• শিরোনাম


    খোদাইকৃত ক্যালিগ্রাফি শিল্পী আবু সোহরাব সরদার (মিস্টার)

    সাক্ষাৎকার গ্রহণ : সাজিদুল ইসলাম সাজিদ , স্টাফ রিপোর্টার | ০৫ মার্চ ২০২১ | ৫:৩০ অপরাহ্ণ

    খোদাইকৃত ক্যালিগ্রাফি শিল্পী  আবু সোহরাব সরদার (মিস্টার)

    ক্যালিগ্রাফি প্রেমী আবু সোহরাব সরদার (মিস্টার)। ছেলে একদিন অনেক বড় লোক হবে সেই আশায় বাবা শখ করে নাম রেখেছিলেন মিস্টার। তাইতো ছেলে বাবার সেই আশা পূরণ করতে পাড়ি জমান বিদেশে। মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর এ দীর্ঘদিন কাজ করে বাবার সেই আশাটা পূরণ করেন ঠিকই । কিন্তু বাড়িতে এসে তাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখা সেই বাবাকে আর খুঁজে পাননি। বাবা’র অবর্তমানে দেশে পাঠানো অর্থের হিসাবটাতেও দেখা দেয় অনেক অমিল। সবকিছু মেনে নিয়ে নতুন করে সংসার বাঁধেন। আবার সামনে এগুতে চান। বেশকিছু প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করতে গিয়ে সেখানেও বড় ধরনের লোকসানে পড়েন।

    অনেক বিপদের মাঝে নিজেকে টিকিয়ে রাখতে আবার পাড়ি জমান ইরাকের বাগদাদে । কিন্তু সেখানে গিয়ে যুদ্ধের কবলে পড়ে কারবালায় ঠাই নেন। এখানেও একি অবস্থায় পড়েন। জীবন বাঁচাতে পার্শ্ববর্তী দেশের রোহিঙ্গা শিবিরে আশ্রয় নেন। সেখানে কিছুদিন থেকে এক লোকের মাধ্যমে তুরস্ক চলে আসেন এবং এখানেই ক্যালিগ্রাফির এক প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্ন কর্মী হিসেবে নিয়োগ মেলে। শুরুতে ক্যালিগ্রাফি তৈরীর মেশিনগুলো মোছামুছির কাজে নিয়োজিত থাকলেও ক্যালিগ্রাফি তৈরীর নেশা একটা সময় মাথায় চেপে বসে। কাজের শেষে ফেলে দেয়া পরিত্যাক্ত কাঠের টুকরো থেকে নিজেও ছোট ছোট ক্যালিগ্রাফি করতে শুরু করেন। কিছুদিনের মধ্যে তার কাজের দক্ষতা দেখে সেই প্রতিষ্ঠানে ক্যালিগ্রাফার হিসেবে কাজ মিলে যায়। তার তৈরীকৃত কাঠের ক্যালিগ্রাফিগুলো তুরস্কের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শোভা পেতে থাকে। স্বপ্ন দেখেন দেশে ফিরে একটা স্কুল আর ক্যালিগ্রাফি শিল্প নিয়ে কাজ করার। মাঝখানে কেটে যায় পাঁচটি বছর। এই দীর্ঘ সময়ে বেশ কয়েক ভাষায় ক্যালিগাফি করার বিষয়টা রপ্ত করে ফেলেন। কাচ, বাঁশ, বেত, কাঠ কোন কিছুই যেন বাদ নেই তার হাত থেকে। সবকিছুই যেন হয়ে উঠে জীবন্ত খোদাইকৃত ক্যালিগ্রাফি।



    ২০০৬ সালে দেশে ফিরে প্রতিষ্ঠা করেন বাঁশ,কাঠ,বেত,কাচ দিয়ে খোদাইকৃত ক্যালিগ্রাফি তৈরির প্রতিষ্ঠান। প্রতিবন্ধীদের জন্য ব্যতিক্রমী একটি স্কুল ও গড়ে তোলেন। দেশের মাটিতে ক্যালিগ্রাফি শিল্পের ব্যাপক প্রচার ও প্রসারে বিভিন্ন মাহফিল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও বিভিন্ন গন্যমান্য ব্যক্তিদের উপহার দিতে থাকেন তার তৈরী খোদাইকৃত ক্যালিগ্রাফিগুলো। খোদাইকৃত ক্যালিগ্রাফির প্রতি মানুষের আগ্রহ সৃষ্টিতে ক্যালিগ্রাফির প্রয়োজনীয় দিকগুলো নিয়ে অনেক পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও সফলতার মুখ দেখতে পারেন নি। গ্রামের প্রত্যন্ত এলাকায় গড়ে উঠা তার শিল্প আজ ধ্বংসের পথে। তার তৈরীকৃত ৩০হাজারেরও অধিক খোদাইকৃত আরবি ক্যালিগ্রাফি অযত্ন আর অবহেলায় পরে আছে তার কারখানায়। অজো পাড়াগাঁয় থাকেন বলে তার স্বপ্নের শিল্পটা সেভাবে মেলে ধরতে পারননি আর সবার মতো। তারপরেও কাজ করে যাচ্ছেন।

    দিনের বেলা স্কুলে সময় কাটান আর রাতভর করেন খোদাইকৃত ক্যালিগ্রাফির কাজ। প্রথম দিকে লোক লাগিয়ে কাজ করলেও, তাদের মজুরি দিতে না পারায় এখন একাই করেন কাজ। অভাব অনটনের মাঝেও এক রাশ উচ্ছ্বাস নিয়ে কাঠের গুঁড়া লাগা চশমাটা মুছতে মুছতেই কাজ করে চলেছেন । স্বপ্ন তার অনেক । তার তৈরীকৃত ক্যালিগ্রাফিগুলো একদিন বিক্রি হবে, সেই অর্থ দিয়ে প্রতিবন্ধী স্কুলটা আবার সচল করে তুলবেন। এসব ভাবতে ভাবতেই নিজের অজান্তেই চশমার ফ্রেমের নিচ দিয়ে গড়িয়ে পড়ে অশ্রু।

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম