• শিরোনাম


    কাতারে আল্লামা হাবিবুর রাহমান(রাহঃ) এর স্মরণে আলোচনা এ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

    কে.এম. সুহেল আহমদ, কাতার থেকেঃ | ২৮ অক্টোবর ২০১৮ | ২:৪৪ পূর্বাহ্ণ

    কাতারে আল্লামা হাবিবুর রাহমান(রাহঃ) এর স্মরণে আলোচনা এ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

    ‘মজলিসে ইত্তেহাদুল মুসলিমীন দোহা- কাতার’ এর আয়োজনে
    বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর ‘জামেয়া মাদানীয়া কাজিরবাজার সিলেট’ মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল আল্লামা হাবিবুর রাহমান (রাহঃ) এর স্মরণে ২৬ অক্টোবর(শুক্রবার) বাদ এশা রাজধানী দোহার সব্জি মার্কেট সংলগ্ন ‘ওমানি মার্কেট মসজিদ’ এ আলোচনা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।
    মাওলানা আব্দুল্লাহ চৌধুরী জুমনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মাহফিলে পবিত্র কালামে পাক থেকে তেলাওয়াত করেন হাফেজ জুবায়ের আহমদ।
    মজলিসে ইত্তেহাদুল মুসলিমীন দোহা- কাতারের সভাপতি কাতার ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ইমাম ও খতিব মুফতী মাওলানা ফরিদ আহমদ ফরিদীর সভাপতিত্বে নসীহতপূর্ণ আলোচনা পেশ করেন,
    সংগঠনের সহ সভাপতি হাফেজ মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, হাফেজ মাওলানা ক্বারী ইউসুফ, মাওলানা ইসমাঈল, মুররা শাখার সভাপতি মাওলানা নাজমুল ইসলাম, সেক্রেটারী হাফেজ মাওলানা মুশাহিদুর রহমান ও
    নাজমা শাখার সভাপতি মাওলানা শরিফ উদ্দীন।
    এসময় উপস্থিত ছিলেন মজলিসে ইত্তেহাদুল মুসলিমীন দোহা- কাতারর কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন শাখার নেতৃবৃন্দসহ প্রবাসী বাংলাদেশী মুসল্লীয়ানগণ।
    দোয়া মাহফিলে প্রিন্সিপাল আল্লামা হাবিবুর রহমান ( রাহঃ) এর গর্বগাঁথা জীবনী আলোচনা করতে গিয়ে বক্তাগণ বলেন,
    প্রিন্সিপাল হযরত মাওলানা হাবীবুর রহমান ১৯৭৩ সালে কর্মজীবন শুরু করেন। কর্মজীবনের শুরু থেকেই যেখানেই অন্যায়, অবিচার , ইসলাম বিরোধী ও দেশদ্রোহী অপতৎপরতা দেখেছেন তখনই দেশবাসীকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন।
    ১৯৭৭ সালে সিলেট স্টেডিয়ামে জুয়া, হাউজি ও অশ্লীল নৃত্য প্রদশর্নীর আয়োজন করা হয়। সিলেটের তৌহিদী জনতা ইসলাম বিরোধী এই অপকর্ম বন্ধের জন্য তৎকালীন জেলা প্রশাসককে অনুরোধ করলে তিনি তা রক্ষা করেননি।
    এর উপযুক্ত জবাব দিতে হযরত প্রিন্সপাল ২২ ফেব্রুয়ারী ১৯৭৭ সালে হাজারো তৌহিদী জনতাকে নিয়ে ঐতিহাসিক মিছিল বের করেন। তৌহিদী জনতার এই মিছিলে পুলিশ গুলি চালানোর হুংকার দিলে প্রিন্সিপাল পাল্টা হুংকার ছুড়ে দিয়ে ঘোষণা করলেন ‘শাহজালালের পূণ্যভূমিতে ইসলামবিরোধী কার্যকলাপ চলতে দেয়া হবে না।’ প্রয়োজনে আমরা শাহাদাত বরণ করতে প্রস্তুত রয়েছি। তাঁর পাহাড়সম ঈমানি বক্তব্যে হতবিহ্বল হয়ে পড়ে পুলিশ বাহিনী।আল্লাহু আকবার ধ্বনিতে অকেজো হয়ে পড়ে শতশত রাইফেল।
    শুধু তাই নয়, ১৯৮১ সালে সিলেট এমসি কলেজের অধ্যাপক সরদার আলাউদ্দীন সাপ্তাহিক সমাচারে পবিত্র কুরআনের অবমাননা করে কলাম লিখলে তিনি দুর্বার গণআন্দোলন গড়ে তোলেন। এ আন্দোলনে তাঁকে অভিযুক্ত করে আদালতে মামলা হলে তার ঈমানদীপ্ত আগুনজ্বরা বক্তব্য শুনে আদালত তাঁকে নির্দোষ ঘোষণা করেন।
    এছাড়াও তিনি নব্বই এর দশকে মুরতাদ তাসলিমার অশুভ তৎপরতার বিরোদ্ধে তিনি জিহাদ ঘোষণা করলে দেশময় আন্দোলনের দাবানল জ্বলে ওঠে।
    ১৯৯৩ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর রেজিস্ট্রি মাঠের জনসমুদ্রের ঢেউ আছড়ে পড়ে বিশ্বময়। স্বল্পসময়ের ব্যবধানে ইস্যুটি গণআন্দোলনে রূপ নেয়। কিন্তু সরকার জনতার দাবির প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুল প্রদর্শন করলে প্রিন্সিপাল ০৯ অক্টোবর সিলেটে হরতাল আহ্বান করেন। আল্লাহ রাসুলের সম্মান রক্ষার এই হরতালটি স্বতস্ফুর্ত ভাবেই পালিত হয়। তখনও সরকারের টনক নড়েনি। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচী অব্যাহত থাকে দেশময়। একপর্যায়ে এসে ১৯৯৪ সালের ৩০ জুন দেশব্যাপী সকাল সন্ধ্যা হরতাল পালিত হলো। কেন্দ্রীয় কর্মসূচী চলাকালীন পুলিশের গুলিতে শাহাদত বরণ করেন কিশোরগঞ্জের কিশোর আরমান।
    দীর্ঘ সংগ্রামের পর সরকার তাসলিমাকে দেশ ছাড়া করতে বাধ্য হয়।
    এভাবেই সকল অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে সর্বদা সোচ্চার ছিলেন প্রিন্সিপাল রাহ.।
    পরিশেষে, প্রিন্সিপাল রাহ. এর রূহের মাগফিরাত কামনা এবং মুসলিম উম্মাহ’র শান্তি ও মঙ্গল কামনার্থে বিশেষ মোনাযাতের মধ্য দিয়ে দোয়া মাহফিলের পরিসমাপ্তি হয়।

    Facebook Comments



    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম