• শিরোনাম


    ডাকাত আতঙ্কে কাটছে পাবনা,ঈশ্বরদী অাটঘ‌রিয়া, চাটমোহর ও সুজানগরবাসীর নির্ঘুম রাত

    | ১৭ নভেম্বর ২০১৮ | ৫:৫৯ পূর্বাহ্ণ

    পাবনায় একের পর এক ডাকাতির ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে পাবনার বিভিন্ন উপজেলার মানুষ। ডাকাত আতঙ্কে গত কয়েক দিন নির্ঘুম রাত কাটছে স্থানীয়দের।
    পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়,হঠাৎ করেই পাবনা সদর, ঈশ্বরদী ,আটঘরিয়া, চাটমোহর, সুজানগরসহ জেলার অধিকাংশ অঞ্চলে ডাকাত দলের উৎপাত বেড়ে গেছে।
    বুধবার রাত ১টার দিকে আটঘরিয়া উপজেলার চাঁদভা ইউনিয়নের কদমডাঙ্গা গ্রামের ব্যবসায়ী নুরুজ্জামানের বাড়িতে ৭/৮ জনের একদল মুখোশধারী ডাকাত হানা দেয়। ডাকাত দলের সদস্যরা অস্ত্রের মুখে বাড়ির লোকদের জিম্মি করে ব্যবসায়ী নুরুজ্জামানকে ধারালো অস্ত্রদিয়ে কুপিয়ে ও দুই ছেলে সাগর (২১) ও শাওনকে (১৬) মারধর করে নগদ ৩ লাখ টাকা ও ৬ ভরি স্বর্ণালংকারসহ মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যায়। আহতদের আটঘরিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
    পাবনা ঈশ্বরদী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এক সপ্তাহে এক দোকান ও তিন বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এভাবে প্রতিদিনই ডাকাতির ঘটনা ঘটায় উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
    শুক্রবার ভোর ৪টার দিকে ঈশ্বরদী আলহাজ্ব মোড় এলাকার আইকে রোডের চঞ্চলের ব্যাটারীর দোকানে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ছয় সাতজনের ডাকাতদল ট্রাকযোগে এসে প্রায় দুই লক্ষ টাকার মালামাল নিয়ে যায়। এ সময় নাইটগার্ড বাধা দিলে, তাকে পিটিয়ে আহত করে বেধে রাখে ডাকাতরা।
    মঙ্গলবার রাতে ঈশ্বরদীর সাহাপুর ইউনিয়নের দীঘা স্কুলপাড়ার মৃত কেরু সরদারের ছেলে তারিকুজ্জামান বাবু সরদারের বাড়ির জানালা ভেঙে ঘরের মধ্যে ঢুকে মুখ বাঁধা ৪/৫ সদস্যের একটি ডাকাতদল অস্ত্রের মুখে সবাইকে জিম্মি করে হাত পা বেঁধে স্বর্ণালংকা,নগদ টাকা,মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান মালামাল নিয়ে যায়। যার আনুমানিক মূল্য তিন লাখ টাকার মতো বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্থ বাবু।
    চলতি মাসের ১০ তারিখে উপজেলার ছলিমপুর ইউনিয়নের ভাড়ইমারি দক্ষিণপাড়ার মৃত আলহাজ খলিল মুন্সির ছেলে রিপন মোল্লার বাড়িতে ডাকাতি করে স্বর্ণালংকার,নগদ টাকা,মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান মালামাল নিয়ে যায় সশস্ত্র ডাকাতদল।
    ডাকাতির ঘটনা ঘোটেছে আটঘরিয়া উপজেলাতেও।বুধবার রাতে পাবনার উপজেলার চাঁদভা ইউনিয়নের কদমডাঙ্গা গ্রামের ব্যবসায়ী নুরুজ্জামানের বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি ঘটনা ঘটে। ডাকাত দলের মারপিটে বাড়ির গৃহকর্তাসহ দুই জন আহত হয়েছেন।
    ব্যবসায়ী নুরুজ্জামান জানান, ৭/৮ জনের একদল মুখোশধারী ডাকাত ওই ব্যবসায়ীর বাড়িতে হানা দেয়। ডাকাত দলের সদস্যরা অস্ত্রের মুখে বাড়ির লোকদের জিম্মি করে। এ সময় নুরুজ্জামানকে ধারালো অস্ত্রদিয়ে কুপিয়ে ও দুই ছেলে সাগর ও শাওনকে মারপিট করে ঘরে থাকা নগদ ৩ লাখ টাকা ও ৬ ভরি স্বর্ণালংকারসহ মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যায় ডাকাত দল। আহতদের আটঘরিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।খবর পেয়ে সকালে পুলিশ ঘটনাস্থল পরির্দশন করে নুরুজ্জামানের বাড়ির পাশ থেকে দুটি ককটেল উদ্ধার করে।
    ওই এলাকায় চরমভাবে ডাকাত আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। একই ভাবে ছিচকে চোর ও ডাকাতের অত্যাচারে অতিষ্ঠ পাবনা সদরের কাচারী পাড়া,সাধু পাড়া,মণ্ডল পাড়া,বাঁশতলাসহ অধিকাংশ এলাকার মানুষ। কাচারী পাড়া,সাধু পাড়া পাড়া) তিনটি এলাকায় একদল সশস্ত্র ডাকাতদল হামলা চালায়। কাচারী পাড়ার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাক্তি বলেন, ১১ নভেম্বর ১০/১২ জনের ডাকাত দল ৩/৪ টি দলে ভাগ হয়ে কাচারী পাড়া ও সাধু পাড়ার ৪টি বাড়িতে হামলা চালায়। এলাকাবাসী ডাকাত দলের উপস্থিতি বুঝতে পেরে মোবাইলে প্রতিবেশীদের জানায়। সকলে একত্রিত হয়ে ডাকাতদলকে ধাওয়া করলে তারা পালিয়ে যায়।
    পাবনার পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলাম বলেন, পুলিশ সতর্ক রয়েছে। রাতে পুলিশের টহল বাড়ানো হয়েছে। অপরাধী যেই হোক তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
    পুলিশ সুপার আরো বলেন, আমরা ইতিমধ্যেই সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রের এক সদস্যকে আটক করেছি। খুব শীঘ্রই পুরো দলটিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে বলেও জানান তিনি।

    Facebook Comments



    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম