• শিরোনাম


    দেখা হল শিল্পকলা একাডেমীর ক্যালিগ্রাফি প্রদর্শনী -সাজিদুল ইসলাম সাজিদ

    লেখক: সাজিদুল ইসলাম সাজিদ- স্টাফ রিপোর্টার | ২৩ অক্টোবর ২০১৯ | ১:৪১ পূর্বাহ্ণ

    দেখা হল শিল্পকলা একাডেমীর ক্যালিগ্রাফি প্রদর্শনী -সাজিদুল ইসলাম সাজিদ

    অক্ষর কেন্দ্রিক গড়ে ওঠা এক নান্দনিক শিল্পের নাম ক্যালিগ্রাফি। মূলত শিল্পী তার গভীর চিন্তাধারায় কোন বাক্যকে অক্ষরের নান্দনিক ছোঁয়া ও মেধা এবং প্রজ্ঞায় ফুটিয়ে তোলেন এই ক্যালিগ্রাফি শিল্প। আর রং তুলির মাধ্যমে সাজানো ও নতুনত্ব প্রদানের এক অনন্য মাধ্যম হল ক্যালিগ্রাফি পেইন্টিং। শিল্পকলায় এবারের আয়োজনটাও ছিলো মূলত ক্যালিগ্রাফি পেইন্টিংকে ঘিরে।

    বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর ক্যালিগ্রাফি প্রদর্শনীতে যোগ দিতে রংপুর থেকে বিকেলে রওনা দিলাম। বাস চলছে ঢাকার উদ্দেশ্যে । মনে তখন উত্তাল জল রঙয়ের খেলা। প্রদর্শনীতে আমারো “ আল্লাহ্‌ আমার রব, এই রবই আমার সব” সিরিজের একটা শিল্পকর্ম স্থান পেয়েছে । সেটা আগে জানতে না পারলেও পরে জেনে ভালো লেগেছে। সকাল নাগাদ ঢাকায় নেমেই প্রদর্শনীর উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। জাতীয় চিত্রশালার ৪নং গ্যালারিতে ক্যালিগ্রাফি প্রদর্শনীটির আয়োজন চলছিল।জাতীয় শিল্পকলা একাডেমীতে যখন ঢুকলাম তখন সকাল সাড়ে দশটা । গ্যালারীতে তখনো কেউ আসেনি। তাই ৩য় তলায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জীবনভিত্তিক পেইন্টিং আর্ট গ্যালারীতে ঢুকে পড়ি। পেইন্টিংয়ের মাধ্যমে জীবন ঘনিষ্ট প্রতিটি ছবি সেখানে তুলে ধরা হয়েছে। মন্ত্রমুগ্ধের মতো প্রতিটি শিল্পকর্ম দেখছিলাম আর ভাবছিলাম একজন প্রধানমন্ত্রীর জীবনও কতোটা সংগ্রাম মুখর । সত্যিকার অর্থেই তিনি যে সংগ্রাম মুখর বন্ধুর পথ মাড়িয়ে আজকের এই অবস্থানে এসেছেন ছবিগুলো যেনো তারই প্রমাণ দেয়। গ্যালারীতে এতো ছবি যেনো শেষ হয়েও শেষ হতে চায়না । প্রায় দেড় ঘন্টা ধরে প্রতিটি শিল্পকর্মের সৌন্দর্য অবলোকন শেষে মন্তব্য বই’তে প্রদর্শনী নিয়ে নিজের মন্তব্য ব্যক্ত করে মূল প্রদর্শনীর উদ্দেশ্যে রওনা হই।



    জাতীয় চিত্রশালার দ্বিতীয় তলা’র ৪নং গ্যালারী’টি কোরআনের আয়াতে যেনো জীবন্ত হয়ে উঠেছে। দেয়ালে টাঙ্গানো প্রতিটি শিল্পকর্মের অবয়ব চকচকে মেছেতে পড়ে ভিন্ন এক রঙয়ের প্রতিফলন সৃষ্টি করছিলো। গ্যালারীতে ঢুকতেই দেখা মিললো প্রদর্শনীটির সার্বিক ব্যবস্থাপনায় থাকা মাহবুব মুর্শিদ স্যারের যিনি কথা বলছিলেন আরেক ক্যালিগ্রাফার সাইফুল্লাহ সাফার সাথে। কুশল বিনিময় শেষে শিল্পকর্ম দেখতে মনোনিবেশ করি। ঢুকতেই সামনের দেয়াল জুড়ে বড় বড় তিনটি ক্যানভাসে ভাষা, স্বাধীনতা ও প্রেম বিষয়ক মাহাবুব স্যারের তিনটি শিল্পকর্ম চোখে পড়ে। অনিন্দ্য সুন্দর এই ক্যানভাসগুলো নিয়ে দর্শনার্থীদের মনে তখন কৌতুহল। শিল্পকর্মগুলোর পাশ ঘেঁসে দুজন বিদেশী দেখলাম ছবি তুলছেন। গ্যালারীতে দর্শক সমগম ক্রমাগত বাড়ছে। ডান দিক থেকে প্রদর্শনীর শুরুতে চোখে পড়ে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম নামে একটি ক্যালিগ্রাফি এরপরে বিতারিত শয়তানের আশ্র্য় বিষয়ক শিল্পকর্ম তারপর আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হইয়না নামে আরো একটি ক্যালিগ্রাফি। আসলে গ্যালারীতে ঢুকলে যারা কম-বিস্তর আরবি জানেন তারা মোটামুটি অবাকই হবেন খুব অল্প সময়ে আয়োজিত এই প্রদর্শনটির শিল্পকর্মের ডেকোরেশনের ব্যাপারে কতৃপক্ষ কতোটা সজাগ ছিলেন। প্রতিটি শিল্পকর্মের শৈল্পিক ছোঁয়া চুম্বুকের মতোই কাছে টানছিলো।

    বেলা তখন দুপুর । বাহিরে তখন মিষ্টি রোদ খেলা করছিলো। থেকে থেকে রোদের আলোক ছটা কাচের আস্তর পেরিয়ে উঁকি মারছিলো গ্যালারীতে যেনো তারাও দর্শক হতে চায়। আল-কোরআনের সত্যাশ্রয়ী বাক্য সত্যনেষী মানুষকে সবসময়ি কাছে টানে। আর তা যদি নান্দনিকতার ছোঁয়ায় ক্যানভাসে ফুটে ওঠে তাহলে তো আকর্ষণ বাড়বেই।

    দুপুর গড়িয়ে বিকেল। আয়োজক কমিটির ক’জন সদস্যর আহবানে তাদের আতিথিয়তায় শরীক হতে হল। ক্যালিগ্রাফি শিল্পী মাহামুদ, উসামা হক, সাইদুর, রাহিন, জামিল, শহিদুল, মোল্লা মোহাম্মদ হানীফ ভাইদের সাথে দেখা। তাদের কাজও প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে, সেই সাথে জানা গেলো তাদের কাজের বিভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা। বাংলা ও আরবি মিলে প্রদর্শনীতে প্রায় ৪০জন শিল্পীর অসাধারণ ১০০টি শিল্পকর্ম দর্শনার্থী ও শিল্প শুভাকাংগীদের মনে আশার সঞ্চার ঘটাচ্ছিল।

    সময় বাড়ার সাথে সাথে প্রদর্শনীতে দর্শক সমাগম বাড়ছে। এরই ফাঁকে প্রদর্শনীর আয়োজক মাহবুব স্যার বলছিলেন ক্যালিগ্রাফি নিয়ে ক্যালিগ্রাফি শিল্পের মানোন্নয়নে তার বিভিন্ন পরিকল্পনা ও স্বপ্নের কথা। ক্যালিগ্রাফির প্রতি দেশের মানুষের এতো যে ভালোবাসা লুকিয়ে আছে, তা গ্যালারীতে না আসলে বোঝা যেত না। সবচেয়ে বড় বিষয় হয় সত্যাশ্রয়ী ক্যালিগ্রাফি শিল্পে ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েরাও সমান তালে কাজ করে চলেছেন এবং দৃষ্টি নন্দনতার দিক থেকে যেনো তারাই সেরা।

    ক্যালিগ্রাফি শিল্প যেন ইসলামী শিল্পীদের মিল বন্ধনের অন্যতম এক সেতু। আল-কোরআনের আয়াতকে আশ্রয় করে শিল্পীদের এই যে মিলবন্ধন এ যেনো সৃষ্টিকর্তার অপার অনুগ্রহের দান। মনে পড়ে গেল গ্যালারির শুরুতে ক্যালিগ্রাফি শিল্পী সাইদুর ভাইয়ের প্রথম ক্যানভাসের আয়াতটির কথা ” হা যা মীন ফাদলি রাব্বী ” ইহা আমার রবের পক্ষ থেকে অনুগ্রহ । সত্যি সৃষ্টিকর্তার এই অনুগ্রহ আছে বলেই হয়তো বিশ্বের সব শিল্পী একি ছায়াতলে ঐক্যবদ্ধ থেকে সমাবেত হতে পেরেছে শুধুমাত্র ক্যালিগ্রাফির ভালোবাসায়।

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    মগের মুল্লুক (কবিতা)

    ১১ আগস্ট ২০১৮

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম