• শিরোনাম


    চাকুরির পাশাপাশি পার্ট-টাইম বিজনেস

    লিখেছেন: মাহবুব হাসান | ৩১ মে ২০২১ | ৮:০৯ অপরাহ্ণ

    চাকুরির পাশাপাশি পার্ট-টাইম বিজনেস

    আমরা যারা চাকুরীজীবি আছি কিংবা শিক্ষার্থী আমাদের প্রত্যেকের বাড়তি আয় রোজগার বাড়ানোর চিন্তা সবসময় মাথায় ঘুরপাক খায় সবসময় চিন্তা আসে কিভাবে আয় রোজগার বাড়ানো যায় অনেক সময় নানান পরিকল্পনা আসে আবার পরিকল্পনা গুলো বাছাই করাটা কঠিন হয়ে পড়ে। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পরিসরে নিজস্ব আইডিয়া, নিজস্ব চিন্তা আর মার্কেটিং পলিসি ব্যবহার করে আপনিও গড়ে তুলতে পারেন চাকুরী পাশাপাশি পার্ট-টাইম বিজনেস।

    আমরা মনে করি এইধরনের পার্ট-টাইম ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা নিজের পরিবার কে যেমন সহযোগিতা প্রসারিত করতে পারে পাশাপাশি এই সমাজ কে সমৃদ্ধ করতে পারে ।



    অনেক দিন সময় দিয়ে লেখাটা তৈরি করেছি। আশা রাখছি উপকৃত হবেন ।

    ধরুন আপনি সকাল ৯টা থেকে ৪টা পর্যন্ত অফিস করছেন, তার পরের সময়ে নিজ এলাকায় দোকান চালাচ্ছেন। আবার হতে পারে আপনার একটি সেলুন ব্যবসা আছে যেখানে আপনাকে সারাদিন থাকতে হয় না। অর্থাৎ পার্ট টাইম ব্যবসা বা সাইড ব্যবসা সব থেকে বড় গুন হচ্ছে অন্য কাজের পাশাপাশি ব্যবসা পরিচালনা করা।
    পার্ট টাইম বা সময়োপযোগী ব্যবসা এমন একটি আয়ের মাধ্যম যা আপনি ঘরে বসেই অত্যন্ত ক্ষুদ্র পরিসরে শুরু করতে পারেন । এমন কয়েকটি জনপ্রিয় পার্ট টাইম ব্যবসা নিয়েই আলোকপাত করব আজকের আলোচনায় । হাজার হাজার পার্ট-টাইম বিজনেসের আইডিয়া রয়েছে , সেগুলোর মধ্য থেকে জনপ্রিয় আইডিয়া গুলো নিচে দেয়া, যা বিজনেস লিজেন্ড উদ্যোক্তাদের গবেষণার ফসল। তবে আজকাল পার্ট-টাইম বিজনেস সহজতর হয়ে উঠেছে মোবাইল মার্কেটিং কিংবা ই-কমার্স বিজনেস জনপ্রিয়তার ফলে । হাতের মুঠো তে গড়ে উঠেছে প্রতিটি উদ্যোক্তার একটা করে “শপ।

    বেশ জনপ্রিয় পার্ট-টাইম বিজনেস আইডিয়া গুলো নিয়ে লেখাটা শুরু করা যাক, প্রত্যেকে প্রত্যেকের পছন্দনীয় একটা করে আইডিয়া নিয়ে কাজ করলে আমার লেখাটা সার্থক ।

    হ্যা, উল্লেখ যে, আমার মান্যবর, পরম শ্রদ্ধাভাজন গৌরিপুর মুন্সি ফজলুর রহমান
    সরকারি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক গোলাম কিবরিয়া খোন্দকার স্যার কে লেখাটা উৎসর্গ করছি, কারণ
    আর্টিকেল লেখার নানান কৌশল স্যারের নিকট শিখেছি । তাছাড়া স্যারের লেখা উচ্চ মাধ্যমিক ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা বই থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এই লেখায় সংযোজন করেছি ।

    নিম্নে গুরুত্বপূর্ণ পার্ট টাইম উদ্যোগঃ
    ➡️ স্টেশনারী কম্পিউটার কম্পোজ ও ফটোস্ট্যাট ব্যবসাঃ
    এই ব্যবসাটি বর্তমান সময়ে খুবই জনপ্রিয় মাঝারি মানের পুঁজিতে এই ব্যবসায়টি সহজে পরিচালনা করা যায় ।

    ➡️ গ্রাফিক্স ডিজাইনিংঃ
    সৃজনশীল দক্ষতা থাকলে সাথে কিছু অভিজ্ঞতা থাকলে আপনিও পার্ট-টাইম এই ব্যবসাটি করতে পারেন । সাথে ডিজাইন হাউসের মালিক হতে পারেন।

    ➡️ টিশার্ট ব্যবসাঃ
    বর্তমান আধুনিকতার যুগে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সময়োপযোগী ব্যবসা হলো টি-শার্ট ব্যবসা। বিশেষ করে তরুন ব্যবসায়ীদের কাছে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন ব্যবসা হিসেবে পরিগনিত হতে পারে ।

    ➡️ডিজিটাল_মার্কেটিংঃ
    বর্তমান ফেসবুকে কিংবা ইউটিউবে ডিজিটাল মার্কেটিং এর রমরমা অবস্থা। কিছুটা জানাশুনা থাকলে এই সেক্টরে পার্টটাইম বিজনেস দাড় করানো অসম্ভব কিছু নয় ।

    ➡️মগ প্রিন্ট ব্যবসাঃ
    মগ প্রিন্ট এর জন্য নির্ধারিত মেশিন কিনে অত্যন্ত সহজেই এ ব্যবসা আরম্ভ করা যেতে পারে । নিজের বাসগৃহ কিংবা ছোট দোকানেই জনপ্রিয় এ ব্যবসাটি শুরু করা যেতে পারে।

    ➡️ সাপ্লাই ব্যবসাঃ
    এটি পৃথিবীর সবচেয়ে পুরাতন ও সফল একটি ব্যবসাখাত। এটি একটি সম্ভাবনাময় ব্যবসা ক্ষেত্র। শুরু করার পরে সারা বিশ্বব্যাপী এ ব্যবসাটি বিস্তৃত করা যেতে পারে । গৃহস্থালীর নানা ব্যবহার্য্য পন্য এবং হাটবাজার মেলার বিভিন্ন পন্য সরবরাহ করে শুরু করা যেতে পারে এ ব্যবসা ।

    ➡️ গার্মেন্টস স্টক লটঃ
    গার্মেন্টস এর সাথে ভালো পরিচিত থাকলে আর কিছু পুঁজি থাকলে যোগাযোগ করার মাধ্যমে, বুদ্ধিমত্তার সাথে বিজনেসটি করতে পারলে ভালো মুনাফা পাওয়া সম্ভব। এই ব্যবসায় টিও পার্ট-টাইম বিজনেস হিসেবে পরিচালনা করা যায় ।

    ➡️ মাস্ক তৈরিঃ
    স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিবেচনায় এই ব্যবসায়টি বেশ জনপ্রিয় ।

    ➡️ ৯৯ গিফট শপঃ
    ক্ষুদ্র ইনভেস্টমেন্ট আর স¦ল্প পরিসরে জায়গা নিয়ে শুরু করা যেতে পারে এ ব্যবসা। বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পন্য, খেলনা, কসমেটিক্স, গহনা, থ্রী পিস, গিফট আইটেম ইত্যাদি নিয়ে প্রাথমিক ভাবে এ ব্যবসা শুরু করা যায়।

    ➡️ স্টুডিওঃ
    স্টুডিও ব্যবসার জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। অল্প সময়ে ছবি তোলা যায় বলে এটি একটি লাভজনক ব্যবসার খাত হিসেবে পরিচিত ।

    ➡️প্রিন্টিং প্রেসঃ
    অত্যন্ত সহজ ও লাভজনক হওয়ায় খুব সহজেই একটি প্রিন্টিং মেশিন দিয়ে শুরু করা যায় এ ব্যবসা। এটি খুব ক্ষুদ্র পরিসরেই শুরু করা যেতে পারে ।

    ➡️ লন্ড্রি শপঃ
    শহর এবং গ্রামাঞ্চলে সমানভাবে জনপ্রিয় এ ব্যবসা। তরুন ব্যবসায়ীদের জন্য দারুন সম্ভাবনাময় খাত এটি ।

    ➡️ ফ্যাশন হাউসঃ
    ফ্যাশন সচেতন তরুনদের কাছে খুব চ্যালেঞ্জিং একটি ব্যবসা খাত এটি । যে কোনো শপিংমল অথবা র্মাকেটে অল্প জায়গাতে সহজে শুরু করা যেতে পারে এ ব্যবসা ।

    ➡️ ফার্মেসি ব্যবসাঃ
    এটি অত্যন্ত সম্মানজনক ও প্রতিষ্ঠিত ব্যবসাক্ষেএ। এখানে কম পুঁজি বিনিয়োগ করে সহজেই লাভবান হওয়া যায়। এই ব্যবসা শুরু করতে হলে অভিজ্ঞতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

    ➡️ কম্পিউটার বেসড আইটি সেন্টারঃ
    একটি কম্পিউটার এবং নিরবিছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করে সহজেই এই লাভজনক ব্যবসাটি শুরু করা যেতে পারে। অতিক্ষুদ্র পুঁজিতেই এই ব্যবসা শুরু করা যায়।

    ➡️ কোয়েল পালনঃ
    অল্প পুজিঁ, ছোট পরিসরে জায়গা নিয়ে পারিবারিকভাবে শুরু করা যেতে পারে একটি কোয়েল ফার্ম। এটি অত্যন্ত লাভজনক একটি ব্যবসাক্ষেএ হিসেবে পরিচিত।

    ➡️ সবজী চাষঃ
    শরীরের পুষ্টির চাহিদা পূরণে শাকসবজির গুরুত্ব অপরিসীম। প্রাথমিক প্রশিক্ষন আর সল্প পুজিঁ নিয়ে পতিত জমিতে শাকসবজি উৎপাদন শুরু করা যেতে পারে। বাজারে চাহিদার নিরিখে বিভিন্ন শাকসবজি যেমন ফুলকপি, বাধাকপি, লালশাক, আলু ইত্যাদি চাষ করা যেতে পারে।

    ➡️ ইনডোর প্ল্যান্টঃ
    যারা প্রকৃতি কে ভালোবাসেন তাদের জন্য উপযোগী বিজনেস হচ্ছে এটা । আজকাল সৌখিন মানুষেরা এক টুকরো সবুজ ঘরের কোণায় কিংবা লনে, বারান্দায়, টেবিলে রাখার চেষ্টা করেন। ইনডোর প্ল্যান্ট আপসময়ের অবসর সময়ের বাড়তি আয়ের উৎস হতে পারে ।

    ➡️ কোচিং সেন্টারঃ
    স্কুল কলেজগামী ছাএছাএীদের জন্য কোচিং সেন্টার খুলে অত্যন্ত সহজ ও সম্মানিত এ পেশাটি গ্রহন করা যেতে পারে । এটি খুবই চ্যালেঞ্জিং একটি পেশা।

    ➡️ ড্রইং স্কুলঃ
    যদি আঁকা-আঁকির হাত ভালো থাকে, সৃজনশীল মেধা থাকে আর যদি বাচ্চাদের সাথে কাজ করার মননশীলতা থাকে তাহলে অল্প পুঁজিতে পার্ট-টাইম বিজনেস হিসেবে মন্দ নয় । দরকার কিছু জানান দেয়া আর অল্প কিছু উপকরন হলেই সাজিয়ে ফেলতে পারেন ” সুন্দর ড্রইং স্কুল”।

    ➡️ মিডিয়া ম্যানঃ
    সোশাল মিডিয়া কে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন কোম্পানি বা সংস্থাকে সাহায্য করে শুরু করা যেতে পারে এ ব্যবসা । এ ধরনের কাজগুলো যে কোন পেশার মানুষের জন্যই সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।

    ➡️ টাই ডাই,ব্লক-বাটিক,স্ক্রিনপ্রিন্ট:
    সময়ের প্রয়োজনে ফ্যাশন সচেতন জনগোষ্ঠীর রুচির দিকে মাথায় রেখে এই ব্যবসাটি পার্ট-টাইম বিজনেস হিসেবে যথেষ্ট জনপ্রিয় ।

    ➡️হ্যান্ডপ্রিন্টঃ
    পাঞ্জাবি, টি-শার্ট কিংবা বাচ্চাদের পোশাক, বিছানার চাদর, কুশন কাভার সহ ঘরোয়া যাবতীয় পণ্যে হাতে আঁকার চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই ধরনের কাজের রুচিশীলতা যেমন প্রকাশ পায় দেখতেও নান্দনিক ইউনিক হিসেবে বিবেচিত। এটাও আপনার পার্ট টাইম বিজনেস হতে পারে

    ➡️প্যাকেজিংঃ
    প্যাকেজিং বিজনেসের পরিধি দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এর কারণ বাজার, ক্রেতা,পন্য এই ৩ টি উপাদান দিন দিন পেয়েছে । পার্ট-টাইম বিজনেস হিসেবে এই সেক্টর মন্দ নয়।

    –মাহবুব হাসান
    উদ্যোক্তা, শিক্ষক ও ডিজাইনার
    📩 crafthasan@gmail.com
    📞 01888517518

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম