• শিরোনাম


    নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য সালামে শুরু হওয়ায় মুসলিম বিশ্বে প্রশংসিত।

    | ২০ মার্চ ২০১৯ | ৪:৫৬ পূর্বাহ্ণ

    নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য সালামে শুরু হওয়ায় মুসলিম বিশ্বে প্রশংসিত।

    ক্রাইস্টাচার্চের মসজিদে নৃশংসতার পর নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আর্ডার্নের দরদি চেহারা বিশ্ব দেখেছে। হতাহতের ঘটনায় শোকার্ত মুসলিমদের তিনি বুকে টেনে নিয়েছেন। অভয় দিয়ে বলেছেন, ‘আমরা তোমাদের শোকের সাথী হয়তো হতে পারব না। কিন্তু, কথা দিচ্ছি, একসঙ্গে আমরা অনেকটা পথ হাঁটব।’
    শুরু থেকেই পোশাকেও জাসিন্ডা থেকেছেন নির্মোহ। নিজেদের সংস্কৃতির বাইরে গিয়ে মুসলিম কমিউনিটিতে হাজির হয়েছেন মাথা ঢেকে। মঙ্গলবার জাসিন্ডার দরদি মানবতার আরেক চেহারাও দেখল বিশ্ব। গত ১৫ মার্চের নৃশংসতার স্মরণে সংসদের বিশেষ অধিবেশনে জাসিন্ডা তার বক্তব্য শুরুই করেন আরবিতে, ‘আসসালামু আলাইকুম’ বলে। শুধু তাই নয়, এদিন নিউজিল্যান্ডে বসবাসকারী মুসলিম ছাড়াও অন্য বিশ্বাসের অনুসারিদের সংসদে আমন্ত্রণ জানানো হয়। বিভিন্ন ধর্মের প্রতিনিধিরা নিজ ধর্মের বেশে সংসদে প্রবেশ করেন। পরে প্রথমে মুসলিমদের জন্য সংসদে নামাযের ব্যবস্থা করে দেন প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আর্ডার্ন। এরপর বাকি ধর্মের অনুসারিরাও প্রার্থনা করেন।
    আশ্চর্যের বিষয় বক্তব্যের সময় তিনি একটিবারের জন্যও দুটি মসজিদে হামলাকারী বন্দুকধারীর নাম উচ্চারণ করেননি। পষ্ট করেই বলেছেন, ‘সন্ত্রাসীর কোনো নাম নেই, ধর্ম নেই। সে সন্ত্রাসীই। নিউজিল্যান্ডের যে আইনি শক্তি আছে, তার সর্বোচ্চটিরই মুখোমুখি তাকে (হামলাকারী ব্রেনটন টারান্ট) হতে হবে।’
    প্রধানমন্ত্রী কিউইদের কাছে ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসিজদে হামলায় নিহত ৫০ ও ৪৮ জন আহতের ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করেন। একইসঙ্গে হতাহতদের স্বজনদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনাও করেন। হামলাকারী ২৮ বছর বয়সী অস্ট্রেলীয় বংশোদ্ভূত ব্রেনটন টারান্টকে উদ্দেশ্য করে কিউই প্রধানমন্ত্রী সংসদকে বলেন, ‘তিনি (টারান্ট) সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে অনেক কিছু করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু, তিনি কুখ্যাত। এজন্য আপনারা কখনই আমার মুখে তার নাম শুনবেন না।’ তিনি বলেন, ‘আপনারা জানতে চাইতে পারেন, এখানে আমি কেন একবারও তার নাম (হামলাকারী) নিলাম না? তিনি একজন সন্ত্রাসী, অপরাধী এবং উগ্রপন্থী। কিন্তু, আমি যখন তার প্রসঙ্গেই বলছি, সন্ত্রাসীর কোনো নাম হয় না।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আপনাদের অনুরোধ করব, যারা চলে গেছেন আমরা বরং তাদের নাম নেই ওই খুনির নাম নেয়ার চেয়ে। তাকে নিয়ে যখন আমি কথা বলব, তিনি নামবিহীন থাকবেন।’
    এ সময় জাসিন্ডা ওই হামলার ভিডিও শেয়ার করা বন্ধ করতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্ল্যাটফর্মগুলোকে আরও কাজ করার আহ্বান জানান। সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘নিউজিল্যান্ডের আইন অনুযায়ী হামলাকারী পূর্ণ শাস্তির মুখোমুখি হবেন।’ এরপর প্রধানমন্ত্রী উঠে গিয়ে সংসদে আসা মুসলিমদের সঙ্গে গত ১৫ মার্চ মসজিদে হতাহতের ঘটনায় সমবেদনা প্রকাশ করেন। মুসলিম নারীদের বুকে টেনে নেন।
    স্পিকার ট্রেভর মালার্ড বিভিন্ন ধর্মের বিশ্বাসীদের এই বিশেষ অধিবেশনে আমন্ত্রণ জানান। তারা নিজ নিজ ধর্মীয় পোশাকে সংসদে এসে পরে প্রার্থনাও করেন। কিন্তু, সর্বপ্রথম মুসলিমদের নামায আদায় করতে দেয়া হয়। পরে অন্য ধর্মের অনুসারিরা তাদের প্রার্থনা করেন।
    প্রধানমন্ত্রীর এই ভূমিকায় সারা বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে।
    উল্লেখ্য, গত ১৫ মার্চ জুমার নামাযের সময় ক্রাইস্টচার্চের আল-নূর ও লিনউড মসজিদে বন্দুকধারী নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে পাঁচ বাংলাদেশিসহ ৫০ জন নিহত ও ৪৮ জন আহন হন। হামলাকারী অস্ট্রেলীয় বংশোদ্ভূত ব্রেনটন টারান্ট আধা-স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র দিয়ে গুলি চালান এবং হামলার ঘটনাটি ফেসবুকে লাইভ করে। পরে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।



    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম