• শিরোনাম


    চিরচেনা এক কিংবদন্তী : চলে যাওয়ার ২ বছর [] মাওঃ সাইফুদ্দীন সাইম

    লেখক : মাওঃ সাইফুদ্দীন সাইম, ভাইস প্রিন্সিপাল - জহিরুল ইসলাম দারুল মাদ্রাসা আফতাবনগর, খিলগাঁও, ঢাকা। | ১৭ এপ্রিল ২০২১ | ৩:১৪ অপরাহ্ণ

    চিরচেনা এক কিংবদন্তী : চলে যাওয়ার ২ বছর [] মাওঃ সাইফুদ্দীন সাইম

    মাওলানা আব্দুস সুবহান একটি নাম,একটি বৈচিত্রময় শতাব্দী,একটি বর্ণাঢ্য ইতিহাস,বহুমাত্রিক জীবনের এক উজ্জল দৃষ্টান্ত।ক্ষণস্থায়ী জীবনে কর্মের পরিধী কতটা ব্যাপক ও বিস্তৃত হতে পারে,সেটা নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করে দেখিয়েছেন তিনি। গোটা জাতির সামনে নিজেকে যেমন করে তুলেছেন অণুকরনীয়,তেমনি আমাদেরকে করে তুলেছেন আশাবাদী অনুস্বারী।


    আজ থেকে ঠিক দুই বছর আগে ১৪৪০ হিজরির
    ৪ঠা রমাজান শুক্রবারে আনুমানিক ৭২ বছর বয়সে এই নশ্বর পৃথিবীকে বিদায় জানিয়ে মহান রব্বে কারীমের সান্নিধ্যে চলে গেলেেন নবীনগরের ‘বড় হুজুর’খ্যাত গন-মানুষের প্রিয় রাহবার মাওলানা আব্দুস সুবহান। তিনি বিদায় নিলেন হাজার হাজার মানুষকে কাঁদিয়ে। আর তাঁর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে পরিসমাপ্তি ঘটল প্রায় এক শতাব্দী কালের বর্নীল ইতিহাসের, এবং নবীনগরের মানুষ হারাল তাদের বড় হুজুরকে।



    ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার, নবীনগর উপজেলার, নাটঘর ইউনিয়নের, কুড়িঘর গ্রামের মধ্যপাড়ায় জন্ম নেয়া এই সাধারন মানুষটা কালের পরিক্রমায় হয়ে উঠেছেন অসাধারন,একটি আদর্শ প্রতিষ্ঠান,পরিণত হয়েছেন মহীরুহে।
    তাঁর পুরো নাম- মোহাঃ আব্দুস সুবহান
    পিতা-জনাব মোহাঃ মুন্সি হাফিজ উদ্দিন
    মাতা- জনাবা মোসাম্মৎ হাজেরা বেগম

    তিনি ছিলেন একজন বিজ্ঞ আলেমে দ্বীন।ছিলেন শিক্ষানুরাগী ও সফল উদ্যোক্তা।ছিলেন দক্ষ, ত্যাগী ও নিবেদিতপ্রাণ ব্যাক্তি।আরবী,ফার্সী,উর্দু, ভাষায় তার যেমন ছিল অসাধারন দক্ষতা,তেমনি বুঝতেন মানুষের মনের ভাষা।

    প্রচন্ড ধী সম্পন্ন এই মানুষটির লেখাপড়ার হাতে খড়ি নিজ গ্রামের বিদ্যালয় থেকেই, তারপর তিনি একাধারে চন্দ্রপুর মিফতাহুল উলুম আল ইসলামিয়া মাদ্রাসা ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ও জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া সহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করেন।

    তার উল্লেখযোগ্য উস্তাদবৃন্দ:
    ১) আল্লামা আব্দুল হাই (রহঃ) চাঁন্দপুর মাদ্রাসা।
    ২) আল্লামা আব্দুল ওহাব (রহঃ) কুট্টাপাড়া, সরাইল।
    ৩)ফখরে বাঙ্গাল তাজুল ইসলাম (রহঃ)
    ৪) বড় হুজুর সিরাজুল ইসলাম (রহঃ)
    ৫) আল্লামা মতিউর রহমান (রহঃ)
    ৬) মুফতী রিয়াজতুল্লাহ (রহঃ) প্রমুখ।

    মাদ্রাসায় শিক্ষকতা দিয়ে কর্ম জীবনের সূচনা। করেছেন কৃষিকাজ,মাঠে চরিয়েছেন গরু-ছাগল। শিক্ষকতা শুরু করেন নবীনগর থানার ঐতিহ্যবাহী ও প্রাচীন ইসলামী বিদ্যাপীঠ বিদ্যাকুট ইসলামিয়া হাফিজিয়া নাজিরিয়া মাদ্রাসায়। পরবর্তীতে অত্র প্রতিষ্ঠানে মৃত্যু পর্যন্ত প্রিন্সিপালের দায়িত্ব পালন করেছেন। জন্ম দিয়েছেন যুগশ্রেষ্ঠ আলেমদের।

    তার উল্লেখযোগ্য শিষ্যবৃন্দ:
    ১) আল্লামা জাকির হোসাইন (রহঃ)
    সাবেক মুহাদ্দিস, জামিয়া ইউনুছিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
    ২) আল্লামা মুফতী আশরাফুদ্দীন আফতাবী (রহঃ)
    প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল, কুড়িঘর মাদ্রাসা।
    ৩) আল্লামা মুসা কাসেমী (দা. বা.)
    সিনিয়র মুহাদ্দিস, দেওভোগ মাদ্রাসা নারায়ণগঞ্জ।
    ৪)আল্লামা আব্দুল্লাহ আল কাসেমী ( দা. বা.)
    প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল, ইকরা মাদ্রাসা খড়িয়ালা।
    ৫) আল্লামা কফিল উদ্দিন (দা. বা.)
    শিক্ষাসচিব বিদ্যাকুট মাদ্রাসা।
    ৬)আল্লামা মিজানুর রহমান (দা. বা.)
    ভাইস প্রিন্সিপাল বিদ্যাকুট মাদ্রাসা।
    ৭) আল্লামা মুফতি ইসমাঈল হুসাইন (দা. বা.)
    সিনিয়র শিক্ষক বিদ্যাকুট মাদ্রাসা।
    ৮) আল্লামা আবুল কালাম আজাদ (দা. বা.)
    ভাইস প্রিন্সিপাল কুড়িঘর মাদ্রাসা।
    ৯) আল্লামা হেলাল উদ্দিন আফতাবী (দা. বা.)
    শাইখুল হাদিস জামিয়া দ্বীনিয়া সাভার, ঢাকা।
    ১০) আল্লামা শরিফ উদ্দিন আফতাবী (দা.বা.)
    সিনিয়র শিক্ষক, জামিয়া ইউনুছিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
    ১১) আল্লামা আব্দুল কাইয়ুম ফারুকী (দা.বা.)
    সিনিয়র শিক্ষক, ভাদুঘর মাদ্রাসা। সহ আরো অনেকেই।

    দেশের মাটি ও মানুষের সাথে যেভাবে চলেছেন-মিশেছেন,তেমনি সমানতালে চলেছেন উঁচুতলার মানুষের সাথেও।এক কথায়,শেকড় থেকে শিখরে পৌঁছে যাওয়া এক বিরল ব্যক্তিত্ব মাওলানা আব্দুস সুবহান।

    তিনি নিজের পরিবার কিংবা নিজেকে নিয়ে ভাবেননি কখনও। সর্বদা ব্যস্ত ছিলেন দেশ,জাতি ও পরবর্তী প্রজন্মকে নিয়ে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চলার পথকে মসৃণ করতে ছুটে চলেছেন বিরামহীন।

    বিদ্যাকুট মাদ্রাসায় শিক্ষক ও প্রিন্সিপাল থাকাকালে
    ২ কিঃ মিঃ পথ পায়ে হেঁটে যেতেন মাদ্রাসায়।এটাই ছিল তাঁর দৈনন্দিন রুটিন।এক মাস দুই মাস নয়,এভাবেই ছুটে চলেছেন বছরের পর বছর,করেছেন অক্লান্ত পরিশ্রম।

    নবীনগরের গ্রাম-জনপদে বপন করে গেছেন ইসলামী শিক্ষার বীজ, আপন মনের মাধুরী মিশিয়ে।আর,তিনি হয়ে উঠেছেন গন-মানুষের অতি আপন,প্রাণের মানুষ,সর্বসাধারনের প্রিয় সুবাহান মওলানা,চির চেনা এক কিংবদন্তী।

    বিদ্যাকুট বড় মসজিদের পেশ ইমাম ও খতীব ছিলেন তিনি। মাদ্রাসায় অধ্যাপনার সাথে সাথে প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত সলাতের ইমামতি করার কাজও সম্ভব হয়েছে তাঁর দ্বারা।
    বিদ্যাকুট পশ্চিম পাড়া ঈদগাহ, মেরকুটা ঈদগাহ এবং কুড়িঘর ঈদগাহে ঈদের নামাজের ইমামতিও করেছেন বহু বছর।

    শিক্ষা ও সমাজসেবাকে যিনি একজীবনে সফলভাবে সন্নিবেশিত করেছিলেন,তিনি মহান এক সব্যসাচী গুরু ও ওস্তাদ মাওলানা আব্দুস সুবহান।
    তাঁকে খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়নি আমার। কিন্তু আমার বাবার কাছ থেকে শুনেছি তার বহু গুণ কীর্তির কথা। তাঁর প্রবল ব্যক্তিত্ব,আর সততার সামনে শ্রদ্ধাবনত হতেন সবাই।

    পরিশ্রমপ্রিয়তা ছিল তাঁর জীবনের বড় বৈশিষ্ট্য। তিনি সবসময় বলতেন “কাজের নাম করা”।
    বর্তমান প্রজন্মের যারা অল্পতেই ক্লান্ত হয়ে যান,একসাথে দুটি কাজ করতে পারেন না,কারও সাহায্য ছাড়া পথচলাকে অসম্ভব মনে করেন,কথায় কথায় অজুহাত তালাশ করেন, কিংবা অন্যের প্রতি দায় চাপাতে চেষ্টা করেন,তাদের চলার পথকে উন্মুক্ত করে গেছেন,আলোর দিশা দিয়েছেন,নিজের কর্মকান্ড দিয়ে সকল কিছুর জবার দিয়ে গেছেন,প্রিয় রাহবার আমাদের বড় হুজুর মাওলানা আব্দুস সুবহান।

    পরিশেষে রব্বে কারীমের নিকট এই প্রার্থনা, তিনি যেন আমাদের প্রিয় রাহাবারকে জান্নাতের উচ্চ মাকাম দান করেন, আমীন।

    তথ্য সংগ্রহ:
    হুজুরের বড় সাহেবজাদা
    মাওঃ আব্দুল মতিন সুবহানী সাহেব কর্তৃক

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম