• শিরোনাম


    কাতারে বাড়ছে করোনাঃ বিপাকে বাংলাদেশী প্রবাসীরা

    কে.এম. সুহেল আহমদ,কাতার প্রতিনিধি | ১০ এপ্রিল ২০২০ | ১১:৫২ অপরাহ্ণ

    কাতারে বাড়ছে করোনাঃ বিপাকে বাংলাদেশী প্রবাসীরা

    বিশ্বে আজ ‘বৈশ্বিক মহামারী’ হিসেবে দেখা দিয়েছে করোনাভাইরাস( কভিড-১৯)। সারা বিশ্ব করোনাভাইরাসের ভয়ে থরথর করে কাঁপছে। চিনের উহান শহর থেকে শুরু হওয়া মারণ সংক্রমণ একের পর এক গণ্ডি ভেঙে ছড়িয়ে পড়েছে বাংলাদেশ,ভারত, ফ্রান্স,ইংল্যান্ড, স্পেন, ইতালি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের প্রায় দুইশোটির ও বেশি দেশে। একদিকে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল।বিশ্ববাসী আজ আতংকে, সবার ঘুম কেড়ে নিয়েছে অদৃশ্য এক বস্তু যা খালি চোখে দেখা যায়না।

    সেই আতংকেও ভোগছে মধ্য প্রাচ্যের একমাত্র ধনী দেশ কাতার।
    সময় যত গড়িয়ে যাচ্ছে ততই কাতারে বাড়ছে করোনাভাইরাস।বিপাকে রয়েছে বাংলাদেশী প্রবাসী রেমিটেন্সযোদ্ধারা।
    কাতারে শুক্রবারে(১০ এপ্রিল) নতুন করে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ১৩৬ জন। এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা হল ২,৫১২ জন। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর কাতারে নতুন ২১ জন সুস্থ হওয়া নিয়ে এখন পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ২২৭ জন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন ২,২৭৯ জন এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয়েছে সর্বমোট ৪৫,৩৩৯ জনের।
    এছাড়া কাতারে প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার থেকে তিন হাজারের মত মানুষের স্বাস্থ্য নমুনা পরিক্ষা করা হচ্ছে।
    এ পর্যন্ত কাতারে মোট মৃতের সংখ্যা ৬ জন। এদের চারজন অভিবাসীর দুজন বাংলাদেশী, দুজন কাতারী।বাংলাদেশী দুজনের একজন গত ২৮ (মার্চ শনিবার) দুপুরে প্রথম একজন বাংলাদেশীর মৃত্যু হয়। এর আগে ১৬ মার্চ তাকে কাতারের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।মৃত ব্যক্তির নাম দিলীপ কুমার দেব(৫৮)।তাঁর বাড়ি সিলেট মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার কলাপুর ইউনিয়নের ভৈরবগঞ্জ বাজারের মহাজনবাড়ির বাসিন্দা।তিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী ছিলেন।
    তার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মুজুল
    ফেসবুকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন।
    অন্যজন,বিগত ৩১ মার্চ (মঙ্গলবার) করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান গাজীপুর জেলার আবুল কাসেম(৫০) নামের আরেক বাংলাদেশী। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া দুজন বাংলাদেশী হওয়ায়, আতংক ছড়িয়েছে প্রবাসীদের মাঝে।



    এদিকে সংক্রমণ ঠেকাতে কাতার সরকার সদা তৎপর।মাসজুড়ে দেশটিতে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, মসজিদ,সেলুন, শপিংমল, সিনেমা হল। সেই সাথে গণপরিবহন, মেট্রোরেল ও বিমান চলাচল। লকডাউন করে দেয়া হয়েছে শিল্প অঞ্চল সানাইয়া ১-৩২ নম্বর পর্যন্ত।
    করোনাভাইরাস সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এবং বিস্তার রোধে সংস্কৃতি ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় বাংলাদেশের বাংলা ভাষায় একটি এফএম রেডিও চ্যানেল আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করেছে।
    গত ২৭ মার্চ(শুক্রবার) রাত থেকে কাতারে নতুন আইন কার্যকর করা হয়েছিল। এতে সন্ধ্যা ৭টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত শুধু খাবারের দোকান, ফার্মেসি ছাড়া বাকি সব বন্ধ থাকবে।
    চলমান পরিস্থিতিতে ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হতে থাকায় কর্মহীন হয়ে বিপাকে পড়েছেন অনেকে। বিভিন্ন অঞ্চল লকডাউন থাকায় বেকার হয়ে পড়েছেন ফ্রি ভিসায় থাকা শ্রমিকরা। এতে দেখা দিয়েছে খাদ্য সঙ্কট। কর্মহীন শ্রমিকদের সাহায্যে কমিউনিটি নেতাদের এগিয়ে আসার আহবান প্রবাসীদের।
    কোয়ারেন্টাইনে থাকা ও আক্রান্ত অভিবাসী শ্রমিকদের বেতন সরকারের পক্ষ থেকে প্রদানের ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
    কাতার সরকার ভাইরাস প্রতিরোধের জন্য ইতিমধ্যে আরো যেসব যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তার মধ্যে কর্নিশ,সমুদ্র সৈকত,পাবলিক এরিয়াগুলিতে এবং রেস্তোঁরা এবং ক্যাপটেরিয়ার সামনে,সকল ধরনের সমাবেশ নিষিদ্ধ। সার্বিক নিরাপত্তার জন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসাবে মসজিদের সামনে এবং বিল্ডিংয়ের ছাদে বা অন্য যে কোনও জায়গাতে নামাজের জন্য জমায়েত হওয়া নিষিদ্ধ।
    উপরোল্লেখিত নির্দেশাবলী লঙ্ঘনকারীদের শাস্তি হিসেবে রয়েছে অনধিক ৩ বছরের কারাদন্ড এবং অনধিক কাতারী রিয়াল ২০০,০০০( দুই লক্ষ) জরিমানা বা তার যে কোন একটি।
    এদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যাগে
    করোনাভাইরাস সম্পর্কে বাসিন্দাদের সচেতনা করতে ড্রোন ব্যবহারের মাধ্যমে একটি সচেতনামূলক প্রচারণা ও শুরু করেছে মধ্যপ্রাচ্যের কাতার। লাউডস্পিকারযুক্ত ড্রোনগুলো দেশের বিভিন্নস্থানে সচেতনামূলক বার্তা প্রচার করবে।গত তিন সপ্তাহ ধরে লকডাউন করে দেয়া
    দেশটির সবচে বড় বানিজ্যিক শিল্প অঞ্চল সানায়ার ১ থেকে ৩২ নম্বর এরিয়া ইতিমধ্যে লকডাউন সরিয়ে নেয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা যায়।
    এছাড়া করোনাভাইরাস বিস্তার ও সংক্রমণ রোধে এখন খেকে প্রতি শুক্র ও শনিবার সারাদিন সব ধরনের বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও দোকানপাঠ বন্ধ থাকবে। এখন পর্যন্ত যারা দুপুর ১টা বা সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত নিজেদের দোকান খোলা রাখছেন সেগুলো ও শুক্র ও শনিবার বন্ধ থাকবে।
    তবে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রির দোকান যেমন সুপারমার্কেট এবং ফার্মেসী এ নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে।
    তার সাথে রেস্তোঁরাগুলো তাদের খাবার বাইরে পৌছে দেয়ার সেবা অব্যহত রাখতে পারবে।
    করোনা ভাইরাস টেষ্ট করানো হিসাবে সবার চেয়ে এগিয়ে অস্ট্রেলিয়া আর দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে কাতার।অস্ট্রেলিয়ায় এ পর্যন্ত যা টেষ্ট করেছে যা প্রতি লক্ষে ১০২৮ জনের সমতুল্য এবং কাতার প্রতি লক্ষে ৯২৩ জনের সমতুল্য।

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০৩১  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম