• শিরোনাম


    নির্বাচনী প্রতিক সংক্রান্ত জরুরি নির্দেশনা

    | ১০ নভেম্বর ২০১৮ | ৪:৫৮ পূর্বাহ্ণ

    নির্বাচনী প্রতিক সংক্রান্ত জরুরি নির্দেশনা

    নির্বাচন কমিশনের বিদ্যমান নিবন্ধিত ৩৯টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে কে কার সঙ্গে জোটবদ্ধ নির্বাচনে আগ্রহী তা রোববারের মধ্যেই নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) জানাতে হবে। পাশাপাশি অনিবন্ধিত কোন দলের প্রার্থী নিবন্ধিত দলের প্রতীকে নির্বাচনের সুযোগ থাকবে।

    অন্যদিকে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার সুযোগ থাকছে না নির্বাচনী আইনে। তবে আগে থেকেই যারা স্বতন্ত্র প্রার্থীর শর্ত পুরণ করে মনোনয়ন ফরম জমা দিবেন তাদের জন্য এ নিয়ম প্রযোজ্য হবে না।



    ইসি কার্যালয়ের সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ শুক্রবার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তিন দিনের মধ্যে জোটবদ্ধ দলগুলোকে তাদের অবস্থান জানিয়ে ইসিকে চিঠি দিতে হবে। সেই হিসেবে রোববারের মধ্যেই দলগুলোকে নিজেদের অবস্থান জানাতে হবে। অন্যথায় একদলের প্রতীক অন্যদলের প্রার্থী ব্যবহারের সুযোগ পাবেন না। ইসির পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা শুক্রবার সব রাজনৈতিক দলকে জানিয়ে দিয়েছে।

    এছাড়া নির্বাচন কমিশন এ নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের পোস্টার ব্যানার দেয়াল লিখন, বিলবোর্ড, গেট, তোরণ বা ঘের, প্যান্ডেল, আলোকসজ্জা ইত্যাদি প্রচার সামগ্রী আগামী ১৪ নভেম্বর রাত বারোটার আগেই নিজ খরচে সরিয়ে নিতে নির্দেশ দিয়েছে ইসি। এ নির্দেশ বাস্তবায়নের জন্য সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাসহ সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতেও বলা হয়েছে।

    ইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিদ্যমান আরওপি অনুযায়ী এসব প্রার্থীরা দলীয় পরিচয়ে মনোনয়ন জমা দেওয়ার পরে যদি তারা প্রতীক বরাদ্দের চিঠি না পান তবে তাদের প্রার্থীতা বাতিল হয়ে যাবে। কারণ কোন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় তিনি কোন দলের মনোনীত তা ফরমে উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক। যে দলের মনোনীত ওই দলের প্রধানের সই করা প্রতীক বরাদ্দের চিঠি না পেলে তিনি আর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেও ভোটের মাঠে থাকতে পারছেন না।

    এদিকে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের কর্মকর্তরা আগেই জানিয়েছেন, আইনগত দূর্বলতার কারণে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনিবন্ধিত বা নিবন্ধন অবৈধ ঘোষিত হয়েছে এমন দলের নেতাদেরও জোটভুক্ত হয়ে নিবিন্ধত কোন দলের প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকছে। তবে জোটের যে দলের প্রতীকে তারা প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবেন সে দলের প্রার্থী হিসেবেই গণ্য হবেন তারা।

    এর আগে ইসিতে গিয়ে একাধিক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত জামায়াত ইসলামের নেতাদের প্রার্থী হওয়ার পথ বন্ধ করতে ইসিকে উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছিল। কিন্তু শুক্রবার ইসি সচিব জানিয়েছেন, আইনগতভাবে সেই সুযোগ নেই। অন্য যে কোন নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের প্রতীকে অথবা স্বতন্ত্র হিসেবে তারা প্রার্থী হতে কোন বাধা নেই।

    ভোটার প্রতি সর্বোচ্চ ব্যয় ১০ টাকা: নির্বাচনে ভোটারপ্রতি সর্বোচ্চ ব্যয় ১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে একজন প্রার্থীর সর্বোচ্চ ব্যয় ২৫ লাখ টাকা বহাল রাখা হয়েছে। এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। এর আগে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারপ্রতি ব্যয় ধরা হয়েছিল ৮ টাকা।

    ইসির সর্বোচ্চ ব্যয়ের নির্দেশনা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, সর্বোচ্চ ব্যয় ২৫ লাখ নির্ধারিত থাকলেও এবার দেশের সবচেয়ে কম ভোটারের আসন ঝালকাঠি-১ আসনের একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ ১৭ লাখ ৮৭ হাজার ৮৫০ টাকার বেশি ব্যয় করতে পারবেন না। এই আসনের ভোটার সংখ্যা এক লাখ ৭৮ হাজার ৭৮৫ জন। আবার ভোটার প্রতি সর্বোচ্চ ব্যয় ১০ টাকা নির্ধারণ হলেও দেশের সবচেয়ে বেশি ভোটারের আসন ঢাকা-১৯ আসনে ভোটারপ্রতি সর্বোচ্চ ব্যয় করা যাবে ৩ টাকা ৩৫ পয়সা। কারণ এই আসনে ভোটার সংখ্যা সাত লাখ ৪৭ হাজার ৩০১ জন।

    প্রচার উপকরণ অপসারণের নির্দেশ: সারাদেশের দৃশ্যমান সব ধরনের নির্বাচনী প্রচার উপকরণ আগামী বুধবারের মধ্যে অপসারণের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসন এবং সিটি ও পৌরসভাকে চিঠি দিয়েছে তারা।

    পরে ইসি কার্যালয়ের সচিব সাংবাদিকদের জানান, মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশনা দিয়ে শুক্রবারই এই চিঠি পাঠানো হয়েছে। আইন অনুযায়ী তফসিল ঘোষণার পর থেকে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত সব ধরনের প্রচার নিষিদ্ধ। তাই আগামী সাত দিনের মধ্যে জেলা, উপজেলা এবং সিটি করপোরেশন আওতাধীন এলাকায় যেখানে পোস্টার, ব্যানার, গেট, তোরণ এবং আলোকসজ্জা রয়েছে- সেগুলো অপসারণের জন্য বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী এবং পৌরসভার মেয়রদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য কোনো প্রার্থী যদি তার প্রচার উপকরণ অপসারণ না করেন তবে তিনি নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে অভিযুক্ত হবেন এবং আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    সচিব বলেন, প্রতীক বরাদ্দের পর প্রার্থীরা প্রচারে নামতে পারবেন। এর আগ পর্যন্ত কোনো প্রার্থী বা রাজনৈতিক দল নির্বাচনী প্রচার চালাতে পারবেন না। এ বিষয়ে প্রতিটি রাজনৈতিক দলের কাছে চিঠি পাঠানো হবে।

    এক প্রশ্নের জবাবে হেলালুদ্দীন আহমেদ বলেন, যেসব জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করতে চায়, তাদের এ সংক্রান্ত তথ্য আগামী তিন দিনের মধ্যে ইসিকে জানাতে।

    তিনি বলেন, অনিবন্ধিত কোনো দল নিবন্ধিত কোনো দলের সঙ্গে জোটগতভাবে নির্বাচন করতে চাইলে ইসির কিছু করার থাকবে না। এই বিষয়ে আইনে কোনো ব্যাখ্যা নেই।

    তিনি আরও জানান, আগামী রোববার থেকে অনলাইনে প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ পাওয়া যাবে। প্রার্থীরা চাইলে অনলাইন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহও করতে পারবেন।

    রিটার্নিং-সহকারী রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ: সচিব বলেন, সারা দেশের ৬৪টি জেলার জেলা প্রশাসকদের রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি এলাকায় স্থানীয় বিভাগীয় কমিশনারকে রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার-ভূমি এবং জেলা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে ৫৮০ জনের মতো সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে।

    Facebook Comments Box

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম