• শিরোনাম


    গৌরবের শতবর্ষ পূর্ণ করল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় [] মুফতি নুরুল্লাহ আল-মানসুর

    লেখক : মুফতি নুরুল্লাহ আল-মানসুর, সাংবাদিক ও কলামিস্ট | ০২ জুলাই ২০২১ | ১:৫৬ পূর্বাহ্ণ

    গৌরবের শতবর্ষ পূর্ণ করল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় [] মুফতি নুরুল্লাহ আল-মানসুর

    আজ ১ জুলাই গৌরবের শতবর্ষ পূর্ণ করল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
    সন্ত্রাস ও দুর্নীতি নিধনে তৈরি হোক প্রজন্ম ৷

    ১৯২১ সালে নিরানন্দ এক পরিবেশে কার্জন হলে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয়।
    উৎসবমুখর না হয়ে নিরানন্দ হওয়ার কারণটা ছিল রাজনৈতিক।
    শতবর্ষ পূর্তির মাহেন্দ্রক্ষণটাও নিতান্তই নিরানন্দময়।



    করোনা মহামারির দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে উৎসব উদযাপন নেই।
    কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাখো শিক্ষার্থীর চিত্তে চাঞ্চল্য টের পাওয়া যাচ্ছে ঠিকই। শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে প্রতিষ্ঠানটির বহুমাত্রিক বিষয় নিয়েই আলোচনা করা যায়।

    সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নবাব পরিবারের দান করা জায়গা-জমি নিয়ে বেশ বিতর্ক দেখা যাচ্ছে।
    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় নবাব পরিবারের অবদান আছে।
    কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬০০ একর ভূমি নবাব পরিবার দিয়েছিল ।
    ঢাকাকে নগরীর মর্যাদা দেয় প্রথমত মুঘলরা।
    ১৬০৮ সালে ঢাকায় প্রথম মুঘলদের পা পড়ে।
    ১৬১০ সালে সুবেদার ইসলাম খান চিশতি ঢাকায় বাংলার রাজধানী স্থানান্তর করেন।
    ঢাকা প্রথমবারের মতো রাজধানী হওয়ার গৌরব লাভ করে।
    তার আগে মুঘল সম্রাট আকবরের সময় বাংলার রাজধানী ছিল বিহারের রাজমহলে।
    ১৬১০ সালে ইসলাম খান চিশতি মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের নামানুসারে ঢাকার নামকরণ করেন জাহাঙ্গীরনগর।
    রমনা এলাকা ওই সময়েই গড়ে ওঠে।

    বাংলা মুঘলদের কাছে ছিল একটি সুবা।
    সুবা মানে প্রদেশ। ডাকা হতো সুবা বাংলাহ বলে।
    এর প্রধানকে বলা হতো সুবাদার। ব্রিটিশ আমলে যেমন ছিল গভর্নর।
    ১৭১৭ সালে মুর্শিদ কুলি খাঁন ঢাকা থেকে রাজধানী সরিয়ে নেন বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে।
    ইংরেজরা শাসন ক্ষমতায় আসার পর কলকাতা রাজধানী হলে ঢাকা গুরুত্ব হারায়।
    যদিও কলকাতার চেয়ে অনেক পুরনো শহর ছিল ঢাকা।

    অনেক অনেক বছর পর ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের সময় লর্ড কার্জন প্রশাসনিক সংস্কার করলে ঢাকার গুরুত্ব আবার বাড়ে।
    এ সময় বর্তমান ঢাকা মেডিকেল কলেজকে তৎকালীন পূর্ব বাংলা ও আসাম প্রদেশের সেক্রেটারিয়েট ভবন হিসেবে নির্মাণ হয়।
    প্রায় একই সময়ে নির্মিত হয় কার্জন হল।
    পূর্ববঙ্গ ও আসামের গভর্নর স্যার ব্যামফিল্ড ফুলারের বাসভবন হিসেবে বর্তমান হাইকোর্ট ভবন নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়।
    যদিও নিরাপত্তা অজুহাত দেখিয়ে ছোট লাট এখানে বাস করেননি।
    ঢাবির ভিসি চত্বর থেকে পলাশী যেতে ‘ফুলার রোড’ও তারই স্মৃতিচিহ্ন বহন করে।
    হাইকোর্ট ভবন প্রাদেশিক পরিষদের জন্য নির্ধারিত হয়।
    কিন্তু প্রাদেশিক পরিষদের কোনো অধিবেশনও সেখানে বসেনি।
    মূল ঢাকার উত্তরে বিস্তীর্ণ এ অঞ্চল ছিল জঙ্গলাকীর্ণ। এমনকি ত্রিশের দশকে লেখক বুদ্ধদেব বসুর বর্ণনায় যে ঢাকা পাওয়া যায় সেখানেও এ বিস্তীর্ণ অঞ্চল ছিল অনাবাদী ও বসতিহীন।

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম