• শিরোনাম


    গণতন্ত্রের বিজয় মানেই ছাত্রদলের বিজয়: রাজিব আহসান চৌধুরী পাপ্পু

    | ১০ মার্চ ২০১৯ | ১:২২ অপরাহ্ণ

    গণতন্ত্রের বিজয় মানেই ছাত্রদলের বিজয়: রাজিব আহসান চৌধুরী পাপ্পু

    মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যোগ্য নেতৃত্ব সৃষ্টির লক্ষ্যে ১৯৭৯ সালের ১লা জানুয়ারি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠা করেন। শিক্ষা ঐক্য প্রগতিকে বুকে ধারণ করে সদ্য জন্ম নেওয়া ছাত্রদল ডাকসু নির্বাচনে বিজয়ী হতে পারবে না জেনেও বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা রাষ্ট্রনায়ক জিয়াউর রহমান ১৯৭৯-৮০, ১৯৮০-৮১ বৎসরে পরপর দুটি ডাকসু নির্বাচনে শতভাগ সুষ্ঠু নির্বাচন হতে সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখেন।

    এই দুটি ডাকসুতে প্রথমটিতে জাসদ ছাত্রলীগ ও পরবর্তীতে বাসদ ছাত্রলীগ থেকে ভিপি পদে চাকসুর সাবেক জিএস মাহমুদুর রহমান মান্না ও জিএস পদে আক্তারুজ্জামান বিজয়ী হন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৮১-৮২ বৎসরেও ডাকসু নির্বাচন হয়। এই নির্বাচনেও ভিপি পদে আক্তারুজ্জামান ও জিএস পদে জিয়া উদ্দিন বাবলু বিজয়ী হয়। রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সুযোগ থাকা সত্ত্বেও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ডাকসুর ভোটারদের সম্মান দেখিয়ে পরাজয়কে মেনে নেওয়ার শিক্ষা দিয়েছিলেন মেধাবী ছাত্রদের সর্বোচ্চ সম্মান জানানো রাষ্ট্রনায়ক জিয়াউর রহমান।



    বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা শহীদ জিয়া শিশু একাডেমি, প্রথম শিশু হাসপাতাল, জিয়া শিশু পার্ক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শিশু বান্ধব বাংলাদেশের আলোকে মেধাবী ছাত্রদের হাতে আলোকিত বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেখতে পেয়েছিলেন। তাই তিনি ডাকসু সহ বাংলাদেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন করতে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছিলেন।

    ডাকসু সহ সকল ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সাধারণ ছাত্রদের নয়নের মণি শহীদ জিয়ার উদারতার ফলস্রুতিতে দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়ার যোগ্য নেতৃত্বে ১৯৯০-৯১ এর ডাকসু নির্বাচন সহ বাংলাদেশের প্রায় সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়। এই ছাত্রদলের সুযোগ্য নেতৃত্বে দীর্ঘ স্বৈরতান্ত্রিক সরকারের পতন সংগঠিত হয়।

    সুদীর্ঘ ২৮ বছর পর এমন একটি সময়ে ডাকসু নির্বাচন হতে যাচ্ছে। যে সময়টি বাংলাদেশের চরম ক্রান্তিকালীন সময়। কেননা গত ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করে আওয়ামী নেতৃত্বাধীন জোট ক্ষমতা কুক্ষিগত করেছে। এরই ফলে জনগণ নির্বাচন মানেই তামাশা মনে করে ভোট দানে বিরত থাকছে। সর্বশেষ ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনেও এর বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।

    জনগণের ভোটাধিকারের পাশাপাশি জান মালের নিরাপত্তা না থাকা সত্ত্বেও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমানের নির্দেশে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ডাকসু নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে শুধুমাত্র অবরুদ্ধ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে। বর্তমান ফ্যাসিষ্ট সরকারের প্রকৃত চেহারা ৩০ ডিসেম্বরের ন্যায় ভোট ডাকাতির আরেকটি নমুনা দেশবাসীর সামনে উন্মোচিত করার জন্য। সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের বিবেককে জাগিয়ে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের গৌরব ফিরিয়ে আনার জন্য। সর্বপরি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার যথোপযুক্ত পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য।

    স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলন ছাত্রদলের নেতৃত্বে সফল হয়েছে। অবৈধ ফখরুদ্দীন মইনুদ্দিন ছাত্রদলের নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংগঠিত ছাত্র বিক্ষোভে ভীত হয়ে ক্ষমতা ছেড়ে পালিয়েছে। সর্বশেষ ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী সরকারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে গিয়ে ছাত্রদলের অগণিত নেতাকর্মী খুন গুম নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। তবুও শহীদ জিয়ার গড়া ছাত্রদল বীরদর্পে সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছে। প্রতি মুহূর্ত মৃত্যুর সাথে হেঁটে হেঁটে ছাত্রদলের প্রতিটি নেতাকর্মী দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়া ও দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে কাজ করে যাচ্ছে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি মেধাবী মুখ বিশ্বাস করে, গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার ব্যতীত ছাত্র জনতার অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে না। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি সময়ের শ্রেষ্ঠ দাবী। তাই বাংলাদেশ রক্ষার আন্দোলনকে বেগবান করতে ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের বিজয় অপরিহার্য।

    দেশপ্রেমিক প্রতিটি নাগরিক বিশ্বাস করে, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে ডাকসুতে ছাত্রদলের ” মোস্তাফিজ-অনিক-সোহেল ” প্যানেল বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে বাংলাদেশের প্রকৃত স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবে, ইনশাল্লাহ্।

    লেখক : রাজিব আহসান চৌধুরী পাপ্পু, এমফিল (শেষ পর্ব) সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। সহ সাধারণ সম্পাদক, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ।

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম