• শিরোনাম


    তাবলীগের বর্তমান হালতের উপর সাথী ভাইদের প্রতি এক সাথী ভাইয়ের দরদী চিঠি

    মাহমুদুল হাসান: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া ৷ | ০২ ডিসেম্বর ২০১৮ | ৪:৫৯ পূর্বাহ্ণ

    তাবলীগের বর্তমান হালতের উপর সাথী ভাইদের প্রতি এক সাথী ভাইয়ের দরদী চিঠি

    কিছু সাথী ভাইয়ের কথা শুনে ও মনোভাব উপলব্ধি করতে পেরে, দা’ওয়াত ও তাবলীগের সঙ্কটময় মুহূর্তে কিছু আক্ষেপ নিয়ে ভিতর থেকে হামদরদি উথলে উঠলো ৷ ইচ্ছে হলো সাথীদের উদ্দেশ্যে একটি স্পর্শকাতর বিষয়ে কিছু লেখি, যিন্দেগির এই মেহনতের রাস্তায় চলার জন্য প্রয়োজনীয় কিছু পাথেয়, আল্লাহর তাওফীকে তাদেরকে দান করি । আল্লাহর তাওফীক ছাড়া আমরা কেই বা কী করতে পারি!

    প্রিয় শুভাকাঙ্ক্ষী!! দাওয়াত ও তাবলীগের সাথী;
    আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ । আশা করি আল্লাহর রহমতে শারিরীকভাবে ভাল আছেন, মেহেরবান খোদার ফজল ও করমে ইস্তিকামাতের সাথে দ্বীনী কাজ আঞ্জাম দিয়ে যাচ্ছেন ।



    পর সমাচার, আহত হৃদয়ের অদৃশ্য ব্যথা, বলতে না চাওয়া কিছু কথা ৷

    এটা নির্দ্বিধায় বলা চলে আমরা আজ একটি কঠিন মুহূর্ত পার করছি, এর চেয়ে বড় হালত কি হতে পারে যে, দেশ-বিদেশে, জেলা-উপজেলায় বিভিন্ন স্থানে নিজেদের কুরবানী দ্বারা, রক্ত ও শ্রমে গড়া মার্কাজে, ময়দানে বাস্তবেই দ্বীনী ভাই/আলেমের রক্ত ঝরছে, মার্কাজের মেঝে বা ময়দানে আজ চোখের পানির পরিবর্তে ছোপ-ছোপ রক্ত দেখা যাচ্ছে। মৃদু কান্নার আওয়াজের বদলে, শোরগোল ও হৈ-হুল্লোর শোনা যাচ্ছে, ইকরামের স্থানে আজ প্রতিহিংসা গালিব হচ্ছে ৷ মিম্বরের ধ্বনি কেমন যেন বদলে গেছে, ঐক্যের বাণী আজ পরাজিত গ্লানি নিয়ে পিছু হঠছে, হক্বের আওয়াজকে আজ নির্বাসনে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে, ঐক্যের বাতিঘরটা আজ ফুলে-ফেঁপে ফেটে যাচ্ছে ৷ সহমর্মিতা ও সমবেদনা আজ অহমিকা ও পরনিন্দায় রূপান্তরিত হচ্ছে ৷ আহলে ইলমদের নিয়ে বাজে মন্তব্যে মার্কাজ আজ সরগরম হচ্ছে, তালিমের হালকায় বসে জানা আহলে-ইলমের প্রয়োজনীয়তার কথা হয় তো আজ দিল থেকে মুছেগেছে ৷ নয়তো কেউ কি নিজের ধ্বংস নিজে ডেকে আনতে পারে?

    আসলে সত্যিকারে আলেম হওয়া আর সামান্য কিছু বয়ান শুনে নিজকে আলেম মনে করা আলাদা জিনিস । খুব কষ্ট পাই যখন দেখি আহলে হক্ব আলেমদেরকে নিয়ে আবেগী সাথী ভাইয়েরা অপমানসূচক মন্তব্য করেন। তারা হয়তো এই কথা ভুলেই বসেছেন অন্যের মান-ইজ্জত রক্ষা করে কথা বলাও সুন্নাতের শিক্ষা ।

    এমন উদ্ভট পরিস্থিতে হৃদয় মাঝে বেদনার পাহাড় ভেঙ্গে ব্যথা অনুভূ়ত হচ্ছে, দুঃখ কষ্টে মনটা আজ ভড়কে গেছে, বোধহয় মানসিক অবসাদে হীনমন্যতায় ভুগছি।
    তবুও বলছি, শুনুন, যে যত বড় নবী তার উপর হালত ততো বড় এসেছে । যে যত বড় ওলী মসিবত তার উপর ততো বেশি গেছে। যে যত মকবুল তাকে ততো পরিক্ষা দিতে হয়েছে ।আজ আমাদেরও পরিক্ষার পীঠে পরিক্ষা চলছে, পরিক্ষা যতো কঠিন হবে পুরস্কার ততো বড় হবে ।
    দুনিয়া হলো, দারুল আহওয়াল ।

    আল্লাহ তা’আলা বলেন, “অবশ্যই আমি তোমাদিগকে পরিক্ষা করবো, কিছুটা ভয়, ক্ষুধা, জান-মালের ক্ষতি ও ফল-ফসল বিনষ্টের মাধ্যমে । তবে হে নবী সুসংবাদ দিন, ধৈর্যধারণকারীদের। (সূরা বাকারা, আয়াত১৫৫)
    পরিক্ষা যেহেতু সম্মিলিতভাবে নেওয়া হচ্ছে, তাই আমাদের উচিত সম্মিলিতভাবেই উত্তীর্ণ হওয়ার চেষ্টা করা ৷ বিচ্ছিন্ন হয়ে নিজেকে মসিবতে না ফেলা ৷ এই দিকে মহাপরিক্ষক আল্লাহ তায়লারও নির্দেশনা রয়েছে, তিনি বলেছেন,
    “আর তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে সুদৃঢ় হস্তে ধারণ কর; পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না ৷ আর তোমরা সে নেয়ামতের কথা স্মরণ কর, যা আল্লাহ তোমাদিগকে দান করেছেন ৷ তোমরা পরস্পর শত্রু ছিলে ৷ অতঃপর আল্লাহ তোমাদের মনে সম্প্রীতি দান করেছেন । ফলে, এখন তোমরা তাঁর অনুগ্রহের কারণে পরস্পর ভাই ভাই হয়েছ । তোমরা এক অগ্নিকুণ্ডের পাড়ে অবস্থান করছিলে । অতঃপর তা থেকে তিনি তোমাদেরকে মুক্তি দিয়েছেন । এভাবেই আল্লাহ নিজের নিদর্শনসমূহ প্রকাশ করেন, যাতে তোমরা হেদায়েত প্রাপ্ত হতে পার। (সুরা আলে ইমরান – ১০৩)

    এজন্য বর্তমান দুনিয়ার এই হালতের মোকাবেলায় সবরের সাথে ইস্তিকামাত থাকা চাই ।
    সবরের পানি দ্বারা এই হাসাদের আগুনকে নিভাতে হবে ভাই । ভালবাসা ও মহ্বতের কথা দ্বারা, আহত হৃদয়ের অদৃশ্য ব্যথাকে প্রশমিত করতে চাই ৷ নিজ থেকে সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে কাজকে এগিয়ে নিতে হবে, মাকামি কাজ ও খুরুজ বাড়ানোর জানতুর মেহনত চালাতে হবে ।

    প্রিয় হিতাকাঙ্ক্ষী!! দ্বীনের সহযোগী,
    আজ বাংলাদেশে তাবলীগের কাজের উপর যে ঝড় বয়ে যাচ্ছে তা পৃথিবীর কোনো দেশেই নেই, এ কথা বলা না গেলেও, পরিস্থিতি এতোটা উত্তপ্ত নয় তা বলা ভুল হবেনা, এখানের চিত্র একেবারেই ভিন্ন ৷ আবেগের বলে বিবেক আজ আচ্ছাদিত অন্ধকারের ঘোরে আলো আজ পরাজিত ৷ তাই কোন বিষয়ে কারো সাথে তর্কে না জড়িয়ে, মহব্বতের সাথে বরদাশত করা ।
    উলামায়ে কেরামকে নিজের মোহসিন মনে করা । তাদেরকে মাথার তাজ মনে করে ভক্তিশ্রদ্ধা ও ভালবাসায় নজির স্থাপন করা চাই । তাদেরকে এই মেহনতের কাণ্ডারী মনে করে সোহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া ৷ তাদের দ্বারা কোন কষ্ট পেলে ক্ষমা করে দেয়া এবং আগের চেয়ে বেশি ইকরাম করা ।তাদের সাথে কোনো ধরনের বিতর্কে লিপ্ত না হয়ে সালাম-মুসাফাহ অব্যাহত রাখা । সাধারণ যে সব সাথীদের ওলামা হযরাতদের সাথে পূর্ব থেকে সম্পর্ক আছে তাদের সাথে পূর্বের স্বাভাবিক সম্পর্ক বজায় রেখে মহব্বতকে আরো বাড়িয়ে দেয়া । নিযামুদ্দীনের পক্ষে আর বিপক্ষের উলামাদের মাঝে মহব্বত, সম্মান ও শ্রদ্ধার ক্ষেত্রে পার্থক্য না করা চাই । উলামায়ে কেরামদের সম্মানের ক্ষেত্রে সর্বদা হযরতজীর (সাল্লামাহু) নসিহতগুলোকে সামনে রাখা, এবং এর উপর ইহতিমামের সহিত আমল করা চাই ।
    আর নিজে কাজের উপর মেহনতকে বাড়িয়ে দিয়ে শোকর আদায় করা যে, এমন আকাবির উলামাদের এতেয়াত করছি যাদের সামনে হক্বের পথই আসল পথ, ব্যক্তির দেখানো পথ বা নেই কোনো ভিন্ন মত, জমহুর ওলামায়ে কেরামের মত এবং আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাতের পথই আসল পথ । সেই ওরাসাতুল আম্বিয়াদের রাহবারী আর নেগরানীতে থাকতে পারা খোদা পাকের বহুত বড় ইহসান ও সত্য সন্ধানের বুরহান । উলামা হযরাতদের ব্যাপারে যেন কোনো ধরনের সামান্যতম শেকায়েত না চলে আসে । তাদের ব্যাপারে কোনো অভিযোগ-অনযোগ থাকলে সেটা আল্লাহর দরবারে তুলা থাকবে, ওলমায়ে কেরামের সাথে হিংসা, বিদ্বেষ পোষণ করা মানে নিজেকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়া ৷ হাদিসেও এই দিকে ইঙ্গিত রয়েছে ৷ সর্বাদা হায়াতুস সাহাবাকে বর্তমান হালতে চোখের সামনে ও দিলের ভিতর রাখা চাই । মনে রাখতে হবে, আমাদের কাজের উসুল হায়াতুস সাহাবা রাযিআল্লাহু আনহুম আজমাইন ৷ তাও বুঝতে হবে সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে মতামতের ভিন্নতা ছিল, কিন্তু মনোভাবের কোনো ভিন্নতা ছিলনা ৷

    প্রিয় মুবাল্লিগ ভাই!!

    “দাওয়াত ও তাবলীগ “এই নেয়ামতের খুব কদর করা চাই, দরদ থাকা চাই দিলের ভিতর । কান ও জবানকে এই হালতে পবিত্র রাখা চাই । ফেৎনার এই তুফানে অপপ্রচার, হুমকী, ধমকী, মারামারি কোন কিছুর জবাব দেয়ার পেছনে সময় ব্যায় না করে মেহনতে শরিক হওয়া চাই । কারণ আমার এই অবস্থার উপর তো আমাকে জিজ্ঞাসা করা হবে; আর এই অবস্থার উপর আল্লাহ তায়ালার বিশেষ কোন চাওয়া আছে আমার উপর; সেটা আমি পুরা করতে না পারলে অন্য কাউকে আমার স্থলাভিষিক্ত করে ঐ চাওয়াকে আল্লাহ পুরা করবেনই করবেন । কারণ কাজ আমার বা কারো মুহতাজ নয় বরং আমি এই কাজের মুহতাজ ।
    আরেকটা ব্যাপারে খুব ভয় করা চাই- বাহ্যিকভাবে তো নয়ই, দিল থেকেও যেন অন্য কোনো দ্বীনী ভাই বা আলেম সম্পর্কে খারাপ ধারণা/ঘৃণা প্রকাশ না পায় । কেননা হাদীস অনুসারে তাহলে মউতের আগে হলেও আমাকে ঐ অবস্থায় পড়তে হবে । যে সব সাথীরা ভুল বুঝে দূরে সরে গেছেন, তাদের প্রতি দরদ থাকা চাই, ঘৃনা বা নফরৎ যেন না থাকে ভাই । কারো কোন দোষচর্চা না করা চাই । এটা এই কাজের মেজাজ বা উসুল নয় । আমি অন্যের দোষের পেছনে পড়লে, আমি কাজ থেকে পেছনে পড়ে যাব । অন্য ভাইয়ের সম্পর্কে দিল সাফ করে, তার কুরবানি ও ত্যাগের কথা চিন্তা করে, নামায-সদকা-দোয়া-চোখের পানি ফেলে আল্লাহর দরবারে তুলে ধরে কল্যাণ কামনা করি ভাই । কোথাও তর্কে লিপ্ত হওয়া, কাউকে বাধা দেয়া, গ্রুপিং, লবিং, রোটারিং, পোস্টারিং, সংঘাত অন্যরা যতোই করুক আমরা সবর করব ৷ কারণ আসমানের ফায়সালা একসময় সবরওয়ালাদের পক্ষেই আসে । সবরওয়ালাদের সাথে থাকার ওয়াদাও আল্লাহর পক্ষ থেকে রয়েছে ৷ মনে রাখতে হবে আমাদের কাজ সহযোগীতা, নেই কোনো প্রতিহিংসা, হলেও হতে পারে আমলের প্রতিযোগীতা ৷ দেখুন না আল্লাহ কতইনা সুন্দর বলেছেন,
    “যারা পবিত্র মসজিদ থেকে তোমাদেরকে বাধা প্রদান করেছিল, সেই সম্প্রদায়ের শুত্রুতা যেন তোমাদেরকে সীমালঙ্ঘনে প্ররোচিত না করে । সৎকর্ম ও খোদাভীতিতে একে অন্যের সাহায্য কর। পাপ ও সীমালঙ্ঘনের ব্যাপারে একে অন্যের সহায়তা করো না । আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা কঠোর শাস্তিদাতা”।(আয়াতাংশ, সুরা মায়েদা – ০২)
    নবিজীর এই বাণীও আমাদের সামনে রয়েছে,”আল্লাহ তা’য়ালা বান্দার সহযোগীতায় মগ্ন থাকেন, যতক্ষণ বান্দা তার ভাইয়ের সহযোগীতায় দায়েম থাকেন”৷

    বান্ধাকে কাজের হালতে ফেলে আল্লাহ তার দিলের হালতের উপর পরিক্ষা নিচ্ছেন। কোনো হালতেই যেন কাজ ও জামাত থেকে পৃথক না হয় ভাই । যারা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়, ইতিহাস বলে উহারাই ফেরাকায়ে বাতেলার পরিচয় ৷
    কুরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে,
    “নিশ্চয় যারা স্বীয় ধর্মকে খন্ড-বিখন্ড করেছে এবং অনেক দল হয়ে গেছে, তাদের সাথে আপনার কোন সম্পর্ক নেই । তাদের ব্যাপার আল্লাহ তা’আয়ালার নিকট সমর্পিত । অতঃপর তিনি বলে দেবেন যা কিছু তারা করে থাকে।
    (সুরা আন-আম – ১৫৯)

    আর তাদের মত হয়ো না, যারা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং নিদর্শন সমূহ আসার পরও বিরোধিতা করতে শুরু করেছে-তাদের জন্যে রয়েছে ভয়ঙ্কর আযাব ।

    সেদিন কোন কোন মুখ উজ্জ্বল হবে, আর কোন কোন মুখ হবে কালো । বস্তুতঃ যাদের মুখ কালো হবে, তাদের বলা হবে, তোমরা কি ঈমান আনার পর কাফের হয়ে গিয়েছিলে? এবার সে কুফরীর বিনিময়ে আযাবের আস্বাদ গ্রহণ কর।

    আর যাদের মুখ উজ্জ্বল হবে, তারা থাকবে রহমতের মাঝে। তাতে তারা অনন্তকাল অবস্থান করবে।

    এগুলো হচ্ছে আল্লাহর নির্দেশ, যা তোমাদিগকে যথাযথ পাঠ করে শুনানো হচ্ছে । আর আল্লাহ বিশ্ব জাহানের প্রতি উৎপীড়ন করতে চান না । ( সুরা আলে ইমরান – ১০৫–৮)

    প্রিয় শুভার্থী! মেহনতের ময়দানের সাথী,
    মনে রাখতে হবে, দ্বীন ও দ্বীনের মেহনত উম্মতে মুহাম্মাদিয়ার নিকট আমানত । তাই রোজানা পরার্মশ, আড়াই ঘণ্টা মেহনতের ফিকির, ঘরের আমল, ঘরের ও মসজিদের তালিম, নিজ মহল্লা ও অপর মহল্লাতে সাপ্তাহে দুই গাশত, মাসে তিন দিন , নিয়মিত হায়াতুস সাহাবা ব্যক্তিগতভাবে পাঠ করা ৷ সাপ্তাহিক মার্কাজের মাশওয়ারা, বৃহস্পতিবার মার্কাজের শবগুজারীর আমল, হালকার জোড়, মাসিক/সাপ্তাহিক মাশওয়ারা, এলাকাতে আনেওয়ালা ও মহল্লা থেকে জানেওয়ালা জামাতের নুছরত ইহতিমাম ও ইস্তিকামাতের সাথে করা । আর বর্তমান হালতেও, এটা ইয়াক্বীন করা চাই, সমস্ত মাখলুকের দিল আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার জিম্মায়, নিজেকে খুব মজবুর মনে করতে হবে; আমি কারো দিল পরিবর্তন করার যোগ্যতা রাখি না আল্লাহর হুকুম ছাড়া, আমার কাজ মেহনত করা, হেদায়েতের ফায়সালাও দেয়না কেউ, আল্লাহ ছাড়া ৷

    সর্বোপরি দিনে মানুষের দিলের ময়দানে মেহনত আর রাতে জায়নামাজে দীর্ঘ সময় কসরত করা চাই । আগের চেয়ে বেশি থেকে বেশি হালতের উপর দোয়া কান্নাকাটি ও রোনাজারির মাধ্যমে আসমানের কড়া নড়ানো চাই । আসমানওয়ালার ডাকে সাড়া দিয়ে রহমতের দুয়ার খোলে দিতে বলি ভাই ৷ রোজানা কুরআন তিলাওয়াত, তাসবিহাত, ইবাদাত ইহতিমামের সহিত চালিয়ে যায়, নফল নামাজ, সালাতুল হাজত বেশি বেশি পড়া চাই।

    আমি কাজের মুহতাজ, ওলামায়ে কেরামের রাহবারী ও নেগরানী এই কাজের রেওয়াজ, এর বেশি নেই কোনো আওয়াজ, কারণ আমরা তো নয় বে-নেওয়ায ৷
    আর কাউকে বর্জন করা নয়, অর্জন করায় এই মেহনতের লক্ষ্য, মেনে নেওয়া নয় তাদেরকে টেনে নেওয়া উচিত ছিল ৷ কাউকে ছেড়ে দিয়ে নয়, সাথে নিয়ে পথ চলতে হয় ৷ আল্লাহ আমাদের হক্ব বুঝার ও মানার তাফিক দিন ৷ তাই দো’আর মাধ্যমে আল্লাহ থেকে হক্বের সন্ধান করি ৷ “আল্লাাহুম্মা আরিনাল হাক্ক্বা হাক্ক্বা, ওয়ারযুকনা ইত্তিবা-আ’হ, ওয়া আরিনাল বা-তিলা বা-তিলা ওয়ারযুকনা ইজতিনা-বাহ ৷ হে আল্লাহ! সত্যকে সত্য জেনে মানা, এবং মিথ্যাকে মিথ্যা জেনে পরিহার করার তাওফিক দিন ৷
    আয় আল্লাহ, আমাদের মেহনতকে কবুল ফরমান । আমাদের কাজ করনেওয়ালাদের হেফাজত ফরমান । আহলে হক্ব উলামায়ে কেরামকে আমাদের কাজের নেগরান বানান, তাদের এতেয়াতের উপর চলার তাওফিক দিন হে রহমান! সবরের সাথে আমাদের মেহনতে লাগান । আপনার কাজকে আপনার রহমতে চালান, আমাদের আরজিতে মর্জি পেশ করুন ওহে দয়াবান!!

    উহারা প্রচার করুক হিংসা,বিদ্বেষ আর নিন্দাবাদ,
    আমরা বলিব সাম্য-শান্তি,আ’লমি শুরা জিন্দাবাদ৷

    মা’সসালম,দো’আর মুহতাজ,
    মাহমুদুল হাসান
    ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া ৷
    ২১-০৩-১৪৪০ হিজরী
    ০২-১২-২০১৮ খ্রিস্টাব্দ

    নহে সমাপ্ত কর্ম তোমার অবসর কোথা বিশ্রামের, উজ্জ্বল হয়ে ফুটেনি আজও সুবিমল জ্যোতি তাওহীদের                       আল্লামা ইকবাল

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম