• শিরোনাম


    জাতির দুর্দিনে তথাকথিত বুদ্ধিজীবীরা কোথায়? মুফতি ছালেহ বিন আব্দুল কুদ্দুস

    লেখক: মুফতি ছালেহ বিন আব্দুল কুদ্দুস, অতিথি লেখক | ১৫ এপ্রিল ২০২০ | ৬:৩৪ অপরাহ্ণ

    জাতির দুর্দিনে তথাকথিত বুদ্ধিজীবীরা কোথায়? মুফতি ছালেহ বিন আব্দুল কুদ্দুস

    টকশো ও পত্র-পত্রিকায় যারা বুদ্ধির ফেরি করে বলতো, উলামায়ে কেরাম সমাজের বোঝা– সেই তথাকথিত বুদ্ধিজীবীদেরকে জাতির এই দুর্দিনে পাওয়া যাচ্ছেনা। কোথায় আজ ইনু, মেনন, শাহরিয়ার কবির আর জাফর ইকবালের মত ‘প্রগতিশীল ও মানবতাবাদী’ জ্ঞানপাপীরা?! ‘তেঁতুলহুজুর’ গালির আমদানীকারক হাসানুল হক ইনুর আজ দেখা না মিললেও ‘তেঁতুলহুজুরের’ আদর্শ সন্তানরাই কিন্তু এখন মানবতার লাজ রক্ষা করছে। কওমী মাদরাসাকে ‘বিষবৃক্ষ’ অভিধায় ভূষিতকারী রাশেদ খান মেননকে আজ গরীবরা খুঁজে না পেলেও ‘বিষবৃক্ষের’ ফসলগুলোই অসহায়-দুস্থদের মুখে হাসি ফুটাচ্ছে। করোনাক্রান্ত অসহায় মানুষের পাশে একান্তভাবে কাজ করে যাচ্ছেন দেশের সর্বস্তরের উলামায়ে কেরাম। ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা থেকে নিয়ে মানুষের সর্বপ্রকার দুঃখ-কষ্ট ঘোচানোর ক্ষেত্রে আলেমদের উপস্থিতি লক্ষণীয়। এমনকি করোনায় মৃতদের কাফন-দাফন ও জানাযা সম্পন্ন করতে স্বাস্থ্যসংস্থাগুলো যখন ভয় ও শঙ্কায় কাতর, তখন বিভিন্ন কওমী মাদরাসার তরুণ ছাত্র-শিক্ষকরা এই মহৎ কার্যসম্পাদনে এগিয়ে আসছেন। তাকওয়া ফাউণ্ডেশন, ইকরামুল মুসলিমীন ফাউণ্ডেশনসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শত শত সেবা সংস্থা গঠিত হয়েছে, যেসবের ব্যানারে তৎপর রয়েছেন অসংখ্য আলেম। তন্মধ্যে মাওলানা গাজী ইয়াকুব সাহেবের নাম উল্লেখ না করলেই নয়। আগেও বিভিন্ন ইস্যুতে মানবসেবায় তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। বর্তমানে ‘তাকওয়া ফাউন্ডেশন’-এর ব্যানারে সারা দেশব্যাপী করোনায় মৃত ব্যক্তিদের কাফন-দাফনের ব্যবস্থাসহ দুস্থ-অসহায় মানুষের দুয়ারে ত্রাণ নিয়ে হাজির হচ্ছেন।

    দুঃখী মানুষের সেবা করতে পেরে গাজী ইয়াকুব স্বীয় সুখানুভব এভাবে ব্যক্ত করেন, ‘‘আমাদের হাদিয়া পেয়ে ওদের ভুবনজয়ী একেকটা হাসি আমার কাছে কোটি টাকার চাইতেও বেশি দামি।” খুবই আপ্লুত হই যখন দেখি গবেষক আলেমরা জ্ঞানপাপী বুদ্ধিজীবীদের গঠনমূলক সমালোচনা করেন এবং জাতির জন্য উপকারী প্রস্তাবনা পেশ করেন। সুচিন্তক ও কর্মোদ্যমী আলেম মাওলানা সাইমুম সাদী লিখেন, “টকশোজীবি, মানবতা ফেরি করে চলা মানুষ কিংবা তথাকথিত সেলিব্রিটিদের এই দুর্দিনে দেখা পাবেননা এটা আগে থেকেই জানতাম। এদের ক,জন এই সময়ে ত্রাণ, সেবা কিংবা চিকিৎসার কাজে নিজেকে নিয়োজিত করেছে? অথচ রাষ্ট্রের টাকা এদের পেছনেই খরচ হয়,এদেরকে হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় আনা হয়, ঘটা করে পুরস্কৃত করা হয়৷ আজ এরা নাই। চেতনা চেতনা বলে ফিল্টার বানানো মহান স্যারের কোন ছবি অসহায় মানুষের পাশে দেখলামনা। যাক বাদ দেন এসব। একটা প্রস্তাব দেই চলেন। হাসপাতালে করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য নার্স পাওয়া যাচ্ছেনা। প্রাথমিক সেবা দেওয়ার লোক নাই। ডাক্তার নেই। করোনায় মৃত মানুষের গোসল জানাযা ও দাফন করার লোক নেই।মাদ্রাসার তালেবে এলেম যাদেরকে সারাজীবন কাঠমোল্লা বলে গালি দিয়েছেন এই লোকগুলোই এগিয়ে এসেছে গোসল জানাযা ও দাফনের কাজে। আমি প্রস্তাব করছি, হাসপাতালে সেবা কর্মীদের যে সংকট তা কাটিয়ে উঠার জন্য নতুন লোক সংগ্রহ করা হউক। তাদেরকে স্বল্প সময়ে ট্রেনিং দিয়ে হাসপাতালে নিয়োগ করুন। তাদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা আই মিন কার্যকর প্রটেকশন যদি দিতে পারেন তাহলে শুধু কওমি মাদ্রাসা থেকেই এক লক্ষ সেবা কর্মী দেওয়া সম্ভব। আবারও বলছি, কওমি মাদ্রাসা থেকেই এক লক্ষ সেবা কর্মী দেওয়া সম্ভব, যদি উদ্যোগ নিতে পারেন। সেজন্য সরকারি সিদ্ধান্ত লাগবে । একশো পার্সেন্ট পিওর রক্তের এক লক্ষ কওমি আলেম সেবা কর্মী হতে প্রস্তুত আছেন৷ আপনারা সিদ্ধান্ত নিন। ”
    প্রখ্যাত বক্তা মুফতি রিজওয়ান রফীকী লিখেন, “মানবতার এ দুর্দিনে শাহরিয়ার কবির কে খোঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কারণ কি? ৭১ সালের মত আবার এখন চাউল চুরি করতে যায়নি তো?”
    সত্যের বিজয় সবসময়। বাংলাদেশের মানুষ বরাবরই দেখছে, গর্তজীবী বুদ্ধিজীবীরা টকশোর কেদারায় কিংবা মিডিয়ার সামনে বড় বড় কথা বললেও কাজের বেলা উধাও! জনগণ বাস্তবতার উপর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। বিপদাপদে তারা আলেমদেরকেই কাছে পায়। এজন্যই এ মাটির শেকড়ে গেঁথে আছে ইসলাম। আর এ দেশের আপামর জনতা হৃদয়ের গহীনে লালন করে উলামায়ে কেরামের প্রতি অফুরান ভালোবাসা।।



    লেখক: মুফতি ছালেহ বিন আব্দুল কুদ্দুস
    প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক: শাহবাজপুর, বি-বাড়িয়া, বাংলাদেশ।
    ১৫/৪/২০২০ইং, বুধবার।।

    Facebook Comments Box

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম