• শিরোনাম


    নেজামে ইসলাম পার্টি গঠন ও বিকাশে ফখরে বাঙ্গালের অবদান অনস্বীকার্য :- লতিফ নেজামী

    মুফতি মুহাম্মদ এনামুল হাসান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি | ০৪ এপ্রিল ২০২০ | ৬:২১ পূর্বাহ্ণ

    নেজামে ইসলাম পার্টি গঠন ও বিকাশে ফখরে বাঙ্গালের অবদান অনস্বীকার্য :- লতিফ নেজামী

    নেজামে ইসলাম পার্টির সহসভাপতি হযরত মাওলানা তাজুল ইসলাম ফখরে বাঙ্গালের আজ ৫৩তম ইনতেকাল বার্ষিকী। ১৯৬৭ সালের ৩রা এপ্রিল তিনি ইনতেকাল করেন। তাঁর বাড়ী ছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাধীন নাসির নগর উপজেলার ভুবন গ্রামে। নেজামে ইসলাম পার্টি গঠন ও বিকাশে মরহুম মাওলানা তাজুল ইসলামে ফখরে বাঙ্গালের অবদান অনস্বীকার্য।
    এদেশে ইসলামী সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্যে যেসব উলামায়ে কেরাম রাজনীতিতে সম্পৃক্ত ছিলেন, হযরত মাওলানা তাজুল ইসলাম (রহঃ) ওরফে ফখরে বাঙ্গাল (বাঙ্গলার গৌরব) তাঁদের মধ্যে অন্যতম। তিনি একাধারে ছিলেন একজন সুদক্ষ শিক্ষক, যুক্তিবাদী বক্তা এবং রাজনীতির ক্ষেত্রেও ছিল তাঁর পদচারণা। মিশরের রাজধানী কায়রোতে অনুষ্ঠিত এক ইসলামী সম্মেলনে প্রদত্ত হৃগয়গ্রাহী ও যুক্তিপূর্ণ বক্তব্যের জন্যে তাঁকে “ফখরে বাঙ্গাল“ (বাঙ্গলার গৌরব) উপাধিতে ভ’ষীত করা হয়।
    মাওলানা তাজুল ইসলাম ১৯৫২ সনের ১৮, ১৯ ও ২০ মার্চ কিশোরগঞ্জ জেলার হয়বতনগরে অনুষ্ঠিত তিনদিন ব্যাপী এক সম্মেলনে হযরত মাওলানা আতহার আলী রহ.র নেতৃত্বে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের রাজনৈতিক প্লাটফরম হিসেবে নেজামে ইসলাম ইসলাম পার্টি আবিভর্’ত হওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভ’মিকা পালন করেন। কারণ জমিয়তের সদস্যপদ উলামা-মাশায়েখের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল বিধায় এই সংগঠনটির দ্বার দ্বীনদার সাধারণ শিক্ষিত লোকদের জন্যে উন্মুক্ত করনার্থে নেজামে ইসলাম পার্টি গঠন করা হয়।
    উল্লেখ্য, নেজামে ইসলাম পার্টির মাতৃ সংগঠন হচ্ছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম। ১৯২০ সালে গঠিত হযরত হোসাইন আহমদ মদনী রহ.‘র নেতৃত্বাধীন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ অভিন্ন ভারত প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ভারতীয় কংগ্রেসকে সমর্থন যোগায়। ফলে হাকীমুল উম্মত হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ.‘র ইশারায় উপমহাদেশের মুসলমানদের জন্যে পৃথক আবাসভ’মী প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৪৫ সালে কোলকাতা মোহাম্মদ আলী পার্কে অনুষ্ঠিত তদানিন্তন ভারতের উলামা-মাশায়েখ সম্মেলনে হযরত মাওলানা শিব্বির আহমদ উসমানী রহ. নেতৃত্বে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয় । পরবর্তিতে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম থেকে নেজামে ইসলাম পার্টি গঠিত হয়। জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম মুসলমানদের জন্যে পৃথক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে মুসলিম লীগকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে। আর জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ অভিন্ন ভারত প্রতিষ্ঠর আন্দোলনে রত কংগ্রেসের পক্ষে অবস্থান নেয়। মাওলানা শিব্বির আহমদ উসমানীর নেতৃত্বাধীন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম সিলেট পাকিস্তানভ’ক্তির পক্ষে, অন্যদিকে হযরত মাওলানা হোসাইন আহমদ মদনী রহ.র নেতৃত্বাধীন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ বিপক্ষে অবস্থান গ্রহণ করে।

    ফখরে বাঙ্গাল মাওলানা তাজুল ইসলামসহ অন্যান্য উলামায়ে কেরামের মাধ্যমেই এদেশের ইসলামপন্থীরা পেলো তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক সংগঠন–নেজামে ইসলাম পার্টি। তখন থেকে এই দলের মাধ্যমেই ইসলামের দাবি-দাওয়া উত্থাপিত হতে থাকে। ফখরে বাঙ্গাল এদেশের মানুষের চিন্তা-চেতনায় গভীর ও ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এদেশের মানুেষর মনে ইসলামের আবেগ-উদ্দিপনা, উচ্ছাস এবং ইসলামের স্বরুপ সহজ ও আন্তরিক মর্মস্পর্শীতায় প্রতিভাত হওয়ার ক্ষেত্রে ফখরে বাঙ্গালের যথেষ্ট অবদান ছিল । তিনি প্রেরণা যুগিয়েছেন এদেশের মানুষকে, সাড়া জাগিয়েছেন জনগণের চৈতন্যে। ইসলামী আন্দালনের সেই অধ্যায়টির আলোকপাত হবে একদিন ফখরে বাঙ্গালের মতো প্রথিতযসা আলেমদের ওপর। মানুষের মনে ইসলামী আন্দোলনের বীজ ধীরে ধীরে অংকুরিত হয়ে বর্তমান অবস্থায় উপনীত হওয়ার ক্ষেত্রে ফখরে বাঙ্গাল আপ্রাণ চেস্টা চালিয়ে গেছেন। ফখরে বাঙ্গাল আত্মনিয়োগ করেন বিচ্ছিন্ন ইসলামী সমাজকে একীভ’ত করতে। চেস্টা চালিয়ে গেছেন, ইসলামপন্থীদের নেজামে ইসলাম পার্টির পতকাতলে সংঘবদ্ধ করতে। নেজামে ইসলাম পার্টির মাধ্যমে ইসলামের কাফেলা নিয়ে এগিয়ে যেতে স্বচেস্ট ছিলেন তিনি । কত ঝড়-ঝঞœার মোকাবেলা করতে হয় তাঁকে । ধর্ম, শিক্ষা, সমাজ, রাজনীতি –সকল ক্ষেত্রেই তাঁর বৈশিষ্ট ফুটে উঠতো। অনৈসলামী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে ফখরে বাঙ্গালের মানসিক দৃঢ়তা স্বভাবতঃই তাঁর সমগ্র চরিত্রে প্রতিফলিত হয়েছিল। তাঁর সততা, নীতিনিষ্ঠা, কর্ম-শৃংখলা, আত্মবিশ^াস ও আদর্শের জন্যে ত্যাগ স্বীকারের মানসিকতা এবং তাঁর অনুসৃত নীতি, আদর্শ ও কর্মপন্থা আমাদের জীবনে অনুসরণীয়।

    মাওলানা তাজুল ইসলাম ফখরে বাঙ্গালের অমর স্মৃতির প্রতি সত্যিকারের শ্রদ্ধা নিবেদনের একমাত্র উপায়—তাঁর আদর্শের অনুসারী হওয়া। তাঁর সততা, আত্মবিশ^াস, কর্তব্যনিষ্ঠা ও অধ্যবসায়ের আদর্শে অনুপ্রাণীত হওয়া। তিনি যে ইসলাম প্রতিষ্ঠার আশার প্রদীপ জে¦লে গেছেন, তা নব প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা।
    তিনি (ফখরে বাঙ্গাল) একাগ্রতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, দৃঢ় মনোবল, আত্মবিশ^াস, নিঃস্বার্থ সেবার আদর্শ নিয়ে ইসলামী আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। তিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন এমন এক রাষ্ট্রের যেখানে থাকবে ইসলামের বিকাশের পূর্ণ সুযোগ। তিনি নেজামে ইসলাম পার্টির মাধ্যমে এদেশে ইসলামী আন্দোলনের তরঙ্গ তুলেছিলেন। সেখানে ভাবাবেগ ও হৃদয়বৃত্তির কোন স্থান ছিলনা। তাঁদের পথ ধরেই এখনও আন্দোলন চলছে।
    আমি ফখরে বাঙ্গাল মাওলানা তাজুল ইসলামের অমর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করি এবং তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করি। আমীন।



    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০৩১  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম