• শিরোনাম


    চামড়ার যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণের দাবীতে কওমি ফোরামের সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    গাজী আশরাফ আজহার | ২০ আগস্ট ২০১৮ | ৫:২৫ অপরাহ্ণ

    চামড়ার যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণের দাবীতে কওমি ফোরামের সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    চামড়ার যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণ করে মাদরাসা ও চামড়াশিল্প ক্ষতির হাত থেকে রক্ষার দাবীতে
    আজ সোমবার (২০/৮/১৮) সকাল ১১টায় কওমী ফোরামের উদ্যোগে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তন সেগুনবাগিচায় সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়,
    সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কওমি ফোরামের সমন্বয়ক মুফতি সাখাওয়াত হুসাইন রাজি, পাঠকদের উদ্দেশ্যে প্রদত্ত বক্তব্যটি তুলে ধরা হলো
    -লিখিত বক্তব্যটি নিম্নরূপ:
    -বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম
    -আসসালামু আলাইকুম ওয়ারহমাতুল্লাহ
    প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ!
    কওমী ফোরামের আহবানে আজকের এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হওয়ার জন্য প্রথমেই আপনাদের সকলকে স্বাগত ও মোবারকবাদ জানাচ্ছি। সেই সাথে আপনাদের ও আপনাদের পরিবারের সকল সদস্যদের প্রতি রইলো আসন্ন ঈদুল আযহার অগ্রিম শুভেচ্ছা।

    প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ।
    কাল বাদে পরশু ঈদুল আযহা। মুসলমানদের সবচেয়ে বড় খুশির দিন। এই দিনে কুরবানীর মাধ্যমে সকল মুসলমানকে আল্লাহর পক্ষ থেকে মেহমানদারী করানো হয়। কেননা, কোরবানির গোশত, রক্ত কিছুই আল্লাহর কাছে পৌছায় না, পৌঁছে শুধু তাকওয়া তথা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কোরবানি করা। তাই কুরবানীর পশুর কোন অংশ বিক্রি করা বৈধ নয়। যদি কেউ এর কোন অংশ বিক্রি করে তবে মূল্যটি গরীবকে সদকা করা ওয়াজিব হয়ে যায়। এটাই শরীয়তের বিধান। শরীয়তের এই বিধান মেনেই শত শত বছর ধরে চলে আসছে মুসলিমসমাজ। বাংলাদেশেও এর ব্যতিক্রম হচ্ছে না। কুরবানীর গোশত সকলে ভাগাভাগি করে খায়; পক্ষান্তরে কোরবানির চামড়া অথবা তার মূল্য এতিম গরীব অসহায়দের মাঝে বন্টন করে দেয়া হয়। বিশেষ করে অসহায়দের ভরণ-পোষণ ও শিক্ষা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান মাদ্রাসাগুলোতে মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এ চামড়া প্রদান করে থাকে।



    প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ !
    আপনারা নিশ্চয়ই খেয়াল করে থাকবেন কোরবানির অংশ ও গরিবের হক এই চামড়া নামমাত্র মূল্য দিয়ে কিভাবে লুটে নেয়ার চক্রান্ত দিনদিন বৈধতা পাচ্ছে এবং এই চক্রান্ত রুখে দাঁড়ানোর কার্যত কোনো পদক্ষেপ সরকারের পক্ষ থেকে গ্রহণ করা হচ্ছে না।

    প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ!
    ছোট একটি পরিসংখ্যান সামনে রাখলেই বিষয়টি আমাদের সামনে আরো পরিষ্কার হয়ে যাবে। ২০১৩ সালে সরকার নির্ধারিত দাম অনুযায়ী ঢাকায় প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত গরুর চামড়া ৮৫ থেকে ৯০ টাকা আর ঢাকার বাইরে ৭৫ থেকে ৮০ টাকা দরে কেনা হয়। সারাদেশে প্রতি বর্গফুট খাসির চামড়ার দাম ছিল ৫০ থেকে ৫৫ টাকা। ২০১৪ সালে প্রতি ফুট লবণযুক্ত গরুর চামড়া ৭০ থেকে ৭৫ টাকা আর ঢাকার বাইরে এ দর ছিল ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত খাসির চামড়ার দাম ৩০ থেকে ৩৫ টাকা। ২০১৫ সালে ঢাকায় প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত গরুর চামড়া ৫০ থেকে ৫৫ ও ঢাকার বাইরে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া প্রতি বর্গফুট খাসির লবণযুক্ত চামড়া ২০ থেকে ২২ টাকা নির্ধারণ করা হয়। ২০১৬ সালে গরুর লবণযুক্ত কাঁচা চামড়ার প্রতি বর্গফুটের সর্বনিম্ন দাম ছিল ৫০ টাকা। খাসির চামড়া প্রতি বর্গফুট ২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। ২০১৭ সালে প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়ার নির্ধারিত দাম ছিল ঢাকায় ৫০ থেকে ৫৫ ও ঢাকার বাইরে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। খাসির চামড়ার দাম সারাদেশে প্রতি বর্গফুট ২০ থেকে ২২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। আর ২০১৮ সালের জন্য প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দর ঠিক করে দেওয়া হয়েছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। আর খাসির দর ঠিক করে দেওয়া হয়েছে ১৮ থেকে ২০ টাকা। অর্থাৎ ছয় বছরে প্রতি বর্গফুট চামড়ার দাম কমানো হয়েছে ৪০থেকে ৪৫ টাকা। ভাবা যায়?

    প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ!
    ব্যবসায়ীরা এর অনেক কারণের কথা বলেছেন। বলছেন আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমে যাওয়ার কথা। আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়ার দাম সম্পর্কে ‘ইনডেক্সমুডি’ নামের একটি ওয়েবসাইটে দেখানো হয়েছে, ‘২০১৩ সালের জানুয়ারি মাসে গরুর চামড়ার প্রতি পাউন্ডের দাম ছিল ৮৬ সেন্ট। ২০১৪ সালে তা বেড়ে ১ ডলার ১৫ সেন্ট পর্যন্ত উঠেছিল। ২০১৫ সালে দাম কমতে শুরু করে। এখন চামড়ার দাম প্রতি পাউন্ড ৭০ সেন্ট। ( বাংলা ট্রিভিউন- ১০আগস্ট, ২০১৮)

    প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ!
    এই পরিসংখ্যান থেকে আমরা জানতে পেরেছি ২০১৪তে আন্তর্জাতিক বাজারে যখন চামড়ার মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছিল তখনও কিন্তু আমাদের দেশে চামড়ার মূল্য বৃদ্ধি করা হয়নি। তার পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়ার মূল্য কিছুটা কমলেও বাংলাদেশ কমে গেছে প্রায় অর্ধেক।

    প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ!
    আরেকটা বিষয় অভিজ্ঞতার আলোকে আমাদের প্রায় সকলের জানা যে, সরকার কর্তৃক ঘোষিত মূল্যের চেয়ে বাংলাদেশের মার্কেটে সবসময়ই একটু বেশি দামে চামড়া বেচাকেনা হয়; কিন্তু গত কয়েক বছর যাবত সরকার ঘোষিত মুল্যেও চামড়া বিক্রয় করা যাচ্ছে না। এর মানে সিন্ডিকেটের চামড়া ব্যবসায়ীদের পুরোপুরি দখলে চলে গেছে চামড়া বাজার।

    সাংবাদিক বন্ধুগণ!
    সিন্ডিকেটের ব্যবসায়ীরা একদিকে বলছে আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়ার মূল্য কম, অন্যদিকে আবার তারা চামড়া পাচার হয়ে যাওয়ার আশঙ্কার কথা বলছে। আমরা বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় দেখছি বাংলাদেশ থেকে যেন চামড়া পাচার না হতে পারে সেজন্য বিজিবিকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। আমাদের প্রশ্ন আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়ার মূল্য কম হলে বাংলাদেশ থেকে চামড়া পাচার হয়ে যাচ্ছে কেন?

    প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ!
    প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী গত বছর কোরবানি উপলক্ষে সারাদেশে এক কোটি পাঁচ লাখ-এর মতো গবাদি পশু বিক্রি হয়েছিল। আর এ বছর দেশের খামারগুলোতে কুরবানীযোগ্য পশু আছে প্রায় এক কোটি ১৬লাখ। এর মানে কুরবানির বরকতে বাংলাদেশের রয়েছে চামড়ার এক বিশাল বাজার। যে বাজার থেকে হাজারো কোটি টাকা আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে এ দেশের।
    অন্য এক পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, আগে চামড়া ও কোরবানির উচ্ছিষ্টাংশ দিয়ে যে পরিমাণ পণ্য তৈরি করা যেত এখন এসব কাঁচামাল দিয়ে পণ্য তৈরি হচ্ছে আরো পাঁচ গুণ বেশি। এবং উচ্ছিষ্টাংশ দিয়ে তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন ওষুধসহ মেডিক্যাল চিকিৎসারযন্ত্র।

    প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ!
    পোশাক শিল্পের পর আমাদের অর্থনীতিতে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় খাত চামড়াশিল্প। সম্ভাবনাময় চামড়াশিল্পের দ্রুত বিকাশের স্বার্থে কোরবানির চামড়া নিয়ে অসাধু বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে। না হয় মাদরাসা শিক্ষা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি খতিগ্রস্থ হবে চামড়া শিল্পও। এবং সরকারকে যৌক্তিক জায়গা থেকে চামড়ার মূল্য পুনরায় নির্ধারণ করতে হবে অনতিবিলম্বে।
    আর আমরা মনে করি, এসব অসাধু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপের পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা সময়ের দাবী।

    পরিশেষে, কওমী ফোরামের আহবানে সাড়া দেয়ার জন্য আপনাদেরকে আবারো ধন্যবাদ জানাই।
    আল্লাহ্‌ হাফেজ
    কওমী ফোরামের পক্ষে
    মুফতী সাখাওয়াত হুসাইন রাযী
    সমন্বয়ক, কওমী ফোরাম

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম