• শিরোনাম


    ধর্ষন-রাজনীতি: শেখ ফজলুল করিম মারুফ

    | ০৬ জানুয়ারি ২০১৯ | ১২:১৭ অপরাহ্ণ

    ধর্ষন-রাজনীতি: শেখ ফজলুল করিম মারুফ

    ধর্ষনের সংঘটিত হওয়ার পরে তিনটা কাজ জরুরী । ১- ধর্ষনের শিকার নারীর সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।২- ধর্ষকের বিচার এবং ৩-সমাজের ধর্ষন প্রবনতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করা।

    বাংলাদেশে ধর্ষনের পরে এর কোনটাই হয় না। যা হয় তাহলো রাজনীতি।



    নারী ধর্ষণ সর্বকালেই যুদ্ধের অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এবং ধর্ষনের বিরুদ্ধে প্রচন্ড নৈতিক ও আবেগঘটিত প্রতিবাদ এবং আইনগত কঠোরতা থাকা সত্যেও প্রতিপক্ষের মনোবল ভেঙ্গে দিতে সর্বকালেই অত্যাচারীরা প্রতিপক্ষকে ধর্ষন করে।

    ধর্ষনের এই অমরত্ব লাভের পেছনে প্রধান কারণ হলো, ধর্ষন নিয়ে রাজনীতি করা। বিজয়ীরা বিজিতকে ধর্ষন করে এবং বিজিতপক্ষ এই ধর্ষনকে পুঁজি করে রাজনীতি করে এবং সেই রাজনীতিতে জয়ী হতে পারলে তারাও আবার ধর্ষন করে।

    ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতাসীন হওয়ার পরে ধর্ষন হয়েছে এবং আঃলীগ সেটা নিয়ে ক্রমাগত রাজনীতি করেছে এবং জয়ী হয়ে তারাই আবার ধর্ষন করছে। ২০১৮তে এসে ২০০১ এর ধর্ষনকারীরা ধর্ষনের শিকার হচ্ছে। এবং যথারীতি রাজনীতি করছে। লিখে নিতে পারেন, এই রাজনীতিতে জয়ী হলে তারাও ধর্ষন করবে। (নির্দিষ্ট কোন ঘটনাকে উদ্দেশ্য করা হচ্ছে না)

    ধর্ষন রাজনীতির এ এক দুর্ভেদ্য বৃত্ত। এই বৃত্তের প্রত্যেকেই অপরাধী। রাজনৈতিক কারনে যারা ধর্ষন করে এবং ধর্ষন নিয়ে যারা রাজনীতি করে তারা উভয়ই সমান অপরাধী।

    ধর্ষন নিয়ে রাজনীতির এই নির্মমতায় ধর্ষিতার সামাজিক-পারিবারিক মন্ডল তছনছ হয়ে যায়, ধর্ষক শাস্তি থেকে পাড় পেয়ে যায় ফলে সমাজে রাজনৈতিক ধর্ষনপ্রবনতা বেড়েই চলে।

    বাংলাদেশে অনেকবারই ধর্ষন প্রচন্ড আলোড়ন তুলেছে। বড় বড় রাজনৈতিক নেতারা আক্রান্তে পাশে গিয়ে ছবি তুলেছন, নগদ অর্থ সহায়তা করেছেন এবং এর বিচারের জন্য জ্বালাময়ী বক্তব্য দিয়েছেন কিন্তু নিশ্চয়তা দিয়ে বলতে পারি, এর কোনটারই কোন বিচার হয় নাই। আক্রান্তের সামাজিক-পারিবারিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় নাই এবং ধর্ষনপ্রবনতাও কমে নাই।

    কারন রাজনৈতিক নেতাদের, নারীবাদীদের ও মিডিয়ার পুরো কার্যক্রম ছিলো উদ্দেশ্যপ্রনোদিত। স্ব স্ব উদ্দেশ্য হাসিল হওয়ার পরে সবাই যার যার ধান্ধায় ফিরে গেছে।

    সাম্প্রতিক সুবর্ণচরের ঘটনায় হুবহু পুরাতন চিত্রনাট্যের পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। হ্যা! কলাকুশলীর পরিবর্তন ঘটেছে।

    বিএনপি আমলে ঘটা ধর্ষনকান্ডে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সাথে সুশীলরা অশ্রুপাত করে আর আঃলীগ আমলে ঘটা এই কান্ডে রাজনীতিবিদদের সাথে ইসলামপন্থীরা অশ্রুপাত করছে।

    আবারো বলি, এই ধর্ষন যেমন রাজনৈতিক তেমনি এই অশ্রুপাতও রাজনৈতিক। সেজন্যই উভয়টা সমান অপরাধ।

    ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এদেশের রাজনীতিতে বরাবরই ব্যতিক্রম। এরা কখনোই জোয়ারে ভাসে না, বাজারী আবেগ দেখায় না। সেজন্য প্রচলিত বাজারী রাজনৈতিক কৌশল ও মাপকাঠিতে এদের কার্যক্রম অনেক সময়ই “হিরো আলম” এর থেকেও অপরিনত দেখায়।

    ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ যেমন রাজনৈতিক ধর্ষন করে না তেমনি ধর্ষন নিয়ে রাজনীতিও করে না। কোন ধর্ষনকান্ড থেকে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার ধান্ধা কখনোই ইসলামী আন্দোলন করে না।

    বরং কোন ধর্ষনকান্ডে ইসলামী আন্দোলনের প্রধান বিবেচ্য থাকে ধর্ষিতার সামাজিক-পারিবারিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। বাংলাদেশের বাস্তবতা যারা জানেন তারা এটাও নিশ্চই জানেন, ধর্ষনের ঘটনা যত বেশী মানুষ জানবে আক্রান্তের সামাজিক-পারিবারিক নিরাপত্তা তত বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেজন্য কোন ধর্ষিতার পাশে ইসলামী আন্দোলন দাড়ালো কিনা সেটা কখনোই জানান দেয়া হয় না। দ্বিতীয় যে বিবেচ্য থাকে তাহলো, ধর্ষকের বিচার। সেজন্য আইনী সহায়তা দেয়া, ধর্ষককে সামাজিকভাবে বয়কট করার কাজ ইসলামী আন্দোলন করে।

    আর সমাজে ধর্ষনপ্রবনতা বন্ধ করার প্রচেষ্টা ইসলামী আন্দোলনের সার্বক্ষণিক কাজ। ওয়াজ-নছিহত, ধর্ষনের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলা, ধর্ষককে সামাজিকভাবে বয়কট করা, ধর্ষনপ্রবন রাজনীতিকে পরাজিত করার প্রচেষ্টা এবং যুবকদের চরিত্রগঠন ইত্যাদিকাজ আমাদের মৌলিক কাজের অংশ।

    হ্যাঁ! আপনার কাছে যদি মনে হয় যে, কোন ধর্ষনের পরে ধর্ষিতার পাশে গিয়ে ছবি তোলা, মিডিয়ায় নিউজ আনা, দেখিয়ে অর্থ সাহায্য দেয়া, ধর্ষন নিয়ে গলাফাটিয়ে বক্তব্য দেয়া, ধর্ষনের বিরুদ্ধে প্রেসক্লাবে মানববন্ধন বা মিছিল করা, ফেসবুকে ইভেন্ট খোলা ইত্যাদিই ধর্ষন পরবর্তী কোন রাজনৈতিক দলের কাজ হওয়া উচিৎ এবং এগুলোই যদি হয় “গনমানুষের সংগঠন” হয়ে ওঠার নির্দেশক তাহলে সেই অর্থে আমরা গনমানুষের সংগঠন না।

    এই অর্থে হিরো আলম, সুলতানা কামাল, খুশী কবির মহোদয়গন অনেক বেশী “গনমানুষের সংগঠন”।

    আর ধর্ষিতার সামাজিক-পারিবারিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ধর্ষকের বিচার নিশ্চিত করা, সমাজে ধর্ষনপ্রবনতা রোধকরা এবং ধর্ষনের রাজনীতির অবসানে সংগ্রাম করাকে যদি আপনি বিবেচনায় নেন তাহলে দৃঢ়তার সাথে বলি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এই কাজগুলো করে।

    প্রশ্ন হতে পারে, এইমুল কাজের সাথে ঐসব বাজারী ও সস্তাকাজগুলোও করা যায় না?

    না! যায় না। প্রথম কারণ হলো, ঐসব বাজারী কাজ ধর্ষিতার ক্ষতি করে। দ্বিতীয় কারণ হলো, ইসলামী আন্দোলন সস্তা বাজার কখনোই ধরতে চায় না।

    “ওমা আলাইনা ইল্লাল বালাগ”

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম