• শিরোনাম


    ক্ষণজন্মা এক মহাপুরুষ আল্লামা জুবাইর আহমদ আনসারী রহ. -মুফতি ছালেহ বিন আব্দুল কুদ্দুস

    মুফতি ছালেহ বিন আব্দুল কুদ্দুস, অতিথি লেখক | ১৯ এপ্রিল ২০২০ | ৫:১০ পূর্বাহ্ণ

    ক্ষণজন্মা এক মহাপুরুষ আল্লামা জুবাইর আহমদ আনসারী রহ. -মুফতি ছালেহ বিন আব্দুল কুদ্দুস

    বাংলাদেশের ইতিহাসে ওয়াজ-নসীহতের মাধ্যমে যারা সামাজিক বিপ্লব সৃষ্টি করেছেন, তন্মধ্যে আল্লামা হাফেজ জুবাইর আহমদ আনসারী রহ. অন্যতম। দেশ-বিদেশের বাংলাভাষী অসংখ্য মুসলমান আগ্রহভরে তাঁর তাফসীর শুনতেন। তাঁর মাহফিলে শ্রোতাদের অন্যরকম ভাবাবেগ লক্ষ্য করা যেত। আল্লাহ তাআলা তাঁর মধ্যে মানুষকে সহজে কুরআন-হাদীস বোঝানোর যোগ্যতা দান করেছিলেন। সুমিষ্ট কণ্ঠস্বর ছিলো তাঁর। মন উদাস করা কন্ঠ দিয়ে মানুষকে দাওয়াত দিতেন কুরআনের দিকে। ইসলামের মনগড়া ব্যখ্যা, সুরের তালে মিথ্যার ফুলঝুরি- এসব কিছুই তাঁর ওয়াজে ছিলনা। তিনি আধুনিক সময়ের বক্তাদের সম্পর্কে আফসোস করে বলতেন, ‘বানানো কিচ্ছা-কাহিনী বলার কি দরকার আছে? কুরআন-হাদিসে এত বেশি কাহিনী আছে, সেগুলো বলতে বলতে একজন মানুষের সারা জীবন চলে যেতে পারে।’ প্রচলিত ওয়াজব্যবসা থেকে তিনি যোজন যোজন দূরে ছিলেন। অনেক মাদ্রাসায় ওয়াজ করে হাদিয়া আনা তো দূরের কথা, উল্টো গরিবী হালত দেখে টাকা দিয়ে আসতেন। অহেতুক বিতর্ক সৃষ্টি তাঁর নিতান্ত অপছন্দের ছিলো। দীর্ঘদিনের এই পথচলায় বয়ানের ময়দানে কোনও বিতর্ক তৈরি হয়নি তাকে নিয়ে। সকল মত ও পথের মানুষকে কাছে টানার এক অদ্ভুত যোগ্যতা ছিলো তাঁর। সদা হাস্যোজ্জ্বল ব্যক্তিটি সবার প্রিয়পাত্র ছিলেন। সমাজ সংশোধনের মতো মহান কাজ এমন মানুষের দ্বারাই সম্ভব।
    কবি সুন্দর বলেছেন,
    যুগ-যামানা পাল্টে দিতে চায় না অনেকজন/
    এক মানুষই আনতে পারে জাতির জাগরণ।।

    সর্বপ্রকার বাতিলের প্রতিরোধ এবং প্রতিটি দ্বীনী আন্দোলনে আনসারী সাহেব অগ্রণী ভূমিকা পালন করতেন। বিশেষ করে ২০১৩ সালের নাস্তিক-মুরতাদবিরোধী আন্দোলনে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। তখন আমি জামিয়া ইউনুসিয়ায় পড়ি। স্পষ্ট মনে আছে, বি-বাড়িয়া শহরের গণজাগরণ মঞ্চের পাশে অনুষ্ঠিত এক মাহফিলে তিনিই সর্বপ্রথম ব্লগার রাজীবের বিরুদ্ধে সিংহের গর্জন দেন। সেদিন দেখেছিলাম তাঁর ঈমানী তেজ! আর ৫মে’র ভয়াল রাতে শাপলা চত্বরে তাঁর ঈমানজাগানিয়া বক্তব্যের কথা তো সবারই জানা।।



    দরস-তাদরীস তথা অধ্যাপনাতেও তিনি আজীবন জড়িয়ে ছিলেন। তাঁর জীবনের এক মহান কীর্তি নিজের প্রতিষ্ঠিত মাদরাসা জামিয়া রাহমানিয়া বেড়তলা। দাওরায়ে হাদীস পর্যন্ত পাঠ্যক্রম নিয়ে সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হচ্ছে এই জামিয়া। এই বিশাল সদকায়ে জারিয়ার সওয়াব হযরতের কবরে পৌঁছতেই থাকবে, ইনশাআল্লাহ।।

    আজ থেকে চার বছর আগে আনসারী সাহেব রহ. অসুস্থতার সময় আমেরিকায় চিকিৎসা শেষে দেশে আসলে মাওলানা শামসীর হারুনুর রশীদ তাঁর একটি সাক্ষাৎকার নেন। ইসলামী সাময়ীকী মাসিক আল-ফুরকানে তা “রোগাক্রান্ত মাওলানা আনসারীর মুখোমুখি একদিন” শিরোনামে প্রকাশিত হয়। হযরতের জীবনের কিছু দিক সেখানে ফুটে ওঠায় প্রসঙ্গক্রমেই পাঠকের উপকারার্থে সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হলো। মূল লেখাটিতে ভাষাগত কিছু অসংগতি থাকায় ঈষৎ সম্পাদনা করেই উল্লেখ করা হলো :
    “ ওয়াজ-তাফসীর বর্তমানে একটি মহান পেশা। এ পেশার প্রতি জনসাধারণের রয়েছে দূর্বলতা। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এটাকে একটি শিল্প বলাই ভালো। তাতে যেমন আছে ঝুঁকি, তেমন আছে সম্মান ও রোমাঞ্চ। এ জগতের বিখ্যাত মিষ্টভাষী বক্তা বললেই বাংলার আপামর তৌহিদী জনতার কাছে একটি নাম ভেসে উঠে- মুফাসসিরে কুরআন হাফিজ মাওলানা জুবায়ের আহমদ আনসারী। বাংলার লক্ষ-লক্ষ মানুষ তাঁর মিষ্টি-মধুর,ভরাট কণ্ঠে তাফসীর শুনে অধীর আগ্রহে। বিশেষ করে তরুণ সমাজে খুব কাছের প্রিয় এই বক্তা দীর্ঘদিন থেকে অসুস্থ। তাফসীর জগত থেকে হঠাৎ তাঁর জীবিত বিদায় কেউ যেন মেনে নিতে পারছেন না। ভক্ত মহলের অনেকেই বিভ্রান্তও হচ্ছেন! এমন পরিস্থিতিতে তিনি আমেরিকায় চিকিৎসা শেষে জুনের শুরুতে দেশে আসেন। গত ২৩ শে জুন রাতে আমি শামসীর হারুনুর রশীদ ও তরুণ দুই বন্ধু মারুফ আহমদ মুন্না ও আব্দুর রাজ্জাক মোরশেদ তাঁর মুখোমুখি হই। নানা প্রশ্নোত্তরে তাঁর সাথে জড়িয়ে যাই। এটাকে সাক্ষাতকারই বলা যেতে পারে। সালাম-মুসাফাহা শেষে তাঁর কাছে প্রথমে জানতে চাই :
    শামসীর: ইসলামি শিক্ষার ওপর কোথা থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রী নিয়েছেন এবং তাফসীর জগতে কবে থেকে আসেন?
    আনসারী: আমি কওমি মাদ্রাসা শিক্ষার ওপর জামেয়া হুসাইনিয়া গহরপুর সিলেট থেকে দাওরায়ে হাদীস তথা মাষ্টার্স পাশ করি। আর আজ থেকে ২৬ বছর আগে অর্থাৎ নব্বই দশক থেকে তাফসীর মাহফিলে যোগ দিতে শুরু করি। আল্লাহর শোকর, প্রতি বছর ৭/৮ হাজার প্রোগ্রামের আবেদন আসে, তা থেকে বেছে বেছে প্রায় সাড়ে ৫শত প্রোগ্রাম করি। কোনো কোনো দিন ৭/৮ টাও করতে হয়।
    শামসীর: টাইটেল পাশ করে মাওলানারা সাধারণত শিক্ষকতায় যোগ দেন। তো আপনি তাফসীর জগতে কি করে আসলেন, কারো কি উৎসাহ পেয়েছিলেন?
    আনসারী: শিক্ষকতাও করেছি, তবে তাফসীর জগতে আমি আমার প্রিয় দুই উস্তাদ মাওলানা তাজুল ইসলাম গৌহরী রহ. ও মাওলানা আব্দুল খালিক বাহুবলীর তত্ত্ববধান ও উৎসাহে আসি। তাদের দু’জনের সুহবতে চার বছর করে আট বছর ছিলাম। আর এটাই আমার মহান পুঁজি বলে বিশ্বাস করি।
    শামসীর: আপনি যে হঠাৎ জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে গেলেন তা কবে থেকে এবং কোথায়?
    আনসারী: হঠাৎ নয়, আজ থেকে ৩৬ বৎসর আগে ছাত্র থাকাবস্থায় এ রোগটা আমার গালে ধরা পড়ে। গলা বা কণ্ঠে কোনো সমস্যা ছিল না, এখনো নেই। দেশের বিভিন্ন জায়গায় বার বার চিকিৎসা করিয়েছি, তাতে সাময়িকভাবে সুস্থ হলেও আবার বেড়ে যেত। আর রোগটা মারাত্মক আকার ধারণ করে ২০১৪ সালে।
    শামসীর: বিদেশে চিকিৎসা নেয়ার আগে সর্বশেষ দেশের কোথায় চিকিৎসা করিয়েছেন এবং ডাক্তাররা কী বলেছেন?
    আনসারী: ইউনাইটেড হাসপাতাল ঢাকা। সেখানের চিকিৎসকরা বলেছেন, এ ঝুঁকিপূর্ণ চিকিৎসা তারা করতে পারবেন না। পরে বাধ্য হয়ে থাইলেন্ডের ব্যাংককে চিকিৎসা নিই। তারা ৬টা কেমুথেরাপি ও ৩০টা রেডিয়েশন দিলে কিছুটা সুস্থ হই।
    শামসীর: আপনার এ ব্যয়বহুল চিকিৎসায় সরকারি বা বেসরকারিভাবে কোন সহযোগিতা পেয়েছেন?
    আনসারী: হ্যা, আমার শুভাকাংখী ও ভক্তদের কাছ থেকে যথেষ্ট সহযোগিতা পেয়েছি কিন্তু সরকারি বা বেসরকারি কোন কর্মকর্তার সহযোগিতা তো দূর কি বাত; কেউ কোন খবর পর্যন্ত নেয়নি।
    শামসীর: আপনি বলেছেন, ২৬ বছরে প্রায় ৩০ হাজারের মত প্রোগ্রাম করেছেন, তো সরকারিভাবে কোথাও কোনো বাধার মুখে পড়েছেন কি না?
    আনসারী: সরাসরি কোন বাধার মুখে পড়ি নাই। তবে ভিন্ন মতাবলম্বী বা মতাদর্শের লোকের দ্বারা নানা জায়গায় নানা সময়ে সাময়িক বাধাগ্রস্ত হয়েছি । এমন ঘটনা অনেক।
    শামসীর: আপনি তাফসীরের কোন কিতাবকে বেশি অনুসরণ করেন?
    আনসারী: অনেক তাসফির গ্রন্থকে অনুসরণ করলেও বেশি অনুসরণ করি ‘তাফসীরে মাজহারী’।
    শামসীর: বর্তমানে অনেক বক্তা আপনাকে অনুসরণ বা নকল করতে দেখা যায়, এ ব্যাপারে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি কী?
    আনসারী: নকল জিনিসটাই তো কেমন? তবে কেউ প্রতিষ্ঠিত হতে হলে কাউকে না কাউকে অনুসরণ করতে হয়। সে হিসেবে আমাকে অনুসরণ করে কেউ প্রতিষ্ঠিত হতে পারলে আমি খুশিই হবো। তবে হুবহু যের-যবর-পেশ বা দাড়ি-কমা নকল করাকে নিম্নমানের কাজ বলে আমি মনে করি।
    শামসীর: তাফসীর মাহফিলে আগের মত যোগ দিতে পারবেন? এবং সর্বশেষ আপনার ব্যাপারে ডাক্তারের পরামর্শ কী, অথবা বর্তমানে শারিরীক অবস্থা কোন পর্যায় আছে যদি বলতেন?
    আনসারী: দেখুন, আসলে আমার কন্ঠে বা গলায় কোন সমস্যা নেই; সমস্যাটা হল গালে। আর এক বছরের ব্যবধানে আবার কেমুথেরাপি এবং রেডিয়েশন দেয়া খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় আমেরিকা ছাড়া আর কোনো দেশের ডাক্তার সাহস করতে পারেনি। তাই আমেরিকায় আমি আবার ৩টি কেমুথেরাপি ও ৩০টি রেডিয়েশন দেই এবং ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী মে-জুন-জুলাই এ তিন মাস রেস্টে আছি। পরে চেকাপ করেই জানতে পারব, রোগ মুক্ত কি না। আমি দৃঢ় আশাবাদী, সুস্থ হয়ে আবার তাফসীর জগতে ফিরে আসবো, ইনশাআল্লাহ।
    শামসীর: আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
    আনসারী: আপনাদেরও অসংখ্য ধন্যবাদ।”
    -( মাসিক আল-ফুরকান,৮-৯ম সংখ্যা,২০১৬ )

    হযরত আনসারী সাহেব রহ. জীবনভর দোআ করেছেন, শুক্রবারে যেন তাঁর শেষ বিদায়ের ডাক আসে। আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয় বান্দার আশা পূর্ণ করেছেন। ১৭/৪/২০ তারিখে শুক্রবার আসরের পরের বরকতময় সময়ে আখেরাতের সফরে রওয়ানা করেন। তাঁর ইন্তেকালে শোকে কাতর হয়ে পড়েন কোটি কোটি তৌহিদী জনতা। চোখের অশ্রুতে বুক ভাসালেন অসংখ্য ভক্তবৃন্দ। সত্যিই তিনি এমন জীবন গঠন করেছিলেন, যা মানুষকে উপদেশ দিতেন এই কবিতায়:
    এমন জীবন তুমি করিবে গঠন/
    মরিলে হাসিবে তুমি কাঁদিবে ভুবন।।

    আল্লামা জুবাইর আহমদ আনসারী রহ.-এর স্মৃতিচারণ করে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব ও হাটহাজারী মাদরাসার সহযোগী পরিচালক আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী দা.বা. বলেন, “ মাওলানা জুবাইর আহমদ আনছারী রহ. দেশের একজন প্রখ্যাত ওয়ায়েজ ছিলেন। সর্বমহলে তাঁর ওয়াজের সুখ্যাতি ও সুনাম ছিলো। তিনি অত্যন্ত নম্র-ভদ্র ও বিনয়ী মানুষ ছিলেন। তাঁর ইন্তেকালে ওয়াজের অঙ্গনে যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে তা কভু পূরণ হবার নয়। ইতিহাস তাঁর অমর কীর্তি চিরকাল স্মরণ রাখবে। আমি তাঁর মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত। মাওলানা জুবাইর আহমদ আনছারী রহ. এর সাথে হেফাজতে ইসলামের ২০১৩ সালের নাস্তিক-মুরতাদবিরোধী আন্দোলনে শাপলা চত্বরে সর্বপ্রথম আমার সাক্ষাৎ হয়েছিল। শাপলা চত্বরে তিনি বক্তব্যও রেখেছিলেন।
    এরপরও আরো বহুবার সাক্ষাৎ হয়েছে। গত ১৯ মার্চ তাঁর মাদরাসার খতমে বোখারীতে সর্বশেষ সাক্ষাৎ ও আলাপচারিতা হয়েছিলো। মাওলানা জুবাইর আহমদ আনছারী রহ. দরস-তাদরীসের পাশাপাশি পুরো জীবন মুসলিম উম্মাহর ঈমান-আকিদা রক্ষায় ওয়াজ-নসিহত সহ দ্বীনের বহুমুখী খেদমত আঞ্জাম দিয়েছেন। বিশেষ করে ওয়াজের ময়দানে যে বিশাল খিদমাত তিনি করে গেছেন তা যুগ যুগ ধরে ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লিখা থাকবে। মহান প্রভুর দরবারে আমি দুআ করি, আল্লাহ তাআলা তাঁর সকল দ্বীনি খেদমতকে কবুল করুন এবং ত্রুটি-বিচ্যুতি ক্ষমা করে জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থান দান করুন,এবং তাঁর প্রতিষ্ঠিত মাদরাসাকে আল্লাহ তায়া’লা কিয়ামত পর্যন্ত জারি রাখুন, আমিন।।”
    এই দুনিয়া থাকার জায়গা নয়; সকলকেই আখেরাতের সফর করতে হবে। আল্লাহ তাআলা জীবন-মরণ সৃষ্টি করেছেন, কে উত্তম আমল করে তা পরীক্ষা করার জন্য। আমাদের ধারণা, বিশ্বনবী সা.-এর আদর্শের এই সৈনিক উত্তম আমল করেই মহান রাব্বে কারীমের ডাকে সাড়া দিয়েছেন। দোআ করি, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কোরআনের এই খাদেমকে জান্নাতুল ফিরদাউস নসীব করুন,আমীন।।

    লেখক: মুফতি ছালেহ বিন আব্দুল কুদ্দুস
    প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক: শাহবাজপুর, বি-বাড়িয়া, বাংলাদেশ।
    ১৮/৪/২০২০ইং, শনিবার।।

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম