• শিরোনাম


    নিরাপদ শিম ও বাঁধাকপি উৎপাদনেই আনন্দ ইকবালের

    | ১৬ জানুয়ারি ২০১৯ | ৬:২৯ পূর্বাহ্ণ

    নিরাপদ শিম ও বাঁধাকপি উৎপাদনেই আনন্দ ইকবালের

    উত্তম কৃষিচর্চার বৈশ্বিক মানদণ্ড নির্ধারণ করে গ্লোবাল গ্যাপ (গুড এগ্রিকালচারাল প্র্যাকটিসেস)। ইউএসএআইডি ও গ্লোবাল গ্যাপের সহযোগিতায় দেশের চার শতাধিক চাষীকে উত্তম কৃষিচর্চার প্রশিক্ষণ দিয়েছে স্বপ্ন। গ্লোবাল গ্যাপের মানদণ্ড মেনে সবজি উৎপাদন করছেন এসব চাষী। তাদের একজন যশোরের মো. ইকবাল

    প্রান্তিক কৃষক মো. ইকবাল। পৈত্রিক পেশা কৃষির সঙ্গে জড়িত ছোটবেলা থেকেই। বর্তমানে বাঁধাকপি, শিম ও মরিচসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি আবাদ করছেন। কীটনাশকের ক্ষতিকর প্রভাবমুক্ত ও নিরাপদ হিসেবে স্বীকৃত এসব সবজি সরবরাহ করছেন সুপারশপ স্বপ্নে। দামও পাচ্ছেন ভালো।



    বর্তমানে তার উৎপাদিত সবজি মানবদেহের জন্য নিরাপদ খাদ্য হিসেবে স্বীকৃত। যদিও কিছুদিন আগেও তার ক্ষেতের সবজিকে অন্যদের উৎপাদিত সবজির তুলনায় খুব একটা নিরাপদ বলার সুযোগ ছিল না। কীটপতঙ্গ ও পোকামাকড়ের দৌরাত্ম্য ঠেকাতে সে সময় অন্যদের মতোই ক্ষেতে অতিমাত্রায় কীটনাশক প্রয়োগ করতেন মো. ইকবাল। সারও ব্যবহার করতেন বেশি বেশি। কীটনাশক ও সার প্রয়োগের মাত্রা এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি সম্পর্কে কোনো ধারণা ছিল না তার। পরবর্তী সময়ে স্বপ্নের মাঠকর্মীদের পরামর্শে পরিমিত মাত্রায় ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে কীটনাশক, সার প্রয়োগ করতে থাকেন তিনি। ভালো ফলনের পাশাপাশি ভালো দামও পাচ্ছেন।

    সাধারণত কৃষকরা কীটনাশক প্রয়োগের পরদিনই ক্ষেত থেকে সবজি তুলে বাজারে বিক্রি করে থাকেন। ফলে সবজিতে কীটনাশকের ক্ষতিকর প্রভাবও থেকে যায়। কিন্তু স্বপ্নের মাঠকর্মীদের পরামর্শে কীটনাশক প্রয়োগের অন্তত এক সপ্তাহ পর ক্ষেত থেকে সবজি তুলে থাকেন মো. ইকবাল। এ সময়ের মধ্যে সবজিতে কীটনাশকের ক্ষতিকর প্রভাব নষ্ট হয়ে যায়। সবজিও হয়ে ওঠে ভোক্তাদের জন্য নিরাপদ।

    নিরাপদ সবজি সরবরাহের জন্য যশোর সদরের হৈবতপুর ইউনিয়নের শাহাবাজপুরের কৃষক মো. ইকবালের সঙ্গে চুক্তি করেছে চেইনশপ স্বপ্ন। ২০১৭ সাল থেকে স্বপ্নে নিরাপদ সবজি সরবরাহ করছেন তিনি। মো. ইকবাল বলেন, আগে সবজি ক্ষেতে পোকার আক্রমণ ঠেকাতে অতিমাত্রায় কীটনাশক ব্যবহার করতাম। বিষয়টি মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর হলেও এ বিষয়ে সচেতনতা ছিল কম। তবে চেইনশপ স্বপ্নের সঙ্গে চুক্তি হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে সচেতন হয়েছি। সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করছি নির্ধারিত মাত্রায় এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে। এতে একদিকে যেমন ভোক্তারা ক্ষতিকারক কীটনাশক থেকে রক্ষা পাচ্ছেন, অন্যদিকে ক্ষেতে সবজির ফলনও ভালো হচ্ছে।

    চুক্তি অনুযায়ী স্বপ্নের মাঠকর্মীরা কৃষকদের ক্ষেতে কীটনাশক প্রয়োগ সম্পর্কে নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এরই ভিত্তিতে ক্ষেতে ঝোলানো সাইনবোর্ডে কোন সময় কী পরিমাণে কীটনাশক প্রয়োগ করতে হবে, তা লিখে রাখা হয়। মাঠকর্মীদের উপস্থিতিতেই ক্ষেতে পরামর্শমাফিক কীটনাশক প্রয়োগ করে থাকেন কৃষকরা।

    মো. ইকবাল বলেন, ছোটবেলায় বাবার হাত ধরে এ পেশায় নিযুক্ত হয়েছি। ফসল আবাদ করতে গিয়ে অনেক সময় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। রোগবালাইয়ের প্রাদুর্ভাবে সুস্থ গাছ হঠাৎ করেই মারা যেতে দেখেছি। কিন্তু কখনো কৃষি বিভাগের সহযোগিতা পাইনি। ২০১৭ সালের শুরু থেকে আমিসহ অনেকেই স্বপ্নে সবজি সরবরাহ করছে। প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা এসে বলে দিয়ে যায় অথবা সাইনবোর্ডে লিখে যায় প্রতি বিঘায় কখন কী পরিমাণে সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করতে হবে। এছাড়া জমির মাটি পরীক্ষা করেও আমরা এখন সার প্রয়োগ করে থাকি। নিয়ম মেনে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে কীটনাশক প্রয়োগ ও ফসল উত্তোলনের ফলে একদিকে যেমন সবজি নিরাপদ থাকছে, তেমনি ভালো ফলনও পাচ্ছি। এছাড়া বাজারদর থেকে স্বপ্ন আমাদের কেজিতে ২-৪ টাকা বেশি দাম দিয়ে থাকে। এতে আমরা বেশ লাভবানও হচ্ছি।

    মো. ইকবাল জানান, এবার তিনি এক বিঘা জমিতে বাঁধাকপি আবাদ করেছেন। একই সঙ্গে এক বিঘায় শিম ও সমপরিমাণ জমিতে কাঁচামরিচ চাষ করেছেন। এর মধ্যে বাঁধাকপি আবাদে ব্যয় হয়েছে ৭ হাজার টাকা। সমপরিমাণ ব্যয় হয়েছে শিম আবাদে। মরিচ আবাদে ব্যয় হয়েছে ৬ হাজার টাকা। এর বিপরীতে বাঁধাকপির ফলন পেয়েছেন সাড়ে ৫ হাজার পিস। শিমের ফলন পাওয়া গেছে ৮০ মণ। আর মরিচের ফলন পেয়েছেন ৩০ মণ।

    স্থানীয় অন্য কৃষকরাও জানান, সবজির জন্য বিখ্যাত হৈবতপুর ইউনিয়ন। এখানে বারো মাস বিভিন্ন ধরনের সবজির আবাদ হয়ে থাকে। কিন্তু সবজি উৎপাদনে স্থানীয় সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে কোনো পরামর্শ পাওয়া যায় না বললেই চলে।

    স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, যশোরে সাধারণত বছরে দুই মৌসুমে সবজির আবাদ হয়ে থাকে। জেলাটিতে সবজি আবাদে ব্যবহূত জমির পরিমাণ ৩১ হাজার হেক্টর

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম