• শিরোনাম


    গোয়াইনঘাট উপজেলা চেয়ারম্যানের জনসেবা, উন্নয়ন ও সফলতার ১ বছর

    এম এ. রহিম রাজ, গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রতিনিধি | ১৮ মার্চ ২০২০ | ৫:২৩ অপরাহ্ণ

    গোয়াইনঘাট উপজেলা চেয়ারম্যানের জনসেবা, উন্নয়ন ও সফলতার ১ বছর

    আজ ১৮ই মার্চ সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলা চেয়ারম্যান জনাব মোহাম্মদ ফারুক আহমদের দায়িত্ব প্রাপ্তির ১ বছর পূর্ণ হলো। তিনি তার একবছরের উজনসেবা উন্নয়ন ও সফলতার গল্প তুলে ধরেছেন এক প্রেস ব্রিফিংয়ে, আমরা তার বক্তব্যটি হুবহু তুলে ধরেছি।

    আচ্ছালামুআলাইকুম/ আদাব
    সুপ্রিয় গোয়াইনঘাট বাসী, আজ আমার উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার ০১ (এক) বছর র্পূণ হলো। এই ০১ (এক) বছরে আপনাদের সেবা কতটুকু দিতে পেরেছি এ বিচার আপনাদের উপর ন্যস্ত। এক বছরে যে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে তা একমাত্র সম্ভব হয়েছে মাননীয় মন্ত্রী জনাব ইমরান আহমদ এমপি মহোদয়ের আন্তরিক সহযোগিতা ও সদিচ্ছায়, এজন্য মাননীয় মন্ত্রীকে ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানাই।



    ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই মাননীয় প্রধান মন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে, যার সুযোগ্য নেতৃত্বে দেশ একটি উন্নত দেশের দিকে ধাবিত হচ্ছে। ধন্যবাদ জানাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সকল বিভাগীয় কর্মকর্তাদের।
    ধন্যবাদ জানাই উপজেলা পরিষদের সম্মানিত ভাইস চেয়ারম্যানদ্বয়কে এবং ইউনিয়ন পরিষদের সকল চেয়ারম্যান বৃন্দকে তাদের আন্তরিক সহযোগীতার জন্য।
    ধন্যবাদ জানাই, বিভিন্ন প্রবাসী সংগঠনকে যারা তাদের ঘাম ঝরা টাকা দিয়ে গোয়াইনঘাটের অসহায় ও আর্তপীড়িত মানুষের সেবা দিয়ে যাওয়ার জন্য।

    ০১ (এক) বছরের উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম আপনাদের সদয় অবগতির জন্য তুলে ধরছি।
    দায়িত্ব গ্রহণরে সাথে সাথে বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে এর মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী (এডিপি) এর আওতায় প্রায় ২ কোটি ৬৪ লক্ষ টাকার উন্নয়ন প্রকল্প চলমান রয়েছে।
    অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচী (ইজিপিপি) এর আওতায় প্রায় ৫২ লক্ষ টাকার প্রকল্প বিভিন্ন ইউনিয়নে বাস্তবায়নাধীন রয়েছে এবং গ্রামীন অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ এর আওতায় (টি আর, কাবিখা/কাবিটা ও সোলার নন সোলারসহ মোট ৪৪,৬৯,৬২৩ টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।

    উপজেলা পরিচালন ও উন্নয়ন প্রকল্প (ইউজিডিপি) এর আওতায় সক্ষমতা বৃদ্ধি বষিয়ক ১০ লক্ষ টাকার প্রশিক্ষণ চলমান এবং অবকাঠামো উন্নয়নে ইতোমধ্যে ৩০ লক্ষ টাকার অবকাঠামো কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং বিভিন্ন বিদ্যালয়ে ১০ লক্ষ টাকার ডিজিটাল পাঠদানের উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। আরো ৪০ লক্ষ টাকার প্রকল্প প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে এবং শিঘ্রই সক্ষমতা বৃদ্ধি বিষয়ক প্রশিক্ষণের জন্য আরো ১০ লক্ষ টাকার প্রস্তাব প্রেরণ করা হবে।
    ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে মোট প্রায় ৪ কোটি ৬১ লক্ষ টাকা সরকারি বিধি অনুযায়ী ০৯ টি ইউনিয়নের মধ্যে বিভাজন করা হয়েছে।

    আশা করি আগামী জুন/২০২০ খ্রি. এর মধ্যে সকল প্রকল্প দৃশ্যমান হবে।
    ইতোমধ্যে বেকার প্রশিক্ষিত নারীদের মধ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ ও সুপেয় পানির জন্য জনসাধারণের মধ্যে নলকূপ সরবরাহ করা হয়েছে।
    ক্যান্সার,কিডনি,লিভার সিরোসিস ও প্যারালাইজড ১২জন রোগীদের উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে ৫০হাজার টাকা করে ৬ লক্ষ টাকা প্রদান করা হয়।
    দায়িত্ব গ্রহণের সাথে সাথে একটি বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেছি যা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের আওতাধীন Paid peer Volunteer নিয়োগ। এ নিয়োগে শিক্ষিত বেকার ৮১জন নারীর কর্মসংস্থান হয়েছে যা বর্তমান সরকারের একটি বড় সাফল্য, এজন্য মাননীয় প্রধান মন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে আবারও ধন্যবাদ জানাই ।
    এ স্বল্প সময়ের মধ্যে সাধ্যমত চেষ্টা করেছি জনগণের সেবা দেয়ার , শারীরকি অসুস্থতার কারণে চিকিৎসা নিতে মাত্র এক মাসের জন্য আমেরিকা ও সিঙ্গাপুর গিয়েছিলাম।

    আমার নির্বাচনী ওয়াদা ছিল বছরে একবার চিকিৎসা/পরিবারের সদস্যদের সাথে দেখা করার জন্য দেশের বাহিরে যাবো এবং কথা দিয়ে ছিলাম, আমি উপজেলা সদরে থেকে সাধ্যমত আপনাদের সেবা নিশ্চত করব, আমি আপনাদের সাথে করা ওয়াদা অনুযায়ী উপজেলা কমপ্লেক্সের মধ্যে অবস্থান করে সাধ্যমত সেবা দিয়ে যাচ্ছি এবং বছরে একবার দেশের বাইরে যাচ্ছি।
    আপনারা নিশ্চয় লক্ষ্য করেছেন প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়ন ও মান সম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য প্রতিদিন বিভিন্ন বিদ্যালয় পরিদর্শন অব্যাহত রাখছি এবং ২০১৯-২০২০ অর্থ বছররে বাজেটে শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখা হয়েছে যাতে গোয়াইনঘাটে শিক্ষার মান বৃদ্ধি পায় ।

    দায়ত্বি গ্রহণের সাথে সাথে প্রকৃতি কন্যা জাফলং ও বিছনাকান্দি কে রক্ষা করা এবং পরিবেশ বিধ্বংসী বোমা মেশিন ও অবৈধ ড্রেজার মেশিন বন্ধের জন্য জেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় বার বার উত্থাপন করা হয় এবং জেলা প্রশাসক ও এসপি মহোদয় বিষয়টি আমলে নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করায় সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।
    বিশেষ করে জাফলং এবং বিছনাকান্দি পাথর কোয়ারি ম্যানুয়েল পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকার কারণে হাজার হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে যা জেলা আইন শৃংখলা কমিটির সভা সহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে বারবার উত্থাপন করি এবং সবিশেষ সরকারের প্রভাবশালী কয়েকজন মাননীয় মন্ত্রীদের সাথে সাক্ষাৎ করে বিষয়টি অবহিত করি।
    আমি আশা করি আগামী চার বছরের মধ্যে মাননীয় মন্ত্রী জনাব ইমরান আহমদ এমপি মহোদয়ের সহযোগিতায় গোয়াইনঘাটের যোগাযোগ ও শিক্ষা খাতে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে।
    সর্বোপরি বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বিনির্মানে তাঁরই সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ভিশন ২০৪১ বাস্তবায়নে আমরা আমাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করি।
    বর্তমানে সারা বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের আক্রমন থেকে বেঁচে থাকার জন্য জনসচেতনতা এবং সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য গোয়াইনঘাটবাসীকে আহবান জানাই এবং মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি আল্লাহ যেন এ মহাবিপদ থেকে আমাদের রক্ষা করেন।
    আপনাদের আন্তরিক সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করে আজকের মত শেষ করছি। “জয় বাংলা”

    মোহাম্মদ ফারুক আহমদ
    চেয়ারম্যান
    উপজেলা পরিষদ
    গোয়াইনঘাট, সিলেট।

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম