• শিরোনাম


    কাঙ্ক্ষিত বিজয় [] ইতি চৌধুরী

    | ০৪ ডিসেম্বর ২০২১ | ৫:৩৬ অপরাহ্ণ

    কাঙ্ক্ষিত বিজয় [] ইতি চৌধুরী

    গত একুশে নভেম্বর থেকে মা হারানোর বেদনায় স্বাভাবিক জীবনের গতিটা স্হবির হয়ে ভয়ংকর অন্ধকারে দীকভ্রান্তহীন ভাবে ছুটে চলেছে। অর্থহীন জীবনে হঠাৎই নতুনভাবে বেঁচে থাকার শক্তি জাগিয়ে দিলেন মহাশক্তি মহান রাব্বুল আলামিন!! স্বভাবে চঞ্চল, উচ্ছল আমি, আমাতে আর নেই ; ভাবছিলাম, জীবন তো আমারও একটাই। শেষ হলে আর ফিরবনা কোনদিন! তবে আমারও যে অনেকটা দায়িত্ব সৃষ্টিকর্তা অর্পণ করেছেন তার কি হবে??? বিবেকের তিব্র যন্ত্রণায় কাতর হয়ে অবশেষে স্বাভাবিক ভাবে আমার করণীয় কাজগুলোতে নিজেকে সমর্পণ করতে বসেছি। বতর্মান প্রজন্মকে বাংলাদেশের ইতিহাস তুলে ধরতে যে দিপ্ত শপথ আমি গ্রহণ করেছি তারই ধারাবাহিকতায় সমস্ত দুঃখ ও যন্ত্রণাকে পাথর চাপা দিয়ে এসেছি মহান মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের মাসের দিনগুলোতে!!!
    বছর ঘুরে আবার এলো বিজয়ের মাস ডিসেম্বর! স্বাধীনতাকামী বাঙ্গালির হৃদয়ে মাসটি মহা আনন্দের, মহা গৌরবের, অপার্থিব সৌরভের। স্বজন হারানোর বেদনায় এই মাস একই সঙ্গে শোকেরও! ১৯৭১ সালের এই দিনগুলোতে মুক্তির সংগ্রামে উত্তাল ছিল বাংলার মাটি। দীর্ঘ নয়মাসের এক রক্তক্ষয়ী যুক্ত শেষে ত্রিশলাখ সহীদের রক্তের বিনিময়ে বীরবাঙ্গালি বিজয় ছিনিয়ে এনেছিল একাত্তরের এই ডিসেম্বরে। ৭১ সালের ডিসেম্বরের শুরু থেকেই বাঙ্গালি বীর সন্তানদের সঙ্গে যুদ্ধে একের পর এক পরাজিত হতে থাকে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী। ক্রমাগত পরাজয়ে তারা দিশেহারা হয়ে পড়ে। মাতৃভূমিকে হানাদার মুক্ত করতে বাঙ্গালি মরণপন লড়াই চালিয়ে যান। এক পর্যায়ে বাংলাদেশ দ্রুত মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয়ের দিকে এগিয়ে যায়। রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পথ বেয়ে আসে পরম কাঙ্খিত স্বাধীনতা!! মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পেছেন ছিল দেশ- বিদেশের বহুমানুষের একক ও মিলিত চেষ্টা। অজস্র ঘটনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য, দীর্ঘ নয় মাস কঠিন দুঃসময়ে পাশে দাঁড়িয়ে বাঙ্গালির মুক্তির সংগ্রাম সফল করতে সবচেয়ে বেশি ভুমিকা রেখেছিলেন শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী! নভেম্বর মাস
    জুড়ে তিনি বাংলাদেশ প্রসঙ্গে বিশ্ব নেতাদের কাছে ভারতের সমর্থনের কথা প্রচার করেন। ৩০ নভেম্বর রাজ‍্যসভায় ভাষণে বাংলাদেশ থেকে সব পাকিস্তানি সেনা ফিরিয়ে বাঙ্গালীদের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার আহবান জানান। তিনি পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে সর্বশক্তি দিয়ে মোকাবেলা করার জন্য দৃঢ় প্রত‍্যয় ব‍্যক্ত করেন!!
    মুক্তিযুদ্ধ ছিল গভীর আত্মত্যাগ, অবিশ্বাস্য বীরত্ব এবং বিসাল একটি অর্জন। কিন্তু সবার উপরে সেটি ছিল আমাদের নাড়িছেঁড়া ক্রন্দনের ইতিহাস। এই দেশের মাটির মতো পৃথিবীর আর দেশ তাদের বক্ষে এতো বেদনা ধারণ করেছে কিনা আমি জানিনা। একাত্তরের ১৬ই ডিসেম্বর চুড়ান্ত বিজয় অর্জিত হলেও বাঙ্গালির স্বাধীনতার রক্তলাল সূর্যোদয়ের ভিত্তি সূচিত হয়েছিল বেশ আগেই। ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণে উদ্দিপ্ত বাঙ্গালি জাতি স্বাধীনতা অর্জনের দৃঢ় শপথ নিয়েছিল ফলে ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম আর আত্মদানের মাধ‍্যমে আসে কাঙ্ক্ষিত বিজয়!!!! অনুরোধ রইল, নিজে পড়বেন এবং পরিবারে ছেলমেয়েদের বাংলাদেশ সৃষ্টির ইতিহাস ভিত্তিক লেখাগুলো পড়তে উৎসাহ যোগাবেন! ধন্যবাদ, আন্তরিক শুভেচ্ছা ও শুভকামনা।

    লেখিকা:
    সহকারী অধ‍্যাপক
    ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি
    আল- হেরা কলেজ, ঢাকা।



    Facebook Comments Box

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আওয়ারকণ্ঠ২৪.কম