• শিরোনাম


    কারো প্রতি অবজ্ঞা নয়: মুহাম্মদ ইয়াছিন

    | ১০ জানুয়ারি ২০১৯ | ৩:২৫ অপরাহ্ণ

    কারো প্রতি অবজ্ঞা নয়:  মুহাম্মদ ইয়াছিন

    আমরা শিক্ষিত-অশিক্ষিত, ধনী-গরিব, সবাই একই সঙ্গে সমাজে বাস করি। একটি সমাজে সব শ্রেণির পেশাজীবী মানুষ অবস্থান করে। তার মাঝে আমরা সকল শ্রেণির মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেই জীবন অতিবাহিত করি। আমরা হয়তো শিক্ষিত; তাই বলে অশিক্ষিত মানুষের সাথে মন্দ আচরণ করতে পারি না। আমরা হয়তো ধনী; তাই বলে গরিবদের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করতে পারি না। এটা একটা সভ্য জাতি কখনো কামনা করতে পারে না। তারা হয়তো তাদের পরিবেশগত কারণে শিক্ষা অর্জন করতে পারেনি, তারা হয়তো উত্তরাধিকারসূত্রে ধনী হতে পারেনি। তাই তাদের সমাজের নিম্নশ্রেণির কাজগুলো করতে হচ্ছে। তাই বলে কি তাদেরকে আমরা অবহেলা করতে পারি? তারা যদি সেই পেশায় না যেতো তাহলে আমাদের উঁচু শ্রেণির মানুষের চাহিদা মেটাতে একটু কষ্ট হতো। তারা সেই পেশায় আছে বিধায় আমাদের সমাজে কাজ করতে একটু সহজ হচ্ছে। তাহলে; কেন আমরা তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করি না! তারা তো তাদের ন্যায্য অধিকার পাচ্ছে না। আমরা সকলে নিজ অবস্থান থেকে যদি একটু সচেতন হই, তাহলে তাদের জীবন অবহেলিত থাকবে না। একজন রিকশাচালক কিভাবে জীবিকা নির্বাহ করে সেটা আমাদের সবার জানা। একজন বড়লোক যখন রিকশা করে যায়, তখন সেই রিকশাচালক বয়সে যত বড়ই হোক না কেন তার সঙ্গে কঠোর আচরণ করে। বড়লোকের গাড়ির ড্রাইভাররা অনেক সময় রিকশাচালকদের মানুষই মনে করে না! রিকশার জন্যে যদি নিজের গাড়ির একটু মোড় নিয়ে ব্রেক করতে হয়, তখন রিকশাচালককে ২/৪টা থাপ্পড় মেরে দেয়। এটা কি আমাদের সমাজের বড়লোক মনুষ্যজাতির উত্তম আচরণ! অথচ, রিকশাচালক সেই স্থানে বড়লোককে যথাসাধ্য সম্মান দিয়ে কথা বলার চেষ্টা করে। যেখানে ৫০টাকার ভাড়া সেখানে মানুষ রিকশাচালকদের ৪০ টাকা দিয়ে চলে যায়। তারা তো আর বড়লোক হওয়ার স্বপ্ন দেখে না, তারা শুধুমাত্র নিজের এবং পরিবারের সকল সদস্যের জীবিকা নির্বাহ করতে চেষ্টা করে। তারা নিজের পরিশ্রমের টাকা দিয়ে সন্তানদের শিক্ষিত ও সত্ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করে। যেন সেই সন্তান বড় হয়ে জাতির বা সমাজের সেবা করতে পারে। জাতির সেবার মাধ্যমে সেই রিকশাচালক অন্তরে আনন্দের তৃপ্তি উপভোগ করে। এটাই রিকশাচালকদের আদর্শ। অথচ তাদের সঙ্গে আমরা অমানবিক আচরণ করি! ফলে তারা আজ সমাজের সব জায়গায় অবহেলিত হচ্ছে। আমরা অনেক টাকা নিজের সৌখিনতার পিছনে খরচ করে ফেলি, অথচ রিকশাচালককে ৫/১০ টাকা বাড়িয়ে না দিয়ে বরং কম দিয়ে চলে যায়। সমাজে রিকশাচালকরা আজ সম্মান থেকে খুবই বঞ্চিত। তারা সমাজের কোনো স্থানে সুযোগ-সুবিধা পায় না, বরং সন্ত্রাসীদের চাঁদা দিতে হয়। তারা সারাদিন কষ্ট করে ছেলেমেয়েদের সত্ মানুষ হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করে। অথচ জাতি তাদেরকে ঘৃণ্য চোখে দেখে। সমাজের সকল শিক্ষিত বা সচেতন মানুষরা যদি একটু তাদের মূল্যায়ন করে তাহলে আমাদের সমাজে আর কোনো রিকশাচালক অবহেলিত থাকবে না। ফলে হিংসা-বিদ্বেষ, অহংকার-গৌরব কিছুই সমাজে বিদ্যমান থাকবে না। শিক্ষিত বা সচেতন নাগরিকদের উচিত সমাজের সব শ্রেণির অবহেলিত মানুষদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সঠিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করা। তাহলে আমরা বিশ্বের মাঝে একটি সভ্য জাতি হিসেবে ভূষিত হতে পারবো।

    n লেখক :শিক্ষার্থী, মজহারুল উলুম গাউছিয়া ফাজিল (ডিগ্রী) মাদ্রাসা, নানুপুর, ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম



    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম