• শিরোনাম


    দেশ ও জাতি রক্ষায় ক্যাসিনো বন্ধ করুন: মাও. নিজামপুরী

    রিপোর্ট: হাবিব আনোয়ার, চট্টগ্রাম থেকে | ১১ অক্টোবর ২০১৯ | ৯:১৪ অপরাহ্ণ

    দেশ ও জাতি রক্ষায় ক্যাসিনো বন্ধ করুন:  মাও. নিজামপুরী

    মুসলিম উম্মাহর ঐতিহ্য ও নীতি বিবর্জিত বিজাতীয় সংস্কৃতি আধুনিক সভ্যতার বিষফোড়া ক্যাসিনো ব্যবসা ইসলাম, ও মুসলিম সভ্যতার পরিপন্থী একটি গর্হিত কাজ। বর্তমান তরুণ ও যুবসমাজকে চারিত্রিক অবক্ষয় ও ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে পৌঁছে দিতেই ক্যাসিনো নামক এই বিষফল আমাদানি করা হয়েছে আমাদের দেশে।

    আজ ১১অক্টোবর (শুক্রবার ) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক ও হাটহাজারী মাদরাসার মুহাদ্দিস, বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক মাও. আশরাফ আলী নিজামপুরী দেশ ও জাতিকে রক্ষার স্বার্থে ক্যাসিনো ব্যবসাকে নিষিদ্ধের দাবি জানান।



    মাও. নিজামপুরী বলেন, ক্যাসিনো শব্দের অর্থ নাচ বা জুয়াঘর। যাকে আমাদের এলিট শ্রেণী ক্যাসিনো বলেই চেনে আর এর সাথে জড়িত অধিকাংশ এলিট শ্রেণীর। আমাদের দেশে ক্রীড়া সংগঠন, মুক্তিযোদ্ধা ক্রীড়া সংসদ ইত্যাদি নামের অন্তরালে জমজমাট ভাবে চলছে ক্যাসিনো ব্যবসা। সংবাদ মাধ্যমের ভাষ্যমতে যার মূলে রয়েছে ক্ষমতাসীন দলের কিছু প্রভাবশালী নেতা। সেগুনবাগিচা, মতিঝিল, কলাবাগান, তেজগাঁও এবং এলিফ্যান্ট রোডসহ বিভিন্ন স্থানে জমজমাট হয়ে উঠেছে ক্যাসিনো। গণমাধ্যম বলছে ঢাকায় অন্তত ৬০ টি ক্যাসিনো ক্লাব আছে। সম্প্রতি র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান র্যাব এর অভিযানে এ সকল ক্লাব থেকে কোটি কোটি নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, মদ ও জুয়া খেলার সরঞ্জাম উদ্ধারের খবর সবারই জানা।

    হেফাজত নেতা আরো বলেন, মদ্য পান ও জুয়া খেলাকে ইসলামে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন, ‘হে মুমিন, এই যে মদ, জুয়া, প্রতিমা এবং ভাগ্য -নির্ধারক কাজসমূহ এসব শয়তানের অপবিত্র কার্য। অতএব এগুলো থেকে বেঁচে থাক। যাতে তোমরা কল্যাণপ্রাপ্ত হও।(সূরা মায়েদা:৯০)
    উল্লেখিত আয়াতে আল্লাহ তা’আলা মদ, জুয়াকে শয়তানের অপকর্মের সাথে তুলনা করেছেন। আর সামান্য সুস্থ বিবেক বুদ্ধিসম্পন্ন ব্যক্তি কখনো এগুলোর সাথে জড়িত হতে পারে না। ক্যাসিনো, মদ জুয়ার কারণে যুবসমাজ আজ ধ্বংসের পথে এবং এই যুবসমাজই আজ পরিবারে অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জুয়ার কারণে বহু সুখের সংসারে অশান্তি নেমে এসেছে।

    মাওলানা নিজামপুরী আরো বলেন, আজ আমাদের পারিবারিক কলহ, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় যত বিপর্যয় ও অপরাধ হচ্ছে এর প্রায় সবগুলোর পিছনেই রয়েছে এসবের হাত। এর সবই মানুষকে অপকর্ম ও পাপাচারে নিমগ্ন করে। মানবদেহ থেকে ছিনিয়ে নেয় সুস্থ ও পবিত্র সত্তা। আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন, ‘শয়তান তো চায়, মদ ও জুয়ার মাধ্যমে তোমাদের পরস্পরের মাঝে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সঞ্চারিত করে দিতে।(সুরা মায়েদা:৯১)
    একদিকে চারিত্রিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় অবক্ষয় অন্যদিকে দেশের মানুষের ঘামার্জিত টাকা বিদেশে পাচার করে দেশের অর্থনৈতিক ধ্বস নামিয়ে দিচ্ছে তাঁরা । এবং মদ জুয়ার আসর বসিয়ে দেশের যুব সমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। রাষ্ট্রীয় আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান থাকলেও যথাযথ প্রয়োগ না থাকার দরূন এগুলো ক্রমশ বেড়েই চলছে। এছাড়া হাদিসেও মদ-জুয়াকে হারাম সাব্যস্ত করা হয়েছে। হযরত আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর রা. থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদ পান ও জুয়া খেলা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন। অন্য হাদীসে আছে, নেশা সৃষ্টিকারী প্রতিটি বস্তুই হারাম।

    অপর হাদিসে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান, জুয়া ও লটারীতে অংশগ্রহণকারী, খোঁটাদানকারী এবং সর্বদা মদপানকারী জান্নাতে যাবে না।

    মাওলানা আশরাফ আলী নিজামপুরী বলেন, শুদ্ধি অভিযান চলাবস্থাতেই বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় প্রমাণ করে দেশের জনগণ আজ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। গুম খুনের রাজ্যে পরিণত হয়েছে এ দেশ।

    তিনি আরো বলেন, মানুষ কতটা পশুত্বে পরিণত হলে একজন নিরপরাধ ধার্মিক ও মেধাবী ছাত্রকে নির্মম ভাবে পিটিয়ে হত্যা করতে পারে। আবরার যদি বাস্তবেই দোষী হয়ে থাকে তাহলে তাকে আইনের হাতে তুলে না দিয়ে পিটিয়ে হত্যা প্রমাণ করে দেশে আইনের শাসন নেই। দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের পক্ষে কথা বলার কারণে আবরারকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বাকস্বাধীনতা বলতে আজ কিছুই নেই উল্লেখ করে অনতিবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আবরার হত্যার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান মাওলানা আশরাফ আলী নিজামপুরী।

    Facebook Comments Box

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম