• শিরোনাম


    চট্টগ্রামে ধর্মীয় স্থাপনা সন্ত্রাসীদের থেকে পুনরুদ্ধারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা কাতার প্রবাসীর।

    কাতার প্রতিনিধি | ১৩ মে ২০১৯ | ৭:০৭ পূর্বাহ্ণ

    চট্টগ্রামে ধর্মীয় স্থাপনা সন্ত্রাসীদের থেকে পুনরুদ্ধারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা কাতার প্রবাসীর।

    চট্টগ্রামে ওয়াকফ করা জমি ও ধর্মীয় স্থাপনা সন্ত্রাসী দখলদারের হাত থেকে পুনরুদ্ধারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে কাতার প্রবাসী আলহাজ ওমর ফারুক।

    চট্টগ্রাম বায়েজিদ থানাধীন ওমর ফারুক আল ইসলামিয়া মাদ্রাসা ওয়াকফ করা জমি ও ধর্মীয় স্থাপনা সন্ত্রাসী দখলদারের হাত থেকে পুনরুদ্ধার ও দখলমুক্ত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ চেয়ে আল-আতিয়া নিজ প্রতিষ্ঠানে সংবাদ সম্মেলন করেছে কাতার প্রবাসী আলহাজ ওমর ফারুক। তিনি নিজের আয়ের বড় অংশ খরচ করে মসজিদ-মাদরাসা ও এতিমখানা পরিচালনা করে থাকেন।



    তিনি দাবি করেন,গত ১০ এপ্রিল ওই প্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষার্থীর আকস্মিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কাউন্সিলর কফিল উদ্দীন তার কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দেওয়ায় ঐ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে মাদরাসা মসজিদ দখল করে নেন।

    বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানে ২০০ এতিমসহ ৭৫০ জন ছেলে মেয়ে ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ করে আসছে। তাকে মেরে ফেলার হুমকি ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান পুনরুদ্ধারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে জোর দাবি জানান তিনি।

    খবর নিয়ে যানা যায় চট্টগ্রামে বায়েজিদ থানার অক্সিজেন অনন্য আবাসিক এর পাশে অবস্থিত জামিয়া ওমর ফারুক আল ইসলামীয়া ও জামিয়া আবু বকরর আছ-ছিদ্দিক মাদ্রাসা।

    ৮-১০বছর পূর্বে এ মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন এই কাতার প্রবাসী আলহাজ্ব ওমর ফারুক সওদাগর। তাঁর অর্থায়নে চলত মাদ্রাসাটি।
    বালক শাখার পাশাপাশি বালিকা শাখা ও দাওরায়ে হাদীস পর্যন্ত চালু রয়েছে। ১০মে খতমে বোখারীর আখেরী দরস প্রদান করেন শাইখুল হাদিস আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী।

    ৬তলা বিশিষ্ট শিক্ষাভবন, ৪তলা সুবিশাল মসজিদ সহ মহিলা বিভাগের আলাদা ক্লাসরুম ভবন নিয়ে এমাদ্রাসাটি।
    মাদ্রাসাটি পরিচালিত হয় কওমী মাদ্রাসার সিলেবাস অনুযায়ী। এলাকাবাসী বেদাত ও ভিন্ন আক্বীদার হওয়ায় মাদ্রাসা নিয়ে এলাকাবাসীর ষড়যন্ত্রের ছিল সর্বশী।

    মাদ্রাসা বন্ধ করে দেওয়া,মাইকে ওয়াজ নছিহত না করা,এমনকি মাইকে আযান না দেওয়ার হুমকি সহ মাদ্রাসা শিক্ষক- ছাত্রের উপর হামলা সহ হত্যার পরিকল্পনা ছিল তাদের নিত্যদিন।

    বিগত কয়েক বছর আগে মাদ্রাসাটির উপদেষ্টার দায়িত্বরত চট্টগ্রাম পটিয়া মাদ্রাসার মুহাদ্দিস হাফেজ যাকারিয়া আল আযহারি’কে ধরে নিয়ে হত্যা করতে চাইলে তিনি আকুতি-মিনতি করে প্রাণে বেচে আসেন।

    ১০এপ্রিল বুধবার রাতে মাদ্রাসার একটি ছাত্রের ঝুলন্ত লাশ পাওয়া যায়। হত্যা না আত্মহত্যা তা আইনি তদন্তের আগেই মাদ্রাসার শিক্ষক ছাত্রের উপরর পরেরদিন সকালে আতর্কিত হামলা করে এলকার কমিশনার কর্তৃক সন্ত্রাসীরা। ১৫-১৬জন শিক্ষক-ছাত্রকে গুরুতর আহত করে।

    এবং সেদিন ১১এপ্রিল বৃহস্পতিবার ২টার মধ্যেই সকলকে মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে যাওয়ার পুলিশের সামনে প্রকাশ্যয হুমকি দিয়ে যায়। জানের নিরাপত্তার শিক্ষরা পুলিশ থাকাকালীন সময়ে মাদ্রাসা থেকে বেরিয়ে আসে। আর ছাত্রদের অভিভাবকরা এসে তাদের সন্তানদের নিয়ে যায়। ফলে শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরিক্ষা দেওয়া হয়নি।এমনকি সরকারী কওমী স্বীকৃতি প্রাপ্ত হয়াতুল উলইয়ার অংশগ্রহন করা শিক্ষার্থীরাও বাদ পড়েছে পরিক্ষা দেওয়া থেকে।

    এদিকে পূরো ঘটনার বিবরণ দিতে থানায় মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষক অভিযোগ করতে গেলে হত্যা মামলার আসামী বলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে।

    ছাত্র-শিক্ষকের উপর হামলা করে মাদ্রাসা থেকে বের করে দিয়ে বর্তমানে মাদ্রাসাকে তারা দখলে নিয়েছে।এবং সবুজ পাগড়ীওয়ালা দাওয়াতে ইসলাম সুন্নী নামধারী ভন্ডরা এলাকার বেদাতীদের সহযোগীতায় মাদ্রাসার অবস্থান করে।

    গোপনসূত্রে জানা যায়, কমিশনার কফিল উদ্দীন খান মাদ্রাসার প্রতিষ্টাতা ওমর ফারুক সওদাগরে কাছে এককোটি টাকা চাঁদা দাবি করে।তা না হলে মাদ্রাসা করতে দিবেনা এবং মাদ্রাসাকে দখল থেকে ছাড়বেনা বলে হুমকি দেয়।

    রমযানের পূর্ব জুমায় চট্টগ্রাম আসন-৮ এমপি বাদলকে এনে কমিশনার সেসব ভন্ডদের দিয়ে মসজিদ মাদ্রাসা পরিচালিত হবে ঘোষনা করে নতুন করে উদ্ধোধন করে।মূলত পরবর্তী কোন সময়ে এ মাদ্রাসা যায়গা-সম্পত্তিগুলোকে নিজে দখল করার ষড়যন্ত্র করছে বলে জনমনে দাবী উঠে এসেছে।

    এরআগেও পার্শ্ববর্তী দারুল মারিফ মাদ্রাসার জসিম উদ্দীন নদভীর স্মরণ সভায় সাতকানিয়ার এমপি আবু রেজা নদভী আসেন।সেখানে এলাকার সে চাঁদাবাজ কমিশনারকে সুরাহার জন্য ডাকা হলে হামলাকারী সেসব গুন্ডাশান্ডাকে সাথে নিয়ে উপস্থিত হয়ে এমপি আবু রেজা নদভীর সামনে প্রথম দাবী উপস্থাপন করে মাদ্রাসার প্রধাণ উপদেষ্টা বানাতে হবে কফিল তথা সেই কোটিটাকার চাঁদাবাজকে।

    সম্পদ, যায়াগা-জমিগুলো দখল করার জন্যই বারবার মাদ্রাসা নিয়ে ষড়যন্ত্র করে আসছিল তারা।

    এরই পরিপ্রেক্ষিতে পরিস্কার বুঝা যায়, ঝুলন্ত লাশটির হাবিব যদি পরিকল্পিত হত্যা হয়,এরজন্য দায়ি কমিশনার কফিল ও তার সহযোগী গুন্ডাবাহীনিরা।অতচ প্রশাসনের নাগালে ক্ষমতার জোরে এখন একটি কওমী মাদ্রাসাকে দখল করে রাখছে সে চিহ্নিত চাঁদাবাজ।

    এমতাবস্থায় আইনি প্রক্রিয়াদি সহ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়েও মাদ্রাসাকে এখনো তাদের হাত থেকে রক্ষা করা যায়নি।

    Facebook Comments Box

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম