• শিরোনাম


    জীবনপথ – ম. কাজী এনাম

    | ১৯ জানুয়ারি ২০১৯ | ৩:১২ অপরাহ্ণ

    জীবনপথ   – ম. কাজী এনাম

    পৃথিবীর সবচেয়ে অসহায় সেই শিশু, যে শিশু বুঝ হবার আগেই তার মা-বাবাকে হারিয়েছে। তার চেয়েও বড় অসহায় সেই শিশু, যে তার মা-বাবা অথবা উভয়ের কাউকে বন্ধু হিসেবে পাইনি।
    কারন মা-বাবা হলো পৃথিবীর সবচেয়ে আপনজন, যাঁদের ভাগ্যে বন্ধু সুলভ মা-বাবার শেয়ার-কেয়ার নেই, প্রাণখোলা মনোভাব-আব্দা নেই, স্বাধীনতা নেই, গ্রহণযোগ্যতা নেই, অধিকার নেই, এমন কি ভালবাসাটুকোও নেই, তারাই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সহায়হীন, অনাথ!

    একজন পুরুষের জন্য পৃথিবীটা জয় করতে তিনজন মানুষের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই তিন জনের অবস্থান পৃথক, কাজ ভিন্ন, তবে বসবাস একই সাথে। মা, বাবা এবং সহধর্মিণী, এদের সাপোর্ট ছাড়া কোন পুরুষ এমন নেই সামনে এগিয়ে যাবে(?)



    সবার আগে মায়ের মমতা, আন্তরিকতা, ভালবাসা এবং মাতৃস্নেহ। আর ইহা সকল কিছু, সবার আচরণের উর্ধ্বে। মায়ের ভালবাসা এবং ভাষাতেই শিশুরা বড় হয়ে উঠে। মায়ের শিক্ষাতেই শিশুরা কথা বলতে শিখে। কিন্তু এই মায়ের নির্জীবাচরণ, নিস্ক্রীয় মমত্ববোধ, কঠিন ভাষা, অশালীন আদর্শ এবং ব্যঙ্গাত্মক ভৎসনা একটি শিশুকে সমূলে ধ্বংস করে দিতে সক্ষম। পৃথিবীর কোথাও, কোনখানে আশ্রয় না পেলেও একটা মায়ের কোল থাকে শিশুর আশ্রয়ের সর্বশেষ ঠিকানা। কিন্তু মাতৃ অনিহায় বেড়ে উঠা শিশুরা… সে সুন্দর ভালবাসা থেকে বঞ্চিত!

    দ্বিতীয়ত আসে বাবার গুরুত্ব। মায়ের মতোই বাবা হলো ভালবাসার আরেক নাম। বটবৃক্ষ যেমন শত ঝড়-ঝাপটায় একটি আশ্রিত মানুষের রক্ষার্থে অবিচল দাড়িয়ে থাকে, একটা বাবাও তেমনিই ভাবে শত ঝড়ের মাঝেও অনড় দাঁড়িয়ে থাকে। সামাজিক অবক্ষয়ের হাত থেকে রক্ষা করে উন্নতি জীবনের জন্য একটা বাবাই সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখে। নিজে অভুক্ত থেকে, নিজের স্বপ্ন ধুলিতে ফেলে, মাথার ঘাম পায়ে ফেলে, সারাদিন গাধাখাটনি খেটে, দিন শেষে সন্তানের মুখে হাসি ফোটাতে চাই। আলোকিত মানুষ বানানোর জন্য পিতারা অনেক ক্ষেত্রে শাসন-অনুশাসন করলেও মূল লক্ষ্য হলো সন্তানের উজ্জল ভবিষ্যত। কিন্ত অতিরিক্ত শাসন, অনাস্থার সৃষ্টি, অগ্রাহ্য ভাব, প্রভুত্ব সুলভ আচরন, প্রতিভা বিমুখী অনুশাসন, নিজের অকৃত সফলতার দায়ভার অর্পন সহ নানান নীতি বহির্বোধ কাজের চাপ, এ সবই একটা সন্তানকে মানসিকভাবে পরাধীনতার শেকলবন্ধ করে রাখে। যার ফলে কিছু প্রতিভা অকালেই ঝড়ে যায়। সফলতার সুর্য্য সন্তানেরা জন্ম নিয়েই মেঘের আড়ালে ঢেকে যায়। ফুটিবার আগেই ফুলকলিরা ধুলিমাখা হয়ে যায়। শুরু হবার আগেই শেষ হয়ে যায়।

    তৃতীয়ত আসে জীবন সঙ্গিনী বা সহধর্মিণী। এই শ্রেণির জন্যেই বহু কবি-সাহিত্যিকদের আবেগ, ব্যাখ্যা আর মাত্রাতিরিক্ত ভালবাসা ছিল আকাশসম। প্রেম-ভালবাসা আল্লাহর অপার বিশ্মিত এক দান। যে মনে প্রেম-ভালবাসা নেই, সে মন মরুভূমির মতো রুক্ষ-প্রস্তর অথবা প্রাণহীন দেহের মতো নিতর। আর সে জন্যেই বিশ্বস্রষ্টা এই প্রেম-ভালবাসার জন্য দিয়েছেন সুনির্দিষ্ট বিধি-নিষেধ। দিয়েছেন সভ্য-সুন্দর ভালবাসার উপমা, ঐশর্য্য, গুরুত্ব ও উপকার। একটা পুরুষ ভালবাসার জন্যে এগিয়ে যায় উন্নতির সর্বোচ্চ শিখরে, ঘুমন্ত থেকে হয়ে যায় দুরন্ত। নিষ্প্রাণ থেকে হয় স্বপ্রান। অলসতা ভেঙ্গে-নিংড়ে হয়ে উঠে জাতি জাগানোর গান গাওয়া বিদ্রোহী কবি।

    আল্লাহর জন্য কাউকে ভালবাসা, আল্লাহর জন্য কাউকে কাউকে ঘৃণা করা ঈমানের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বৈধেয় ভালবাসাকে ভালবেসে অবৈধ ভালবাসাকে দূরে ফেলা, ঘৃণা করা হলো স্রস্টার বিধি। এই বিধি পালনের জন্য স্বস্ত্রীক প্রেম-ভালবাসা পৃথিবীর ভাল কাজের অন্যতম। আজকের সুন্দর একটা কাঁপল আগামীর উজ্জ্বল প্রজন্মের সুনিদর্শন। দেশ-জাতি ও মানবতার বিনির্মাণে স্বামী-স্ত্রীর এই ভালবাসা অপরিহার্য। যারা ইহাকে নিয়ে বিরুপ ধারনা করে, সমালোচনা করে, বাধার সৃষ্টি করে, এরা কোন সভ্য মানুষের গন্ডিতে পরেনা। এরা নিকৃষ্ট ও ছোট মনের মানুষ।

    একটা মানুষের উন্নত জীবনের জন্য সবচেয়ে বড় স্পৃহা হল স্বস্ত্রীক প্রেম। স্ত্রীর ভালবাসা অনেকটাই আলোকরশ্মি জ্বালানোয় জ্বালানী তৈলের মতো। আলোটা দূর থেকে দেখা যায়, কিন্তু এই জ্বালাইত বাতির নিচে কিসের সহায়তা আছে, কেউ দেখে না। কেউ বুঝতে চাইও না।

    এই স্ত্রী যদি কারো জীবনে অপ্রত্যাশিত হয়ে আসে, স্পৃহা দেয়ার পরিবর্তে সফলতার পথে বাধার সৃষ্টি করে, এগিয়ে দেবার পরিবর্তে বাধার সৃষ্টি করে। প্রেরণা দেবার পরিবর্তে অনুৎসাহিত করে। আগ্রহ দেখাবার পরিবর্তে অনিহা প্রদর্শন করে। প্রশংসা করার পরিবর্তে ভৎসনা করে। সহকর্মে সাহস দেখানোর পরিবর্তে ঝিমিয়ে থাকে। অল্পতুষ্টি হবার পরিবর্তে অপ্রতুল ব্যয়ে নিজেদের লিপ্ত রাখে। ধার্মিকতার পরিবর্তে ধর্মহীনতায় চলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। আর যায়’ই হউক, এদের দ্বারা কোন পুরুষের জীবনে উন্নতি করা সম্ভব নয়। এসব মেয়ে গড়তে নয়, ভাঙ্গতেই বেশি পারে। উন্নতি নয়, অবনতিই করে বেশি।

    সে জন্যেই মাঝেমাঝে ভাবি, জীবনটা এমন পরনির্ভর কেন? আমার জীবন, আমি গড়ব। কিন্তু অন্যজনের কাছে এর নিয়ন্ত্রণ ভার কেন(?) কেন কাছের মানুষগুলো বুঝতে চাইনা (?) কেন স্বপ্নময়ী জীবনের পথে পথে অমানিশার অন্ধকার প্রাচীর (?) কেন মানুষে-মানুষে এত বিদ্ধেষী মনোভাব (?) কেন স্বার্থের জন্য সমাজনীতি আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে (?) কেন বিবেকনাস মানুষগুলোর হৃদয়ে আলোর পরিবর্তে অন্ধকার… (?) অথচ এ সবই অপ্রতিসম, অপ্রত্যাশিত এবং পরিত্যাজ্য…!

    লেখক: কাজী পাড়া মাদ্রাসা
    কাজীপাড়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম