• শিরোনাম


    কুদরতিভাবে স্মরণীয় দিন ১২-১২-১২: মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজী

    | ১২ ডিসেম্বর ২০১৮ | ৫:২৪ অপরাহ্ণ

    কুদরতিভাবে স্মরণীয় দিন ১২-১২-১২: মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজী

    ১২-১২-২০১২ খ্রিষ্টাব্দ। এই দিনে আমাদের ছেড়ে দয়াময় প্রভুর ডাকে পরপারে চলে গেছেন আল্লামা মুফতি আমিনী। অনেকটা কুদরতি ভাবেই স্মরণে থাকে দিনটি । আরো অনেক নিকটাত্মীয় ইন্তেকাল করলেও তারিখ মনে রাখা বড় কষ্টকর। কিন্তু আল্লামা মুফতি আমিনী রহ. এর ইন্তেকালের দিনটি আল্লাহ পাক কুদরতি ভাবেই স্মরণে রাখবার মত করে দিয়েছেন স্মরণীয় একটি তারিখের মাধ্যমে।

    হয়তোবা আল্লাহ্‌ পাক চেয়েছেন তাঁর এই প্রিয় বান্দার ইন্তেকালের দিনক্ষণ যেন স্মরনীয় হয়ে থাকে এবং দিনক্ষণ স্মরণের মাধ্যমে যেন তাঁর বান্দার ত্যাগ ও কুরবানির ইতিহাস থাকে অবিস্মরণীয়। ইসলামে দিবস পালনের সুযোগ নেই। তবে কোন কোন দিবস ব্যক্তিকে স্মরণ করিয়ে দেয়ার মাধ্যমে সেই ব্যক্তির ইতিহাস পুনঃ পুনঃবার জাতিকে স্মরণ করিয়ে দেয়। আর সেই ইতিহাস থেকে জাতি খুঁজে নেয় পাথেয়।



    আল্লামা মুফতি আমিনীর জীবন থেকেও আমরা খুঁজে নিতে পারি নানা পাথেয়। কেননা, তার ইন্তেকাল স্বাভাবিক কোন অবস্থায় ছিল না। মৃত্যুর আগ মুহুর্তে যখন তিনি প্রচণ্ড অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন, তখনও আমাদের ভেতরে এই আশঙ্কাই কাজ করছিল যে, আমরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে পারব কি না; বা এ অবস্থায়ও আমাদেরকে উপর থেকে কোন নির্দেশ আসার অপেক্ষায় থাকতে হবে কি না! কারণ, তার স্বাভাবিক চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা ছিল। কার্যত তিনি ছিলেন একজন গৃহবন্দি। কারো সঙ্গে জায়গা জমি, টাকা-পয়সা, পদ-পদবী নিয়ে কোন দ্বন্দ্ব ছিল না; শুধুমাত্র হকের পক্ষে সত্য প্রতিষ্ঠায় কথা বলেন বলেই তাকে এই অবস্থায় থাকতে হয়েছে ২১ টি মাস।

    বাসার লোকজন মিলে খুব কষ্ট করে তাঁকে উপর তলা থেকে নিচে নামিয়ে গাড়িতে তুলি। গাড়ির পেছনের সিটের মাঝখানে বসিয়ে ডান হাত দিয়ে শক্ত করে ধরে রেখেছিলাম বুকের সঙ্গে মিলিয়ে। কেন যেন মাথাটা শুধু এদিক ওদিক হেলে পড়ছিল বারবার। কোন ভাবেই আঁচ করতে পারিনি সেদিন এভাবেই চলে যাবেন তিনি। দীর্ঘ নির্যাতন আর মানসিক নিপীড়নে ক্ষয়ে ক্ষয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছিলেন সবার প্রিয় আমিনী।

    মুফতী আমিনী একজন ব্যক্তির নাম নয়, মুফতি আমিনী হকের প্রতিচ্ছবি এক চরিত্রের নাম। মুফতি আমিনী কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করেননি, বাতিল শক্তির প্রতিনিধি তাগুত চরিত্রের বিরুদ্ধে লড়াই করে গেছেন আমরণ। হযরত বেলাল রা. এর উপর অত্যাচারকারীরা নিঃশেষ হয়ে গেলেও ম্লান হয়ে যায়নি বেলালের কুরবানি। মুফতি আমিনীর যুগের বাতিল শক্তি পরাভূত হলেও যুগে যুগে হকের ঝাণ্ডাবাহীদের চেতনা হিসেবে কাজ করবে তাঁর ত্যাগ ও কুরবানি। তাঁর ত্যাগের ইতিহাস কখনো মুছে যাবে না, কেউ মুছে দিতে পারবে না।

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম