• শিরোনাম


    জম্মু-কাশ্মীরে তুমুল সংঘর্ষ: ভারতীয় সেনাসহ নিহত ৪

    | ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৯:০৩ অপরাহ্ণ

    জম্মু-কাশ্মীরে তুমুল সংঘর্ষ: ভারতীয় সেনাসহ নিহত ৪

    ভারত অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরে তুমুল সংঘর্ষে এক সেনাসহ ৪ জন নিহত হয়েছে। নিহতদের মাঝে ৩ জন মুক্তিযোদ্ধা রয়েছে। গুরুতর আহত হয়েছেন জম্মু-কাশ্মীর দু’ পুলিশ। গতকাল (শনিবার) জম্মু-কাশ্মীরজুড়ে দুটি সংঘর্ষ ও একটি গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে।

    সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল দেবেন্দর আনন্দ গণমাধ্যমকে বন্দুকযুদ্ধে তার ভাষায়, তিন সন্ত্রাসী ও এক সেনা নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছেন। জম্মু পুলিশের মহাপরিদর্শক মুকেশ সিং ঐ সংঘর্ষের ঘটনায় দু’ পুলিশ আহত হওয়ার কথা জানিয়েছেন।



    আজ রামবান জেলার বাটোতে দু’ মুক্তিযোদ্ধা জম্মু-শ্রীনগর জাতীয় সড়কে একটি যাত্রীবাহী বাস থামিয়ে হামলার চেষ্টা করে। খবর পেয়ে নিরাপত্তা বাহিনী সংশ্লিষ্ট এলাকার একটি বাড়ি ঘিরে ফেলে তল্লাশি অভিযান চালালে, উভয় পক্ষের মাঝে বন্দুকযুদ্ধ শুরু হয়। এ সময় নিরাপত্তা বাহিনী মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মসমর্পণ করতে বললে, তারা তা প্রত্যাখ্যান করে একনাগাড়ে গুলিবর্ষণ চালিয়ে যায়। নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা গুলিবর্ষণে ৩ মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যু হয়।

    আজ নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর গুরেজ সেক্টরের গন্ডেরবল এলাকায় দ্বিতীয় হামলা হয়। সেখানে সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে মুক্তিযোদ্ধারা গুলিবর্ষণ করলে, জওয়ানদের পাল্টা গুলিতে একজনের মৃত্যু হয়। সেনাবাহিনীর নর্দান কম্যান্ডের পক্ষ থেকে তাদের ভাষায়, এক সন্ত্রাসী নিহত হওয়ার কথা জানানো হয়েছে। নিহতের কাছ থেকে প্রচুর অস্ত্র ও গুলিবারুদ উদ্ধার হয়েছে।

    আজ শ্রীনগরে তৃতীয় হামলার অজানা গেরিলারা গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এ সময় সড়কে লোকজন কম থাকায় কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবৃতিকে ভিত্তি করে হামলাকারীদের সন্ধানে নিরাপত্তা বাহিনী তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে।

    এ প্রসঙ্গে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ‘ভাষা ও চেতনা সমিতি’র সম্পাদক ও কোলকাতার প্রেসিডেন্সী কলেজের সাবেক অধ্যাপক ড. ইমানুল হক আজ (শনিবার) রেডিও তেহরানকে বলেন: যুদ্ধে প্রথম নিহত হয় সত্য। তার ফলে সমস্যা হচ্ছে এটাই যে, কোনটা সত্যি আর কোনটা সত্যি না, তা নির্ধারণ করার জায়গায় আমরা নেই। কারণ, ভারত সরকারের সূত্র যা বলছে, তাই আমাদের মানতে হচ্ছে। সুতরাং এ ধরণের ঘটনাকে বলবো – এটা অবাঞ্ছিত ঘটনা। আর এরা যে দাবি করেছিলেন, আমরা কাশ্মীরে সব কিছু শান্ত করে দিয়েছি। অন্তত প্রমাণ হলো যে, কাশ্মীর শান্ত নেই। পঞ্চাশ দিনেরও বেশি হয়ে গেলো – সেখানকার মানুষজন অবরুদ্ধ হয়ে আছেন; না খেয়ে মরছেন; আপেল খেতে আপেলগুলো পচে নষ্ট হচ্ছে। এ ধরণের গণতন্ত্রহীনতার অবসান হোক। আমরা মনে করি, জঙ্গিদের ক্ষেত্রে অস্ত্র হোক বা ভারত রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে হোক – অস্ত্র কোনো সমাধান নয়। রাজনৈতিক সমস্যা রাজনৈতিকভাবে আলাপ-আলোচনার মেটাতে হবে। এটা ছাড়া যদি অন্য পথ নেয়, তাহলে কাশ্মীরকে আরেকটা প্যালেস্টাইন বড়ভাবে বানিয়ে দেয়া ছাড়া আর কিছু হবে না।

    সূত্র: পার্সটুডে ও এনডিটিভি।

    Facebook Comments Box

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম