• শিরোনাম


    কে এই দেলোয়ার

    - মোঃ বেল্লাল হোসেন নাঈম, চাটখিল সোনাইমুড়ী (নোয়াখালী) প্রতিনিধিঃ | ০৮ অক্টোবর ২০২০ | ৩:০১ পূর্বাহ্ণ

    কে এই দেলোয়ার

    নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনার মূলহোতা দেলোয়ার বাহিনীর প্রধান দেলোয়ারকে সোমবার (৫ অক্টোবর) সকালে নারায়ণগঞ্জ থেকে আটক করে র‌্যাব-১১।

    কিন্তু মূলহোতা হলেও রোববার ৪অক্টোবর রাতে নির্যাতিত গৃহবধূর দায়ের করা মামলায় নয় আসামির মধ্যে দেলোয়ারের নাম নেই।



    জনমনে নানা প্রশ্ন- কেন, কীভাবে, কোন খুঁটির জোরে মামলা থেকে পার পেয়ে যাচ্ছেন তিনি?

    দিনভর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কানাঘুঁষা চলছে, একটি বাহিনীর প্রধান, দুই বছর আগের একটি ডাবল মার্ডার মামলার আসামি এবং সবশেষ গৃহবধূ নির্যাতনের ঘটনার মূলহোতা হয়েও দেলোয়ার কী তাহলে পার পেয়ে যাবেন?

    এর প্রতিবাদে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরব হয়ে উঠছেন দেলোয়ার ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে। দেলোয়ার একলাশপুর ইউনিয়নের নয় নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম একলাশপুর গ্রামের কামাল উদ্দিন ব্যাপারী বাড়ির সাইদুল হকের ছেলে।

    দেলোয়ারের উত্থান যেভাবেঃ

    ২০১৮ সালে একলাশপুর বাজারের পূর্ব পাশের ভিআইপি রোড এলাকায় মাদক ব্যবসার আধিপত্য বিস্তার নিয়ে জোড়া খুনের ঘটনা ঘটে। জোড়া খুনের দায়ে দেলোয়ার গ্রেফতার হওয়ার পর ইউনিয়ন কৃষক লীগের সভাপতি ও গত ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে পরাজিত আলমগীর কবির আলো নিজের অবস্থান ধরে রাখতে দেলোয়ারকে জামিনে কারাগার থেকে বের করে নিয়ে আসেন।

    দেলোয়ারকে জামিনে বের করে এনে তাকে ব্যবহার করে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে চেষ্টা করেন আলমগীর কবির আলো। দেলোয়ারকে দিয়ে একটা গ্রুপ সৃষ্টি করেন। সে গ্রুপে চোর, ছিনতাইকারী, অটোরিকশাচালক, মাদকাসক্ত সব একসঙ্গে হন। আলো এদের নিয়ে যেতেন নেতাদের কাছে।

    এই গ্রুপ একটার পর একটা অপকর্ম করেই চলেছে। তাদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। বড় বড় নেতাদের ড্রয়িং রুম থেকে তারা আস্তে আস্তে বেডরুম পর্যন্ত যাওয়ার সুযোগ পেয়ে বেপরোয়া হয়ে ওঠেন।

    এরপর দেলোয়ার একটি বাহিনী সৃষ্টি করে ওই এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন। দেলোয়ার বাহিনীর সদস্যরা মাদক ব্যবসা, হত্যা, নারীদের যৌন হয়রানিসহ এমন কোনো অপকর্ম নেই, যার সঙ্গে তারা জড়িত নন।

    এতদিন কেউ ভয়ে মুখ না খুললেও এখন দেশব্যাপী গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর অনেকেই দেলোয়ার বাহিনীর অপকর্ম নিয়ে মুখ খুলতে শুরু করেছেন।

    দেলোয়ার বাহিনীর প্রধান দেলোয়ারের গ্রেফতারের খবরে এলাকায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানা গেছে। সেই সঙ্গে দেলোয়ার ও তার বাহিনীর সবার দ্রুত সাজা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ জনগণ।

    বর্বরোচিত এই নারী নির্যাতনের ঘটনার মাধ্যমে আলোচনায় এলেও এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত ছিলেন দেলোয়ার।

    জানা গেছে, কোনো পদ না থাকলেও অনৈতিকভাবে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাব খাটিয়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন দেলোয়ার ও তার বাহিনীর সদস্যরা।

    বছরখানেক আগে সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালিয়ে চলতো দেলোয়ারের সংসার। কিন্তু আলোর দলে যোগ দিয়ে রাতারাতি তিনি বনে যান নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার সন্ত্রাসী বাহিনীর প্রধান। তারপর থেকেই বেপরোয়া হয়ে ওঠেন এই দেলোয়ার। এলাকায় প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপকর্ম করলেও প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি কেউ। তাই তাদের আটকের খবরে স্বস্তি ফিরেছে এলাকায়।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একজন বলেন, উচিত বিচার দিয়েন। আজকে আমার বোনেরে ধর্ষণ করছে, কাল মারে করবে, পরশুদিন আরেকজনরে করবে।

    আরেকজন বলেন, আজকে তারা আওয়ামী লীগ নেতাদের ছত্রছায়ায় মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িত। আওয়ামী লীগের কোনো পদে না থেকেও তার দাপটে কোণঠাসা স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা।

    একজন আওয়ামী লীগ কর্মী বলেন, দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ করি, কিন্তু দেলোয়ারদের কখনও দেখিনি আওয়ামী লীগ করতে। যারা সন্ত্রাসী কাজ করছেন, তারা নিজের স্বার্থে দল ব্যবহার করেন।

    বেগমগঞ্জের এখলাশপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আরেক এক সদস্য বলেন, আলমগীর কবির আলো এই দেলোয়ারকে যুবলীগে যোগদান করিয়ে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। এরপর থেকে এলাকায় তার অপকর্ম বেড়ে যায়।

    নোয়াখালীর পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন জানান, এ ঘটনায় দেলোয়ারসহ জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তবে যুবলীগে যোগদানের আগে থেকেই দেলোয়ার একাধিক খুন ও মাদক মামলার আসামি বলে জানা গেছে।

    প্রসঙ্গত, রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরের দিকে এক গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ পেলে তা ভাইরাল হয়। এতে টনক নড়ে স্থানীয় প্রশাসনের। ঘটনাটি ছিল ৩২ দিন আগের। এই ঘটনায় অভিযুক্ত স্থানীয় দেলোয়ার, বাদল, কালাম ও তাদের সহযোগীরা ওই গৃহবধূ ও তার পরিবারের সদস্যদের ভয় দেখিয়ে কিছু দিন অবরুদ্ধ করে রাখেন। একপর্যায়ে ওই নারী ও তার পরিবারকে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য করেন তারা। পরে ভিডিও প্রকাশ পেলে বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনের নজরে আসে। এরপর রোববার রাতে পুলিশ ওই নারীকে উদ্ধার করার পর রাত ১টার দিকে তিনি দেলোয়ার বাদে তার বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও বিবস্ত্র করে নির্যাতনের অভিযোগ করে মামলা করেন। রহস্যজনকভাবে মামলায় দেলোয়ারের নাম নেই। পরে ওই পুলিশ ও র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) সদস্যরা কয়েক দফায় অভিযান চালিয়ে মূলহোতা দেলোয়ার ও এই মামলার সাত আসামিকে আটক করেছে।

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম