনা ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। উলঙ্গপণাকে সাংস্কৃতিক রুপ দেয়া হচ্ছে। লিভিং টুগেদার বা অবৈবাহিক জীবন-যাপনকে বলা হচ্ছে আধুনিকতা। ধর্মহীনতা হচ্ছে বর্তমান সভ্যতা, ধর্মীয় অনুশাসন এখন মধ্যযুগীয় বর্বরতা। এমনি যখন মানবজাতির মানসিক অবস্হা, তখন উপায় কি সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করার? নৈতিকতা ও ন্যায় পরায়ণতা ফিরিয়ে আনার?
    মানবতার ধর্ম ইসলাম আমাদের সামনে যে আদর্শ উপস্হাপন করেছে তা রুপায়ণের উপায় কী?
    হ্যাঁ উপায় কী?
    আমাদের করণীয় কী?
    এর একমাত্র উত্তর হলো মানবেতিহাসে অন্যান্য আন্দোলন যেভাবে সাফল্যমন্ডিত হয়েছে, ইসলামী আদর্শ, নৈতিকতা, শালীনতা এবং একটি কল্যাণকর সমাজও সেই একই উপায়ে প্রতিষ্ঠিত হবে, সে উপায়টি হলো, বিশ্বাস। আর করণীয় হলো, ইস্পাত কঠিন মনোবল নিয়ে সেই বিশ্বাস প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো। প্রাথমিক যুগের মুসলমানগণ এই বিশ্বাস ও মনোবলের উপরই নির্ভর করতেন। বর্তমান যুগেও সেই বিশ্বাস ও মনোবলই একমাত্র শক্তি যা আমাদের সাহায্য করতে পারে।
    সুতরাং আসুন, আমরা প্রত্যেকেই সেই বিশ্বাস ও ঈমানী বলে বলিয়ান হয়ে নিজ নিজ অবস্হানে থেকে নিজেদের অবস্হা পরিবর্তনের চেষ্টা করি। তাহলেই আমরা সুখী-সমৃদ্ধশালী ও কল্যাণকর একটি দেশ ও সমাজ উপহার পেতে পারব। যেখানে থাকবে না অশ্লীল, উলঙ্গ ও অনৈতিক সংস্কৃতির অবৈধ চর্চা। শুধু থাকবে নিজস্ব সংস্কৃতির সমুজ্জ্বল উপস্থিতি। এটা আমরা যত তাড়াতাড়ি বুঝব, ততই আমাদের জন্য তা মঙ্গলজনক হবে। অন্যথায় নৈতিক অধঃপতনের যে ঝড়গতি আমাদের দিকে ধেয়ে আসছে, তার ধ্বংসাত্নক পরিণতি থেকে আমরা কেউই রক্ষা পাব না।
    আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে হেফাযত করুন। আমীন।



    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম