• শিরোনাম


    কালের কণ্ঠ সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলনসহ ২১জন পাবে একুশে পদক।

    | ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ | ৬:১০ পূর্বাহ্ণ

    কালের কণ্ঠ সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলনসহ ২১জন পাবে একুশে পদক।

    ভাষা ও সাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য রাষ্ট্রীয় একুশে পদক পাচ্ছেন জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক কালের কণ্ঠ সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন। ভাষা আন্দোলন, শিক্ষা ও সাহিত্য-সংস্কৃতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২১ গুণীজনকে এবারের একুশে পদকের জন্য মনোনীত করেছে সরকার।

    সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় গতকাল বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ২০১৯ সালের একুশে পদকের জন্য মনোনীতদের নাম ঘোষণা করে।



    কালের কণ্ঠ সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন একুশে পদকের জন্য মনোনীত হওয়ার খবরে গতকাল দেশের শীর্ষস্থানীয় দৈনিকটির প্রধান কার্যালয়ে আনন্দঘন আবহ বিরাজ করে। নির্বাহী সম্পাদক কথাসাহিত্যিক মোস্তফা কামালের নেতৃত্বে সহকর্মীরা তাঁকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

    বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ও কালের কণ্ঠ সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন একুশে পদকের জন্য মনোনীত হওয়ায় গতকাল তাঁকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায় কালের কণ্ঠ পরিবার। ছবি : কালের কণ্ঠ

    ভাষা ও সাহিত্যে ইমদাদুল হক মিলন ছাড়াও রিজিয়া রহমান, অসীম সাহা, আনোয়ারা সৈয়দা হক, মঈনুল আহসান সাবের ও হরিশংকর জলদাস মনোনীত হয়েছেন। যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি গোলাম আরিফ টিপু একুশে পদকের জন্য মনোনীত হয়েছেন ভাষা আন্দোলনে অবদানের জন্য। একই কারণে প্রয়াত অধ্যাপক হালিমা খাতুন ও অধ্যাপক মনোয়ারা ইসলামকেও এবার এ পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। আর ক্ষিতীন্দ্র চন্দ্র বৈশ্য এবার একুশে পদক পাচ্ছেন মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকার জন্য। সংগীতে অবদানের জন্য এবার একুশে পদক পাচ্ছেন গায়ক সুবীর নন্দী, প্রয়াত পপশিল্পী আজম খান ও নজরুলসংগীত শিল্পী খায়রুল আনাম শাকিল। অভিনয়ের জন্য একুশে পদক পাচ্ছেন লাকী ইনাম, সুবর্ণা মুস্তাফা ও লিয়াকত আলী লাকী। আলোকচিত্রে অবদানের জন্য দেশের প্রথম নারী আলোকচিত্রী সাইদা খানম, চারুকলায় চিত্রশিল্পী জামাল উদ্দিন আহমেদ, গবেষণায় বিশ্বজিৎ ঘোষ ও মাহবুবুল হক এবং শিক্ষায় প্রণব কুমার বড়ুয়া এ পুরস্কার পাচ্ছেন।

    আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে তাঁদের হাতে পদক তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রত্যেককে ৩৫ গ্রাম ওজনের একটি স্বর্ণপদক, এককালীন দুই লাখ টাকা ও একটি সম্মাননাপত্র দেওয়া হবে। ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে সরকার ১৯৭৬ সাল থেকে প্রতিবছর বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই পুরস্কার দিয়ে আসছে।

    ইমদাদুল হক মিলনের জন্ম ১৯৫৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর বিক্রমপুরের মেদিনীমণ্ডল গ্রামে নানার বাড়িতে। তাঁর পৈতৃক নিবাস মুন্সীগঞ্জ বিক্রমপুরের লৌহজং থানার পয়সা গ্রামে। বাবার নাম গিয়াসুদ্দিন খান এবং মায়ের নাম আনোয়ারা বেগম। ব্যক্তিজীবনে তিনি তিন সন্তানের জনক।

    কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন গল্প, উপন্যাস, নাটক এই তিন শাখাতেই তুমুল জনপ্রিয়। কিশোর বাংলা পত্রিকায় শিশুতোষ গল্প লিখে তাঁর সাহিত্যজগতে আত্মপ্রকাশ। ১৯৭৭ সালে সাপ্তাহিক বিচিত্রা পত্রিকায় ছোটগল্প লিখে পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে শুরু করেন। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা দুই শতাধিক। ঔপন্যাসিক হিসেবে পেয়েছেন কিংবদন্তিতুল্য জনপ্রিয়তা। ‘নূরজাহান’, ‘পরাধীনতা’, ‘বাঁকাজল’, ‘ভূমিকা’, ‘নদী উপাখ্যান’, ‘কালোঘোড়া’, ‘ভূমিপুত্র’, ‘রূপনগর’, ‘কালাকাল’, ‘টোপ’, ‘এক দেশে’, ‘বনমানুষ’, ‘যাবজ্জীবন’, ‘অধিবাস’, ‘নিরন্নের কাল’, ‘পরবাস’, ‘মাটি ও মানুষের উপাখ্যান’ প্রভৃতি তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস। বাংলাদেশ ও ভারতে তাঁর ‘নূরজাহান’ উপন্যাসটি ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

    ১৯৯২ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন তিনি। এ ছাড়া তাঁর উল্লেখযোগ্য পুরস্কারের মধ্যে রয়েছে হুমায়ুন কাদির সাহিত্য পুরস্কার, বাচসাস পুরস্কার, অগ্রণী ব্যাংক শিশু একাডেমি শিশুসাহিত্য পুরস্কার প্রভৃতি। পেয়েছেন ভারতের সর্বোচ্চ সাহিত্য পুরস্কার আইআইপিএম-সুরমা চৌধুরী মেমোরিয়াল ইন্টারন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড। ২০০৬ সালে জাপান ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘তাকেশি কায়েকো মেমোরিয়াল এশিয়ান রাইটারস লেকচার সিরিজে’ বাংলা ভাষার একমাত্র লেখক হিসেবে তিনি অংশগ্রহণ করেছিলেন।

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০৩১  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম