• শিরোনাম


    দেশ বিদেশের কবিতা -এস এম শাহনূর

    | ২৩ মার্চ ২০২২ | ৫:৫৯ অপরাহ্ণ

    দেশ বিদেশের কবিতা -এস এম শাহনূর

    আজব শহর ঢাকা

    রাস্তার মোড়ে মোড়ে শপিংমল ব্যস্ততম পথচারীদের হাট,
    শব্দ দূষণে অসুস্থ নগরী গুলিস্তান থেকে সদর ঘাট।
    পা শিরশির করা পড়মান অট্রালিকায় রুগ্ন পুরাতন ঢাকা
    মাঝে মধ্যে স্বস্তি দেয় পুষ্প উদ্যান, উড়াল সেতুর পাখা।
    চারশত বছরের মহাকাব্যে শুনি প্রাচীন নগরীর ইতিহাস
    ক্যাসিনো,তারকা হোটেল নাগরিক জীবনে নিদারুণ উপহাস।
    ট্যানারি আর বুড়িগঙ্গার কালো জলের বিদঘুটে গন্ধ
    কেউ কারো নয় সচেতন নাগরিক সমাজ বড়ই অন্ধ।
    রাজপথ থেকে ফুটপাত সর্বত্র হাইজ্যাকার টাউট বাটপারদের আনাগোনা
    লাল ফিতার দৌরাত্ম্য আর আদম বেপারীর স্বপ্ন বুনা।
    দিন শেষে ভবঘুরে মানুষ ফুটপাত জুড়ে পাতে সংসার
    অধুনাদের দেখা মেলে রমনা,হাতির ঝিল,ধানমন্ডি লেক পাড়।
    বায়োগ্রাফী হাতে গ্রাম্য মেধাবীরা আসে চাকুরির খোঁজে
    জুতা ছিড়ে প্যান্ট ফাটে ময়লা জমে কলারের ভাজে।
    এবড়ো থেবড়ো রাস্তায় রং চটা পাবলিক পরিবহণ-সর্বাধুনিক ফ্যাশনের গাড়ী
    রেল পথের দুধারে বস্তি,অন্যত্র চোঁখ ধাঁধানো প্রাসাদ বাড়ী।
    মিটিমিটি জ্বলে গ্যাসের চুলা,ওয়াসার পানিতে গন্ধ
    বাপ দাদার ভিটা বেদখল হয় তবু মুখ বন্ধ।
    কখনো এটি পৃথিবীর এক নম্বর বসবাস অনুপযোগী শহর,
    আবার বছর জুড়ে ঢোল-সানাই উৎসবে মাতোয়ারা বর।
    কেউ বলে এটি মসজিদের শহর, জাদুঘরের নগরী
    রঙিন পোষ্টার-ব্যানার, সাইন বোর্ডে সাজোয়া অপ্সরী।
    বাড়ীওয়ালাদের হাকডাক,রাতে মশা দিনে মাছি
    নিঃশব্দ ক্রন্দন ঢাকার ব্যাচেলর জীবন সত্যিই মিছামিছি।
    তথাপিও ইতিহাস ও ঐতিহ্য পিছু ডাকে জাহাঙ্গীরনগর
    বেনারশী আর মসলিনের মোহে ছুটে আসতো কত সওদাগর!
    আহসান মঞ্জিল, লাল বাগ কিল্লা, ঢাকেশ্বরী মন্দির
    আর্মেনীয়ান গীর্জা, তারা মসজিদ,সমাধি পরী বিবির।
    বাহান্ন উনসত্তর একাত্তর বাঙালীর চূড়ান্ত অর্জন স্বাধীনতা
    রক্তের মহাসমুদ্রে এখানেই প্রথম উড়েছিল লাল সবুজের পতাকা।
    প্রতিদিন হাজারো মানুষ ছুটে আসে ঘুরাতে ভাগ্যের চাকা।
    এখানে জীবন অন্যরকম; ঢাকার তুলনা শুধুই ঢাকা।



    ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮।
    বিজয়পথ, ঢাকা।

     

    চিরকিশোরের বিজয়

    শৈশবে বিজয় দিবস মানে বড়দের হাত ধরে অনুষ্ঠান দেখা
    দেশাত্মবোধক গান,আবৃত্তি,ঝাঁঝালো বক্তৃতা শুনে অবাক হয়ে থাকা।
    শীতের সকালে স্নান শেষে কত ত্বরাকরে স্কুলে যাওয়া যায়
    কী যে এক শিহরিত বুকে ছুটে গেছি,চললাম পিছে তোরা আয়।
    কৈশোরে বিজয় দিবস মানে কাইতলা যঁজ্ঞেশ্বর উচ্চ বিদ্যালয়ে রাতজাগা
    শাসন বকুনি খেয়ে শাড়ি সংগ্রহ,রাতভর মঞ্চ সাজানো শেষে চিড়া মিঠাই ভাগা।

    আমাদের সময় ছিল সাইড পাকা টিন শেড বিশাল এক হলরুম
    সিক্স সেভেন এইটের ক্লাসে বৃষ্টি এলে পড়ত পানি,শব্দ হত রূম ঝুম।
    জনাব,জসীমউদ্দিন,সাইদুল হক,সহিদুর রহমান, চঁন্দন কুমার;
    জামান স্যার-শিক্ষা, সংস্কৃতি ও খেলার মাঠে আদর্শ ছিল সবার।

    মুজিবুর ভাই,মোহাম্মদ আলী,সুজন,মাছুমা,পান্না আপা আবৃত্তি করতো বেশ
    সহোদর শাহাবুদ্দিন,আসমা ছাড়াও মোস্তাক-জুলির সুরের আবেশ।
    অগ্রজ আজহার আলী,সৈয়দ আলাউদ্দীন,সুকার্নো,আবু সায়্যিদ,সঞ্জয় দা,সায়েদুর রহমান
    সুন্দর সতেজ কণ্ঠে বক্তব্য রাখতেন থাকত মুক্তিযুদ্ধের নথিপ্রমাণ।

    বিজয় দিবসে সংগীতানুষ্ঠানে কখনো দলীয় সংগীতে মিলিয়েছি ঠোঁট
    কখনো উপস্থাপনা,কখনো স্বরচিত কবিতাও করেছি পাঠ।

    মাইকে যখন ঘোষণা হত-অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই অনুষ্ঠান শুরু হবে
    কী যে এক ভাললাগা দোলা দিতো আলোড়িত সবুজ পল্লবে।

    আজ বিজয় দিবসে সেই নির্মল আনন্দ আছে কিনা জানিনা!
    প্রগতির মিছে প্রতিযোগিতায় ডুবে তার খবর আর রাখিনা।
    যৌবনের শেষভাগে এসেও জীবন বীণায় বাজে সেই সুর
    আমি সারাটি জীবন থাকতে চাই স্কুল জীবনের সেই চিরকিশোর।

    বিজয় পথ, বারিধারা।
    ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯ইং
    রাত ১১:৪৫ মিনিট।

    সাগর কন্যা সাইপ্রাস

    বিহারী সাগর কন্যা সাইপ্রাস অপরূপ ;
    হেরী স্বপ্নীল ইউরোপ।
    চৌঁদিকে নীল জলরাশি বিধৌত ভারী মজার দেশ,
    শিক্ষা সংস্কৃতির চাষাবাদ নজর কাড়ে বেশ।
    অর্ধেক পাহাড় তার অর্ধেক সমতল ভূমি
    পর্যটন সমৃদ্ধ, গ্রীষ্ম আর শীত মৌসুমি।
    সূর্যস্নানে বিবসন-বসনাদের ভীড় সাগর সৈকতে;
    কর্মে মুখরিত মানুষের ঢল রাজপথে।
    প্রতিটি বিপণীতে, রাস্তায় হাসি মুখের ফোয়ারা;
    হাসি মুখে প্রাণবিমোহন আনন্দধারা।
    ছবির মত ভিন্ন পারিবারিক মতাদর্শে গড়া বাড়ী,
    ফুল-ফলের বাগানে শোভিত আঙ্গিনা,সবারই গাড়ী।
    বহু উন্নত তাদের নাগরিক জীবন মান,
    মন মননে জাগ্রত তাদের আত্মসম্মান।
    পরিচয় পর্বে আপনাকে জানাবে মোবারকবাদ,
    বিদায় কালে ভুল হবে না দিতে ধন্যবাদ।

    ২২ আগস্ট ২০১৫ ইং।
    *At Hazar,Limasool in Cyprus.

     

    মহা কাব্যিক তুরস্ক

    এশিয়ার তিলোওমা নগরী ইস্তাম্বুল আজও গৌরবিণী,
    একদা পৃথিবী শাসনকারী বাইজ্যানটাইন অতপরঃঅটোম্যান সাম্রাজ্যের রাজধানী।

    ইস্তাম্বুলের বুক চিরে বয়ে চলা ইউরেশিয়ার মহাসংগম স্রোতম্বিনী বসফরাস প্রনালী ;
    তাইতো দুটো মহাদেশের একটি শহর উর্বশী ইস্তাম্বুলকে বলি।

    নিত্যদিনের সূর্যের আলোকে ঝিকমিক করা শহর
    এ যেন শিল্পীর তুলিতে অংকিত কোন চিত্র শিল্প;
    শোভিত বৃক্ষরাজি,সাজানো-গোছানো পরিকল্পিত দালান-কোঠা-বাড়িঘর।

    দেখিবে ইসলামী সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যের মনকাড়া ছবি,
    এখানে ঘুমিয়ে অাছে অাবু আইয়ূব আনসারী(রাঃ) আরো বহু সাহাবী।

    পৌরাণিক ও আধুনিক রুচির বিচিত্র সব পন্যের সমাহার,
    এশিয়ার সুপ্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী “গ্রান্ড বাজার”।

    কী নেই এখানে? পরিশীলিত পোষাক,হাতের চুড়ি, খোপার কাটা,লাল গালিচা ;
    পরোপকার, বিনয়,সৌজন্যবোধ, ভদ্রতা, ফুল বাগিচা।

    হাজিয়া সোফিয়া,সুলতান আহমদ স্কয়ার বা হিপোড্রাম,
    অপরূপ স্থাপত্য শৈলী, সুপ্রাচীন ঐতিহ্যের নিদর্শন নয়নাভিরাম।

    বিশ্ব মানচিত্রে চতুর্ভুজাকৃতি,রাজধানী অাংকারা;
    জাতির জনক মোস্তফা কামাল পাশা,মুদ্রার নাম লিরা।

    কামাল আতারতুর্ক আধুনিক তুরস্কের জনক
    তুর্কীদের মনে বিরাজিত এক মহা নায়ক।

    জাতীয় ঐতিহ্যের অংশ হুক্কা-শর্মা-কাবাব;
    আধুনিকতার নামে বাদ পড়েছে নারীর বোরকা-হিজাব-নেকাব।

    কোথা সেই অপবাদ? ইউরোপের রুগ্ন মানব!
    শিল্প সাহিত্য সামরিক বিচারে সে আজ উন্নত দানব।

    ইজমির(প্রদেশ)ইফেসাসে দেখবে প্রাচীন বিস্ময়ের অার্টেমিসের মন্দির,
    নীল মসজিদে নামাজ,আসহাবে কাহাফের গুহা কতই না শান্তির।

    টাইগ্রিসের’দশ চোখা সেতু’তে দাঁড়িয়ে দেখুন দিয়ারবাকির দূর্গ;
    পাখী-ফুল-ফল-ফসলের রাজ্য ‘হেভসেল গার্ডেন’আহা! কি অপূর্ব।

    মন ভরে হেরিনু পাহাড়,ফসলের মাঠ,মসজিদের নান্দনিক শিল্পকর্ম;
    পনের আনা লোক মুসলিম, ইসলামই প্রধান ধর্ম।

    রমজানে ড্রাম-সংগীতের সুরে ডাকে(ঘুম থেকে জেগে উঠো)ইউয়ানসানা,ইউয়ানাসানা;
    সাহরী খাওয়ার সময় হয়েছে শুরু কর এবার খানা।

    বছর জুড়ে ফুটবল তুর্কীদের সবচে জনপ্রিয় খেলা,
    ইফতারীর সময় হলে সশব্দে ফাটানো হয় কামানের গোলা।

    ইফতারীতে থাকে নানা স্বাদের কর্ন ক্যান্ডি রোষ্ট চেসনাট চা মিষ্টি,
    বাহারী ফলাদি, বিখ্যাত ‘রমজান পাইড রুটি’।

    মাকামে দানিয়েল (আ.),’হাডসন রিভার ফল’চোখে করে খেলা;
    বন্দর নগরী মার্সিনের অলি-গলিতে কেটেছে কত বেলা।

    জীবন খাতায় ভরে নিয়েছি আজ স্মৃতি রাশি রাশি
    মনে পড়ে আঙুর বাগিচায় হিজাব পরিহিত কৃষাণি মেয়ের হাসি।

    [তৃতীয় বারের মত তুরস্কের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থান ভ্রমন শেষে একটি কবিতা লিখার তাগিদ অনুভব করি।তাই তুরস্কের সুলতান আহমদ স্কয়ারের মনোরম এককোনে বসে লিখে ফেললাম-আমার কবি মনের সকল অনুভুতির বহিঃপ্রকাশ “মহা কাব্যিক তুরস্ক”।]

    ৷১০ মার্চ ২০১৬ ইংরেজী।
    সুলতান আহমদ স্কয়ার,ইস্তাম্বুল,তুরস্ক।

     

    অবাক শহর-সবাক দেশ

    (Beirut is called the paris of Lebanon.)
    বর্তমান পৃথিবীর সুন্দরতম সেরা যৌবনা শহর,
    এখানে চির উদাসী বসন্ত বিরাজিত সারাটি বছর।
    হাজারো পর্যটকের ভীড়ে মুখরিত অবাক নগরী;
    চোঁখ ধাঁধানো রেস্তোরাঁ শপিংমল অপ্সরী নারী।
    আমিতো পড়েছি লেবাননের রাজধানী বৈরূতের প্রেমে,
    সময় পেলেই চষে বেড়াই অলিগলি,এমনকি নিশীথে ঘুমে।

    রাস্তায় পিপীলিকার মত ছুটে চলে গাড়ি মেনে ট্রাফিক সিগন্যাল,
    যদি জ্বলে উঠে লাল বাতি প্রয়োজনে থেমে থাকবে চিরকাল।
    ডিভাইডারে ফোটে থাকা নানান রঙের ফুল দুচোঁখ ভরে দেখবে
    মোজাইক করা প্রশস্ত পরিচ্ছন্ন ফুটপাত পথিকের নজর কাড়বে।
    পৌরুষ্যত্বে মোড়ানো নগরী,শিল্পী মননে বুনা;
    সোনায় সোহাগা গড়েছে নারীর আনাগোনা।

    ফিনিশিয়দের আদি আবাস ভূমি আজকের আধুনিক লেবানন,
    আসিরীয় পারসিয়ান গ্রিক রোমান
    কখনও আরব ক্রুসেডার উসমানী ফ্রান্স বৃটেন করেছে শাসন।
    এশিয়ার বাস্কেটবলের রাজাদের বাস,খেলে ফুটবল-রাগবী;
    আট বছরের শিক্ষা বাধ্যতামূলক, রাষ্ট্রীয় ভাষা আরবী।
    এখানে প্রচলিত পৃথিবীর আশ্চর্যতম সংসদীয় গণতন্ত্র, অহিংস সংবিধান;
    প্রেসিডেন্ট একজন ম্যারোনেইট খ্রিষ্টান,প্রধান মন্ত্রী সুন্নি, স্পীকার শিয়া মুসলমান।

    বরফের রাজ্য ফারাইয়া,দুনিয়ার স্বর্গ জয়তাগ্রত,বেরক;
    দেখবে জয়তুনে বে,লেডী অব লেবান হাজারো পর্যটক।
    দ্বাদশ শতাব্দীর বিবলুস ক্যাসেল,বেকা ভেলী-বেলবেক;
    সিডন,প্রাকৃতিক জলধারা তানারোয়া সুদর্শন আরেক।
    পাহাড়ময় লেবানন-আরব বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর যে দেশ,
    পূর্ব ও উওরে সিরিয়া,দক্ষিণে ইসরাইল,পশ্চিমে ভূমধ্যসাগরের খোলাকেশ।
    যদি পৃথিবী ভ্রমন করতে হয় মরনের অাগে
    স্বপ্নপুরী লেবানন যেন থাকে তব তার ভাগে।

    [কবিতাটির প্রথম ৬ চরণ ১৮মার্চ ১৬ইং রাজধানীর Beirut Souks এর COSMO CITYএর সামনে বসে লেখা। এবং বাকি চরণ গুলো ৬ মে ১৬ইং Down Town এর ZAITUNAY BAY এর চমৎকার পরিবেশে বসে লেখা।
    Location: Fairy Square.Capital Beirut,Lebanon.]

     

    স্বদেশের ডাক

    আমি এক চোঁখে দেখি পুরো পৃথিবী
    অন্য চোঁখে প্রিয় বাংলাদেশের ছবি।
    দাঁড়িপাল্লার এক পাশে দুনিয়াটা রাখি
    অন্য পাশে স্বদেশ আর পরাণের পাখি।
    সূর্যোদয়ের দেশ বলে তোমরা যাকে জানো,
    হেটেছি অবনীর শেষ বলে তোমরা যাকে মানো।

    হোয়াংহুর সাথে দেখা হয়েছে,
    পদ্মা-যমুনার সাথে নেই জুড়ি;
    দেখেছি ভূতের রাজ্য-ট্রায়াংগেল রহস্যপুরী।
    নীল জলরাশির স্বচ্ছতা-কান্না দেখেছি নিরবধি,
    ভূ-মধ্যসাগরে স্বাপ্নিক মানুষের সলিল সমাধি।
    বিষাক্ত জেলিফিশ-হাঙর-কুমির-ডলফিনের দাড়ি
    চেনা হয়েছে মৎস্য কত!নীল তিমির ঘর-বাড়ি।
    নীল নদ,ব্যস্ততম সুয়েজ খাল,মৃত সাগরের রূপ
    পাড়ি দিয়েছি জিব্রাল্টার,দেখেছি বসফরাসের অপরূপ।

    সাত সাগরের জলের সাথে হলো চেনাজানা,
    সত্য সুন্দরের সাথে সতত মিশে মেলেছি ডানা।
    বাম পকেটে জাতিসংঘ শান্তি পদক,
    বুক পকেটে প্রিয়ার ছবি;
    অনেক হলো এক জীবনে আর কত চাই পদবী?
    ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে যাই,দেশের ছেলে দেশে;
    মোহ ছাড়া কী আছে বল এ দূর প্রবাসে?
    সুখ হলো কষ্টের ছায়া আমি বুঝি তাই
    তবু কেন সুখের পিছু জীবনটা কাটাই?
    স্বদেশ আমায় ডাকছে,”আয়রে খোকা আয়”
    এমন সুখের রাজ্য ছেড়ে আর নয় ভিন দেশেতে ভাই।

    ৬ই জুন ২০১৬ ইংরেজি।
    The mission to seafarers WiFi zone.
    Limasool, Cyprus.
    On the bank of Mediterranean sea.

     

    বিশ্ববাঙালি

    কত নগর বন্দর সাগর মরুভূমি উপত্যকা পদতলে শেষ,
    জুড়ি মেলা ভার এমন ঠিকানা নাম বাংলাদেশ।
    আহা!এমন মধুর ভাষা,রীতি-নীতি কোথায় গেলে পাই?
    সুখে-দুঃখে বিপদে আপদে বাঙালী একে অপরের ভাই।

    দুনিয়া জুড়িয়া কত বর্ণের কত জাতি অাছে,
    শক্তি সাহস মেধা সততায় সবই বাঙালির পিছে।
    “অলস জাতি,কাঁচা লংকায় একথাঁলা ভাত”
    আমরা এখন কর্মঠ মানুষ নেই সেই অপবাদ।

    বাঙালি আজ ঘরে বসে নেই শুধু লাঙল জোয়ালে চষে;
    যুগের সাথে পাল্লা দিয়ে সুনাম আজ প্রবাসে।
    দেশ বিদেশে জ্যামিতিকহারে বেড়েছে বাঙালীর দাম;
    বহু সভ্য জাতির কাছে তাই বুক ফুলিয়ে বলি বাংলাদেশের নাম।

    একটি সুন্দর পৃথিবী গড়তে থাকবে বাঙালীর অবদান,
    নিজ যোগ্যতায় ছিনিয়ে অানবো আমাদের সম্মান।
    শক্ত করে ধরতে হবে প্রগতির চাকা খানি,
    কোন্ কাজেতে মানহানিকর আমরা সবাই জানি।

    হও মুসলিম,হিন্দু,বৌদ্ধ কিংবা খ্রিষ্টান;
    হাতে হাত রাখ যদি কোথা হয় বাঙালীর অপমান।
    সবার কন্ঠে বাজুক ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি,’
    সারাক্ষণ মুখে লেগে থাকুক স্বর্গীয় সুখের হাসি।

    পাখী ডাকা,ফুল ফোটা,রূপের রাণীর আবেশ;
    ভালোবাসার সাগর ব-দ্বীপ সোনার বাংলাদেশ।

    ৩রা আগষ্ট ২০১৫ ইংরেজি।
    ভূ-মধ্যসাগরের ইসরাইল ও লেবানন সীমান্তের ‘সেইফ জোন’ এ অবকাশকালীন সময়ে রচিত।

    তিলোত্তমা সেন্টমার্টিন

    বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে নাফ নদীর মোহনায়
    একদল আরব্য বণিক একচিলতে ভূমি খুঁজে পায়।
    নারিকেলের আধিক্যে তার নাম দিলো জিঞ্জিরা
    তার দক্ষিণে আছে দ্বীপ নাম হলো তার ছেঁড়া।
    ১৯০০ খ্রিষ্টাব্দে হেথায় আসলো ব্রিটিশ ভূ জরিপ দল
    ব্রিটিশ ভারতের অংশ হিসেবে করলো জরিপ সাগর-সমতল।
    প্রকৃতি অতি সুন্দর,দেখলো সাগরের পানি অমলিন
    তাই খ্রিষ্টান সাধুর নামানুসারে নাম দিলো সেন্টমার্টিন।
    আরাকানের তিন পরিবার বঙ্গ দেশের দশ প্রথম বসতি
    জীবিকার তরে মাছ শিকার ভিন্ন ছিলো সামান্য রায়তি।
    এক দিন দুূদিন করে আজ বয়স হলো দুশো বছর
    নিজের গুণে লোকের কাছে বেড়েছে তার কদর।
    ৮বর্গ কিঃমিঃ আয়তনে ৮হাজার লোকের বসবাস
    সংখ্যাধিক্যের পেশা মৎস্য শিকার আর ধান চাষ।
    ঝাউ বন নারিকেল পাম গাছে কত পাখি ডাকে,
    জোছনা রাতে চাঁদ হাসে কেয়া পাতার ফাকে।
    সৈকতে অযুত নিযুত কাছিম ছানা,সবুজ শৈবাল
    দেখবে তুমি দুচোঁখ ভরে হরেক রকম প্রবাল।
    মানুষের মন মাছের মত,আপ্যায়নের নেইকো অভাব;
    পরম সোহাগে নিজ হাতে পেড়ে দেবে গাছের কচি ডাব।
    প্রবাল প্রাচীর,নীলাকাশ, নীল সাগরের ঢেউ
    বালিয়াড়ির সেন্টমার্টিন ভুলিবেনা কেউ।
    সৌন্দর্য দ্বীপ সেন্টমার্টিন দেখা হলো বেশ,
    রূপের যে তার নেইকো শেষ
    এ যেন আরেক তিলোত্তমা বাংলাদেশ।

    ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ইং
    পশ্চিম পাড়া,সেন্টমার্টিন।

     

    সুন্দরবনে সুন্দরী নেই

    আজ দেখেছ নীলকমল কাল পাবে দুবলার চর;
    খানিক বাদে কোকিলমনি কিংবা নলিয়ান,
    যেথায় পরম শ্রান্তি দিবে গোলপাতার ঘর।
    উৎসুক পর্যটকের ভিড়ে পেতেও পার করমজলে
    দু’চোঁখ ভরা স্বপ্ন নিয়ে ভাসি অথৈ সাগর জলে।
    মাঝরাতে কর্ণ কুহরে বাজে জলদস্যুর কোকিল শিস
    মজা করে খেলায় মাতে মাথার উপর ফ্লায়িং ফিশ।
    চোঁখের পরে চোঁখ তুলে চায় অবুঝ মনের হরিণ পাল
    কুমির দেখ আসছে নিয়ে গরীব জেলের সুতোর জাল।
    বাঘ মামার সাথে হয়না দেখা এটাই বড় ভাগ্য
    বন্য বাঘের আহার হতে আরও হওয়া চাই যোগ্য!
    সুন্দরবনে সুন্দরী নেই,আছে গোলপাতা আর ঝাউবন
    তবু বিচিত্র সব পাখপাখালি ভরিয়ে দিবে শূন্য মন।
    এত বেশী ঘুরাঘুরি আছে নিশ্চিত তার কারণ
    সব কারণের খবর বলতে আছে কঠোর বারণ।

    হিরণ পয়েন্ট,
    সুন্দরবন।
    ২৬ জানুয়ারী ২০১৯ইং।

     

    প্রলয়ঙ্কারী বুলবুল

    ছুটি বাতিল! বঙ্গোপসাগর থেকে করুণ সুরে প্রলয়ের গান গাহিছে বুলবুল
    যেতে দাও হে প্রিয়া, তুলে রাখ যতনে তোমার আদুরে গড়া প্রনয়ী ফুল।
    ১০ নম্বর মহা বিপদ সংকেত শুনে অধিকাংশ
    মানুষ যখন ফ্যামিলির কাছে ছুটে
    কী এক মহা সুখে,আমি তখন চলছি কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে প্রিয়জনের ভালবাসা টুটে।
    আমাদের একমাত্র তনয়া প্রিন্সেস সামীহা নূর জারা’র
    হাসি মাখা,মায়া ভরা মুখ
    অকারণে বাবা,আব্বা ডাক,মিস করবো তোমার সান্নিধ্য,উষ্ণতা ও সুখ।
    শিশুকালে মা,কৈশোরে কিশোরী বান্ধবী,যৌবনে ভাবনার সবটুকু তুমি
    পেশাগত কারণে,সময়ের প্রয়োজনে সবার চেয়ে দামী আজ আমার জন্মভূমি।

    ১২ নভেম্বর ২০১৯ইং।
    পদ্মা,রূপসার তীর।

     

    সুবর্ণজয়ন্তীর শপথ

    স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী-বিজয়ের মাহেন্দ্রক্ষণে
    বিজয়ের মহানায়কের স্বপ্নবাজ সাহসিকা কন্যা
    ফের শোনালেন জাগরণের গান হিমেল সমীরণে।
    ৫০ বছর আগে যে স্বপ্ন জাতির জনকের চোঁখে
    বিশ্ব আজ অবাক চোঁখে সে বাংলার ছবি দেখে।

    জোনাকি পোকার আলোয় পথচলা জনপদে
    শিশু আঁকে আলোকিত সোনার বাংলার ছবি
    নিয়নের ঝলকানী,কল কারখা শিল্প পদেপদে।
    পদ্মা মেঘনা যমুনার দুকূলে ভালোবাসার বন্ধন
    জাতিসত্তার চেতনা বাঙালিকে করেছে আপন।

    বঙ্গবন্ধুর আহবানে রেসকোর্স ময়দানে ৭ই মার্চ ‘৭১
    শোষণ লাঞ্জনার প্রতিবাদে যে হাতে গর্জে ওঠে লাঠি
    পাঁচ দশকের ব্যবধানে লাল সবুজ পতাকার সম্মানে
    উন্নত সমৃদ্ধ বাংলার প্রয়োজনে তোলেছে শপথ মুঠি।

    [বিজয়ের ৫০ বছর পূর্তি, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে ১৬ ডিসেম্বর ২০২১ বিকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক দেশব্যাপী শপথ পাঠ স্মরণে]

    ১৭ ডিসেম্বর ২০২১ ইং। পায়রা বন্দর।

    Facebook Comments Box

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    মগের মুল্লুক (কবিতা)

    ১১ আগস্ট ২০১৮

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম